পাঁচ মিশালী

সুনামগঞ্জ পৌরসভা ও পৌরবাসীর দায়

মোহাম্মদ আব্দুল হক প্রকাশিত হয়েছে: ১৪-০৯-২০১৯ ইং ০০:২৮:৩১ | সংবাদটি ২৬৪ বার পঠিত

সুনামগঞ্জ পৌরসভার প্রবেশদ্বারে হাসন তোরণ মানুষের দৃষ্টি কাড়ে। ভালো কাজের জন্যে মানুষ এখনো প্রয়াত চেয়ারম্যান মমিনুল মউজদীনকে মনে রেখেছে। আমাদের সদ্য প্রয়াত জন নন্দিত পৌর মেয়র আয়ুব বখত জগলুল বেশ কিছু উন্নয়ন কাজ পৌরবাসীকে উপহার দিয়ে গেছেন যা দৃশ্যমান। তবে এসবের ধারাবাহিকভাবে শেষ পর্যায়ে তিনি করে যেতে সময় পাননি। এবারের কোরবানি ঈদের আগে সরেজমিনে ছোট্টো শহরের প্রধান রাস্তায় এবং বিভিন্ন মহল্লায় ঘুরে দেখা গেছে অধিকাংশ রাস্তা ভাঙা। প্রধান সড়কের আলফাত উদ্দিন স্কয়ার থেকে শহরের পূর্বাঞ্চল বরাবর যে রাস্তাটি সুনামগঞ্জ সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সম্মুখ দিয়ে উকিলপাড়া পয়েন্ট হয়ে কাজির পয়েন্ট থেকে চলে গেছে বিশাল জনগোষ্ঠীর মিলনকেন্দ্র ষোলঘর পয়েন্টে এবং সেখান থেকে আরো পূর্ব দিকে ষোলঘর কলোনীর সম্মুখ দিয়ে যেতে যেতে তা মুহাম্মদপুর পয়েন্টে গিয়ে দুই শাখায় দক্ষিণ দিকে ও উত্তর দিকে এগিয়েছে। আমি এ পর্যন্ত আলফাত উদ্দিন স্কয়ার অর্থাৎ লোকমুখে প্রকাশিত ট্রাফিক পয়েন্ট থেকে মুহাম্মদপুর যেখানে এসেছি, এই দীর্ঘ পথের কোথাও কমপক্ষে পঞ্চাশ মিটার রাস্তা পাওয়া যাবে না যেখানে ছোটো বড়ো অসংখ্য খানাখন্দ বা গর্ত নাই। এতে করে জনগণের ভোগান্তির শেষ নাই। রিকশা, সাইকেল কিংবা অটোরিকশায়ও চলাচল কঠিন। এইটুকু রাস্তার উভয় পার্শ্বে টানা সুপ্রশস্ত কোনো পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নাই। তাই সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তায় পানি জমে এবং বৃষ্টি থামলেও স্থানে স্থানে পানি ও কাদা জমে থাকে।
শহরের প্রধান এই সড়কের উভয় পাশে এখনো পরিকল্পিত কোনো ফুটপাত গড়ে উঠেনি। তাই সাধারণ জনগণ পায়ে হেঁটে নির্বিঘেœ অল্প পথও চলতে পারে না। এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশেই আছে সুনামগঞ্জ পৌর ভবনসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও আবাসিক ভবন। তাই এই সড়কের পরিকল্পিত উন্নয়ন কাজ সময়ের সঠিক দাবী মনে করি। সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের সামনের রাস্তায় নজর দেয়া জরুরি। এখানে রোগীরা এসে বড়ো রকমের ঝাঁকুনি খায়, যা তাদের দুর্বল শরীরের পক্ষে অসহনীয়। ট্রাফিক পয়েন্ট থেকে উত্তর দিকে যে সড়কটি গেছে সেটি অত্যন্ত ব্যস্ত এবং এটিই শহরের বাণিজ্য এলাকা যা কিছু দূর এগিয়ে পূর্ব দিকে জগন্নাথবাড়ী হয়ে এগিয়েছে। এখানে প্রতিদিন ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষের চলাচল থাকে। অথচ এখানে কোনো ফুটপাত দৃশ্যমান হয় না। এমনকি এই বাণিজ্যিক এলাকায় যেখানে বহু আবাসিক হোটেল ও রেস্টুরেন্ট রয়েছে, সেখানে অপ্রশস্ত ড্রেন থাকলেও ময়লায় ঠাঁশা। তাই অনেকটাই অকার্যকর। বলা যায়, ব্যস্ত এই এলাকার তুলনায় কোনো প্রশস্ত পরিকল্পিত ড্রেন নাই। তাই বৃষ্টির মৌসুমে মানুষ কাদা জলে মাখামাখি করে চলে। অথচ পাশেই সুরমা নদী আছে, যেখানে সুষ্ঠু পরিকল্পনা নিয়ে শহরের পানি নিষ্কাশনের চিন্তা করা যেতে পারে। এছাড়াও ডাস্টবিন সমস্যা সহ আরো অনেক সমস্যা আছে যেগুলি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্যে পৌরবাসী পৌরসভার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির মুখাপেক্ষী।
শুধু যে দূরাবস্থা তা নয়। এই শহরে এখন মানুষের বিনোদনের ব্যবস্থা আছে। সুনামগঞ্জে আট বছর আগেও বিনোদনের ভালো ব্যবস্থা ছিলো না। এখন শহরের মানুষজন নিজেদের অতিথি এলে কিংবা শিশুদেরকে দেখাতে নিয়ে যেতে পারে উকিলপাড়া পয়েন্টের পাশে সুরমা নদীর তীরে গড়ে ওঠা চোখ জুড়ানো ‘রিভার ভিউ’ এ এবং সুনামগঞ্জের শাপলা চত্বর খুবই দৃষ্টিনন্দন। সমস্যাও আছে। জীবন যতোদিন চলমান সমস্যা ততোদিন বারে বারে আসবে। আর সমস্যা সামনে এলে শুধুই সমস্যার কথা বললে হবে না; বরং চিন্তা করতে হবে এবং সমাধানের পথ খুঁজতে হবে। এ কাজে যথাযথ কর্তৃপক্ষের প্রতি জোড়ালো দাবি জানানোর পাশাপাশি তাদের প্রতি সহযোগিতামূলক পদক্ষেপ নিয়ে এগুতে হবে। এখানে স্বল্প পরিসরে সবকিছু তুলে ধরা সম্ভব নয়। শহরের আরো অনেক মহল্লা ও রাস্তা যেমন মোক্তারপাড়া, নূতনপাড়া, শিল্পকলা একাডেমির সামনের সড়ক, লঞ্চঘাট সহ বিভিন্ন এলাকায় দৃষ্টি দিতে হবে।
শুরুতে বলেছি পৌরসভার শৃঙ্খলার জন্যে পৌর কর্তৃপক্ষের সঠিক পরিকল্পনা ও কাজ যেমন দরকার তেমনি পাশাপাশি পৌরবাসীকেও দায়িত্ব নিতে হয়। পৌর মেয়র যেসব রাস্তার পাশে ইতিমধ্যে ড্রেন করে দিয়েছেন সেগুলিকে সচল রাখার জন্যে জনসচেতনতা দরকার। আমাদেরকে ভুলে গেলে চলবে না যে ড্রেন বা নালা-নর্দমা কখনো ডাস্টবিন নয়। কিন্তু যা দেখলাম তাতে মনে হয় আমরা এ ব্যাপারটি জানি না বা আমরা এ বিষয়ে উদাসীন। আমাদের ড্রেন যা-ই আছে তাতে আমরা পলিথিন ভর্তি ময়লা, প্লাস্টিক বোতল, ছেড়া জুতা ইত্যাদি ফেলে দিচ্ছি। দেখলে মনে হয়, ড্রেন আর ডাস্টবিনের ধারণা আমাদের নেই। মনে রাখতে হবে ড্রেন বানানো হয় পানি নিষ্কাশনের জনে। এর ভিতরে ময়লা আবর্জনা ফেললে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয় এবং এর ফলে অল্প বৃষ্টিতে ময়লাসহ ড্রেনের পানি রাস্তায় উঠে আসে। তখন আমরা নিজেদের ত্রুটির সমালোচনা না করে একতরফাভাবে পৌরসভার কর্তৃপক্ষকে দায়ী করি। হ্যাঁ, এ ক্ষেত্রেও পৌরসভার প্রতিনিধিকে সঠিক পরিকল্পনা নিতে হবে। প্রয়োজনে শহরের মননশীল ও সৃজনশীল মানুষদেরকে নিয়ে মতবিনিময় করতে পারেন। আমি মনে করি, ড্রেন করতে হবে গভীর, প্রশস্ত এবং একই সাথে ঢাকনা যুক্ত ড্রেন নির্মাণ করলে পানি নিষ্কাশনের ভোগান্তি থেকে জনগণ মুক্তি পাবে। আসলে এসব সমস্যা শুধু সুনামগঞ্জের নয়; বরং সারাদেশের পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশন এমন সমস্যায় জর্জরিত। তবে সুন্দর শহর গড়ায় সুনামগঞ্জ পৌরসভা হোক অগ্রণী। আমি এ মাধ্যমে সুনামগঞ্জ পৌরসভার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আশা করি বর্তমান মেয়র আরো সমৃদ্ধ হবেন জনবান্ধব সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের দ্বারা।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT