উপ সম্পাদকীয় দৃষ্টিপাত

শিশুর উপর এতো চাপ

মো. মনজুর আলম প্রকাশিত হয়েছে: ১৯-০৯-২০১৯ ইং ০০:১৩:১৪ | সংবাদটি ২৫৯ বার পঠিত
Image

আমরা শিশুর ধারণ ক্ষমতার কথা চিন্তা করিনা। বুঝে না বুঝে শিশুর উপর আমরা অনেক কিছু চাপিয়ে দেই। আমাদের চিন্তা করা দরকার শিশুরা হাসি-আনন্দের উৎস। শিশুরা আদর পেতে চায়, মন ভরে হাসতে চায় এবং অন্যকে হাসাতে চায়। তাই কম বয়সে শিশুকে অধিক চাপ থেকে মুক্ত রাখা সবার উচিত।
দরিদ্র পরিবার থেকে শুরু করে বিত্তবান পরিবারের অভিভাকরাও শিশুদের কথা একটুও চিন্তা করে না। শিশুর উপর শুধু চাপ আর চাপ! দরিদ্র পরিবারের অভিভাবকরা পেটের দায়ে তাদের ৮-১০ বছরের সন্তানদের কাজে দিয়ে থাকেন। শিশুও নিরুপায় হয়ে মা-বাবার কথাতে বিভিন্ন কাজে নেমে যায়। কোনো শিশু গাড়ীর হেলপার, কোনো শিশু ওয়ার্কশপে শক্ত কাজ করে দিন অতিবাহিত করছে। আর মেয়ে শিশু কোনো বাড়িতে ঝি-এর কাজ করছে। শিশুরা যে স্থানেই কাজ করুক না কেন প্রত্যেকেই শিশুকে কঠোর খাটুনি খাটান। গাড়ীর হেলপার শিশু তার কঁচি গলায় বিভিন্ন গন্তব্যের হাক ডাক দিতেই থাকে আর গাড়ীর বডিতে হাত দিয়ে মেরে মেরে গাড়ী চলা এবং থামানো কাজ করতেই থাকে। রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে শিশুকে এ কাজ করতে দেখা যায়।
অনেক সময় দুঃখ হয়। কিন্তু অগণিত শিশুকে এ কাজ থেকে কিভাবে রক্ষা করা যাবে? বিভিন্ন স্টপেজে তার উস্তাদের পান, সিগারেট এনে দেয়া, পছন্দ না হলে বকুনি খাওয়া এসবতো শিশুর ভাগ্যে আছেই। ওয়ার্কশপে অনেক শিশু কঠোর পরিশ্রম করে। লোহা দিয়ে কাজ করতে গিয়ে অনেকে হাতে পায়ে ব্যথা পায়। অনেক ক্ষেত্রে হাতে পায়ে জখম হতে দেখা যায়। ঝি এর কাজ যে সমস্ত মেয়েরা করে তাদের কথা আর কী লিখব? তারা অনেক নির্যাতনের শিকার হয়। তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করা হয়। তাদের এতো খাটুনি খাটিয়ে বাসি খাবার দেয়া হয়। যে বয়সে বাচ্চারা ¯েœহ পাবার কথা, আনন্দচিত্তে হাসি খুশি থাকার কথা, সে বয়সে বাচ্চারা নির্যাতনের শিকার এটা বড় দুঃখের বিষয়।
শিশুর মুক্তভাবে বেড়ে উঠার ক্ষেত্রে কম বয়সে কাজে যাওয়া প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এই হাড়ভাঙ্গা খাটুনি করা শিশুদের পড়ালেখা করা এবং একটু আরামে থাকার ইচ্ছা থাকা সত্বেও তারা তা পারছেনা শুধু দরিদ্রতার কারণে। তাদের এই ইচ্ছাপূরণ বা সুযোগ সুবিধা করে দেওয়ার জন্য সমাজের ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব আছে বলে আমি মনে করি। বিত্তবান বা ধনী পরিবারের শিশুরা আরো বেশি চাপে থাকে। অনেকে মনে করতে পারেন তাদের উপর আবার কি চাপ। তারাতো কারো কাজ করে না। তারাতো স্বাধীন, মুক্ত তবে চাপ কিভাবে? ধনী বা বিত্তবানরা তাদের শিশু সন্তানদের নানা চাপে সব সময় ব্যস্ত রাখেন। আর এ চাপে পড়ে শিশুরা অতিষ্ট হয়ে উঠে। স্কুলে ভর্তি হওয়ার বয়স থেকে ধনী পরিবারের ছেলেমেয়েরা ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য মা, বাবা অনেক বেশি পড়াতে থাকেন। যারা বাচ্চাদের সময় দিতে পারেন না তারা টিউটর রেখে এই কঁচি বাচ্চাদের পড়ার চাপে রাখেন। পরীক্ষার তারিখ যত ঘনিয়ে আসে বাচ্চাদের উপর চাপ তত বাড়তে থাকে। তখন এই মানসিকতা কাজ করে অমুকের বাচ্চা থেকে আমার বাচ্চা ভালো করেছে শুধু একথাটা প্রচার করার জন্য। আর নিজ বাচ্চাদের ভালো স্কুলে কিংবা কোনো কিন্ডার গার্টেনে ভর্তি করতেই হবে। বেতন বেশী হলেও অনেককে বলতে শোনা যায় আমার বাচ্চার মাসিক বেতন তিন হাজার টাকা, পাঁচ হাজার টাকা। কিন্ডার গার্টেন বা ইংলিশ মিডিয়ার স্কুলে বই এর লম্বা লিস্ট। এতো বই শিশুরা বহনের উপযুক্তও নয়। বই ও ব্যাগের চাপে বাচ্চারা নূয়ে পড়ে।
শিশু বাচ্চারা ক্ষমতার অধিক বই-এর বোঝা বহন করেই শেষ নয় এই বাচ্চারা সর্বক্ষণ ব্যস্ত থাকতে হয়। স্কুল থেকে এসে প্রাইভেট টিউটর কিংবা কোচিং-এ ছুটতে হয়। কোচিং থেকে এসে আবার পড়তে বসতে হয়। সপ্তাহে বন্ধের দিনও তাদের হয় আর্ট স্কুলে অথবা গানের স্কুলে যেতে হয়। আমাদের শিশুদের সব সময় মা-বাবারাই ব্যস্ত রাখেন। তাদের ধারণ ক্ষমতা বা বহন ক্ষমতার কথা চিন্তা করেন না। অতিরিক্ত চাপে শিশু বাচ্চারা মাথায় ব্যথা অনুভব করে। তখন অনেক কাজকর্মে বাচ্চাদের অনীহা প্রকাশ করতে দেখা যায়। কোন কোন বাচ্চা চোখে চশমা পরে। বিশেষজ্ঞদের মতে বাচ্চাদের দিয়ে অতিরিক্ত ওজনের কিছু বহন করানো মোটেই ঠিক নয় আর কাধে ব্যগ ঝুলিয়ে শিশুরা যদি এই ব্যাগ বহন করে অতিরিক্ত ওজনের তবে শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যহত হয় এবং পিঠে ব্যথা হয়। এসব শিশু বেশি বাড়তে পারে না। শিশুর মেধা বিকাশে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।
শিশুদের ক্ষমতার বাহিরে অতিরিক্ত কিছু করা যাবে না। শিশুকে পড়ালেখার জন্য অতিরিক্ত চাপ দেয়া যাবেনা। শিশুদের মন মানসিকতা বুঝতে হবে। শিশুকে অবশ্যই নিজের আওতায় রাখতে হবে তবে তারও মন মানসিকতা বুঝতে হবে। প্রতিযোগিতায় নামানোর জন্য কিংবা সুনাম অর্জনের জন্য শিশুর উপর বোঝা দেওয়া ঠিক নয় এতে হিতে বিপরীত হতে পারে। শিশুরা আমাদের ভবিষ্যত। শিশুদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে চাই সঠিক চিন্তাধারা ও সঠিক সিদ্ধান্ত। হাসিখুশির শিশু হাসিখুশিতেই যেন সব কিছু শিখতে পারে এ ব্যাপারে আমাদের মনোযোগী হতে হবে। অতিরিক্ত চাপ দিয়ে হাসি আনন্দের শিশুর মুখ ম্লান করবেন না।

 

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • চীন-ভারত সংঘাতের আশংকা কতটুকু
  • করুণাধারায় এসো
  • করোনাকালের ঈদোৎসব
  • মহাপূণ্য ও করুণার রাত শবে-কদর
  • মাহে রামাজান: যাকাত আদায়ের উত্তম সময়
  • দারিদ্র দূরীকরণে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ
  • চীন-আমেরিকার শীতল যুদ্ধ
  • চাই আশার বাণী
  • কোভিড-১৯:সংকটে বিশ্ব অর্থনীতি
  • ক্যাস্পিয়ান সাগরের ভূ-কৌশলগত গুরুত্ব
  • নিজগৃহে আমাদের এই উদ্বাস্তু জীবন
  • বেকারত্ব ও যুবসমাজ
  • আমার হাতেই আমার সুরক্ষা
  • কুড়িগ্রামের সুলতানা সরেবোর
  • স্মার্টফোনের আনস্মার্ট ব্যবহার
  • কোয়ারেন্টাইন না বলে ঘরবন্দি, একঘরে, ছোঁয়াচে বলুন
  • বিশ্বের স্বাধীনতাকামী মানুষের বন্ধু
  • করোনা ভাইরাস ও করুণ পরিস্থিতি
  • পানির অপচয় রোধ করতেই হবে
  • বিশ্বনবী (সা) এর মিরাজ
  • Image

    Developed by:Sparkle IT