ধর্ম ও জীবন

মেহমানদের প্রতি মহানবী (সা.)

আখতার হোসাইন প্রকাশিত হয়েছে: ১৩-০৯-২০১৯ ইং ০১:৩৩:০৮ | সংবাদটি ১১৭ বার পঠিত

অতিথি পরায়ণতা, মেহমানদারী, আপ্যায়ণ বা সেবা ইসলাম ধর্মের গুরুত্বপূর্ণ রীতি-নিয়ম, বিধান বা সাওয়াব অর্জনের একটি উপায়। এ মহাদেশে বাঙালি ছিল চমৎকার অতিথি পরায়ণ একটি জাতি। অফিসে, বাসা-বাড়িতে কমপক্ষে এককাপ চা-বিস্কুট দিয়ে হলেও মেহমানকে আপ্যায়ন করা হতো। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে অতিথি বা মেহমান হচ্ছেন নারায়ন বা দেবতা তুল্য। গ্রামের বাড়িতে কোনো পথচারী হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়ে কোনো বাড়িতে এসে পানি চাইলে গৃহস্থ ব্যক্তি শুধু পানি দেয়াটাকে লজ্জাজনক মনে করতেন। গাছের ছায়ায় বসিয়ে পানির সাথে কিছু মুড়ি আর এক টুকরো গুড় হলেও খেতে দিতেন। সম্পদশালীরা মেহমানখানা বা বাংলা ঘর নামে একটি ঘরই মেহমানদের জন্য তৈরী করে রাখতেন। অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে ওয়াজিব এ কাজটি আমাদের সোনার বাংলায় চালু ছিল। সারা পৃথিবীতে এতো চমৎকার অতিথি পরায়ণ জাতি আসলেও খুঁজে পাওয়া কঠিন। বিখ্যাত সাধক ও কবি শেখ সাদী দীর্ঘ ৩৩ বছর হজ্জের মৌসুমে রাস্তায় রাস্তায় আগত হাজীদের পানি পান করাতেন। হাদিসে নববীতে পাওয়া যায় যে, একটি তৃষিত কুকুরকে কুয়া থেকে উঠিয়ে পানি পান করানোর জন্য এক দেহ ব্যবসায়ী মহিলাকে জান্নাত দান করা হয়েছে। মানব সেবা পরম ধর্ম। আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, যে মানুষের সেবা করে সেই শ্রেষ্ঠ। (বায়হাকী)
শেষ বিচারের দিন আল্লাহ তা’আলা অভিযোগ দায়ের করে বলবেন, হে মানুষ আমি অসুস্থ ছিলাম তোমরা আমাকে দেখনি। আমি অভুক্ত ছিলাম তোমরা আমাকে খাবার দাওনি। এ ক্ষেত্রে আমাদের করণীয় হলোÑ আমাদের প্রতিবেশি অসুস্থ হলে তাকে দেখাশুনা করা এবং অভুক্ত হলে তাকে খাবার প্রদান করা। তাহলে আল্লাহ তা’আলা আমাদের উপর সন্তুষ্ট হবেন। (সহীহ মুসলিম)
আল্লাহর সৃষ্টির সেবা সম্পর্কে সর্বদা আমাদের সচেতন থাকতে হবে। এ পৃথিবীর সর্বশেষ বার্তাবাহক ইরশাদ করেছেনÑ একটি ছুরি যেমন খুব তাড়াতাড়ি উঠের কুঁজের দিকে চালানো হয় তেমনি সে ঘরের দিকে অতি দ্রুত কল্যাণ অগ্রসর হতে থাকে, যে ঘরে অধিক মেহমানের আগমন ঘটতে থাকে। (সুনানে ইবনে মাজাহ)
হাকিম এর বরাতে হযরত সালমান ফারসি (রা.) বলেনÑ একবার আমি নবীজীর খেদমতে হাজির হলাম তখন তিনি একটি চেয়ারে বসা ছিলেন। আমাকে দেখে তাঁর চেয়ারটি আগাইয়া দিলেন আর বললেন, হে সালমান! যে ব্যক্তি কোন মেহমানের সম্মানে তার আসনটি বাড়িয়ে দেয়, আল্লাহ তা’আলা তার সকল গোনাহ মাফ করে দেন। (হায়াতুস সাহাবা)
মেহমানদারীর ফজিলত সম্পর্কে নবীজী বলেনÑ অতিথি পরায়ণতা বা মেহমানের সেবা মানুষের অসহায়ত্ব দূর করে, মনের মধ্যে প্রশান্তি সৃষ্টি করে, সর্বোপরি জীবনে নিয়ে আসে অনন্ত সুখ আর শান্তি। (সহীহ বুখারী)
অতিথি পরায়ণতা পরস্পর ভালবাসা এবং সহানুভুতি সৃষ্টি করে। ইবনুস সাকান এর বরাতে সাহাবী আবু রুশদ ইবনে আব্দুর রহমান বলেনÑ ইসলাম গ্রহণের পূর্বে আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মেহমান হয়েছিলাম। তিনি আমাকে তাঁর কাছে বসালেন। ভাল-মন্দ খাবার দিলেন। অতঃপর তিনি আমাকে তাঁর চাদর হাদিয়া দিলেন। আমি তাঁর হৃদয়স্পর্শী আতিথেয়তায় মুগ্ধ হলাম এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলাম। (হায়াতুস সাহাবা)
মেহমানকে খুশি করার জন্য নফল সাওম বা রোযা ভঙ্গ করা জায়েজ। হযরত আবু হুজাইফা (রা.) বর্ণিত হাদিসে এসেছে, একদা হযরত সালমান ফারসি (রা.) হযরত আবু দারদার বাড়িতে বেড়াতে গেলেন। সালমানের জন্য খাবার তৈরি হল। আবু দারদা বললেন, খানা খাও ,আমি রোযাদার। সালমান বললেন, তুমি না খাওয়া পর্যন্ত আমি খাব না। তখন দু’জনে একসাথে খাবার গ্রহণ করলেন। (সহীহ বুখারী)
আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কোনো দিন আগে কেউ সালাম জানাতে পারেনি। তিনি সর্বাগ্রে মেহমানদের সালাম জানাতেন এবং মুসাফাহা করতেন। (সুনানে তিরমিযী)
তিনি অত্যন্ত আনন্দ চিত্তে ‘মারহাবা’ বলে মেহমানদের অভ্যর্থনা জানাতেন। (ইবনুল কায়্যিম, যাদুল মা’আদ)
কোনো সম্মানী ব্যক্তিকে অভ্যর্থনা জানাতে নবীজী দাড়িয়ে যেতেন। একবার তাঁর দুধ মাতা হালিমা সাদিয়া তাঁর নিকট এলে তাকে দেখামাত্র তিনি দাড়িয়ে গেলেন এবং স্বীয় চাদর বিছিয়ে তাকে বসতে দিলেন। কিছুক্ষণ পর হালিমা সাদিয়ার স্বামী উপস্থিত হলেন তাঁর কম্বলের একপ্রান্ত বিছিয়ে তাকে বসতে দিলেন। সর্বশেষে তাঁর দুধভাই এলেন। তখনও তিনি তার সম্মানে দাড়িয়ে তাকে বসার স্থান করে দিলেন। (সিরাত বিশ্বকোষ, হযরত মুহাম্মাদ (সা.) ১ম খন্ড)
একবার আরবের প্রসিদ্ধ দাতা হাতিম তাঈ এর পুত্র ‘আদি ইবনে হাতিম’ নবীজীর মেহমান হলেন। নবীজী তাকে তাঁর আসনে বসতে দিলেন। আর তিনি মাটিতে বসে পড়লেন। নবীজীর এতো উদারতা আর অকৃত্রিম আতিথেয়তায় ‘আদি ইবনে হাতিম’ ঘোষণা করলেন, হে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয় আপনি দুনিয়াতে ঔদ্বত্য এবং ফাসাদ সৃষ্টি করতে পছন্দ করেন না। একথা বলে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন। (কানযুল উম্মাল এর বরাতে হায়াতুস সাহাবা)
সাহাবীগণ হতবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! একজন অমুসলিম মেহমানের প্রতি আপনি এতো সম্মানজনক আচরণ জানালেন কি কারণে? তিনি উত্তর দিলেন, আল্লাহ তা’আলা এ পৃথিবীতে মানুষকে সম্মানিত করে সৃষ্টি করেছেন। (বানি ইসরাঈল,আয়াত-৭০)
তাছাড়া তিনি তাঁর গোত্রের সর্দার ও সম্মানিত ব্যক্তি। কাজেই যখন তোমাদের নিকট কোনো গোত্রের সম্মানিত ব্যক্তির আগমন ঘটে তখন তাকে তোমরা যথার্থ সম্মান প্রদর্শন করবে। তাহলে তোমরাও সম্মানিত হতে পারবে। (তাবারাণী)
হযরত আব্বাস রাদিআল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিসে নবীজী বলেনÑ যে ব্যক্তি সালাত আদায় করে, যাকাত প্রদান করে, রমজানের সাওম পালন করে এবং মেহমানের আদর আপ্যায়ণ করে, সে বেহেশতে প্রবেশ করবে। তিনি বলেন, যার ঘরে মেহেমানের জন্য দস্তরখানা বিছানো থাকে, ফিরিশতাগণ ঐ ব্যক্তির জন্য রাহমাতের দো’আ করতে থাকেন। (আত্তারগীব ওয়াত তারহীব)
হযরত মিকদাম আবু করীমা সামী রাদিআল্লাহুর রেওয়ায়েতে প্রিয় নবী বলেনÑ রাত্রি বেলা আগন্তুক মেহমানকে আপ্যায়িত করা প্রত্যেক মুসলিমের উপর ওয়াজিব। সকাল পর্যন্ত থাকলে তখনও মেহমানদারী করা তার পাওনা। তবে মেহমান ইচ্ছা করলে এটা গ্রহণ করতে পারেন আবার ছেড়েও দিতে পারেন। (আদাবুল মুফরাদ)
হযরত আবু হুরায়রা বর্ণিত হাদীসে নবীজী ইরশাদ করেনÑ একদিন একরাত পর্যন্ত মেহমানকে উত্তম খাদ্য প্রদান করা তার পাওনা। আর মেহমানদারী হল সর্বনিম্ন তিন দিন। অধিক করলে তা সাদাকা হিসেবে গণ্য হবে। (সহীহ বুখারী)
হযরত উক্ববা ইবনে আমির এর বর্ণনায় প্রিয় নবী বলেনÑ তোমরা যদি কোনো সম্প্রদায়ের নিকট উপস্থিত হও আর যা শোভনীয় তা দ্বারা তারা তোমাদের আপ্যায়ণ করে, তবে তা সাদরে গ্রহণ কর। আর যদি তা না করে তবে মেযবানের অবস্থা অনুযায়ী তোমরা মেহমানদারীর হক আদায় করে নিতে পার। (সহীহ বুখারী)
আহমদ বলেনÑ ক্ষুধার তীব্রতায় যখন প্রাণনাশের আশংকা দেখা দেয় অথবা জনমানবহীন এলাকার জন্য এটা প্রজোয্য। (ফাতহুল বারী)
মেহমানের সেবা যতœ করতে গিয়ে রাসুলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর পরিবারÑ পরিজনকে অনেক সময় অর্ধাহারে অনাহারে থাকতে হতো। তথাপি তিনি কখনো মেহমানের আগমনকে অনাকাঙ্খিত মনে করতেন না এবং বিরক্ত হতেন না। আসহাবে সুফ্ফা ছিলেন তাঁর সার্বক্ষণিক মেহমান। তাঁর গৃহে খাবারের একটি বড় পাত্র ছিলো। এটা নাড়াচাড়া করতে চার জন লোকের প্রয়োজন হতো। সুফ্ফার মেহমানগণ এটার চতুর্পাশ্ব ঘিরে বসে খাবার গ্রহণ করতেন। (মিশকাত)
হযরত আলী ইবনে আবি ত্বালিব রাদিআল্লাহু আনহু বলেনÑ নবীজী স্বীয় আন্তরিকতা এবং প্রফুল্লচিত্ততার ক্ষেত্রে কোনো তারতম্য করতেন না। নিরহংকারভাবে মেহমানের সাথে বসতেন। কেউ কখনো অনুভব করতেন না যে, তিনি ছাড়া অন্য কেউ তাঁর কাছে অধিক প্রিয়। তিনি প্রত্যেক মেহমানকে প্রয়োজন মাফিক সময় দিতেন। অত্যন্ত কোমল ভাষায় সকলকে সান্ত¦না দিতেন। তাই যে কেউ তাঁর সাথে মিশতো, তাঁর সমাদর দেখতো এবং তাকে ভালবাসতো। (ইস্পাহানী, আখলাকুন্নবী)
নবীজী দলবদ্ধভাবে খাবার গ্রহণকালে একসাথে সকলকে খাবার শেষ করার তাগিদ করতেন। সকলে যেন তৃপ্তির সাথে আহার করতে পারে। (মিশকাত)
আমাদের প্রিয় নবী তাঁর চলার পথে কোনো সাহাবীর সাক্ষাত পেলে তাকে সাথে নিয়ে যেতেন এবং অপ্যায়ণ করাতেন। (সহীহ মুসলিম)
নবীজী বলেছেনÑ মানুষের সাথে হাসিমুখে কথা বলা সাদাকা। একবার তিনি মেহমানদের সাথে খেজুর খাইতেছিলেন। তখন নবীজী সকল খেজুরের বিচি হযরত আলীর সামনে রেখে দিলেন এবং বললেন, তুমি তো দেখছি বড় পেটুক! হযরত আলী বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমি আর কতো পেটুক, আপনার সামনে তো দেখছি বিচি পর্যন্ত নেই। তখন উপস্থিত সকলে হেসে উঠলেন। (সুনানে তিরমিযী)
রাহমাতুল্লিল আলামিন অসাধারণ অতিথি পরায়ণ ছিলেন। বিদায়কালে প্রত্যেক মেহমানকে তিনি উপযুক্ত পথ খরচা এবং উপঢৌকন প্রদান করতেন। (সীরাত বিশ্বকোষ, হযরত মুহাম্মাদ (সা.) ১ম খন্ড)
তিনি ওছিয়ত করে গেছেন, আমরাও তাঁর মতো যেন মেহমানদের উপহার-উপঢৌকন দেই। (সহীহ বুখারী)
তাঁর বিদায়ী উপহার-উপঢৌকন এর পরিমাণ ছিল জনপ্রতি পাঁচ উকিয়া রৌপ্য। এছাড়া অন্যান্য জিনিষও উপহার হিসেবে দেয়া হতো। (ইবনে সা’দ, ১ম খন্ড)
মেহমানদের ব্যপারে নবীজী খুব সচেতন ছিলেন। (আসাহহুস্-সিয়ার)
হযরত আনাস রাদিআল্লাহু আনহু বলেনÑ শাফিয়ুল মুজনিবিন এর এক মরূভাষী প্রিয় সাহাবী ছিলেন। তিনি মাঝে মাঝে নবীজীর দরবারে বেড়াতে আসতেন। উপহার হিসেবে কিছু শাক-সবজি সাথে নিয়ে আসতেন। বিদায়কালে নবীজীও তাকে শহরের কিছু না কিছু উপহার দিতেন। তিনি বলতেন, জাহির আমাদের গাঁয়ের বন্ধু আর আমরা তার শহরের বন্ধু। (সুনানে তিরমিযী)
নবীজীর সঙ্গী সাথীগণের মধ্যে মেহমানদারীর জন্য প্রতিযোগীতা হতো। বাহরাইন যখন বিজিত হলো, রাসুলুল্লাহ এর সকল গণিমাত আনসারদের মধ্যে বিলিবন্টন করে দিতে চাইলেন কিন্তু আনসারগণ কিছুতেই রাজি হলেন না। যতক্ষণ না মুহাজির ভাইগণকেও এই ধন-সম্পদ থেকে কিছু অংশ দেয়া না হয়। (সহীহ বুখারীর বরাতে ইবনে কাসির)
আখেরী নবী বড় বড় অনুষ্ঠানে গরীব-দুঃখীদেরও শামিল রাখতেন। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত একটি হাদীসে এসেছেÑ নবীজী বলেছেন, সেই ওয়ালিমা বা বিবাহ অনুষ্ঠান অত্যন্ত নিকৃষ্ট, যেখানে শুধুমাত্র ধনী লোকদের দাওয়াত করা হয় আর মিসকিনদের বঞ্চিত করা হয়। (সহীহ মুসলিম)
নবীজী সবসময় নিঃস্বার্থ খেদমাতের নির্দেশ দিতেন। তিনি বলেন, কারো বাড়িতে মেহমান হলে কেউ যদি তোমাদের আপ্যায়ণ না করে আর সে ব্যক্তি যদি কোনো দিন তোমাদের বাড়িতে বেড়াতে আসে, অবশ্যই তার মেহমানদারী করবে। (মিশকাতুল মাসাবীহ)
মেহমানের অসংলগ্ন কথাবার্তা এবং অসজৌন্য আচরণে ইসলাম সর্বদা ধৈর্য্য ধারণের নির্দেশ দিয়েছে। বনু তামিমের একটি দল একদা রাসুলুল্লাহর মেহমান হলে তিনি তাদের সাদর সম্ভাষণ জানালেন। কিন্তু তারা অত্যন্ত তাচ্ছিল্য ভরে বললো, শুভেচ্ছা তো দিলেন এখন কিছু ধন-সম্পদ দিন। তাদের এরূপ অপ্রত্যাশিত ও অভদ্রোচিত আচরণে রাহমাতুল্লিল আলামিন খুব ব্যথা পেলেন কিন্তু মেহমানের সম্মানার্থে মুখে কিছুই বলেননি। (সহীহ বুখারী)
ইসলামী শরীয়াতে, দাওয়াত এবং মেহমানদারীর তিনটি রীতি বা নিয়ম বর্ণনা করা হয়েছে। আর তা হলোÑ (১) মেযবানের ঘরে বিনা অনুমতিতে প্রবেশ না করা। (২) সময়ের আগে এসে খাদ্য রন্ধনের অপেক্ষায় বসে না থাকা। (৩) খাওয়ার পর সে স্থানে বসে গল্প-আড্ডা জুড়ে না দিয়ে নিজ নিজ কাজে চলে যাওয়া। কেননা এতে পর্দালঙ্ঘন সহ মেযবানের বিভিন্ন ধরণের কষ্ট হয়। (সূরা আহযাব, আয়াত-৫৩)
নবীজী বলেনÑ যারা কৃপণতা করে এবং মেহমানের আপ্যায়ণ করে না তার মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই। (আত্-তারগীব ওয়াত তারহীব)
আমাদের প্রিয় নবী শ্রেষ্ঠ অতিথি পরায়ণ ছিলেন। তিনি মানবতার জন্য কতো শ্রম দিয়েছেন। আমাদেরও উচিত সৃষ্টির সেবা করার মাধ্যমে পরম দায়িত্ব পালন করা এবং মহান আল্লাহর সন্তুষ্ঠি অর্জন করা। প্রভু হে তুমি আমাদের সে তাওফিক দাও।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT