সম্পাদকীয় যে দুর্বল সে কোনদিনই সুবিচার করিতে সাহস পায় না। -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বাড়ছে মশাবাহিত রোগ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯-০৯-২০১৯ ইং ০০:৩২:০০ | সংবাদটি ৫৪ বার পঠিত

বাড়ছে মশাবাহিত রোগ বালাই। ডেঙ্গুর প্রকোপ থামেনি। তবে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের- সংখ্যা কমছে। কিন্তু ডেঙ্গু আরও কিছুদিন মানুষকে ভোগাবে বলে জানা গেছে। এর কারণ হচ্ছে উত্তপ্ত আবহাওয়া। এই আবহাওয়ায় শুধু ডেঙ্গু নয়, মশাবাহিত অন্যান্য রোগের প্রকোপও বেড়ে যায়। গবেষকদের মতে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিশেষ করে গ্রীষ্মম-লীয় দেশগুলোতে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত রোগী ও মৃত্যুর হার বাড়ছে প্রতি বছরই। বাংলাদেশ ডেঙ্গু ভাইরাসের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর অন্যতম। ২০১৭ সালে বাংলাদেশে বহু মানুষ চিকুনগুনিয়া ভাইরাসে আক্রান্ত হয়। এ বছর বেড়েছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। এডিস মশা ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও জিকা ভাইরাস বিস্তারের মাধ্যম। আর জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশসহ এশিয়ার দেশগুলোতে বেড়েছে এডিস মশাবাহিত এসব রোগের প্রকোপ।
জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটছে। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন সারা বিশ্ব। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে একদিকে তাপমাত্রা বাড়ছে, অপরদিকে গলছে হিমবাহ। খরা, অতিবৃষ্টি ও ঝড় বেড়েছে। খাদ্য উৎপাদনে পড়েছে বিরূপ প্রভাব। হুমকির মুখে পড়েছে জনস্বাস্থ্য। জানা যায়, মানুষের শরীর থেকে রক্ত আহরণের পর এডিস মশা স্বচ্ছ জলাশয়ে ডিম পাড়ে। আর তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় এডিস মশা মানুষের শরীর থেকে বারবার রক্ত নিতে চায়। এবার বর্ষা মওসুমে ভারী বৃষ্টিপাত তেমন একটা না হওয়ায় এডিস মশার প্রজনন বেড়েছে। বিজ্ঞানীগণ ইতোপূর্বে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নানা ধরনের রোগবালাইয়ের ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছেন। আজ থেকে ১২ বছর আগে তারা বলেছিলেন ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, চিকুনগুনিয়াসহ বিভিন্ন রোগের প্রকোপ বাড়বে। সেই ভবিষ্যৎবাণী এখন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে শুধু বাংলাদেশ নয়- মালয়েশিয়া, থাইল্যা-, শ্রীলংকা, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, চীন, মিয়ানমার, সিঙ্গাপুর ও ফিলিপাইনসহ সমুদ্র তীরবর্তী দেশগুলোতে মশাবাহিত রোগের প্রকোপ বেশি।
জলবায়ুর পরিবর্তন তথা উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণেই মশাবাহিত নানা রোগের প্রকোপ বেড়েছে। শুধু তাই নয়, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মানবজাতি তথা প্রাণীকুলের জন্য আরও অনেক বিপর্যয় অপেক্ষা করছে। তাই মানুষের যেসব আচরণ বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির জন্য দায়ী, সেসব ব্যাপারে সজাগ হতে হবে। সর্বোপরি মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে মশা নিধনের ওপর জোর দিতে হবে। সেই সঙ্গে প্রয়োজন এইসব রোগের প্রতিষেধক আবিষ্কার।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT