সাহিত্য

আধুনিক বাংলা কবিতা

কল্যাণ চৌধুরী প্রকাশিত হয়েছে: ০৮-০৯-২০১৯ ইং ০০:১৪:৩১ | সংবাদটি ২১৯ বার পঠিত

আধুনিক কোনো কিছু সম্পর্কে আলোচনা বেশ জটিল। কারণ আধুনিক সবকিছু স্রোতের মত অস্থবির, গতিময়। আধুনিক বাংলা কবিতা সম্পর্কেও একথা বেশ প্রণিধান যোগ্য। কবিতা সম্পর্কে বিভিন্নজনের ধারণা বিভিন্ন রকম, বোধের পার্থক্যও রয়েছে। সময়ের ব্যবধানে, জাগতিক বৈচিত্র্যে, বাস্তবতা ও পরিবেশের অবস্থান্তরে মানুষের চিন্তা-চেতনা মোড় নেয়, অভিজ্ঞতা বদলায়। সুন্দর সম্পর্কে যেমন চূড়ান্ত বা স্পষ্ট কোনো কথা বলা সম্ভব নয়, তেমনি সম্ভব নয় কবিতা সম্পর্কে চূড়ান্ত বা স্পষ্ট কোনো বাক্য দান। বিশেষত আধুনিক কবিতা এখন আর স্বপ্নাদিষ্ট রচনা নয়, রাজতোষণ, রাজা কিংবা দেবতার পূজ্য ফুল নয়, বিহঙ্গের ভাব। প্রবণ আকাশচারিতা নয়, গীতচ্ছন্দে গান গাওয়া নয়, নয় আবেগের রোমাঞ্চকর উচ্ছ্বাস। কিন্তু এখনও অনেকেই কবিতা সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা পােষণ করতে অনিচ্ছুক। কবিতা বলতে অনেকেই সেই আগেকার গীতচ্ছন্দ বা অন্তমিল বুঝে থাকেন। বিষয়বস্তু, শব্দ ব্যঞ্জনা যাই থাক না কেন, তারা কবিতার অন্ত মিলকে এবং গীতিময়তাকেই কবিতার সর্বস্ব মনে করেন। কিন্তু ভেবে দেখা আবশ্যক আগেকার সেই গােলায় গােলায় ধান আর গলায় গলায় গানের যুগ চলে গেছে।
আগেকার যুগ ছিল গীতিময়তার যুগ। তাই কবিতা তখন গীতচ্ছন্দে লেখা হত। সুকঠিন বাস্তবতায় মানুষের জীবনে এখন স্বাভাবিক ছন্দের পতন হয়ে গেছে। আবেগের যুগ ভাবের যুগ চলে গেছে, এখন কঠোর কঠিন বাস্তবতার মুখােমুখি মানুষ, বুদ্ধির ঝলসানি বলা যায় পাথরের যুগ। সৈয়দ আলী আহসানের ভাষায় “যে পৃথিবীতে জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ ভেঙ্গে গেছে এবং যেখানে মানুষের পদক্ষেপ অর্থহীনতায় উৎসর্গীকৃত, সেখানে কবিতায় শৃঙ্খলিত সুরে সম্মােহন কি করে আসে? সেখানে কবিতা বিচিত্র ভঙ্গুর শব্দ দূর্নের উদ্দেশ্যহীন সমস্বর।” আধুনিক কবিতা জীবনের দুঃখ দুর্দশার মাঝে, আশা-নৈরাশ্যের মাঝে সংগ্রামী আহবানে জীবনের ধ্বনি জাগিয়ে তোলে। সুতরাং আজকের কবিতায় গীতি মুৰ্ছনার চেয়ে প্রচলিত জীবন ও বাস্তবতা অধিক গ্রহণীয়। অন্তচ্ছন্দ কবিকে তার স্বাধীনতায় বা স্বকীয় পথ চলায় বাধা সৃষ্টি করে।
কবিতা নীতি শিক্ষার মাধ্যম নয়। কবিতার মাধ্যমে কোন কোন কবি জগতকে নীতি শিক্ষা দিতে চান, একদল পাঠক তা সাগ্রহে গ্রহণ করে নেন। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই তা কবিতা পদ বাচ্য হয় না। কবিতাকে নিঃসন্দেহে সাহিত্যের শিল্প বলতে হবে। কারণ এখানে শাব্দিক কারুকার্য আছে। আঙ্গিকের লক্ষণীয় সৌষ্ঠব আছে, সৌন্দর্য বিকাশ আছে, আছে বিষয়বস্তুর সুন্দরতম বিন্যাস। কোন নীতিকে আশ্রয় করে বাঁধা ধরা নিয়ম কানুনকে গ্রহণ করে কোন মহৎ শিল্প সৃষ্ট হতে পারে না। সুখ দুঃখ, পাপ পুণ্য, সুনীতি দুর্নীতি, কাম ক্রোধ ইত্যাদির সম্মিলনেই মানুষের জীবন। ষােল আনা ভাল বা যোল আনা মন্দ কোনো মানুষ বিরল। জীবনে অপূর্ণতা আছে ভাল মন্দ আছে, সুতরাং কবিতা যদি জীবনের প্রতিচ্ছবি হয়ে থাকে তাহলে এখানে মহামানববাচিত জীবনাঙ্কন। কিংবা নীতি শিক্ষা কাম্য হতে পারে না। কবির পক্ষে সুনীতি। সংঘের সভ্য হওয়া অপেক্ষা কাব্য কানন কোকিল হওয়া অধিক। বাঞ্চনীয়। সৌন্দর্য কদর্যকে নিয়ে দুনিয়া। আজকে যা নীতি কালকে তা দুর্নীতি। আজকে যা সংস্কার কালকে তা কুসংস্কার। নীতি কেন্দ্রিক কবিতা কখনই চিরন্তন হতে পারে না। রামায়ণে রাম আদর্শের প্রতীক, ন্যায় নীতির প্রতীক, কিন্তু মানবিক রস। সির্শন করে মধুসূদন মেঘনাদ বধ কাব্যে রামকে কাপুরুষ এবং হেয় বলে প্রতিপন্ন করেছেন। তাই রামায়ণের রাম’ এর চাইতে মধুসূদনের ‘রাম’ বেশি আধুনিক। এতে আপ্তবাক্য নীতি কথা। নিত্যদিন স্কুল কলেজে পাঠ করেও আমরা কতটুকু নীতিবান হতে পেরেছি। যারা নীতি ছাড়া আওড়েছেন তারাও নীতিশ হতে পারেন নি। অনেকেই কামনা করেন কবিতায় সহজ পরিচিত শব্দের ব্যবহার। কিন্তু এ ধারণাও ঠিক নয়। কবিতা হচ্ছে শ্রেষ্ঠতম শব্দাবলীর শ্রেষ্ঠতম বিন্যাস, সাহিত্যের সর্বাপেক্ষা সূক্ষ এবং জটিল। শাখা। কেননা কবিতার মধ্যে শব্দাবলী নতুন অর্থ দ্যোতনায় অনন্য। ব্যঞ্জনা প্রকাশ করে। আর এখানেই দক্ষ শিল্পীর সার্থক কারু কাজ। তাই কবিকে শব্দ শিল্পী বললে অত্যুক্তি হয় না। আধুনিক কবি সুধীন দত্তের ভাষায় “মুল্যহীন সোনা হয় তব অপ্সরী/দুরাপের মদগর্ব খর্ব করো/পরশে নিস্ক্রিয় তোমার অবেদ্য গানে/অব্যক্তির সতর্ক প্রহরী/বিমুগ্ধ নিদ্রায় ললাটে। মুক্তি পায়। অনির্বচনীয়।”
আধুনিক কবিতায় শব্দ ব্যবহার, উপমা, রূপক কিংবা প্রকাশে কাবকে সবক্ষণ মননধমা চেতনা নিয়ে থাকতে হয়। মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সময়টা অর্থাৎ পৃথিবীর নিরেট বাস্ত বতা ধূলির ধরনী আধুনিক কবিতার উপজীব্য। চাঁদ এ যুগে তার স্নিগ্ধ সৌন্দর্য হারিয়ে ফেলে কবিতায় একখানা ঝলসানো রুটি হিসাবে রূপায়িত হয়েছে। আধুনিক কবিতার বিবর্তনে ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যবাদ একটি মৌলিক কারণ। কোনো অলৌকিক কল্পনার স্থান আধুনিক কবিতায় নেই। ব্যক্তি এখন নিজস্ব চিন্তা চেতনায় অন্যের চেয়ে স্বতন্ত্র। ঐশ্বরিক আবেগের চেয়ে জাগতিক দ্বন্দ্ব সংঘাত, দুঃখ-বেদনা, জীবন-সগ্রাম, প্রেম-প্রকৃতি, স্বদেশ-স্বরাজ অধিক স্থান পাচ্ছে আধুনিক কাব্যে। প্রাচীন মনসামঙ্গল কাব্যে আমরা একটি ব্যক্তি স্বাতন্ত্রের চরিত্র পাই। যার নাম চাঁদ সওদাগর। সে তার সমস্ত কিছু তল হওয়ার পরেও মনসা দেবীকে অস্বীকার করেছে। শেষ পর্যন্ত তার সাথে রফা হয় এভাবে যে হস্তে পূজিয়াছি মহান ভবানী, সেই হস্তে পূজিব না চেঈ মুঢ়ি কানি।” চাঁদ সওদাগর প্রাচীন কাব্যের একটি চরিত্র হয়েও সে চিরকাল আধুনিক। কারণ আধুনিকতা সময়ের দিক থেকে সর্বদা নিরুপন হয় না, হয় রুচি বোধের দিক থেকে, শৈলীর দিক থেকে এবং মানসিকতার দিক থেকে। সেই দিক থেকে “যে সবে বঙ্গেতে জন্মি হিংসে বঙ্গবাণীর” কবি আব্দুল হাকিম কিংবা “বিনা স্বদেশীভাষা পুরে কি আশা’র কবি রাম নিধিগুপ্ত” “সবার উপরে মানুষ সত্যের কবি” চন্ডীদাস কিংবা “মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি” র লালন ফকির প্রাচীন হয়েও আধুনিক। সেই অর্থে কবিকে সাংবাদিক বলা চলে, কারণ তারা সত্য ও বাস্তবতার সংবাদ কে সুন্দরের থালায় পরিবেশন করে নিয়ে চলেন মন মনান্তরে, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে।
আধুনিক কবিতাকে অবসরের সুখ পাঠ্য বলে ধারণা করাও অসঙ্গত। আধুনিক কবিতা পরাধীন জাতিকে স্বাধীনতার চেতনা জাগায়, নির্জীবকে সজীব, নিদ্রিতকে জাগ্রত করে। মৃত্যুর শীতলতায় মৃত্যুঞ্জয়ী স্বপ্ন দেখে। প্রচন্ড নৈরাশ্যের মধ্যেও জীবনের ক্ষণিক তৃপ্তি নিতে সে ভুল করে না। তাই কবিতা আজ উৎপীড়িতের মুখের তীব্র প্রতিবাদ, নিষ্পেষিত মানুষের কণ্ঠস্বর, বঞ্চিত মজুরের আর্তনাদ সংগ্রামী মানুষের মিছিল, মনো-দৈহিক কামনার সত্য ভাষণ। তাই কবিতা আলস্যের অনাবশ্যক সৃজন নয়, শুধু অবকাশের চিত্ত বিনোদন নয়, নিন্দা বন্দনা বা রাজার মনোরঞ্জন নয়। জীবন ও বাস্তবতায় কবিতা চলিষ্ণু জীবনের প্রতিচ্ছবি।
প্রত্যেক যুগেই সত্যকার মৌলিক সৃষ্টি সাধারণের নিকট অদ্ভুত মনে হয়। রবীন্দ্রনাথ ও মাইকেল বাংলার এই প্রধান দুই কবিকে দুরহতার অপবাদ সহ্য করতে হয়েছিল। প্রেম ও জীবন বাদী কবি নজরুল কে কম অপবাদ দেওয়া হয়নি। এই যুগের জীবন অতি জটিল, অতি ব্যাপক এবং বহুমাত্রায় ব্যস্ত ও যান্ত্রিক। তাই আধুনিক কবির প্রকাশ ভঙ্গিও দুরূহ এবং বিজ্ঞান মনস্ক হয়ে উঠেছে। বর্হিজগত যতই সরলতাকে হারিয়ে গরলতায় যাচ্ছে, নিস্ফলা মরুভূমি হচ্ছে, কবি ততই তা থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে অনন্তর্লীন ধ্যানরাজ্য তৈরি করে বাস্তবতাকে স্বীকার করেছেন। তাই আধুনিক কবিরা পাঠক সাধারণকে তাদের জটিল অভিজ্ঞতার অংশীদার করতে চান। অতএব কবিতা বুঝতে গেলে আর নিষ্ক্রিয়তা নয়, সক্রিয় অধ্যবসায়ই কবিতা উপভোগর চাবিকাঠি। সুধীন্দ্র নাথের ভাষায় “যে দুরহতার জন্ম পাঠকের আলস্যে, তার জন্য কবিকে দোষারোপ অন্যায়” কাব্য যদি জীবনের মুকুর হয় তবে এই জটিল যুগের প্রতিবিম্ব তাকে আরো জটিল করে তুলবে, এতে আশ্চর্য কি?
কবিতার সেই প্রাচীন স্বপ্নাবিষ্ট সহজতা ছেড়ে কেন তা আজ জটিল পান্ডিত্যপূর্ণ মনে হয় তারও বস্তুগত ব্যাখ্যা আছে। প্রথম মহাযুদ্ধের পরবর্তী সময় থেকেই কাব্য সাহিত্য বর্তমান পথ ধরে চলতে শুরু করেছে। যুগের যন্ত্রণাই এর প্রধান কারণ। ভাবের দিক থেকে আধুনিক বাংলা কবিতার লক্ষণ সমুহ :
১। নগর কেন্দ্রিক যান্ত্রিক সভ্যতার অভিঘাত। ২। বর্তমান জীবনের ক্লান্তি ও নৈরাশ্যবোধ। ৩। আত্ম বিরোধ বা অনিকেত (জড়ড়ঃষবংং) মনোভাব। ৪। বৈশ্বিক সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য গ্রহণ। ৫। ফ্রয়েডীর মনোবিজ্ঞানের সূত্রে অবচেতন মনের ক্রিয়াকে প্রশ্রয় দেওয়া থেকে উপজাত চিন্তা ধারার অসম্বন্ধতা। ৬। ফ্রেসার প্রমুখ নৃতাত্ত্বিক, আইনস্টাইন প্রমুখ পদার্থ বিজ্ঞানীর সৃষ্টি কর্মের প্রভাব। ৭। মার্কস, লেনিন প্রমুখের সাম্যবাদী চিন্তা ধারার প্রভাবে নতুন সমাজ সৃষ্টির প্রয়াস। ৮। মননধর্মিতা অনেক সময় বিপুল একাডেমিক শিক্ষা বা জ্ঞানেরভাবে দুরহতার সৃষ্টি। ৯। বিবিধ প্রতিষ্ঠিত মূল্যবোধ বিষয়ে অবিশ্বাস ও সংশয় এবং তৎ সজ্ঞাৎ অনিশ্চয়তার বহিঃপ্রকাশ। ১০। দেহজ কামনা বাসনা প্রসূত অনুভূতিকে স্বীকার করা এবং প্রেমের শরীরি রুপকে প্রত্যক্ষ করা। ১১। অলৌকিক ও প্রথাগত নীতি ধর্মে প্রচন্ড অবিশ্বাস। ১২। ঐতিহ্য গত রোমান্টিকতার বিরুদ্ধে সচেতন বিদ্রোহ এবং নবতর সৃষ্টির পথ অনুসন্ধান ইত্যাদি।
কাব্য রচনায় ভাবের সঙ্গে শৈলী ও প্রকরণ অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। সাধারণত: আঙ্গিকের বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ:
ক। বাক রীতি ও কাব্য রীতির মিশ্রণ। গদ্যের ভাষা, প্রবাদ প্রবচন, চলতি শব্দ, গ্রাম্য শব্দ ও বিদেশী শব্দের ব্যবহারে গদ্য পদ্য ও কথ্য ভাষার ব্যবধান বিলোপের চেষ্টা। অতি ব্যবহৃত পদ্য গন্ধী শব্দকে গ্রহণ অর্থাৎ ভাষা সম্পর্কে সর্বপ্রকার শুচিবায়ু পরিহার।
খ। প্রাচ্য পাশ্চাত্যের পুরান এবং বিখ্যাত কবিদের কাব্য অথবা ভাবনা থেকে উদ্ধৃতির প্রয়োগে সিদ্ধরস চূর্ণ করা বা অতীত ঐতিহ্যের সঙ্গে নতুন অনুভূতির সমন্বয় সাধন।
গ। খ্যাতিমান কবির প্রসিদ্ধ উপমা ও বর্ণনার বিরলতম ব্যবহার কিংবা প্রচলিত কাব্যিক শব্দ বর্জন।
ঘ। প্রাচীন উপমা উৎপ্রেক্ষা বা শব্দের অভিনব অর্থে প্রয়োগ এবং তৎসহ যোগে নতুন চিত্রকল্প সৃষ্টি।
ঙ। শব্দ প্রয়োগে বা গঠনে মিতব্যয়িতা এবং অর্থ ঘনত্ব সৃষ্টির চেষ্টা।
চ। বাহুল্য বর্জনের ফলে মধ্যবর্তী চরণের অনুল্লেখ। চিন্তা ধারার মধ্যে উল্লম্ফন সৃষ্টি অথচ ছড়ার সঙ্গে থাকবে মৌলিক পার্থক্য।
ছ। নাম বাচক বিশেষ্য, বহু পদময় বিশেষণ, অব্যয় এবং ক্রিয়ার পূর্ণ রূপের ব্যবহার। চলতি ক্রিয়াপদের সঙ্গে সংস্কৃত বহুল বিশেষ্য বা বিশেষণের সংযোগ
জ। প্রচলিত পয়ার সনেট ও মাত্রা প্রধান ছন্দের অভিনব রূপান্তর এবং মধ্য মিলের (ওহঃবৎহধষ জযুসব) সৃষ্টি, অন্ত্যমিল বর্জন।
ঝ। গদ্য ছন্দের ব্যবহারে বহুমাত্রিক ভাব ধারা। ঞ। অদ্ভুত, ব্যঙ্গ, বিতর্ক এবং বিভৎস রসের বহুল ব্যবহার।
ট। শব্দালংকার অপেক্ষা বিরোধাভাস বক্রোক্তি প্রভৃতি অর্থালংকারের ব্যবহার।
ঠ। বিষয় বৈচিত্রের অভিনবত্ব এবং শব্দ শিল্প সৃষ্টি ইত্যাদি।
মোটামোটিভাবে আধুনিক কবিতায় এই সমস্ত লক্ষণ দৃশ্যমান হয়। এই লক্ষণগুলির যত বেশি প্রকাশ ঘটবে ততই কবিতা কে আধুনিক বিবেচনা করা সম্ভব। বাংলার আধুনিক কবিদের মধ্যে কবিতায় এই লক্ষণগুলি প্রকাশ পেয়েছে যাদের লিখায় তার মধ্যে বুদ্ধদেব বসু, জীবনানন্দ দাশ, সুধীন্দ্র নাথ দত্ত, বিষ্ণু দে, অমিয় চক্রবর্তী, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, শামসুর রাহমান, নীরেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী, আল মাহমুদ, নির্মলেন্দু গুন, মহাদেব সাহা, দাউদ হায়দার, আবু হেনা মোস্তফা কামাল, সুভাষ মুখোপাধ্যায়, রফিক আজাদ, দিলওয়ার, শক্তি চট্টপাধ্যায়, সুকান্ত ভট্টাচার্য, জয় গোস্বামী, আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ খান, সৈয়দ শামসুল হক, শহীদ কাদরী, মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, আসাদ চৌধুরী, হেলাল হাফিজ, সিকান্দার আবু জাফর, রেজা উদ্দিন স্টালিন, আবু জাফর সামছুদ্দিন, মুহিবুর রহমান কিরন, শাহাব উদ্দিন নাগরি, বেলাল চৌধুরী প্রমুখ অগ্রগন্য।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT