ইতিহাস ও ঐতিহ্য

ঐতিহ্যবাহী গ্রাম আজিজপুর

মোহাম্মদ জুয়েল প্রকাশিত হয়েছে: ১৮-০৯-২০১৯ ইং ০১:০২:১৬ | সংবাদটি ৩০৬ বার পঠিত

বালাগঞ্জ উপজেলা পশ্চিম গৌরীপুর ইউনিয়নের আজিজপুর একটি ঐতিহ্যবাহী গ্রাম। ভোটার তালিকায় আজিজপুর উত্তর ও দক্ষিণ আজিজপুর নামে গ্রামটি দুইভাগে বিভক্ত হয়েছে। আজিজপুর গ্রামে আউলিয়া দরবেশ তথা আধ্যাত্মিক পুরুষ হযরত কালী ঠাকুর (রহ.) মাজার রয়েছে। গ্রামের অনেক গুণীজন নিজ নিজ যোগ্যতা, মেধা ও প্রতিভার দ্বারা এলাকার শিক্ষা স্বাস্থ্য ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিভিন্ন সময় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। এলাকার জনসাধারণ তাদের নিয়ে গর্ববোধ করে এবং তাদেরকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে। তাঁদের মধ্যে অন্যতম ব্যক্তিত্ব আলহাজ্ব আব্দুল গফুর। তিনি ১৯৬৯-১৯৮২ সাল পর্যন্ত অবিভক্ত গৌরীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন। আলহাজ্ব আব্দুল গফুর একজন সুন্দর, সুঠামদেহী ব্যক্তিত্ব ও শালিস বিচারক ছিলেন। তিনি আজিজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। আজিজপুর স্বাস্থ্য ও পরিবার কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তিনি সপ্ত মৌজা শাহী ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ছিলেন। এছাড়া, তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন। মরহুম আব্দুর রহিম। গ্রাম আজিজপুর দক্ষিণ। তিনি ১৯৬১-১৯৬৫ সাল পর্যন্ত অবিভক্ত গৌরীপুর ইউনিয়নের কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি মুসলিম লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। পাকিস্তান আমলে বালাগঞ্জের ৩৫নং সার্কেলের সরপঞ্চ ছিলেন। তাঁরই পুত্র আব্দুল মুক্তাদির একজন শিক্ষাবিদ। তিনি বোয়ালজড় উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক ছিলেন। বর্তমানে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার জাফরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন । প্রয়াত আবিদুর রহমান বদরী, পশ্চিম গৌরীপুর ইউনিয়নের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি সাংবাদিকতার সহিত জড়িত ছিলেন। সিলেটের স্থানীয় পত্রিকায় কাজ করেন। বঙ্গবীর জেনারেল (অব.) এম.এ.জি ওসমানী জাতীয় জনতা পার্টি গঠন করিলে তিনি জাতীয় জনতা পার্টির জেলা পর্যায়ে নেতৃত্ব দেন। আব্দুল মঈন চৌধুরী। তিনি ১৯৮২ সাল হতে শহরস্থ শাহজালাল জামেয়া স্কুল এন্ড কলেজে শিক্ষকতা করেছেন। বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রচুর কবিতা প্রকাশ হয়েছে। তিনি কয়েকটি সংকলন প্রকাশ করেছেন। গিয়াস উদ্দিন আহমদ। তিনি একজন ইঞ্জিনিয়ার। সাংবাদিকতা ও করেছেন। আজিজপুর উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে কিছুদিন প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত আজিজপুর উচ্চ বিদ্যালয় অত্রাঞ্চলের মানুষকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে আসছে। শিক্ষা ও মেধাই মানুষের বড় সম্পদ। সেই মানসম্পন্ন মেধা ও শিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে মানুষকে সভ্য করে গড়ে তোলার একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে বিদ্যালয়। আজিজপুর উচ্চ বিদ্যালয়টি অবধান সে ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় ও অনস্বীকার্য। শিক্ষা ছাড়া কোনো কালেই কোনো জাতি উন্নতি করেছে এমন নজির বিরল। শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড। আর সেই মেরুদন্ড গড়ার শক্ত ভিত্তির ক্ষেত্রস্থল বিদ্যালয়। প্রতিটি মানুষকে সভ্য করে গড়ে তোলার একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে বিদ্যালয়। তাই একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরি করার মতো মহৎ ও কল্যাণকর কাজ আর দ্বিতীয়টি নেই। আব্দুল মালিক রুনু। তিনি একজন রাজনীতিবিদ ও সমাজ সেবক। তিনি আজিজপুর উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তিনি আজিজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। বালাগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। বর্তমান আজিজপুর উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন। তাঁরই অনুজ আব্দুল মুনিম (হীরা) অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক। তিনি দেওয়ান আব্দুর রহিম হাই স্কুল এন্ড কলেজের (২০০৭-২০১৩ পর্যন্ত) প্রধান শিক্ষক ছিলেন। ২০১৩ সালে অত্র প্রতিষ্ঠান কলেজে উন্নীত হলে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিনি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ছিলেন। তিনি আজিজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। তাঁরই ভ্রাতা এডভোকেট মো. আব্দুল কুদ্দুছ। সিলেট জেলা আইনজীবি সমিতির (২০১৮ সাল) সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি আন্তর্জাতিক সেবাধর্মী সংগঠন অঢ়বী ঈষঁন ড়ভ ইরংধিহধঃয এর অতীত সভাপতি। অঢ়বী ঈষঁন ঙভ ইধহমষধফবংয এর লাইফ মেম্বার, বালাগঞ্জ-ওসমানীনগর আইনজীবী পরিষদের কার্যনিবাহী কমিটির সদস্য। মো. তেরা মিয়া। পশ্চিম গৌরীপুর ইউনিয়নের প্রাক্তন চেয়ারম্যান। বালাগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ যুগ্ম সম্পাদক। বর্তমানে স্থায়ীভাবে ব্রিটেনে বসবাস করছেন। তিনি গহরপুরের নর্থ ইষ্ট বালাগঞ্জ কলেজের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, প্রবাসী বালাগঞ্জ-ওসমানীনগর এডুকেশন ট্রাস্টের ট্রাস্টি এবং বার্মিংহামস্থ বালাগঞ্জ-ওসমানীনগর গরীব কল্যাণ ট্রাস্টের উপদেষ্টা। তাঁরই অগ্রজ হাজী মো. গিয়াস উদ্দিন (সাইস্তা) স্পষ্টবাদী ব্যক্তি ছিলেন। তিনি আজিজপুর উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ছিলেন। তাঁরই অনুজ আব্দুল হান্নান (আতাস) ব্রিটেন প্রবাসী। সমাজকর্মী, শিক্ষানুরাগী তিনি আজিজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের আজীবন সদস্য। তাঁরই ভ্রাতা আমির হোসেন নুরু, স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। নর্থ ইষ্ট বালাগঞ্জ কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি। মো. আব্দুল কাইয়ুম। আজিজপুর উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির প্রাক্তন সভাপতি ও আজীবন সদস্য। তাঁরই পিতা ব্রিটেন প্রবাসী মরহুম ছইদ আলী আজিজপুর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের ভূমি দাতা। মো. তারাউল ইসলাম। পিতা- হাজী মো. আব্দুল আজিজ। তিনি ৪ঠা এপ্রিল ১৯৬২ সালে ব্রিটেনে পাড়ি দেন। প্রবাসী বালাগঞ্জ-ওসমানীনগর এডুকেশন ট্রাস্টের অন্যতম ট্রাস্টি। আইল অব ডগস বাংলাদেশী এসোসিয়েশন এন্ড কালচারাল সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। আজিজপুর বিদ্যালয়ের আজীবন সদস্য। আজিজপুর জামে মসজিদ, আজিজপুর স্বাস্থ্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার জন্য ভূমি প্রদান সহ অনেক জনহিতকর কাজের সাথে জড়িত ছিলেন। সিরাজ উদ্দিন। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। প্রয়াত লোকমান হোসেন, পশ্চিম গৌরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রাক্তন মেম্বার ও দেওয়ান আব্দুর রহিম হাই স্কুল এন্ড কলেজ পরিচালনা কমিটির প্রাক্তন সদস্য। আমিরুল ইসলাম রুবেল। আজিজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি। এডভোকেট জহিরুল ইসলাম। এপিপি জজ কোর্ট, সিলেট। তিনি আইন পেশায় নিয়োজিত। মো. আব্দুল হান্নান একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি আজিজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের আজীবন সদস্য। মরহুম হাজী ছমরু মিয়া গ্রাম সরকার প্রধান ছিলেন। মো. মুক্তার আলী শহরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, আজিজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের আজীবন সদস্য। মো. আজম আলী, উপজেলা বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। শেখ নজরুল ইসলাম। স্থানীয় পত্রিকার সাংবাদিক। এছাড়া, আজিজপুর গ্রামে আজিজপুর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র আজিজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নলজুড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আজিজপুর প্রাণি সম্পদ উপকেন্দ্র (পশু হাসপাতাল) রয়েছে। মাত্র কয়েক বছরে আজিজপুর বাজার অনেক সম্প্রসারিত হয়েছে। এ বাজারে সরকারি বেসরকারী বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখা স্থাপন ব্যবসায়ী ও জনসাধারণের সময়ের দাবী। আজিজপুর বাজারে যেকোন বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখা স্থাপন হলে ব্যবসায়ী ছাড়া ও বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসীদের রেমিটেন্স প্রেরণের পথ সহজ হতো। এস্থলে বলে রাখা ভালো, প্রবন্ধে প্রদত্ত লেখাটি স্বয়ংসম্পূর্ণ নয় এবং এটা কোন গবেষণামূলক প্রবন্ধ নয়; অতএব, তথ্য বাদ পড়া ও ভুল থাকাটা প্রত্যাশিত ও স্বাভাবিক। ভুলগুলোকে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখাই বাঞ্চনীয়। পরিশেষে আশা করবো এ গ্রামের ইতিহাস ঐতিহ্য অক্ষুন্ন রেখে আগামী প্রজন্ম আজিজপুর গ্রামকে আরো সুদৃঢ় করবেন।

শেয়ার করুন
ইতিহাস ও ঐতিহ্য এর আরো সংবাদ
  • জগন্নাথপুর উপজেলা সমিতি
  • ঢাকার আকাশে প্রথম নারী
  • বঙ্গভঙ্গের সূচনার ইতিহাস
  • স্বতন্ত্র আবাসভূমির আন্দোলন
  • সুনামগঞ্জের সাচনা: ইতিহাসের আলোকে
  • বদলে গেছে বিয়েশাদীর রীতি
  • স্বতন্ত্র আবাসভূমির আন্দোলন
  • ঐতিহ্যবাহী পালকী
  • স্বতন্ত্র আবাসভূমির আন্দোলন
  • ইতিহাসের আলোকে নবাব সিরাজ উদ-দৌলা
  • ভাদেশ্বর নাছির উদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়ের গৌরবোজ্জল শতবর্ষ
  • পুরান পাথরের যুগ থেকে
  • সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩ বছর
  • চৌধূরী শব্দ ও প্রথার ইতিবৃত্ত
  • ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ
  • ১৩৩ বছরের ঐতিহ্যবাহী সিলেট স্টেশন ক্লাব
  • একাত্তরের শরণার্থী জীবন
  • সিলেটে উর্দু চর্চা
  • মণিপুরী সম্প্রদায় ও তাদের সংস্কৃতি
  • সিলেটে উর্দু চর্চা
  • Developed by: Sparkle IT