স্বাস্থ্য কুশল

মানব দেহে খাবারের প্রভাব

সীতাব আলী প্রকাশিত হয়েছে: ১৬-০৯-২০১৯ ইং ০০:৩৩:৪৭ | সংবাদটি ২৪১ বার পঠিত

আমরা সব সময় স্স্থু ও আনন্দে থাকতে চাই। কিন্তু আমাদের সুস্থ থাকার জন্যে জীবনটা যেভাবে যাপন করা উচিৎ সেভাবে যাপন করার প্রক্রিয়ার পুরোটা অনেকেরই জানা নাই। ফলে আমরা অসুস্থতায় ভুগি আর তখন ডাক্তার, ঔষধ ও হাসপাতালের শরণাপন্ন হই। এর ফলে আমরা কিছু দিনের জন্যে সুস্থ হই, অভ্যাস পরিবর্তন হয় না, আবার অসুস্থ হই আবার তাদের শরণাপন্ন হই, আবার সুস্থ হই, আবার অসুস্থ হই, এ চক্র চলতে থাকে। কিন্তু সেখানেও আমরা কি দেখি?
চিকিৎসকরাও মাঝে মাঝে ভুল করতে পারেন, ভয়ানক ও জীবন শেষকারী ভুল, যার ভদ্র নাম ‘মেডিকেল এরর’।
গত ২ নভেম্বর ২০১৮ ‘দৈনিক কালের কন্ঠ’ শেষ পৃষ্টায় অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করে যে, রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার রামরামা গ্রামের আক্রাম আলীর মেয়ে শ্রাবণী খাতুন ‘রাজশাহী মডেল হাসপাতাল’ এ ভর্তি হলেন পেট ব্যথা নিয়ে। চিকিৎসক দেখলেন তার অ্যাপেন্ডিসাইটিস সমস্যা, জরুরী ভিত্তিতে অপারেশন করতে হবে। তার অপারেশন হল। অপারেশন থিয়েটার থেকে বের হওয়ার পর শ্রাবণীর স্বজনরা দেখলেন তার গলা ব্যান্ডেজ করা। সার্জন তাদেরকে জানালেন, তার টনসিল অপারেশন করা হয়েছে। তার পরের কাহিনী বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রাইভেট হাসপাতালের পরিচালক ডাক্তার গোলাম মোস্তফা কবির চাপের মুখে রোগীর সুস্থতার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বহন করবেন বলে মুচলেকায় স্বীকারোক্তিমূলক স্বাক্ষর দিলেও কোন সার্জন এই মারাত্মক ভুলটি করেছেন, তা প্রকাশ করেন নি। আর এক রোগীর ডান কিডনি অসুস্থ, ডাক্তার তার সুস্থ বাম কিডনি কেটে ফেলেন! আর অপারেশনের পর ভেতরে গজব্যান্ডেজ রেখে সেলাই করে দেওয়া, এগুলো তো প্রায়ই ঘটে! একটা দু’টা নয়, সারা বিশ্বজুড়ে এগুলো অনেক। স্থানসংকুলানের অভাবে তা বর্ণনা করছি না।
সুস্বাস্থ্যের জন্যে সচেতন মানুষদের নানামুখী প্রচেষ্টার অন্ত নাই। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের নিবেদিতপ্রাণ কিছু মানুষের গবেষণা মানব সম্প্রদায়কে সুস্থ থাকার পথ দেখিয়ে যাচ্ছে। আবার রোগ থেকে মুক্তি লাভেরও পথ তারা দেখাচ্ছেন। তারা প্রমাণ করেছেন, মানুষের নিজের মাঝেই রয়েছে সুস্থ থাকার শক্তি, প্রকৃতিতেই রয়েছে সুস্থ থাকার ও রোগ থেকে নিরাময় লাভের সকল উপকরণ ও প্রক্রিয়া। সঠিক জীবনাভ্যাস বা চারটি প্রক্রিয়া পুরোপুরি অনুসরণ করলে মানুষ সুস্থ থাকতে পারে। এগুলো হচ্ছে দম চর্চা, মেডিটেশন, সঠিক খাবার আর হচ্ছে পরিশ্রম। আজকে দম, মেডিটেশন ও পরিশ্রম বা ব্যায়াম সম্পর্কে না বলে শুধু খাবার নিয়ে আলোচনা করবো ।
স্বাস্থ্য-গবেষণায় হাজার কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। বিশ্বে কিছু নিবেদিত প্রাণ গবেষক ডাক্তার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এগুলো বিভিন্ন মেডিকেল জার্নালে প্রকাশ করেছেন, সেগুলো থেকেই কিছু তথ্য আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই।
গবেষকরা বলছেন, আপনার খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করে আপনি হার্ট ডিজিজ, ডায়াবেটিস ও ক্যান্সারসহ অনেক রোগের আক্রমণকে নাটকীয়ভাবে আটকে দিতে পারবেন বা কমিয়ে আনতে পারবেন। গবেষণাগুলো পরিচালনা করা হয়েছে যৌথভাবে এবং এর কোটি কোটি টাকার যোগান দিয়েছে বৃটেনের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, আমেরিকার কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় ও ‘চায়নীজ একাডেমি অব প্রিভেন্টিভ মেডিসিন’। চীনে ডাক্তার চেন এর নেতৃত্বে দু’শ’রও বেশী প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীর সহযোগীতায় দেশব্যাপী ২০ বছর যাবৎ গবেষণা পরিচালনা করা হয়। গবেষণার ব্যাপ্তি আমেরিকা থেকে ফিলিপাইন্স ও সেখান থেকে বৃটেন পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। আর এ সব কিছুর নেতৃত্বে ছিলেন প্রফেসর ইমিরিটাস ডাক্তার টি কলিন ক্যাম্পবেল, যার গবেষণার তিন শতাধিক নিবন্ধ প্রকাশ হয়েছে (ঞযব খধহপবঃ, ঞযব গবফরপধষ ঔড়ঁৎহধষ ড়ভ ঊহমষধহফ, ঈধৎফরড়ষড়মু বঃপ) বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞান ও মেডিক্যাল জার্নাল সমূহে।
আমাদের মন মগজে যে বদ্ধমূল ধারণা লালন করছি যুগের পর যুগ ধরে, তা হলো প্রোটিন। এবং আমরা মনে করি (এখন অবশ্যই মনে করি না আমি) প্রোটিনের এক নম্বর যোগানদাতা হচ্ছে গরু, খাসী, মুরগী ও মাছ, অর্থাৎ প্রাণীজাত খাদ্য। এগুলো ছাড়া বেড়ে উঠবো কিভাবে! আর ক্যালসিয়াম! তার জন্যে খেতে হবে দুগ্ধ ও ডিম। এগুলো হচ্ছে বিশ্বের সবচে’ দরকারী খাবার। দিনে অন্ততঃ এক গ্লাস দুধ পান করতেই হবে, একটা ডিম খেতেই হবে।
কিন্তু বিজ্ঞানীদের গবেষণায় উঠে আসছে ভিন্ন তথ্য। ধরুন ক্যালসিয়ামের কথা। মানবদেহে ক্যালসিয়াম অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি উপাদান। হাড়ের গঠন, হাড় শক্ত হওয়া নরম হওয়া বা ভঙুর হওয়া অনেকটা এর উপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে, যৌবনের শেষ দিক থেকে মহিলাদের হাড়ে ক্যালসিয়ামের ঘনত্ব কমতে থাকে, হাড় কিছুটা নরম হয়ে যায়। তখন যাদের ওজন বেশী, তাদের হাঁটুতে ব্যথা হয়, জয়েন্টে ব্যথা হয়, ব্যথা বাড়তে থাকে। কোথায়ও পড়ে গেলে হাড় ভেঙে যায়।
ক্যালসিয়ামের খুবই সাধারণ একটি সমাধান বেরিয়ে এসেছে ‘চায়না স্টাডিজ’ এর ২০ বছরের দীর্ঘ গবেষণায়। ইউরোপ, আমেরিকা ও চায়নার মানবপ্রেমিক গবেষকরা বলছেন, প্রাণীজ প্রোটিনের একেবারেই দরকার নাই। সত্যি বলতে কি, আপনি বিশ্বাসই করতে চাইবেন না, কেননা, জীবনের শুরু থেকে মগজ ধোলাই করা হয়েছে, এমন কি ডাক্তারদেরও। আর এই ধোলাইয়ের কাজটি সুনিপুণভাবে সম্পন্ন করেছে কিছু বহুজাতিক শোষক কোম্পানী একজন ছাত্র যখন মেডিক্যালে ভর্তি হয়, তখন থেকে ! এক জন শিশু যখন বুঝতে শেখে তখন থেকে। মনহরণকারী বিজ্ঞাপন আর উপহার উপঢৌকন দিয়ে।
গবেষকরা বলছেন, আপনার দেহকে কর্মক্ষম রাখুন। হাঁটুন, দৌড়ান, সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠুন, সাঁতার কাটুন, অন্ততঃ দু’দিনে একদিন ইয়োগা করুন, খেলাধুলা করুন, অথবা কোন ব্যায়াম দলের সাথে যুক্ত হোন আর গায়ে একটু রোদ লাগান। অসংখ্য পথ খোলা। খান উদ্ভিদজাত দানাদার খাবার। যেমন লাল চাল, লাল আটা, ছোলা, বাদাম, কিসমিস, ডাল, বিচি, মটরশুটি ইত্যাদি। প্রচুর ক্যালসিয়াম আছে এগুলোতে বিশেষ করে নানা রঙের শাক ও নানা জাতের সবজির মধ্যে; তিল, আমলকি ও খেজুরের মধ্যে। অবশ্যই বিরত থাকুন পশু ও চর্বিজাত খাবার এবং ফার্ষ্টফুড, পরিশোধিত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার থেকে। কফি থেকে একটু দূরে থাকুন। রিফাইন্ড কার্বহাইড্রেড (যেমন ময়দা) থেকে দূরে থাকুন। আর লবণ ও প্যাকেটজাত খাবার থেকে যত দূরে থাকবেন ক্যালসিয়ামের অভাব থেকে তত দূরে থাকতে পারবেন।
ড. কলিন ক্যাম্পবেল বলেন, আমি আপনাকে বলতে চাচ্ছিলাম যে, উদ্ভিদজাত খাবার বাদ দিয়ে আপনি যদি শুধু প্রাণিজাত খাবার খান, তাহলে আপনি হয়তো অন্ধত্বের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। চোখ সুস্থ রাখার জন্যে উপকারী খাবার হচ্ছে ব্রোকলি, গাজর, গাঢ় সবুজ শাক ও মিষ্টি আলু। এগুলো চোখের সমস্যার ৮৮% কমিয়ে দেয়। ঞযব ঈযরহধ ঝঃঁফু ( হাজার কোটি টাকা খরচ করে টানা বিশ বছর গবেষণার পর গবেষণার ফলগুলো প্রকাশ করা হয় এই গ্রন্থে)
পরিশোধিত কোন বস্তু যেমন চিনি, তেল, লবণ ইত্যাদি বা এর দ্বারা তৈরী পরিশোধিত খাবার যেমন বিস্কুট, কেক, চিপস, প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেটজাত খাবার বা ফার্ষ্টফুড কেন ক্ষতিকর, তার রহস্য উদ্ঘাটন করেছেন গবেষকরা। যেমনÑ আপনি চা পানের মাধ্যমে চিনি গ্রহণ করছেন। একে শোষণ করার জন্যে বা বিপাকক্রিয়া সংগঠিত করার জন্যে কিছু খনিজের দরকার যেমন ম্যাঙ্গানিজ, ক্রোমিয়াম, জিংক, কোবাল্ট ও ম্যাগনাসিয়াম। অপরিশোধিত বা অপ্রক্রিয়াজাত অবস্থায় এগুলো ঐসব খাবারের মধ্যেই থাকে। পরিশোধিত বা প্রক্রিয়াজাত হওয়ার সময় ঐ খনিজগুলো উৎপাটন হয়ে যায় বা বাতিল হয়ে যায়। তখন শরীরের নিজস্ব জমাকৃত খনিজ থেকে শরীর এগুলোকে ব্যবহার করতে শুরু করে এবং তার গোদামে টান পড়ে। এ ধারা ক্রমাগত চলতে থাকলে শরীর রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ে, এ থেকে হার্টডিজিজ বা উচ্চ রক্তচাপ হতে পারে।
আবার ধরুন, আপনার ভিটামিন সি এর অভাব। ডাক্তার আপনাকে ভিটামিন সি ট্যাবলেট (পিল) লিখে দেবেন, যে কোম্পানী তাকে উপহার দেবে সেই কোম্পানীর। আপনি খেতে থাকবেন। আপনার অন্য সকল ভিটামিনের অসামঞ্জস্যতা দেখা দেবে যেমন আপনার বি১, বি২, বি৬, ভিটামিন ই ও কপারের পরিমাণ কমতে থাকবে; অসামঞ্জস্যতা অন্য রোগের কারণ হতে পারে। অথচ প্রকৃতিতে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবারের অভাব নাই। লেবু, মাল্টা, পেঁপে, আম, জাম, জাম্বুরা, আনারস, কমলা, বরই, ষ্ট্রবেরি, তরমুজ, আমড়া, কিউই ইত্যাদি। ডাক্তার এগুলো খেতে নির্দেশ দিতে পারতেন, কিন্তু তা না করে তিনি লিখবেন ট্যাবলেটের নাম! কারণ, ফলওয়ালা তাকে কমিশন দেবে না, ঔষধ কোম্পানী তাকে প্রায় সব কিছু দেবে।
একটা ফলে মাত্র একটা ভিটামিন বা একটা খনিজ (মিনারেল) থাকে না, অনেকগুলো থাকে। যেমন, একা এক আপেলে থাকে ফ্ল্যাভোনয়েডস, ভিটামিন এ, বি১, বি২, বি৬, ভিটামিন সি, ভিটামিন ই, বি-ক্রিপ্টোঞ্জান্টিন, লুটেইন, পটাশিয়াম, কার্বোহাইড্রেট, জিংক, বায়োটিন, আয়োডিন, বিটা ক্যারোটিন, পেকটিন, সুকরুজ, ফ্রুকটোজ, গ্লুকোজ, মনো ও পলি আনসেচুরেটেড ফ্যাট (অসম্পকৃত চর্বি, যা দেহের জন্যে উপকারী) আয়রণ, কোপার, ক্রোমিয়াম ইত্যাদি। কিন্তু কোন কোলেষ্টেরল ও ট্রান্সফ্যাট নাই।
আপনি যখন একসাথে কয়েক জাতের ফল খাবেন, আপনার খাবারের সুসামঞ্জস্যতার (ব্যালেন্সড) জন্যে দেহ সুসামঞ্জস্য থাকবে। ভিটামিন ডি অতি প্রয়োজনীয় একটি উপাদান। এর অভাবে শিশুদের রিকেট রোগ বা হাঁড় বেঁকে যাওয়া, ঘন ঘন অসুস্থতা, হাঁড় ক্ষয়, কোমর ব্যথা, চুল পড়া, মাংসপেশীতে ব্যথা, সামান্যতেই ক্লান্ত হয়ে যাওয়া ইত্যাদি হয়ে থাকে। আপনি হয়তো জানেন, ভিটামিন ডি প্রকৃতিতে ফ্রি পাওয়া যায়। পনের বিশ মিনিট রোদ পোহান, প্রয়োজনে সময় বাড়িয়ে দিন, আপনার যা প্রয়োজন তা পূরণ হয়ে যাবে। এ নিয়ে গবেষণা করেছেন মার্কিন গবেষক নীল উডবারী ও ড. গুইলেট। তারা বলেন, ‘আপনার বাড়ির খোলা জায়গায় একটি পুকুর খনন করুন, সূর্যালোকে তাতে সাঁতার কাটুন, সারা বছর আপনার যে পরিমাণ ভিটামিন ডি দরকার, তা পাবেন।’ -ইরড়সরসরপৎু ঈযধঢ়ঃবৎ ৩.
মনে হতে পারে যে তারা একটু বেশী বলে ফেলেছেন। আমাদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা প্রমাণ করেছে যে, তার মোটেই বেশী বলেন নি। তবে এখন সাঁতারের জন্যে পুকুর পাবেন কই? নদী একটি সমাধান হতে পারে। আর রোদ পোহানো সহজ ব্যাপার।
লাল, সবুজ, হলুদ, বেগুণী, কমলা, সাদা ইত্যাদি নানা রঙের ফল এবং নানা প্রকার শাক ও সবজির বৈচিত্রময় রং মানব দেহের কোষগুলোকে বিভিন্ন ভাবে সুরক্ষা দিচ্ছে, এগুলো এন্টিঅক্সিডেন্ট। টমেটোর লাইকোপেনের লাল রং হচ্ছে এন্টিঅক্সিডেন্ট (এ জন্যে লাল টমেটো খেতে হয়), স্কোয়াসের হলুদ রং এর বিটাকেরোটিন, এই ভাবে কমলার ক্রিপ্টোক্সান্থিন্স (পৎুঢ়ঃড়ীধহঃযরহং), পেঁপে ইত্যাদির এন্টিঅক্সিডেন্ট ভিটামিন সি। কিছু কিছু এন্টিঅক্সিডেন্টকে ক্যারোটেনয়েডস ও বলা হয়। সালোকসংশ্লেষণের (ঢ়যড়ঃড়ংুহঃযবংরং) মাধ্যমে তৃণলতা তথা উদ্ভিদ সূর্য থেকে যে শক্তি (ঊহবৎমু) পায় তাই মূলতঃ তাদের জীবনীশক্তি। সৌভাগ্যের বিষয় যে, মানুষ যখন এগুলো খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে তখন সেই শক্তি ও সেই এন্টিঅক্সিডেন্ট মানুষের মাঝে সঞ্চারিত হয়।
গ্রীন টি হচ্ছে এন্টিঅক্সিডেন্টের এক সরবরাহকারী। মার্কিন গবেষক উৎ. গরপযধবষ এৎবমবৎ. গউ, (উরৎবপঃড়ৎ ড়ভ চঁনষরপ ঐবধষঃয ধহফ অহরসধষ অমৎরপঁষঃঁৎব ধঃ ঃযব ঐঁসধহব ঝড়পরবঃু ড়ভ ঃযব টহরঃবফ ঝঃধঃব) বলেন, স্কিন ক্যান্সারের উপর গ্রীন টি প্রয়োগ করে একজন মহিলা রোগটাকে থামিয়ে দিয়েছেন। ইহা বিভিন্ন ধরণের ক্যান্সার আটকে দিতে কাজ করে, রক্তে চর্বি জমতে বাঁধা দান করে, কোলেষ্টেরলের মাত্রা নামিয়ে আনতে সাহায্য করে, রক্তচাপ নামিয়ে আনতে কাজ করে, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ও দাঁতের সুরক্ষায়ও কাজ করে।
প্রষ্টেট ক্যান্সার নিয়ে ১৯৯৮ সালে ও ২০০১ সালে (ঈযধহ ঔগ ধহফ এরড়াধহহঁপপর ঊখ “জরংশ ড়ভ চৎড়ংঃধঃব ঈধহপবৎ” ঊঢ়রফড়সরড়ষ, ঈধহপবৎ ঈধঁংবং ধহফ ঈড়হঃৎড়ষ ৯.) তেইশটি গবেষণার পর গবেষকরা বলছেন (ড. ডীন অরনীশসহ), পশ্চিমা খাবার (প্রক্রিয়াজাত লাল মাংস, অধিক চর্বিযুক্ত দুগ্ধজাত খাবার ও পরিশোধিত শষ্য যেমন ময়দা দ্বারা তৈরী খাবার) ও পশ্চিমা জীবনাভ্যাসে যারা অভ্যস্থ, প্রষ্টেট ক্যান্সারের হার সে সমস্থ স্থানে সবচে’ বেশী। দুগ্ধ প্রসুত খাবারের আধিক্য (যেমন: দুধ, ঘি, মালাই, মাখন, পনীর, মিষ্টি, দই, ছানা ইত্যাদি) প্রষ্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকির মাত্রা দ্বিগুণ এমন কি চারগুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে। আবার প্রাণিজাত অতিরিক্ত ক্যালসিয়ামও এ রোগের কারণ হতে পারে। -ঞযব ঈযরহধ ঝঃঁফু.
উপসংহারটি অতি সংক্ষিপ্তভাবে ড. টি কলিন ক্যাম্পবেলের ভাষায় তুলে ধরতে চাই। কেননা তার প্রকাশ ভঙিটি খুবই সহজ। তিনি বলেন, রক্তে কম কোলেষ্টেরলের সাথে উদ্ভিদজাত এবং উচ্চ মাত্রার কোলেষ্টেরলের সাথে পশুজাত খাবারের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। স্তন ক্যান্সার উচ্চ হার পশুজাত খাবারের সাথে সম্পৃক্ত, ইহার নি¤œ হার উদ্ভিদজাত খাবারের সাথে সম্পৃক্ত। উদ্ভিদজাত খাবার থেকে প্রাপ্ত আঁশ ও এন্টিঅক্সিডেন্ট পরিপাক তন্ত্রের বিভিন্ন ক্যান্সার-ঝুঁকির নি¤œ হারের সাথে সম্পৃক্ত। যথাযত ওজন রক্ষায় পরিশ্রম নির্ভর জীবন যাপন ও উদ্ভিদজাত খাবার সম্পৃক্ত, যদি কেউ ওজন বাড়াতে চায় বা আরো শক্তিশালী হতে চায়, তার সাথেও ইহা সম্পৃক্ত। ব্যাপক গবেষণার ফল হচ্ছে এগুলো। কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় (আমেরিকা) ও ভার্জিনিয়া টেক এর গবেষণাগার থেকে শুরু করে সুদূর চীনের গবেষণায় বিজ্ঞান একটি পরিস্কার ও সুদৃঢ় চিত্র অংকন করেছে যে আমরা সঠিক খাবার গ্রহণের মাধ্যমে মরণ ব্যাধিগুলোর ঝুঁকি কমাতে পারি। মনে রাখা ভাল যে, আপনার খাদ্যের ফলাফলই আপনার সুস্থতা ও রোগগ্রস্থতা। ঞযব ঈযরহধ ঝঃঁফু, ঐড়ি ঘড়ঃ ঞড় উরব, ঐবধৎঃ গধভরধ, ঞযব ঝঢ়বপঃৎঁস, ঞযব ডযড়ষব, ঋড়ড়ফ জবাড়ষঁঃরড়হ ও চৎড়মৎধস ভড়ৎ জবাবৎংরহম ঐবধৎঃ উরংবধংব এর মত অসাধারণ গবেষণা-গ্রন্থগুলোর অসংখ্য প্রমাণ এ কথাগুলো বলছে।
তাই আসুন, স্বাস্থ্য-সচেতন হই, সুস্বাস্থ্যে থাকি। যারা যতটুকু পালন করেছেন তারা ততটুকু লাভবান হয়েছেন। সচেতন হন আপনিও। অনুসরণ করুন যতটুকু পারেন। আপনি থাকবেন সুস্থ ও প্রাণপ্রাচুর্যে ভরপুর একজন মানুষ। পরম করুণাময়ের অশেষ রহমত বর্ষিত হউক আপনার উপর।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT