উপ সম্পাদকীয়

আজকের দিন আজকের দিকে তাকাও

ইনাম চৌধুরী প্রকাশিত হয়েছে: ১২-০৯-২০১৯ ইং ০০:০৯:২৪ | সংবাদটি ৯১ বার পঠিত

আমাদের মহানগরী সিলেট এর পরিচিতি চিহ্ন হিসাবে খ্যাত ক্বীনব্রীজ সেতুটি এখন কালান্তরের ফলশ্রুতিতে দেশের সবচাইতে দীর্ঘতম পদচারী সেতুতে পরিণত হতে চলেছে। এটির অস্তিত্ব যখন অন্তিম পর্যায়ে, যখন আর কোন ভারই বহন করার ক্ষমতা সেতুটির নাই তখন যোগ্যতম সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করেছেন সিসিক এর মাননীয় মেয়র সাহেব। সব ধরনের বাহন সহ রিক্সা পর্যন্ত এটির উপর দিয়ে পারাপার নিষিদ্ধ করে ক্বীন ব্রীজটিকে একটি নান্দনিক রূপ দেয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন মাননীয় মেয়র সাহেব। এ জাতীয় পদক্ষেপ আরো আগেই নেয়া উচিত ছিলো বলে অনেকে মন্তব্য করেছেন। পরিবেশ, পরি¯ি’তি আর সার্বিক আনুকূল্য এর অভাবে বোধ হয় সেটি সম্ভব হয়ে উঠে নাই। সর্বজন, সর্বমহল আর আপামর জনসমাজের প্রিয়জন মরহুম সাইফুর রহমান সাহেব (সাবেক অর্থমন্ত্রী) এ জাতীয় একটি ই”ছা ব্যক্ত করেছিলেন। তিনি তার আকাঙ্খটিতে বাস্তবে রূপ দিয়ে যেতে পারেন চাই। আজ যেন মরহুম সাইফুর রহমান সাহেবের স্বপ্নের সাথে সাথে বৃহত্তর সিলেটবাসীর স্বপ্নটি বাস্তবায়িত হওয়ার পথে।
সেই আদিকাল থেকে তৎকালীন প্রমত্তা সুরমা নদীটির উপর একটি সেতুর প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হ”িছলো। গোলাপগঞ্জের রণকেলী গ্রাম নিবাসী তৎকালীন আসাম আইন পরিষদ সদস্য মরহুম আব্দুল হামিদ চৌধুরী সোনা মিয়া সাহেব এই সেতুটির ব্যাপারে আসাম আইন পরিষদে প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তুমুল বাকবিতন্ডা, তুমুল বাধাবিপত্তি আবার যুক্তিতর্ক সবকিছু উতরীয়ে মরহুম আব্দুল হামিদ চৌধুরী সাহেবের প্রস্তাবটি গৃহিত হয় এবং তিন বছর সময়কাল ব্যয় করে আগাপাশতলা লৌহনির্মিত এই অত্যাশ্চর্য সেতুটি নির্মিত হয় এবং তৎকালীন আসাম প্রদেশের গভর্ণর সাহেব এটির উদ্বোধন করেন ঊনিশ শত ছত্রিশ সালে। সুরমা নদীর দ্বারা বিভক্ত দুটো বৃহত্তর এলাকা যেন নবজীবন লাভ করে সেতুটির মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে। এই সেদিন মার্কিন রাষ্ট্রদূত (বাংলাদেশে) সেতুটি হেঁটে এমাথা ওমাথা করেছেন। আনন্দ আর সন্তোষ প্রকাশ করে এটিকে দীর্ঘতম পদচারী সেতু হিসাবে বর্ণনা করেছেন। এটির উন্নয়ন কর্মে মার্কিন সহায়তা কামনা করেছেন আমাদের মাননীয় সিসিক মেয়র সাহেব।
বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলার সাহেব ক্বীনব্রীজ এর সন্নিকটে আরেকটি স্মৃতিধন্য ¯’াপনা নবাব আলী আমজদ সাহেব কর্তৃক ¯’াপিত বিখ্যাত ঘড়িটি দর্শন করেন এবং এটির ঘন্টাধ্বনিও শোনেন। তিনি আনন্দ প্রকাশ করেছেন আমাদের এই মহানগরীটির পরিচিত স্মারক দুটো পরিদর্শন করে।
সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জের রণকেলী বড়বাড়ীর আরেক কৃতি সন্তান মৌলবী আব্দুর রহীম সাহেব সুরমা কুশিয়ারা নদীর সংযোগ খাল খনন করিয়েছিলেন আপন উদ্যোগে নিজ ব্যয়ে। সেটির বয়সকাল বোধহয় প্রায় দুইশত বছর পেরিয়ে যায় কিš‘ আজ পর্যন্ত সেটি মৌলবীর খাল নামেই সমধিক পরিচিতি বহন করছে। অনেক জায়গায় খালটি বুজে গিয়েছে, কোন কোন জায়গায় বেদখল হয়েছে এসব কিছুই হয়েছে কালের পরিক্রমায়। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জলপথ ব্যবহারে উদ্যোগী হতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ীদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। বেশ বড় বড় প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। বেদখল হওয়া নদী, খাল সমূহ উদ্ধার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে সাফল্যজনকভাবে। আমি অনুরোধ জানাই মৌলবী আব্দুর রহীম মরহুম কর্তৃক খননকৃত সেই মৌলবীর খালটিকেও যেন পুনরুদ্ধার, উন্নয়ন আর পুনঃব্যবহারযোগ্য করে তুলতে পারলে নৌযোগাযোগ সুবিধার পাশাপাশি বাংলাদেশের কৃষি ব্যব¯’ায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। সেচ সুবিধা নিশ্চিত করলে এ জাতীয় জলপথ পুনরুদ্ধার প্রকল্পসমূহকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়নযোগ্য করে তোলা অত্যাবশ্যক বলে মনে করি।
পুনঃমুষিকভব: এর মতো আবারও সিলেট মহানগরীর কথায় ফিরে আসি। ঐতিহাসিক ক্বীন ব্রীজটির নান্দনিক রূপটি যেমন মানুষকে বিমোহিত করবে তেমনি উভয় পার্শ্বে নির্মিতব্য পার্কগুলি বিশুদ্ধ বায়ু সেবনকারীদের করবে বিশেষভাবে আকৃষ্ট। সবকিছুই নির্ভর করবে পুরোদ¯‘র পরিকল্পনাটির বাস্তবায়ন আর সুরমা নদীটির খনন প্রক্রিয়া শতভাগ সমাপ্তকরণের উপর। আশা করা যায় সবকিছুই সম্ভব হবে আমাদের সিলেটের কৃতি সন্তান মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমিন সাহেবের সহযোগিতা ও উৎসাহী মনোভাবের ফলস্বরূপ।
আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয়ই বৃহত্তর সিলেট এর সকল প্রকার উন্নয়নে বিশেষভাবে আগ্রহী আর সারথী হিসাবে মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাহেব সকল প্রকার তথ্য ও তত্ত্ব সরবরাহের দায়িত্ব পালন করবেন আন্তরিকভাবে। মাননীয় পরাষ্ট্রমন্ত্রী রাত্রি নিশিথে স্বউদ্যোগে সিলেট মহানগরীতে হেঁটে বেরিয়েছেন মাননীয় মেয়র সাহেব সমভিব্যহারে। তারা উভয়েই আধুনিক মহানগরী গড়তে যতোটুকু করণীয় সবকিছু করতে দৃঢ়প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
আমাদের চিরপরিচিত ক্বীন ব্রীজটি হাঁটা পথে রূপান্তরিত হওয়ার ফলে সেতুটি ব্যবহারকরী বাহনসমূহ এখন কাজিরবাজার সেতু ও শাহজালাল সেতু ব্যবহার করছে। কাজিরবাজার সেতুমুখ থেকে একেবারে রিকাবীবাজার মোড় পর্যন্ত রাস্তাটির আকার আয়তন রয়ে গেছে সেই আগের মতন। এতোদিন কোন রকমে হেটে রাস্তাটি পাড়ি দেয়া যেতো বর্তমানে সেটি অজ¯্র যানবাহনের চাপে সবসময় থাকছে জটযুক্ত অব¯’ায়। পথচারীরা যেমন পেরুতে পারছে না তেমনি বাহন সমূহ (এম্বুলেন্সসহ) আটকা পড়ে থাকছে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য। আমি প্রস্তাব আকারে বলতে চাই কাজিরবাজার সেতুমুখ থেকে একটি রাস্তা প্রশস্তকরণ পূর্বক শেখঘাট হয়ে একেবারে নবাব রোড পর্যন্ত, অন্যটি তালতলা হয়ে একেবারে সার্কিট হাউস পর্যন্ত প্রসারণ পূর্বক সম্প্রসারিত করা হোক। কাজিরবাজার সেতুমুখ থেকে সড়কটিকে একেবারে রিকাবীবাজার হয়ে চৌহাট্টা হয়ে কুমারপাড়া মোড় পর্যন্ত প্রসারণ পূর্বক বিস্তৃত করতে পারেল অবশ্যই যানজট নিরসন করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে লামাবাজার মোড় থেকে একেবারে টিলাগড় মোড় পর্যন্ত সড়কটি প্রশস্তকরণ সহ সম্প্রসারিত করতে পারলে শাহজালাল সেতু দিয়ে আগমন ও নির্গমনরত বাহনসমূহ এর চাপ সামলাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
বর্তমানে সিলেট মহানগরীতে যানজটের কারণসমূহের মধ্যে প্রকট হ”েছ ধীরগতির রিক্সা জাতীয় বাহনসমূহের চলাচল। সিএনজি চালিত অটোরিক্সা এতোটা সমস্যার কারণ না ঘটালেও হরদম চোর ছ্যাচড়, পকেটমার আর ছিনতাইকারী সমৃদ্ধ হয়ে অনেক সময় চলাচল করে থাকে বলে হরদম সংবাদপত্রসমূহে প্রকাশিত হ”েছ। এ জাতীয় উদ্ভট সমস্যার জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসমূহ তৎপর হলে এবং কোন রাস্তায় কতোটি অটোরিক্সা চলছে সেগুলির সংখ্যা ও তালিকা নাম্বারসহ সংরক্ষণ করতে পারলেই এটির নিরসন হবে আশা করা যায়। অন্যদিকে যাত্রি সাধারণকেও সতর্কতার সাথে চলাফেরা করতে এবং যেকোন বাহনে আরোহণ করার আগেই এটির নাম্বারটি দেখে নিলেই হয়।
আমি মাননীয় মেয়র সাহেবকে অনুরোধ জানাতে চাই সারা নগরব্যাপি যেন চক্রাকার (প্রস্তাবিত) বাস সার্ভিস ব্যব¯’া চালু করা হয়। দ্বিতল বাস সার্বিক ব্যব¯’া হবে যেমন সাশ্রয়ী তেমনি অধিক যাত্রি বহন এর সাথে সাথে স্বল্প সংখ্যক দ্বিতল বাস ব্যবহার করা যাবে। কারণ একটি বাস দুটো সমান যাত্রি বহনে সক্ষম বলেই আমরা জানি। সিলেটে বিআরটিসি বাসের রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা সম্বলিত ডিপোও রয়েছে তাই এ ব্যাপারে বিশেষ অসুবিধা পোহাতে হবে না। সাধারণ পরিবহন ক্ষেত্রে বেসরকারী খাতকেও উৎসাহ প্রদান করতে হবে সর্বান্তকরণে। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার এই ব্যব¯’াটি চালু করে সুফল পেয়েছিলো। সার্বিকভাবে যদি বিআরটিসি আর বেসরকারি পরিবহন ব্যব¯’া মহানগরীটিতে সম্প্রসারিত হয় অবশ্যই গণমানুষ স্বাগত জানাবে কারণ উপকৃত হবে তারাই কারণ খেটে খাওয়া মানুষ, আর নি¤œবিত্তদের জন্য এই পরিবহন ব্যব¯’া আশীর্বাদতুল্য। রিক্সা বাহন হিসাবে নেহায়েত হালকা ও দুর্ঘটনা প্রবণ অন্যদিকে আকাশচুম্বী ভাড়া হেকে তারা যাত্রিদের জিম্মি করে ফেলছে বলেও অভিযোগ শোনা যায়। ছোট পরিসরে আর স্বল্প দূরত্বে এইগুলি চলাচল করলে সিসিক নির্ধারিত ভাড়ার হার মানতে তারা বাধ্য তো হবেই-অন্যদিকে মানুষকে যাত্রি হিসাবে গ্রহণ করার মানসিকতা তারা লাভ করবে।
পরিশেষে ডেঙ্গু আতঙ্কিত নগরবাসীকে স্বত্বি দিতে সিলেট সরকারী আলীয়া মাদ্রাসা ময়দানটিকে গণশৌচাগার হিসাবে ব্যবহার হতে না দিয়ে একটি মেগা প্রকল্পের অধীনে এটিকে কলকাতা আলীয়া মাদ্রাসার আদলে গড়ে তোলার আহবান জানাতে চাই। অনুরূপভাবে শহীদ সামসুদ্দীন হাসপাতালটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ শিশু হাসপাতাল হিসাবে গড়ে তুলতে বিশেষ প্রকল্প মারফত বহুতল দালানসহ সকল আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিতকরণের আহবান জানাই। চু হিকায়তমি কূনাদ।
লেখক : কলামিস্ট।

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • সড়ক দুর্ঘটনা এবং সড়ক আইন-২০১৮
  • বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ও বিদেশি বিনিয়োগ প্রসঙ্গ
  • বাঙালির ধৈর্য্য
  • সামাজিক অবক্ষয় ও জননিরাপত্তার অবকাঠামো
  • শিক্ষকদের অবদান ও মর্যাদা
  • ১৯৭০ এর নির্বাচন ও মুক্তিযুদ্ধ
  • একাত্তর :আমার গৌরবের ঠিকানা
  • সড়ক দুর্ঘটনা কি থামানো যায় না?
  • চিকিৎসা সেবা বনাম ব্যবসা
  • নীরব ঘাতক প্লাস্টিক
  • সার্থক জীবন মহত্তর অবদান
  • প্রযুক্তির বিশ্বায়ন বনাম তরুণ সমাজ
  • মানবিক মূল্যবোধ ও বাংলাদেশ
  • খাদ্য চাহিদা পূরণে উৎপাদন বৃদ্ধি অপরিহার্য
  • শ্রমজীবী মানুষদের নিয়ে কিছু কথা
  • সাংস্কৃতিক আগ্রাসন
  • বৃটিশ সাধারণ নির্বাচন-২০১৯
  • প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অগ্রযাত্রা সফল হোক
  • লক্ষ্য হোক সুষম সামাজিক উন্নয়ন
  • জননী ও জন্মভূমি
  • Developed by: Sparkle IT