স্বাস্থ্য কুশল

রোগ প্রতিরোধে কাঁচা মরিচ

মো. জহিরুল আলম শাহীন প্রকাশিত হয়েছে: ১৬-০৯-২০১৯ ইং ০০:৩৯:৪৫ | সংবাদটি ১৩৮ বার পঠিত

মরিচ আমাদের দেশে অতি পরিচিত সবজি। আমাদের প্রতিদিনের নানা খাবার তৈরী করতে বিভিন্ন রকম মসলা ব্যবহার করা হয়। তার মধ্যে অতি গুরুত্বপূর্ণ মসলা হলো মরিচ। খাবার মুখরোচক, মজাদার ও ঝাল বাড়াতে মরিচ ব্যবহার করা হয়। মরিচ যখন কাঁচা অবস্থায় থাকে তখন তাকে কাঁচা মরিচ বলা হয়। আবার গাছের পাকা মরিচ রৌদে শুকিয়ে গুঁড়া করে রান্না কাজে ব্যবহার করা হয়। আবার প্রতি দিনের নানা খাবারের স্বাদ বাড়াতে কুঁচি কুঁচি করে কেটে খাবারে দিয়ে পরিবেশন করা হয়। ভাত খাওয়ার সময় চিবিয়ে খাওয়া যায়। এ অভ্যাসটি স্বাস্থের জন্য খুব উপকারী। তবে প্রতিদিনের খাবারের সাথে অতিরিক্ত কাঁচা মরিচ খাওয়া ভালো নয়। প্রতিদিন চার পাঁচটি কাঁচা মরিচ খাওয়া ভালো। এতে প্রতিদিনের ভিটামিনের চাহিদা ও অন্যান্য খাদ্য উপাদান দেহে পূরণ হয়।
পরিচিতি : কাঁচা মরিচ গুল্ম জাতীয় বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ। উদ্ভিদ জগতের ঝড়ষধহধপবধব গোত্রের উদ্ভিদ। বৈজ্ঞানিক নাম ঈধঢ়ংরপঁস ভৎঁঃবংপবহঃ। মরিচে ‘ক্যাপসাইসিন’ নামক ফিনল বা রাসায়নিক জাতীয় পদার্থ থাকার কারণে মরিচ ঝাল হয়। এ পদার্থটি যে মরিচে বেশি পরিমাণে থাকে সে মরিচ ততো বেশি ঝাল হয়। মরিচের ঝাল পদার্থটি মানব দেহের জন্য খুবই উপকারি। কাঁচা মরিচ নানা রঙের হয়। হলুদ কাঁচা মরিচে থাকে প্রচুর লটিন ও জ্যানথিন, লালটিতে থাকে জ্যানথিন ও লাইকোপিন, কমলা রঙেরটিতে থাকে আলফা বিটা ক্যারোটিন এর সবগুলোই অ্যান্টি অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে তাই দেহের রোগ প্রতিরোগ ক্ষমতা শক্তিশালী হয়। দেহের রোগ জীবাণু আক্রমণ করতে পারে না।
রাসায়নিক উপাদান : ফলে থাকে এক প্রকার অলিওরজন এর মূল্য উপাদান ক্যাপসাইসিন, ডাই-হাইড্রোক্যাপসাইসিন। আরো আছে হোমোক্যাপসাইসিন, হোমোডাইহাইড্রোক্যাপসাইসিন, নোনানয়িক এসিড, ভ্যানিলাইল এসাইড, ভিটামিন সি, ভিটামিন এ এবং খনিজ মৌল। লাল ফলে থাকে ক্যারোটিনয়েড এবং ফ্ল্যাভোনয়েড। পাতায় থাকে গ্লাইকোসাইড, স্টেরল, বীজে থাকে স্যাপোনিন, ক্যাপসিসিডেন এবং সোলানিন।
পুষ্টি উপাদান : পুষ্টিবিদদের মতে প্রতি ১০০ গ্রাম খাবার উপযোগী কাঁচা মরিচে পুষ্টি উপাদান হলো- খাদ্য শক্তি ১০৩ কিলোক্যালরি, আমিষ ১.৬ গ্রাম, চর্বি ০.১ গ্রাম, শর্করা ২৩.৭ গ্রাম, ভিটামিন এ ২৩৪০ মাইক্রোগ্রাম, ভিটামিন সি ১২৫ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি-১ ০.১ মিলিগ্রাম, বি-২ ০.০৫ গ্রাম, আঁশ ০.০৬ গ্রাম, ভিটামিন ই ০.০৩ গ্রাম, মিয়াসিন ০.০৫ মিলিগ্রাম, ফলিক এসিড ০.০৫ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ০.১ মিলিগ্রাম, ম্যাঙ্গানিজ ০.১২ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ১১ মিলিগ্রাম, আয়রন ০.৩ মিলিগ্রাম, জলীয় অংশ ৭৩.৫ গ্রাম।
শুকনা মরিচ : পুষ্টিবিদদের মতে ১০০ গ্রাম খাবার উপযোগী শুকনা মরিচে পুষ্টি উপাদান হলোÑ জলীয় অংশ ১০ গ্রাম, খাদ্য শক্তি ২৪৬ কিলোক্যালরি, আমিষ ১৫.৯ গ্রাম ক্যালসিয়াম ১৬০ মিলিগ্রাম, আয়রন ২.৩ মিলিগ্রাম, ভিটামিন এ ৩৪৫ মাইক্রোগ্রাম, খাদ্য শক্তি ২৪৫ কিলোক্যালরি, চর্বি ৬.২ গ্রাম, শর্করা ৩১.৬ গ্রাম।
উপকারিতা : কাঁচা মরিচ স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারি। তাই প্রতিদিন ভাতের সাথে কাঁচা মরিচ খাওয়ার অভ্যাস করা প্রয়োজন। এতে আছে ভিটামিন এ, বি, সি, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, আয়রন ও প্রোটিন। কাঁচা মরিচে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি। তাই ভিটামিন সি অভাব পূরণে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মনে রাখবেন ভিটামিন সি আমাদের শরীরে জমা থাকে না। তাই প্রতিদিন সি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া প্রয়োজন। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা তুলে ধরা হলো : যাদের ঘন ঘন সর্দি কাশি হয় তারা যে কোনো খাবারের সাথে কাঁচা মরিচ খান উপকার পাবেন। যাদের হৃদরোগ আছে তারা নিয়মিত কাঁচা মরিচ খান উপকার পাবেন। কাঁচা মরিচের যে উপাদান থাকে তা ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তের চিনি কমাতে সাহায্য করে। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বেশ উপকারী। যারা ঘন ঘন চর্মরোগে ভুগছেন তারা নিয়মিত পরিমাণে কাঁচা মরিচ খান উপকার পাবেন। যারা পিঠ ব্যথা বা বাত রোগে ভুগছেন তারা নিয়মিত কাঁচা মরিচ খান উপকার পাবেন ।
কাঁচা মরিচ পুরুষের প্রস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। কাঁচা মরিচ রক্তের কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। প্রতিদিন দুই/ তিনটি কাঁচা মরিচ খেলে রক্ত সঞ্চালন ভালো থাকবে। রক্ত জমাট বাধার ঝুঁকি কমে। এই পরিমাণ কাঁচা মরিচ খেলে চেহারায় বার্ধ্যকের ছাপ পড়ে না ও চামড়ায় বলি রেখা পড়ে না। কাঁচা মরিচের ভিটামিন সি চামড়া ও চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। যে কোন ধরনের কাটা, চেরা, ঘা শুকাতে খুবই উপকারি। কাঁচা মরিচে প্রচুর ভিটামিন এ পাওয়া যায় যা আমাদের চোখের ও চর্ম রোগের খুবই উপকারি। কাঁচা মরিচের ভিটামিন সি ও ক্যালসিয়াম মুখের ঘা, দাঁতের মাড়ির সমস্যা দুর করে এবং হাড়ের সমস্যা কমায়। শ্বাস নালি ও ফুসফুসের কার্যক্ষমতা সঠিক রাখে। অথ্রাইটিসের ব্যথা নিরাময়ে কাঁচা মরিচের ক্যাপসাইসিন একটি কার্যকরী ঔষধ। দেহের অতিরিক্ত ওজন কমাতে সাহায্য করে। কাঁচা মরিচের প্রচুর পরিমান ভিটামিন সি যা এন্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের রক্ত নালী তরুণাস্থি ঘটনে সাহায্য করে। শরীরের জন্য এটিপি, ডোপামিন, পেপটাইড হরমোন তৈরীতে এ ভিটামিন বিশেষ অবদান রাখে। তাছাড়া ক্যান্সার নিরাময় মানসিক অবসাদ কমাতে এ ভিটামিন বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখে। মরিচের ঝাল কার্ডিও ভাসকুলার রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমায়। মরিচের ক্যাপসাইসিন উপাদান রক্তের এলডিএল কোলেস্টেরলের (লো ডেনসিটি লিপ্রো প্রোটিন কোলেস্টেরল) মাত্রা কমায়।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT