সম্পাদকীয় আগুন যেমন ফুৎকার দ্বারা বৃদ্ধিপায়, ক্রোধ তেমনি বৃদ্ধিপায় কথার দ্বারা। - টমাস ফুলার।

শুরু হচ্ছে গ্যাস সংযোগ

প্রকাশিত হয়েছে: ১৩-০৯-২০১৯ ইং ০১:১৬:৪৯ | সংবাদটি ২৪৯ বার পঠিত

আবাসিক খাতে পাইপ লাইনে গ্যাস সংযোগ শুরু হচ্ছে আবার। দীর্ঘ নয় বছর বন্ধ থাকার পর সরকার পুনরায় গ্যাস সংযোগ চালু করার চিন্তাভাবনা করছে। তবে এবার গ্যাস সংযোগ দেয়া হবে প্রি-পেইড মিটারের আওতায়। দেশে চাহিদার তুলনায় প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ কম থাকায় ২০০৯ সালের জুলাই মাসে শিল্পে ও বাণিজ্যিক খাতে নতুন গ্যাস সংযোগ বন্ধ ঘোষণা করা হয়। একই কারণে পরের বছর জুলাই মাসে আবাসিক খাতেও নতুন গ্যাস সংযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়। মাঝখানে ২০১৩ সালে আবাসিক খাতে গ্যাস সংযোগ চালু হলেও পরবর্তীতে আবার বন্ধ করে দেয়া হয় এই কার্যক্রম। এই দীর্ঘ সময় গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকায় নতুন ভবন নির্মাণ করে বিপাকে পড়েন ফ্ল্যাট ও আবাসন ব্যবসায়ীরা। গ্যাস সংযোগ চালুর ব্যাপারে দীর্ঘদিন ধরে দাবী জানানো হচ্ছে বিভিন্ন মহল থেকে। ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকেও বিগত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে নতুন গ্যাস সংযোগের ইঙ্গিত দেয়া হয়।
সরকারের এই উদ্যোগকে বিভিন্ন মহল থেকে স্বাগত জানানো হয়েছে। অতি সম্প্রতি বাসাবাড়িতে গ্যাসে মিটার সংযোগের সিদ্ধান্তকেও সাধারণ মানুষ স্বাগত জানিয়েছে। জ্বালানী গ্যাস ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার জন্য গৃহস্থালীর কাজে ব্যবহৃত গ্যাস গ্রাহকদের মিটারের আওতায় নিয়ে আসার লক্ষে ‘প্রাকৃতিক গ্যাস বরাদ্দ নীতিমালা ‘২০১৯-এর খসড়া সম্প্রতি চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর আওতায় চুলা ভিত্তিক গ্যাস এর দাম নির্ধারণের বর্তমান প্রথা বাতিল হয়ে যাবে। মিটার পদ্ধতি চালু হলে গ্যাস এর অপচয় বন্ধ হবে বলেও আশা করা হচ্ছে। তাই মিটার পদ্ধতিতে বাসাবাড়িতে নতুন গ্যাস সংযোগ দেয়ার বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, সেটা ইতিবাচক বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। জ্বালানী গ্যাস প্রাকৃতিক সম্পাদ। এর মজুদ সীমিত। সেটা বিবেচনা করেই নতুন গ্যাস সংযোগ বন্ধ রাখা হয়। তবে বর্তমানে সংশ্লিষ্টদের মনোভাব পাল্টেছে। পার্শ্ববর্তী অনেক দেশেই এখন নতুন করে পাইপ লাইনে গ্যাস সংযোগ প্রদান প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তাছাড়া, পাইপ লাইনের বিকল্প হিসেবে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানী ব্যয়ও দেশে উৎপাদিত গ্যাসের চেয়ে অনেক বেশি। তাই সরকার বাসাবাড়িতে গ্যাস সংযোগ না দেয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে।
সরকার পাইপ লাইনে গ্যাস সংযোগ প্রদান করবে; গ্রাহকেরা মিটার রিডিং অনুযায়ী বিল পরিশোধ করবেন। অর্থাৎ যতোটুকু গ্যাস ব্যবহার করা হবে, ঠিক ততোটুকুই বিল পরিশোধ করতে হবে।
এটাই সত্যি যে, গ্যাসের মজুদ সীমিত। তার পাশাপাশি রয়েছে অপচয়, চুরি। এই প্রেক্ষাপটে গ্যাসের নতুন উৎসের সন্ধান করার পাশাপাশি অপচয় বন্ধ করতে হবে। দেশে বর্তমানে যে ৩৮ লাখ গ্রহক রয়েছে এদের প্রত্যেককে মিটার এর আওতায় নিয়ে আসা অত্যন্ত জরুরী। তাড়াছা, বিকল্প বা নবায়নযোগ্য জ্বালানীর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT