সম্পাদকীয়

প্রশাসনিক কাজে বাধা

প্রকাশিত হয়েছে: ১৪-০৯-২০১৯ ইং ০০:২৫:৩৬ | সংবাদটি ৭৯ বার পঠিত

প্রশাসনিক কাজে বাধার পাহাড়। এই ধরনের সংবাদ সম্প্রতি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়। অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত সংঘবদ্ধ চক্রের অপতৎপরতায় প্রশাসনিক কর্মকান্ডে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে বিভিন্ন সরকারী দপ্তরে। ফলে সরকারের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও দেশের সার্বিক উন্নয়নের গতিশীল ধারায় ধীরগতি দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে প্রভাবশালী রাজনীতিক, জনপ্রতিনিধি ও শক্তিশালী দুর্নীতিবাজ চক্র দেশের উন্নয়ন কর্মকান্ডকে বাধাগ্রস্ত করে চলেছে। বিষয়টি খোদ প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করলে তিনি স্থানীয় প্রশাসনে অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। কিন্তু তা-ও বাস্তবায়িত হয়নি। বরং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের এই অনৈতিক চর্চা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। সব মিলিয়ে সরকারের জনহিতকর কর্মকান্ডগুলো স্বাভাবিক গতিতে এগোচ্ছেনা। এতে সরকারের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ছে।
সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক কাজকর্ম হচ্ছে না। এটা কোন নতুন খবর নয়। অতীতেও এমন পরিস্থিতি ছিলো। তবে যতোদিন যাচ্ছে ততোই এই প্রবণতা বেড়ে চলেছে। প্রথমত সরকারী দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানগুলোতে দিনে দিনে দুর্নীতি, অনিয়ম, অব্যবস্থাপনার মাত্রা বাড়ছে, বাড়ছে লুটপাট। দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা বেড়ে চলেছে। তারা ঘুষ আর সরকারী অর্থ লুটপাটেই সারাক্ষণ মনোনিবেশ করে আছে। তাদের অনেকেই লাখ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে চাকুরী বাগিয়ে নেয় এবং যোগদান করেই অবৈধ পথে অর্থ আয়ের নেশায় মত্ত হয়ে পড়ে। সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম কিংবা সরকারের ভাবমূর্তি এসব নিয়ে তারা ভাবে না। তাদের সঙ্গে রয়েছে জনপ্রতিনিধি এবং প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ। এরা অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে সরকারের অনেক রুটিন ওয়ার্ক বাধাগ্রস্ত করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। অনেক সময় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের অবৈধ আবদার না মানায় দক্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের শাস্তিমূলক বদলিসহ নানা ধরণের হয়রানীর শিকার হওয়ার নজিরও রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে একদিকে সরকার দলীয় সমর্থকদের আধিক্য রয়েছে, অপরদিকে ‘সদ্য আওয়ামীসমর্থক’ সুবিধাবাদী শ্রেণীর সংখ্যাও বেড়েছে। সব মিলিয়ে প্রশাসনে এখন তথাকথিত আওয়ামী কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা বেশী। আর এরা মূলত সরকারী সম্পদ লুটপাট ও জনগণের পকেট মেরে ঘুষের টাকা আদায়ের জন্যই নিজেদের ভোল পাল্টিয়েছে। তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রভাবশালী রাজনীতিক ও জনপ্রতিনিধিগণ। এরা সবাই মিলে মিশে নিজেদের আখের গোছানোতে ব্যস্ত। ফলে প্রশাসনিক কর্মকান্ড নানাভাবে বিঘিœত হচ্ছে। অর্থাৎ এদের কারণে সরকারের অনেক যুগান্তকারী উদ্যোগ ব্যর্থ হচ্ছে। তাই এ ব্যাপারে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে সরকারকে।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT