উপ সম্পাদকীয়

ভাবার বিষয় ভাবা উচিত

রোকেশ লেইস প্রকাশিত হয়েছে: ০৮-০৯-২০১৯ ইং ০০:১২:৫৮ | সংবাদটি ১৪১ বার পঠিত

সনদ প্রাপ্তি ছাড়া কোনো পেশা পরিচালনা আইন সিদ্ধ নয়, অর্থাৎ যে কোনো পেশা পরিচালনার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে পেশা পরিচালনার যোগ্যতা বিষয়ে সনদ প্রাপ্ত হলেই; শুধুমাত্র একজন ব্যক্তি পেশা পরিচালনায় অধিকারী হন। সনদ বিহীন পেশা পরিচালনা করাবস্থায় যদি কেহ ধৃত হন, সেক্ষেত্রে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ- বা অর্থদন্ড বা উভয়বিধ দন্ডের বিধান সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী প্রয়োগ হয়, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় অপরাধটি প্রমাণ সাপেক্ষ।
ভাবার বিষয়, একজন ডাক্তার না হয়েও অবলীলায় অপারেশন করতে গিয়ে অথবা ঔষধ প্রয়োগ করে, রোগী মেরে ফেলছেন, যার কোনোটিই তার করার কথা নয়। ঐ ব্যক্তির বিচারও হচ্ছে খুনের দায়ে, খুনতো অবশ্যই তবে ঐ ব্যক্তি কী শুধুই খুনের অপরাধী।
ঐ ব্যক্তিতো সচেতন ভাবেই জানতো তার চিকিৎসা প্রদানের বৈধতা নাই। অতএব তার ক্ষেত্রে শাস্তিতো শুরু হওয়া উচিত অপরাধ সংগঠনের পর থেকেই। একজন সনদধারী ডাক্তার চিকিৎসা সেবা প্রদান কালে রোগীর মৃত্যু আর একজন আনকোরা ডাক্তারী বিদ্যায় অজ্ঞ ব্যক্তির দ্বারা ঘটানো মৃত্যু অবশ্যই একই সমতায় বিচার হওয়া উচিত নয়, অথচ তাই হয়ে আসছে। এক্ষেত্রে, সনদ বিহীন ব্যক্তির জন্য আইনি সুযোগ থাকাই উচিত নয়। তবে ঐটুকু থাকতে পারে, তাকেই প্রমাণ করতে হবে সে চিকিৎসা প্রদানে যোগ্য বা বৈধ ছিলো। এ ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তি বা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির পক্ষ থেকে বা রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে মামলা প্রমাণের চলমান ব্যবস্থার ব্যত্যয় হওয়া উচিত এবং 'স্পিডি ট্রায়াল' প্রক্রিয়া অনুসরণে মামলা নিষ্পত্তি হওয়ার বিধান হওয়া উচিত। গতানুগতিক তদন্ত প্রক্রিয়া প্রয়োজনহীন, শুধুমাত্র মৃত্যু এবং জখম সংক্রান্ত সনদপত্র নথিতে সংযুক্ত হলেই বিচার পরিচালিত হওয়ার বিধান হওয়া উচিত।
ঐ জাতীয় অর্থাৎ যোগ্যতাবিহীন ব্যক্তির; পেশা পরিচালনার অপরাধ সংগঠিত হলে পুলিশ অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ধৃত করে বিজ্ঞ আদালতে উপস্থাপন করবেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের জন্য কোনো তথ্যাদি উপস্থাপন বা সাক্ষ্য উপস্থাপনের অবশ্যই সুযোগ পাবেন। যে ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক থাকবেন, তার ক্ষেত্রে অভিযোগ প্রাপ্তি থেকে সর্বোচ্চ এক মাস পর্যন্ত সুযোগ থাকবে উপস্থিতি প্রদানের, ব্যর্থতায় বিজ্ঞ আদালত প্রাপ্ত তথ্য উপাত্ত বিবেচনায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।
একইভাবে শিক্ষকতা, ইঞ্জিনিয়ারিং, আইন ও অন্যান্য পেশায় ভূয়া যোগ্যতাবিহীন ব্যক্তি ধৃত হলে বা চিহ্নিত হলে, ঐ ব্যক্তির জন্য সুযোগ থাকবে ; যথাযথ তথ্য উপাত্ত উপস্থাপনে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের। আর এক্ষেত্রে যদি তিনি ব্যর্থ হন অর্থাৎ ভধরষ ঃড় ফরংঢ়ৎড়াব হন, তবে তিনি সর্বোচ্চ শাস্তি যাবৎ জীবন কারাবাসে দন্ডিত হবেন। আর, যেহেতু তিনি কৃতকর্মের ক্ষেত্রে বৈধ ছিলেন প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছেন ঐ অবস্থায় আপীল করারও অধিকার হারাবেন। যদি, কোনো ব্যক্তি অভিযুক্ত হওয়ার পর নিজেকে নির্দোষ প্রমাণে সক্ষম হন সেক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তি অভিযোগকারী পক্ষ থেকে কম পক্ষে এক লক্ষ টাকা এবং সর্বোচ্চ পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকারী হবেন। যা, বিজ্ঞ বিচারকারী আদালত নির্ধারণ করবেন।
অপরাধ যখন জেনে বুঝে কারো দ্বারা সংগঠিত হয় ঐ অবস্থায় সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান থাকাই সমীচিন। নাগরিক মাত্রই জানেন মটরযান চালাতে লাইসেন্স অপরিহার্য। লাইসেন্স তখনই থাকে যখন কোনো ব্যক্তি যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিশ্চয়তা প্রাপ্ত হন ; যোগ্যতা বিষয়ে, মটরযান চালানোয়। কোনো ব্যক্তি যখন লাইসেন্স বিহীন অবস্থায় ধৃত হবেন অর্থাৎ যার কখনোই লাইসেন্স ছিলো না এবং নাই , সেক্ষেত্রে ধৃত হওয়া থেকেই ঐ ব্যক্তির কারাবাস শুরু হওয়া উচিত। সর্বনিম্ন এক বৎসর, শুধুমাত্র লাইসেন্স বিহীন চালানোর জন্য এবং সেটি অবশ্যই জামিন অযোগ্যও হওয়া উচিত । আর, লাইসেন্স বিহীন চালানো অবস্থায় যদি এক্সিডেন্ট করেন ; সেক্ষেত্রে সর্বনিম্ন দশ বৎসর এবং সর্বোচ্চ যাবৎ জীবন শাস্তির বিধান হওয়া উচিত। ঐ পর্যায়ে মৃত্যু সংঘটিত হলে, অভিযোগকারী পক্ষ বা সরকার পক্ষ শুধুমাত্র মটর যান দ্বারা মৃত্যু সংঘঠিত হওয়ার তথ্যাদি উপস্থাপন করবেন যা প্রমাণ হিসাবে গৃহীত হবে। অঙ্গহানি ইত্যাদির ক্ষেত্রে একইভাবে ডাক্তারী সনদ বিবেচিত হবে তথ্য ও প্রমাণ হিসাবে অর্থাৎ মটর যান দ্বারা ঘটনাটি ঘটার সমর্থনে। ঐ সকল ক্ষেত্রে অঙ্গহানি বা ক্ষতি বিবেচনায় বিজ্ঞ আদালত সাজা নির্ধারণ করবেন। বিষয়টি সর্বাবস্থায় নজরে রাখতে হবে শুধুমাত্র 'লাইসেন্স বিহীন চালক' অর্থাৎ অবৈধ ব্যক্তি যার গাড়ি চালানোর সুযোগই নাই এবং কখনো ছিলোও না, যখন ঘটনাটি ঘটাবে ঐ ব্যক্তি লাইসেন্সধারী চালকের দুর্ঘটনার সমপর্যায়ে কোনো অবস্থায়ই বিবেচিত হওয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয়।
লেখক : আইনজীবী।

 

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • সড়ক দুর্ঘটনা কি থামানো যায় না?
  • চিকিৎসা সেবা বনাম ব্যবসা
  • নীরব ঘাতক প্লাস্টিক
  • সার্থক জীবন মহত্তর অবদান
  • প্রযুক্তির বিশ্বায়ন বনাম তরুণ সমাজ
  • মানবিক মূল্যবোধ ও বাংলাদেশ
  • খাদ্য চাহিদা পূরণে উৎপাদন বৃদ্ধি অপরিহার্য
  • শ্রমজীবী মানুষদের নিয়ে কিছু কথা
  • সাংস্কৃতিক আগ্রাসন
  • বৃটিশ সাধারণ নির্বাচন-২০১৯
  • প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অগ্রযাত্রা সফল হোক
  • লক্ষ্য হোক সুষম সামাজিক উন্নয়ন
  • জননী ও জন্মভূমি
  • অপরূপ হেমন্ত
  • বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা চাই
  • শ্যামারচরের বধ্যভূমি ও দিরাই-শ্যামারচর রাস্তা
  • প্রয়োজন সচেতনতা ও ধর্মীয় অনুশাসন
  • চোরাকারবার বন্ধে চাই কৌশল
  • জাফলং ভ্যালি বোর্ডিং স্কুল
  • একটি বর্ণনাতীত ভাষ্য
  • Developed by: Sparkle IT