সম্পাদকীয় মহৎ কাজ কখনও ঝুঁকি ছাড়া সম্পন্ন হয় না। -হেরোডোটাস

নদী দখলদার তালিকা

প্রকাশিত হয়েছে: ১৮-০৯-২০১৯ ইং ০০:৩০:২৭ | সংবাদটি ১১৩ বার পঠিত

নদীখেকো’দের তালিকা হয়েছে। সারাদেশে ‘নদীখেকো’ পাওয়া গেছে ৪৬ হাজার সাতশ ৪২ জন। এরা বিভিন্ন স্থানে নদী দখল করে বসে আছে। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন সম্প্রতি এই নদী দখলদারদের চিহ্নিত করেছে। তাদের তালিকা অনুযায়ী দেশের ৬১ জেলায় উল্লিখিত সংখ্যক ব্যক্তি বিভিন্ন নদী দখল করেছে। হাইকোর্টের একটি রিট পিটিশনের আদেশ সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের জন্য জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের এক সভায় নদনদীর অবৈধ দখলদারদের এই তালিকা জনস্বার্থে প্রকাশ করা হয়। তালিকা প্রকাশ করে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট জেলা নদী রক্ষা কমিটি ও জেলা প্রশাসকদের কাছ থেকে এই নদী দখলদারদের তালিকা পাওয়া গেছে। এই তালিকায় নোয়াখালি জেলায় সর্বোচ্চ তিন হাজার পাঁচশ’ ৮৩ জন দখলদারের নাম রয়েছে। আর সর্বনি¤œ ১৪ জন দখলদার রয়েছে লালমনিরহাট জেলায়। আর সিলেট বিভাগে দখলদার পাওয়া গেছে, দুই হাজার আটজন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দখলদার সুনামগঞ্জে ছয়শ’ ৯৬ জন।
নদীমাতৃক বাংলাদেশের আনাচে কানাচে রয়ে গেছে অসংখ্য ছোটবড় নদী। জানা গেছে, শাখা প্রশাখাসহ কমপক্ষে আটশ নদনদী বিপুল জলরাশি নিয়ে ২৪ হাজার একশ’ ৪০ কিলোমিটার জায়গা জুড়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দেশের বেশির ভাগ এলাকাই শত শত নদীর মাধ্যমে বয়ে আসা পলি মাটি জমাট হয়ে তৈরি হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, নানা কারণে দেশের নদ নদীগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। একদিকে ভরাট হচ্ছে, নৌপথ কমছে; অপরদিকে দুর্বৃত্তচক্র দখল করছে নদনদী। বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য হচ্ছে, ১৯৬০ এর দশকে দেশে চারশ ৪৫টি বৃহৎ নদী ছিলো। কিন্তু বর্তমানে সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দু’শ ৩১টিতে। আর বর্তমানে নৌপথের পরিমাণ বর্ষা মওসুমে ছয় হাজার কিলোমিটার এবং শুষ্ক মওসুমে মাত্র চার হাজার কিলোমিটার। প্রতি বছরই কমছে এই নৌপথের পরিমাণ। জানা গেছে, বিভিন্ন এলাকায় নদী ও নদী তীরবর্তী দুই হাজার একর ভূমি বেদখল হয়ে আছে। আর দখলদারদের মধ্যে রয়েছে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা, মাস্তান দুর্বৃত্ত এবং অনেক সময় শিল্পপতিরা।
নদ নদী দখলমুক্ত করা একটি বৃহৎ চ্যালেঞ্জ। বিভিন্ন স্থানে মাঝে মধ্যে অবশ্য দখলমুক্তকরণ অভিযান পরিচালিত হয়। তবে তাতে স্থায়ী কোন সমাধান হয় না। দখলমুক্ত করার কিছুদিনের মধ্যেই ওই জায়গাটি পুনদখল হয়ে যায়। তাছাড়া, অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ অভিযানেও রয়েছে দুর্নীতি। এবার দখলদারদের চিহ্নিত করা হয়েছে। নদী রক্ষা কমিশন ও দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সব জেলা প্রশাসকের কাছে বার্তা পাঠিয়েছেন। তাছাড়া ২০১৪ সালে গঠিত জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনকে হাইকোর্ট নদীর অভিভাবকের দায়িত্ব দিয়েছেন। তাই এই কমিশনের অভিভাবকত্বে আমাদের ঐতিহ্যবাহী নদ নদী দখলমুক্ত হয়ে তার হারানো সৌন্দর্য ফিরে পাবে বলেই আমরা আশাবাদী।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT