পাঁচ মিশালী

তারুণ্যের স্বপ্ন কারিগর

আব্দুল মুকিত প্রকাশিত হয়েছে: ২১-০৯-২০১৯ ইং ০০:৪৩:৫৪ | সংবাদটি ১২৯ বার পঠিত

জীবনে কেউ স্বপ্ন দেখে, কেউ স্বপ্ন দেখায়, আবার কেউবা স্বপ্ন পূরণ করে। মূলত যারা স্বপ্ন পূরণ করে তারাই শেষমেশ আদৃত হয়। তাদের বন্দনায় আমরা মুখর হই, তাদের কথামালা বলে যাই সম্মুখে সবার...
সিলেটের তরুণ উদ্যোক্তা ফখর উছ সালেহীন নাহিয়ান। একেবারে টগবগে তরুণ। মাত্র ত্রিশ বসন্ত পার করছেন জীবনের, অথচ এর মধ্যেই তার সুনামের পাখা মেলেছে চারদিকে। একজন তরুণ হয়ে সমাজের আর দশজন তরুণের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করে চলেছেন নিরন্তর।
নাহিয়ানের এ পর্যন্ত অর্জিত পদবীর দিকে তাকালেই তার পরিচয়ের আভা পাওয়া যাবেÑসাবেক সভাপতি জুনিয়র চেম্বার ঢাকা, বর্তমান সহসভাপতি-জুনিয়র চেম্বার বাংলাদেশ, জেনারেল বডি মেম্বারা-ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এ- ইন্ডাষ্ট্রিজ, পরিচালক-হোটেল স্টার প্যাসিফিক, চেয়ারম্যান-এড ইকো,স্বত্ত্বাধিকারী-মেসার্স ফখর উছ সালেহীন নাহিয়ান, সাবেক সভাপতি-রোটারি ক্লাব অব সিলেট এলিটস, পরিচালক-ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটিজ কোঃ লিঃ, পরিচালক-সিলেট কমিউনিকেশন সিস্টেমস লিঃ, পরিচালক-মেসার্স ফখর উদ্দিন আলী আহমদ, পরিচালক-হোটেল ক্রাউন প্যাসিফিক। এইতো গত মঙ্গলবার ঢাকায় জুনিয়র চেম্বারের একটি অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সঙ্গে তারুণ্য নিয়ে কথা বলেছেন নাহিয়ান, তার মাধ্যমে সিলেটের তরুণ সমাজের প্রতিনিধিত্ব ওঠে আসে জাতীয় পর্যায়ে।
নাহিয়ানের চিন্তায় কেবল তারুণ্যের জয়গান। প্রশ্ন করিÑতরুণদের জন্য কী করতে চান আপনি? উত্তরে বলেনÑ‘আমি তরুণদের জন্য স্টার্ট আপ কালচার চালুর চিন্তা করছি। এটি হলো, যারা ডিগ্রি নিয়ে বের হবে তারা কেবল চাকরির জন্য ছুটবে না, তারা তাদের চিন্তায় নতুন কিছু করবে; আমরা তাদের পথ দেখাবো। এছাড়া সিড ফান্ডিং প্রজেক্টের মাধ্যমে বড় বড় কোম্পানীর সঙ্গে ব্রিজ নির্মাণ করে নতুন ও তরুণ উদোক্তাদের টাকার সংস্থানে সহায়তা করবো আমি।’ তার মতে ভারতের সেভেন সিস্টারসহ পৃথিবীব্যাপী কেবল আমাদের নতুন নতুন উদ্ভাবনী কনসেপ্ট বিক্রি করে অনেক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।
নাহিয়ানের মনে করেন,সবখানে যদি তরুণ নেতৃত্ব গঠন করা যায় তাহলে দেশ আরো বহুদূর এগিযে যাবে। কেননা,তরুণরা তরুণদের সমস্যা বুঝবে, সহজে তারা বন্ধুর মতো পাশে দাঁড়াতে পারবে।
নাহিয়ান নতুনত্বকে বরণ করতে চান দিলখুলে। সিলেটে বেশ ক’টি পয়েন্টে প্রথম ডিজিটাল বিলবোর্ড ( এলইডি) স্থাপন করেছেন তিনি। সুযোগ পেলে বন্দরবাজারে নিউইয়র্কের টাইম স্কয়ারের আদলে কিছু করবেন নাহিয়ান। ঢাকার বসুন্ধরায় ফিফা অনুমোদিত ‘দ্যা স্টেডিয়াম’ স্থাপন তার অনন্য এক কৃতিত্ব। এই স্টেডিয়ানে সাত জনের দুটি দল ফুটবল খেলতে পারে।
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মাস্টার্স করা নাহিয়ানের পিতা ফখর উদ্দিন আলী আহমদ চট্রগ্রাম স্টক এক্্রচেঞ্জের সভাপতি ছিলেন। তার পরিবার ২০১৭-১৮ অর্থবছরে কর বাহাদুর খেতাব অর্জন করে। তার বাবা ও চাচারা সিআইপি মর্যাদাপ্রাপ্ত। ১ ভাই ও ১ বোনের মধ্যে বড় নাহিয়ান তিন বছর বয়েসি এক পুত্র সন্তানের জনক। তার স্ত্রী মেহনাজ হুদাও একজন তরুণ উদ্যোক্তা।
কবি কুসুম কুমারি দাশ লিখেছিলেনÑ‘আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে / কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে?’
নাহিয়ান যেন কবির সেই ‘কাজে বড়’ হওয়া এক ছেলে। এরকম স্বপ্ন পূরণের কারিগর আমাদের সমাজে যতো জন্মাবে সমাজ ততোই এগিয়ে যাবে সমৃদ্ধির পথে...

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT