সম্পাদকীয়

দুই মিনিটে তিন আত্মহত্যা

প্রকাশিত হয়েছে: ১৯-০৯-২০১৯ ইং ০০:১৩:৪৩ | সংবাদটি ১৩৮ বার পঠিত

প্রতি দুই মিনিটে তিনজন মানুষ আত্মহত্যা করছে। অর্থাৎ প্রতি ৪০ সেকেন্ডে আত্মহত্যা করছে একজন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য বেরিয়ে এসেছে। তাদের মতে, বিশ্বজুড়ে প্রতি ৪০ সেকেন্ডে একজন মানুষ নিজের প্রাণ নিয়ে নিচ্ছেন। প্রতিবছর আত্মহত্যায় যুদ্ধের চেয়েও বেশি লোক মারা যাচ্ছে। ফাঁসি দিয়ে, বিষ খেয়ে এবং নিজেকে গুলি করে মেরে ফেলাই আত্মহত্যার সবচেয়ে প্রচলিত পদ্ধতি বলে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। জনগণকে চাপ সামলাতে সহযোগিতা করার মাধ্যমে আত্মহত্যার প্রবণতা হ্রাসে ‘আত্মহত্যা প্রতিরোধ পরিকল্পনা’ গ্রহণ করার জন্য সরকারগুলোর প্রতি আহবান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থা।
সমস্যাটি সারাবিশ্বের জন্য একটি উদ্বেগের বিষয়। বিশ্বের সব অঞ্চলের সব বয়সী লোকই এতে আক্রান্ত হচ্ছে। জানা গেছে, বিশ্বব্যাপী সড়ক দুর্ঘটনার পর আত্মহত্যাই ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ। এই বয়স সীমার মেয়েদের ক্ষেত্রে মাতৃত্বজনিত মৃত্যুর পর আত্মহত্যা দ্বিতীয় প্রধান ঘাতক। আর কিশোরদের ক্ষেত্রে সড়ক দুর্ঘটনা ও সহিংসতার পর আত্মহত্যায় মৃত্যু সবচেয়ে বেশি। দেখা গেছে, সারা বিশ্বে বছরে কমপক্ষে আট লাখ লোক আত্মহত্যা করে। নি¤œ ও মধ্য আয়ের দেশগুলোতে নারী পুরুষের আত্মহত্যার হার প্রায় কাছাকাছি হলেও ধনী দেশগুলোতে নারীদের তুলনায় পুরুষের আত্মহত্যার প্রবণতা প্রায় তিনগুণ। চিকিৎসক ও মনোবিজ্ঞানীদের অভিমত হচ্ছে, হতাশাই আত্মহত্যার মূল কারণ। হতাশাগ্রস্ত মানুষের মনে সমাজ সম্পর্কে বিরূপ ধারণার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে সে হয়ে পড়ে জনবিচ্ছিন্ন। নিজেকে এই সমাজে অপাংক্তেয় মনে হয় এবং বেছে নেয় আত্মহত্যার পথ। এটাকে এক ধরনের মানসিক রোগ বলেও অভিহিত করছেন বিশেষজ্ঞগণ। বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থা ইতোপূর্বে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর যে ভবিষ্যদ্বাণী করে তা হলো, ২০২০ সাল নাগাদ প্রতি বছর বিশ্বে সাড়ে ১৫ লাখ মানুষ আত্মঘাতী হবে।
সবচেয়ে বড় কথা যারা আত্মহত্যা করে তারা হয়তো আপাতদৃষ্টে জীবন যন্ত্রণা থেকে বেঁচে যাচ্ছে, তবে আত্মহত্যার পরে পরিবার ও সমাজে এর সুদূর প্রসারী বিরূপ মানসিক এবং সামাজিক প্রতিক্রিয়া থেকে যায়। এই ‘সামাজিক ব্যাধি’ নিরসনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে পারিবারিক ও সামাজিক শান্তি। এটা নিশ্চিত হলে আত্মহত্যার প্রবণতা কমে আসবে। সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে সব ধরনের প্রতিকূলতাকে মোকাবেলা করার মানসিক শক্তি থাকা উচিত সকলের মধ্যে। এই শক্তি অর্জন করলে কেউ আত্মহত্যার পথ বেছে নেবে না। আসল কথা হলো, আত্মহত্যা প্রতিরোধযোগ্য। সেজন্য সরকারসহ সর্বমহলের সচেতনতা জরুরি।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT