পাঁচ মিশালী

সম্পর্ক

সমিক শহিদ জাহান প্রকাশিত হয়েছে: ০৭-০৯-২০১৯ ইং ০০:৩৮:৪৫ | সংবাদটি ১৫৭ বার পঠিত

কানাডার কোডি ইন্টারন্যাশনাল ইন্সটিটিউটে থাকাকালীন সময়ে আমাদের চারজনের একটি দল ছিল। কোরিয়ার কিম, মেকাও এর মেক বলিভিয়ার মার্কো আর বাংলাদেশের আমি। আমাদের আড্ডা, খাওয়া-দাওয়া, ঘুরাঘুরি একই সাথে চলতো। ম্যাক খুবই উন্নতমানের রান্না করতে পারতো। কাজেই বাজার করে সকল কিছু ঠিক ঠাক করে দিলেই হলো। কোন প্রকার আপত্তি ছাড়াই ম্যাক রান্না করতো। পড়ালেখার ফাঁকে এখানকার দিনগুলো কত সুন্দর আর আনন্দঘন পরিবেশে কাটানো যায়, সে চিন্তা আমাদের মধ্যে সকল সময় ঘুরপাক খেত। শনিবার দিন সকালবেলা ম্যাক এসে জানালো, সমিক কিছু অতিথি এসেছেন দেখা করতে। তুমিও দেখা কর। যাই হোক অতিথিরা যখন এসেছেন তখন তাদের সাথে দেখা করার আপত্তি থাকার কথা নয়। তারা এসে বসেছেন আমাদের আড্ডা দেয়ার কোঠায়। এই কোঠাটি বেশ বড়। যে কেউ এলে এখানে বসে আড্ডা দেয়। গল্পগুজব করে। এখানে একটি বড় ফ্রিজ, একটি কাপড় ধোয়ার ও একটি কাপড় শুকানোর মেশিন এবং চার চুলা যুক্ত একটি ইলেক্ট্রিক চুলা, আর প্রচুর ডেকচি, কাপ, প্লেট ইত্যাদি রয়েছে। এছাড়াও অনেক চেয়ার, টেবিল রাখা আছে। আড্ডা বা গল্পগুজব করার উত্তম স্থানই বটে। অতিথিরা এখানেই এসে বসেছেন। প্রায় ১০/১২ জনের মত হবে। ইতিমধ্যে আমাদেরই কেউ একজন তাদের চা তৈরী করে পরিবেশন করেন। আমাদের সাথে পরিচয় পর্বে বলা হলো তারা এসেছেন এন্টিগনিশ শহরের আশপাশ ছোট ছোট শহর হতে।
আজ শনিবার ও আগামীকাল রবিবার ইন্সটিটিউট বন্ধ রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে কেনাডিয়ান পরিবার, তাদের জীবন প্রণালী ইত্যাদি জানতে চাও তবে যারা উৎসাহি এদের সাথে এই বন্ধের সময়টা কাটিয়ে আসতে পারো। যারা যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলো তারা একে একে নিজেদের মধ্যে আলাপ ঠিক করে যাওয়া শুরু করে দেয়। শেষমেশে আমার পালা আসলো। একজন পুরুষ ও একজন মাঝ বয়েসি মহিলা ছিলেন। তাদের সাথে একটি ছোট বাচ্চা মেয়েও ছিল। আমার ভাগ্য তাদের সাথে জুটলো। তাদের অনুমতি নিয়ে আমার তিন তলা কোঠায় গিয়ে ছোট্ট একটি বেগে ২/৩ টি কাপড়, টুথ-ব্রাশ, পেষ্ট নিয়ে নিচে নেমে এসে বললাম আমি প্রস্তুত। তারা বললেন তাহলে আর অপেক্ষা কেন, চল বের হই। এরা নিয়ে এসেছিলেন একটি পেন্টিয়াক কার। অনেক লম্বা গাড়ি।
আমরা চারজন উঠে বসলাম। ভদ্রলোক গাড়ী ড্রাইভ করা শুরু করলেন। চলতে চলতে ভালভাবে আমাদের পরিচয় পর্ব শুরু হলো। আমি আমার নাম, দেশের নাম বললাম। বাংলাদেশের নাম শুনে একটু চুপ-চাপ থাকলেন। ১৯৮০ ইংরেজির দিকে বাংলাদেশের নাম শুনলেই মানুষের মধ্যে একটি চিত্র ভেসে আসতো তৃতীয় বিশ্বের একটি হত দরিদ্র দেশ। ঝড়, বণ্যা,খরা, অনুৎপাদনশীলতা, অধিক জনসংখ্যা, খাদ্য ঘাটতি, মার-দাঙ্গা ইত্যাদি। তারা আলোচনা অন্যদিকে না নিয়ে সোজা-সাপটা বললেন তোমাকে আমরা সেম নামে ডাকবো। আশা করি তোমার কোন আপত্তি থাকবে না। বললাম সমস্যা নেই। গাড়ী দ্রুত এগিয়ে চলছে। রাস্তার দু’ধারে সুন্দর সুন্দর বাড়ীঘর। রাস্তার ধারে মানুষ মোটেই দেখা যায় না। ছবির মত মনে হয়। রাস্তাগুলোও বিরাট। ডাবল লাইন। শুধু গাড়ী আর গাড়ী। শাই-শাই করে চলে যাচ্ছে। রাস্তার দু’ধারের দৃশ্য দেখতে দেখতে টুরো শহরে পৌঁছে যাই। গাড়ীতেই শার্লি নিজে পরিচয় দেন। আমি শার্লি মেকডোনাল্ড। আমি প্রথম বিবাহ করি, সে স্বামীর সাথে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। তবে নামের শেষ অংশ মেকডোনাল্ড রেখে দিয়েছি। তাই আমি শার্লি মেকডোনাল্ড। তার ঘরের একটি মেয়ে রয়েছে। নাম সিন্ধি। বয়স ১৪ বছর। আর এই যে দেখছ পলা। এটি আমার দ্বিতীয় স্বামীর ঘরের। এর বয়স সাত বছর। দ্বিতীয় স্বামীর সাথেও ছাড়াছাড়ি হয়ে গিয়েছে। আমি এই দু’মেয়েকে নিয়ে থাকি। আর এই যে গাড়ী চালাচ্ছেন তিনি আমার প্রতিবেশী মি: জন। আমি একটানা গাড়ী চালাতে পারি না। আমার কিছুটা সমস্যা হয়। তাই তাকে বলে কয়ে নিয়ে এসেছি।
একটা জায়গায় জন গাড়ী থামালেন। মনে হল শহর এলাকা হতে একটু বাইরে। এলাকাটা উঁচু ভূমি। সমস্ত মাটির সাথে কয়লা মিশে রয়েছে। কয়লার খনি অঞ্চল। সারা এলাকার মধ্যে গুঁড়া কয়লা মাটির মধ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। একটু মাটি খুড়লেই হয়ত কয়লা বেরিয়ে আসবে। কিছু সময় অবস্থান করলাম। এলাকাটা একটু ঘুরে দেখলাম। এখান হতে বেরিয়ে আমরা টুরো শহরে প্রবেশ করি। খুব বড় শহর মনে হল না। তবে শহরটি ছিমছাম, সুন্দর। আর আমাদের গাড়ী একটি দোতলা বাড়ীর সামনে এসে থামলো। দোতলা বাড়ীতে চারটি ফ্লাট রয়েছে। সিড়ি দিয়ে সবাই উপরে উঠলাম। দরজায় টোকা দিতেই অল্প বয়সের একটি মেয়ে দরজা খুলে দেয়। বয়স ১৪/১৫ হবে। ঘরে প্রবেশ করার পরপরই মেয়েটি শার্লিকে কিছু একটা বলে। আমি বুঝে উঠতে পারি নাই। দেখলাম শার্লি চিৎকার আর চেচামেচি শুরু করে দিলেন। কেন পানি বন্ধ করবে। প্রতিবেশী কেন পানি বন্ধ করবে ইত্যাদি। বুঝতে বাকি রইল না। পানি নিয়ে সমস্যা। পানি বন্ধ থাকার কারণে ঘরে পানি ছিল না। অল্প সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে। আমিও স্বস্তি ফিরে পাই। আমাকে বসার জন্য বলা হল। ঘরের মধ্যে জিনিস পত্রের আধিক্য নাই তবে পরিপাটি, ছিমছাম। শার্লি ঘরের সকল সদস্যের সাথে পরিচয় আলাপ করিয়ে দেন। ছোট মেয়ে পলা ৭/৮ বছর হবে আমাদের সাথেই ছিল। বড় মেয়ে সিন্ডিয়া সে আমাদের দরজা খুলে দিয়েছিল। এই সাথে সিন্ডিয়ার বয়েসি হালকা পাতলা গড়নের একটি ছেলের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। তার নামটা মনে পড়ছে না। সিন্ডিয়ার বয় ফ্রেন্ড। তাদের বললাম তোমরা আরো একটু বড় হয়ে বাংলাদেশে আসতে পারো। বাংলাদেশে বিরাট সি-বিচ রয়েছে। এই বিচের বালু মিহি আর সাদা, কোন পাথর নেই। আর সমুদ্রের পানি হিম ঠান্ডা না। বিরাট বিরাট ঢেউ আসে। প্রচন্ড গর্জন। পানিতে নামলে মনে হয় সারাক্ষণ পানি আর ঢেউর সাথে থাকি। পানি হতে উঠতে মন চাইবে না। তারা শুনে অবাক হলো। জানতে চাইলো সত্যি না কি? বলরাম একবর্ণও বাড়িয়ে বলছি না। তারা খুবই আশ্চর্য্য হলো। আরো জানতে চাইলো আমার এলাকা হতে সমুদ্র কতদূর। বললাম ৪০০ মাইলের মত হবে। শুনে বললো তাহলেতো সকল সময় তুমি সমুদ্র পাওনা। বললাম তাই। আশা ব্যক্ত করলো আমরা একবার তোমার দেশে যাবো। আলাপ শেষ করে তারা তাদের কোঠায় চলে যায়। শার্লি একটি প্লেটে আমাকে কিছু একটা খাবারের জন্য দেন। দেখতে অনেকটা আমাদের পাঠি সাপটা পিঠার মত। বললেন নও খাও। এটা হচ্ছে পাই। আমি তৈরী করেছি। স্বাদ বাড়ানোর জন্য এতে বিয়ার দিয়েছি। এই সাথে দু’জনার দু’মগ কফি। খেতে খেতে বললেন, আমি কোন কাজ করি না। দু’মেয়ের জন্য তাদের বাবারা ভাতা প্রদান করে। আর আমি সরকার হতে ভাতা পাই। এতে আমার ভালভাবেই চলে। সময় কাটাই ঘুরাঘুরি করে। আর মাঝে মাঝে লম্বা সফরে বেরিয়ে পড়ি। সন্ধার পর পর একটি ডিসকো (Disco) হলে যাবো। আশাকরি তোমার আপত্তি থাকবে না।
আমাদের কোডি ইন্সটিটিউট হলো সেন্ট জেভিয়ার ইউনিভার্সিটির এক্্রটেনশন ডিপার্টমেন্ট। এই ইউনিভার্সিটিতে সপ্তাহে দু’দিন বুধবার ও শনিবার ডিসকো হয়। তাদের বড় একটি ডিসকো হল আছে। কাজেই ডিসকো সম্পর্কে আমার পূর্ণ ধারনা ছিল। অনেক দিনও গিয়েছি। গানের তালে আবার কখনো বাদ্য যন্ত্রের তালে সবাই নাচে। এতে কেউ কোন তাল-লয়ের ধার ধারে না। যার যেমন ইচ্ছে হাত-পা ছুড়তে থাকে অথবা কমর দুলাতে থাকে। এই সাথে বাথরুমগুলোতে তখন গাঁজা টানার উৎসব চলে। বেশ বিরাট সংখ্যক ছেলেরা গাঁজার বিড়িতে দম দিতে থাকে। তবে এতে মেয়েদের অংশগ্রহণ সংখ্যা খুবই নগণ্য। সন্ধ্যার কিছুটা আগে আমাকে সাথে করে শার্লি গাড়ী করে বের হন। ইতিমধ্যে তিনি উজ্জ্বল চক-চকা একটি ড্রেস গাউন পরে নিয়েছিলেন। গাড়ী শহরের এদিক ওদিক ঘুরে চললো। যাতে টুরো শহরটির কিছুটা আমাকে দেখানো যায়। আমাদের গাড়ী একটি ডিসকো হলের সম্মুখে পার্কিং করানো হলো। দেখলাম অনেকেই এর মধ্যে প্রবেশ মুখে লাইন ধরে একে একে প্রবেশ করছেন। প্রবেশ পথে উজ্জ্বল আলো। প্রবেশ পথে কোন প্রকার টিকেটের প্রয়োজন হয় না। আমরাও আস্তে আস্তে প্রবেশ পথে এগিয়ে যাচ্ছি। লক্ষ্য করলাম প্রবেশ পথে লেখা Blue Gins are not allowed. বুঝতে পারলাম জিন্সের কাপড় পড়ে এই ডিসকো হলে প্রবেশ করা যাবে না। ভাগ্য ভাল আমার পরনে জিন্সের পেন্ট পরা ছিল না। লক্ষ্য করলাম মেয়েগুলার হাতে বড় বড় বেগ। প্রবেশ পথে কাপড় পরিবর্তন করার কোঠা রয়েছে। মেয়ে গুলো এগুলোতে প্রবেশ করছে আর পরী হয়ে বেরিয়ে আসছে। সাথের বড় বেগ গুলো রাখার জন্য প্রবেশ মুখেই লকার রয়েছে। কাজেই সাথের বেগ কোন সমস্যাই নয়। যারা জিন্স পরে এসেছে তারা সবাই ঝটপট পাল্টিয়ে নিচ্ছেন। আর হাসিমুখে প্রবেশ করতে শুরু করে। শার্লি মেকডোনাল্ডের পেছন পেছন আমিও প্রবেশ করলাম। প্রবেশ করে দেখি বিরাট হল রুম। বাতি জ্বলছে। কিছুটা আলো-আঁধারী। ইতিমধ্যে প্রচুর মানুুষ প্রবেশ করেছেন। সবাই সুন্দরভাবে সেজেগুজে এসেছেন। যুবক-যবতীদের সংখ্যাই বেশী। তবে কিছু বয়স্করাও রয়েছেন। হল রুমের একপাশে স্টেজ। রুমের মাঝখানটায় বেশ বিরাট ফাঁকা জায়গা রয়েছে। টুংটাং গীটারের আওয়াজ। সাথে হালকা ড্রাম বিট। কিছুক্ষণ পরেই রঙ্গিণ আলোর ঝলকানী শুরু হয় আর সাথে লাউড মিউজিক। সাথে সাথে যুবক-যুবতীরা জোড়ায় জোড়ায় হল রুমের খালি জায়গায় নেমে আসে। বাদ্য যন্ত্রের তালে তালে সবাই নাচতে শুরু করে। বাদ্য যন্ত্রের সাথে কখনো একক সঙ্গীত আবার কখনো কোরাস গান চলে। মাঝে মাঝে অল্প সময়ের জন্য বিরতি দেয়া হয়। প্রতিটি নতুন গান শুরুর পূর্বে মাঝে মাঝে ঘোষণা আসে। এগুলো মূলত গানের উপরই। তবে আনন্দ ফূর্তির কথাও বলা হয়। আর এতে সবাই হেসে ফেটে পড়েন। তারপর আবার শুরু হয়ে যায় লাউড মিউজিক এর সাথে বিভিন্ন রংয়ের আলোর ঝলকানী। একসময় শুনি ঘোষণা করা হচ্ছে কোডি ইন্সটিটিউটে পড়তে আসা বাংলাদেশের ছাত্র সমিক আমাদের সাথে রয়েছে। ঘোষণায় আমার নাম শুনে অবাক হই। মনে হল কোন এক ফাঁকে শার্লি আমার নামটি ঘোষণার জন্য পাঠিয়ে থাকবে। এত মানুষের ভিড়ে এক ঘোষণায় আমিও সেলিব্রেটি হয়ে গিয়েছি। শার্লি বললেন তুমিও নাচতে যাও। বললাম নাচানাচি আমার জানা নেই।
আমাদের পাশে বসা বয়স্ক এক ভদ্রলোক যার সাথে শার্লির পরিচয় ছিল এবং আমাদের সাথে পরিচয় ও শুভেচ্ছা বিনিময় হয়েছিল। তিনি হঠাৎ করে এক মেয়েকে ডাকলেন, বললেন আমার মেয়ে। আর মেয়েকে বললেন ওকে নাচতে নিয়ে যাও। মেয়েটি লম্বায় ছ’ফিট হবে, আর বেশ তাগড়া। দেখলাম কোন ওজর আপত্তি তোলা বোকামী এবং অংশগ্রহণ করে জান বাঁচানো উত্তম। তাই অল্প কিছু সময় তার সাথে হাত-পা দোলানো। একসময় গান ও বাজনা থামলো। আমারও জান বাঁচলো। এধরণের ডিসকো হলে খাবার এবং কিসিম-কিসিম ড্রিংক্সের ব্যবস্থা থাকে। পয়সা ছাড়ো যার যা ইচ্ছা গ্রহণ করো। তবে কোন প্রকার উশৃঙ্খলতা ছিল না। রাত একটার দিকে ডিসকো অনুষ্ঠান শেষ হয়। বের হওয়ার পথে অনেক ছেলে-মেয়ে আমার সাথে হাত মিলালো আর শুভেচ্ছা বিনিময় করলো। আবার অনেকেই জানতে চাইলো কবে এসেছি, কি করছি, কত দিন থাকবো ইত্যাদি। ডিসকো হল হতে বের হয়ে শার্লির লম্বা গাড়ীতে চড়ে বসলাম। আমার ঘুমও পাচ্ছিল। ভাবছিলাম এই ডিসকো হলগুলা যদি না থাকতো তবে এরা অনেকেই খুব দ্রুত হৃদরোগে মারা যেতো। এরা প্রতিদিন যে পরিমাণ খাবার খায় এগুলা এই নাচানাচীর মাধ্যমে শরীরের মধ্যেই শেষ করে দেয়। অল্প সময়ের মধ্যে বাড়ীর সম্মুখে এসে পড়ি। ঘরে প্রবেশ করে শার্লি কিছু একটা খাবার আমাকে দেন এবং নিজেও খান। খাওয়া দাওয়া শেষ করে সে তার বসার কোঠায় একটি চেয়ারকে টান দিয়ে বিছানা তৈরী করে ফেলে। আর আমাকে তার কোঠার বিছানা দেখিয়ে বলে তুমি ওখানে গিয়ে শুয়ে পড়। সারাদিনের চক্কর ও রাত একটা পর্যন্ত ডিসকো হল। শরীর আর মানবে কত, খুবই ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। কাল সকালে উঠেই আবার ইন্সটিটিউটে চলে যেতে হবে। বিছানায় যাওয়া মাত্রই গভীর ঘুমে জড়িয়ে পড়ি। ঘুম হতে যখন উঠি তখন প্রায় ৭:০০টা বেজে গেছে। হাত মুখ ধুয়ে খাবার টেবিলে নাস্তার জন্য সকলের সাথে এসে বসি। রাত্রে ঘুমানোর সময় পেন্ট বদলিয়ে লুঙ্গি পরে নিয়েছিলাম অভ্যাসবসত। সকালে পরিবর্তন করি নাই। এভাবেই নাস্তার জন্য টেবিলে এসেছিলাম। ছোট মেয়ে পলা তার মা-কে ডেকে আমাকে দেখিয়ে বলছে, মামমি লুক হি-স ওয়ারিং এ স্কার্ট। একজন পুরুষ মানুষের এই ধরণের কাপড় পরা দেখে পলা খুবই আশ্চর্য্য হয়েছিল। মনে হয় সে তার এই ক্ষুদ্র জীবনে প্রথম এ ধরনের কাপড়পরা জীবন্ত মানুষ সামনা সামনী দেখলো। আমি অনেকটা ইচ্ছা করেই লুঙ্গি পরা অবস্থায় খাবার টেবিলে এসেছিলাম। পলাকে বললাম আমাদের দেশে পুরুষ মানুষ ঘরে সবাই এধনের স্কার্ট পরে। এটাকে আমরা লুঙ্গী বলি। এটা পুরুষের ড্রেস। ঘরের বাইরে অফিস, স্কুল ইত্যাদি যেতে হলে পুরুষরা পেন্ট- শার্ট পরে। সে আমার দিকে তাকিয়ে থেকে কি চিন্তা করলো। পরে খেতে বসলো। নাস্তার মধ্যে ছিল পাওরুটি টোষ্ট, ডিম, মাখন জেলি ইত্যাদি। আমরা নাস্তা শেষ করি। আমি পেন্ট শার্ট পরে নেই।
একটু পরেই শার্লি বললেন চলো আমরা বেরিয়ে পড়ি। তোমাকে দিয়ে আসতে হবে। শার্লি গাড়ী চালাচ্ছেন। বেশ জোরেই গাড়ী চলছে। চলতে-চলতে বললেন, দেখ সেম তুমি আমাদের সাথে অল্প সময় ছিলে। তোমাকে নিয়ে ঘোরা-ঘুরি করলাম। আমাদের সবকিছুই দেখলে। আমার প্রতিবেশীরা তোমাকে দেখেছে। তারা কি ভাববে জানো? বললাম কি আবার ভাববে? না তারা ভাববে, শার্লি এক কালো আদমী জোগাড় করেছে। আর সে বেশ মৌজেই আছে। আমার মাথায় যেনো বাজ পড়লো। শার্লি এ-কি কথা বলছেন। মনে মনে বললাম হে আল্লাহ! পৃথিবীকে দ্বিখন্ডিত করো আর আমি তাতে প্রবেশ করি।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT