সম্পাদকীয়

বজ্রপাত রোধে সচেতনতা

প্রকাশিত হয়েছে: ১৫-০৯-২০১৯ ইং ০০:০৯:১৭ | সংবাদটি ৮৬ বার পঠিত


সাত মাসে আড়াইশ জনের মৃত্যু হয়েছে বজ্রপাতে। গত ফেব্রুয়ারী থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত সারাদেশে বজ্রপাতে মারা গেছে দু’শ ৪৬ জন। এ সময় আহত হয়েছে ৯৭ জন। নিহতদের মধ্যে ৩০ জন নারী, ছয়জন শিশু এবং দু’শ দুইজনই পুরুষ। একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের জরিপে এই তথ্য বেরিয়ে এসেছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে জুন মাসে সবচেয়ে বেশী হতাহতের ঘটনা ঘটে। এ মাসে নিহত হয়েছেন ৬৬ জন, আহত হয়েছেন ১৮ জন। আর সবচেয়ে কম পাঁচজনের মৃত্যু হয় মার্চ মাসে। বজ্রপাতে সবচেয়ে বেশী নিহতের ঘটনা ঘটেছে এমন জেলাগুলোর মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলাও রয়েছে। ধানকাটার সময় বজ্রপাতে বেশী মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এছাড়া, মাছ ধরতে গিয়ে, মাঠে গরু চরাতে গিয়ে কিংবা টিন ও খড়ের ঘরে অবস্থান ও ঘুমানোর সময় বজ্রপাতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
ঝড়বৃষ্টির দিনে বজ্রপাত অতি স্বাভাবিক প্রাকৃতিক ঘটনা। তবে ইদানিং সামান্য বৃষ্টিপাত বা ঝড়ো বাতাস হলেই ঘটছে বজ্রপাত। এতে মৃত্যুর সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে। সাধারণত বায়ু দূষণ, জলবায়ু পরিবর্তন, মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক টাওয়ার ইত্যাদি হচ্ছে বজ্রপাতের মূল কারণ। এছাড়া, ধাতব পিলার বা ম্যাগনেটিক পিলার চুরিকেও বজ্রপাতের অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন গবেষকগণ। তারা বলছেন এই পিলারের মধ্যে এক ধরণের বিশেষ ধাতব তার আছে। যা বজ্রপাতকে মাটিতে টেনে নেয়। কিন্তু এই পিলারগুলো চুরি হওয়ার ফলে বজ্রপাত যেখানে সেখানে আঘাত হানছে। আকাশে মেঘের গর্জনের সঙ্গে বিদ্যুৎ চমকালেই জনমনে সৃষ্টি হয় বজ্রপাতের আতংক। আবহাওয়া অধিদপ্তরের মতে স্বাভাবিক ইলেকট্রিসিটির চেয়ে বজ্রপাতের ক্ষমতা কয়েক হাজারগুণ বেশী। ফলে বজ্রপাতে আহত হলে মারা যাওয়ার আশংকাই বেশী থাকে। বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা সারাবিশ্বে বাংলাদেশেই বেশী। আমাদের দেশে বজ্রপাতের আতংক বিরাজ করে পুরো গ্রীস্ম ও বর্ষা মওসুম জুড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষা মওসুমে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে প্রায় ৪০টি বজ্রপাত আঘাত হানে। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় দশ মাইল উচ্চতায় কালো মেঘের ওপরে বিদ্যুৎ সৃষ্টি হয়। আর এই কালো মেঘ থেকে সৃষ্টি হচ্ছে বিদ্যুৎসহ বজ্রপাত। বর্ষা মওসুমের শুরু ও শেষ দিকে এই কালো মেঘের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় বজ্রপাতের পরিমাণও বৃদ্ধি পায়। অর্থাৎ এপ্রিল- মে এবং আগস্ট- সেপ্টেম্বরে বজ্রপাতের ঘটনা বেশী ঘটে।
বজ্রপাত প্রাকৃতিক দুর্যোগ। একে ঠেকানো যাবে না। সেই উপায় জানা নেই আমাদের। তবে এ ব্যাপারে সচেতনতাই সবচেয়ে জরুরী। তাই মওসুমী বায়ু বাংলাদেশে প্রবেশের প্রাক্কালে আকাশে ঘনকালো মেঘ দেখলেই সতর্ক হতে হবে। গুড়ু গুড়ু মেঘের ডাক শুনলেই চলে যেতে হবে নিরাপদ স্থানে। পাকা বাড়িতে আশ্রয় নেয়া নিরাপদ। গাড়ির ভেতরেও আশ্রয় নেয়া যেতে পারে। তবে গাছের নিচে, টেলিযোগাযোগের খুঁটির পাশে, বৈদ্যুতিক খুটির পাশে বা বৈদ্যুতিক লাইনের নিচে দাঁড়ানো নিরাপদ নয়। বজ্রপাতের আওয়াজ কানে আসার আগে তা ভূমি স্পর্শ করে। বজ্রপাতের পূর্বাভাস আবহাওয়া বিভাগের রাডারে ধরা পড়ার কথা। কিন্তু অনেক সময়ই আবহাওয়া বিভাগ সেই পূর্বাভাস দিতে ব্যর্থ হয়। তবে আসল কথা হলো সতর্কতা। সরকার বজ্রপাত নিরোধক তালগাছ লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছে সারাদেশে। এই উদ্যোগকে সহযোগিতা করা উচিত সকলের।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT