উপ সম্পাদকীয় যে আত্মাকে বিকশিত করতে পেরেছে সে-ই ভাগ্যবান এবং যে ব্যক্তি আত্মাকে কলুষিত করেছে সে-ই অপদস্থ। - আল হাদিস।

আবাসিক এলাকায় ব্যবসা

প্রকাশিত হয়েছে: ২০-০৯-২০১৯ ইং ০১:১০:২৩ | সংবাদটি ২৭৬ বার পঠিত
Image

আবাসিক এলাকায় গড়ে ওঠেছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। সিলেট নগরীর আবাসিক এলাকাগুলোতে গড়ে উঠেছে নানা ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এতে আবাসিক এলাকার সৌন্দর্য্য ও পরিবেশ দু’টোই বিনষ্ট হচ্ছে। নগরীতে পরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা আবাসিক এলাকাগুলোতে বলা যায় যেখানে সেখানে গড়ে ওঠেছে দোকানপাট বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। এগুলোতে সার্বক্ষণিক কোলাহলময় পরিবেশ বিরাজ করে। ফলে বিনষ্ট হচ্ছে আবাসিক এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ। দু’তিন দশক আগে যেসব আবাসিক এলাকায় বিশেষ করে দিনের বেলায় শান্ত পরিবেশ বিরাজ করতো, আজ সেখানে রাস্তার দু’পাশে নানা ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। দিন রাত ক্রেতা বিক্রেতাদের আনাগোনা, ওয়েল্ডিংসহ বিভিন্ন ধরনের মেশিনের টুং টাং শব্দ। এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কেন্দ্র করে জমে ওঠে বখাটেদের আড্ডা। ফলে ঘটছে নানা ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা। সব মিলিয়ে বিভিন্ন আবাসিক এলাকার বাসিন্দারা অতিষ্ট। আবাসিক এলাকায় এই ধরনের অনাবাসিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা উচিত।
সিলেট মহানগরীতে বাড়ছে জনসংখ্যা। গড়ে উঠছে নতুন নতুন আবাসিক এলাকা। বর্ধিত জনসংখ্যার চাহিদা মেটানোর জন্যই গড়ে উঠছে এইসব আবাসিক এলাকা। কিন্তু এগুলো গড়ে ওঠার পেছনে পরিকল্পনার ছাপ খুব একটা রয়েছে, এমনটি বলা যায় না। আবার কোনটি পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা হলেও এক পর্যায়ে সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়, ভ-ুল হয়ে যায় সব পরিকল্পনা। অর্থাৎ এইসব পরিকল্পিত আবাসিক এলাকায় প্রথমদিকে দোকানপাট গড়ে না উঠলেও পরবর্তীতে ছোট বড় নানা ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। তাছাড়া, অনেক প্রাচীন আবাসিক এলাকায়ও গজিয়ে ওঠেছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। সময়ের তাগিদে আবাসিক এলাকার রাস্তাগুলো বড় করে দু’পাশে গড়ে তোলা হচ্ছে ফুটপাত। এলাকাবাসীর চলাচলের সুবিধার জন্যই এইসব উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অথচ এই সুযোগ নিচ্ছে ব্যবসায়ীরা। তারা আবাসিক এলাকার ফুটপাতকে ব্যবহার করেই গড়ে তুলেছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। নগরীকে বাসযোগ্য করে গড়ে তোলার জন্য বিশেষ করে আবাসিক এলাকার পরিবেশকে স্বাভাবিক রাখতে হবে। তাই বন্ধ করতে হবে আবাসিক এলাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ সব ধরনের পরিবেশ বিধ্বংসী কার্যক্রম। এ ব্যাপারে এলাকাবাসীকেও সচেতন হতে হবে। দেখা গেছে রাস্তার পাশের আবাসিক ভবনের মালিকেরা বাড়তি আয়ের জন্য বাসার সাথেই দোকানঘর তৈরী করে ভাড়া দিচ্ছেন। এতে পক্ষান্তরে তারা নিজেরাই নিজের এলাকার পরিবেশ বিনষ্ট করছেন। আর আবাসিক এলাকায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কোচিং সেন্টারও গড়ে উঠছে। এতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় জনসমাগম বেড়ে চলেছে।
তবে এই সবকিছুর সঙ্গে এটাও বলা উচিত যে, আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের জন্য নিত্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের কেনাকাটার ব্যবস্থা থাকা দরকার। আর সে জন্য আবাসিক এলাকার নির্দিষ্ট স্থানে নির্দিষ্ট কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলার অনুমতি দেয়া যেতে পারে। আর সেটা হতে হবে পরিকল্পিতভাবে সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে। সবচেয়ে আশ্চর্য্যের বিষয় হচ্ছে, আবাসিক এলাকার ব্যস্ততা বেড়ে যাওয়ায় আজকাল ব্যস্ত রাজপথ ছাড়াও অলিগলিতে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। আবাসিক এলাকার পরিবেশ সুরক্ষা তথা এর সৌন্দর্য্য রক্ষায় এলাকাকে বাণিজ্যিকীকরণের হাত থেকে মুক্ত করতে হবে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় নীতিমালা বা আইন প্রণয়ন করা দরকার। আমরা আশা করি এ নিয়ে মাথা ঘামাবেন সংশ্লিষ্টরা।

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • চীন-ভারত সংঘাতের আশংকা কতটুকু
  • করুণাধারায় এসো
  • করোনাকালের ঈদোৎসব
  • মহাপূণ্য ও করুণার রাত শবে-কদর
  • মাহে রামাজান: যাকাত আদায়ের উত্তম সময়
  • দারিদ্র দূরীকরণে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ
  • চীন-আমেরিকার শীতল যুদ্ধ
  • চাই আশার বাণী
  • কোভিড-১৯:সংকটে বিশ্ব অর্থনীতি
  • ক্যাস্পিয়ান সাগরের ভূ-কৌশলগত গুরুত্ব
  • নিজগৃহে আমাদের এই উদ্বাস্তু জীবন
  • বেকারত্ব ও যুবসমাজ
  • আমার হাতেই আমার সুরক্ষা
  • কুড়িগ্রামের সুলতানা সরেবোর
  • স্মার্টফোনের আনস্মার্ট ব্যবহার
  • কোয়ারেন্টাইন না বলে ঘরবন্দি, একঘরে, ছোঁয়াচে বলুন
  • বিশ্বের স্বাধীনতাকামী মানুষের বন্ধু
  • করোনা ভাইরাস ও করুণ পরিস্থিতি
  • পানির অপচয় রোধ করতেই হবে
  • বিশ্বনবী (সা) এর মিরাজ
  • Image

    Developed by:Sparkle IT