উপ সম্পাদকীয়

সফল হওয়ার সহজ উপায়

মো. রাফছান আহমেদ প্রকাশিত হয়েছে: ১২-০৯-২০১৯ ইং ০০:১৭:০৪ | সংবাদটি ১০৯ বার পঠিত

আমাদের পরাজয়ের পেছনে একটা কারণ দাঁড় করানো যায়। আমরা যখন কোনো স্বপ্ন দেখি, তখন অনেক বড়ো স্বপ্ন দেখি। আমাদের পরিবেশ আমাদের দেখতে বাধ্য করে অনেকটা; কিন্তু যখন আমরা আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারি না। শুরু হয় হতাশা। এই হতাশা চারদিক থেকে ঘিরে ধরে আমাদের। অথচ নিজেদের যোগ্যতা সম্পর্কে একটাবারও জানা হয়নি। প্রশ্ন করা হয় নি, আমরা কতটুকু জানি বা আমাদের জানার পরিধি ঠিক কতটা প্রশস্ত। আমার মতে এমন স্বপ্ন দেখা উচিত নয় যেটা আমাদের নিজেদের পক্ষে বাস্তবায়ন করা অসম্ভব। সামর্থ্যের বাইরে স্বপ্ন দেখাটা আমার চোখে এক প্রকার অপরাধই। যার শাস্তিস্বরূপ আসে হতাশা। প্রতিদান দিতে হয় নিজেকে, পরিবারকে। অথচ যে সমাজ আমাদের আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্নটা দেখিয়েছিল তারা এখন ধরাছোঁয়ার বাইরে। এমন স্বপ্ন দেখবইবা কেন যা বাস্তবায়ন করা অসম্ভব। অনিশ্চিত প্রত্যাশার চেয়ে, হাতে পাওয়া অল্পকিছুও যে অনেক ভালো সেটা আমাদের কে বুঝাবে? সুতরাং প্রথমে নিজেকে প্রশ্ন করুন, কতটুকু পারবেন। আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন সবার পূর্ণ হয় না, হবেও না। আমি-আপনি সেই পথ চেয়ে বসে থাকলে কিছুই হবে না। কাউকে স্বপ্ন দেখাতেও একবার ভেবে নিবেন। তার যোগ্যতার হিসেব কষেই পথ দেখাবেন। এতে দুইজনেরই মঙ্গল হবে। নিজের সামর্থ্যের মধ্যে কিছু করুন, করার চেষ্টা করুন। ইনশাল্লাহ ভালো থাকবেন। হতাশা আপনার ছায়াও মাড়াবে না।
‘সফলতা’ চারটি কথার ফুলঝুরি নয়, যে মুখে বললেই হয়ে যাবে। সফলতা এমনও নয়, যে পাহাড় কেটে নদী বানাতে হবে। সফলতা আসলে একটা ব্যতিক্রমী বিষয়। তার চেয়েও ব্যতিক্রমী বিষয় হলো আমাদের চিন্তা-চেতনা। মূলত এটাকে কে কীভাবে নেয় সেটাই মূল বিষয়। একজন দোকানদারের একদিনে ১ হাজার টাকা আয় করা তার কাছে একটা যুদ্ধজয়ের সমান। আর, তার কাছে এটাই সফলতা। কারো কাছে এই ১ হাজার টাকাই আবার সামান্য কিছু। সফলতাটা আসলে একটি মনস্তাত্ত্বিক পরিতুষ্টির বিষয়। যেখানে একটা মানুষের প্রতিটি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রত্যাশার সার্থক বাস্তবায়নই তার কাছে সফলতা। সফলতা ঠিক যেমন ছোটো হতে পারে ,আবার এর বিস্তৃতি হতে পারে আকাশ সমান। আমার কাছে কঠোর পরিশ্রমের পর কোনো একজনের স্বপ্ন পূরণ হবার ঘটনাটাই সফলতা। সফলতাটা মূলত কোনো একটি পরিশ্রমের পারিশ্রমিকস্বরূপ। যেখানে প্রত্যাশিত কিছু একটা পাওয়ার জন্য কোনো একজন কলুরবলদের মতো পরিশ্রম করে দিনশেষে তার যথোপযুক্ত প্রাপ্যটা পায়। তার কাছে এটাই তার সফলতা। বার বার অকৃতকার্য হওয়া ছাত্রটির কাছে টেনেটুনে কৃতকার্য হওয়াটাই হলো সফলতা; কিন্তু বর্তমানে মানুষ ভাবে ভিন্ন কিছু। আমাদের স্বপ্ন আকাশ ছোঁয়ার; কিন্তু পরিশ্রমের বেলায় কারো খবর নেই। স্বপ্ন বাস্তবায়নে কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে আমাদের দেখা যায় না। অথচ দিনশেষে এই মানুষগুলোই নিজেদের ব্যর্থ বলে জাহির করে। দিনে দিনে ব্যর্থতাটাও একটা সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়ে গেছে। যেখানে কেউই এই ব্যর্থতার দুর্নাম গুচাতে এগিয়ে আসে না। এক পা এগোয় তো দুই পা পিছিয়ে যায়। সফলতা অর্জনে যেটুকু ধৈর্য প্রয়োজন সেটুকুই আমাদের নেই।
অপেক্ষার প্রহর আর কঠোর পরিশ্রমের পর নিজের ধৈর্যের অগ্নিপরীক্ষা কয়জনই বা দিতে পারে? সফলতা তাদেরই পাওয়া উচিত যারা অন্তত ধৈর্যের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ইতিবাচক মনমানসিকতা রাখে। সফলতা অর্জনে শেষ লক্ষ্যে পৌঁছাতে আমাদের ধৈর্যশীল হওয়া উচিত। শূন্য থেকে শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিষয়টাকে একাধিক ভাগে ভাগ করে একটু একটু করে এগোলেই দিনশেষে সফলতা ধরা দেবে। ধৈর্যবান, মেধাবী এবং পরিশ্রমীদের সফলতা কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র।

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • সড়ক দুর্ঘটনা এবং সড়ক আইন-২০১৮
  • বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ও বিদেশি বিনিয়োগ প্রসঙ্গ
  • বাঙালির ধৈর্য্য
  • সামাজিক অবক্ষয় ও জননিরাপত্তার অবকাঠামো
  • শিক্ষকদের অবদান ও মর্যাদা
  • ১৯৭০ এর নির্বাচন ও মুক্তিযুদ্ধ
  • একাত্তর :আমার গৌরবের ঠিকানা
  • সড়ক দুর্ঘটনা কি থামানো যায় না?
  • চিকিৎসা সেবা বনাম ব্যবসা
  • নীরব ঘাতক প্লাস্টিক
  • সার্থক জীবন মহত্তর অবদান
  • প্রযুক্তির বিশ্বায়ন বনাম তরুণ সমাজ
  • মানবিক মূল্যবোধ ও বাংলাদেশ
  • খাদ্য চাহিদা পূরণে উৎপাদন বৃদ্ধি অপরিহার্য
  • শ্রমজীবী মানুষদের নিয়ে কিছু কথা
  • সাংস্কৃতিক আগ্রাসন
  • বৃটিশ সাধারণ নির্বাচন-২০১৯
  • প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অগ্রযাত্রা সফল হোক
  • লক্ষ্য হোক সুষম সামাজিক উন্নয়ন
  • জননী ও জন্মভূমি
  • Developed by: Sparkle IT