সম্পাদকীয়

বিশ্ব শান্তি দিবস

প্রকাশিত হয়েছে: ২১-০৯-২০১৯ ইং ০০:৪৯:৪২ | সংবাদটি ১৭৬ বার পঠিত


বিশ্ব শান্তি দিবস আজ। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হচ্ছে যথাযোগ্য মর্যাদায়। একটি যুদ্ধহীন বিশ্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৮১ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে গৃহীত প্রস্তাব অনুসারে প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসের তৃতীয় মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শুরু হওয়ার দিনটিকে ‘আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরবর্তীতে ২০০১ সালের ৭ই সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে গৃহীত প্রস্তাব অনুসারে ২০০২ সাল থেকে প্রতি বছরের ২১-এ সেপ্টেম্বর ‘আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। মূলত সারাবিশ্বের শান্তি প্রতিষ্ঠাই এই দিবসটি পালনের লক্ষ। তাই এই দিবসটির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত একটি শ্লোগান হচ্ছে ‘যুদ্ধ নয়-শান্তি চাই’।
১৯৮২ সাল থেকে প্রায় তিন যুগ ধরে এই দিবসটি পালিত হয়ে আসছে বিশ্বের দেশে দেশে। শান্তির সুবিশাল ছায়াতলে বাস করার জন্য সারা বিশ্বের সাধারণ মানুষের এই আকুতি যে খুব একটা ফলপ্রসূ হচ্ছে, তেমনটি বলা যায় না। যদি শান্তিকামী মানুষের এই শান্তি প্রতিষ্ঠার আহবানে সাড়া দিতো সবাই, তবে দেশে দেশে এতো যুদ্ধ বিগ্রহ লেগে থাকতো না। ধর্ম ও বর্ণের মধ্যে বিদ্বেষ, ক্ষমতার দম্ভ আর আধিপত্যবাদের দাপট এখনও পৃথিবীতে জোরালোভাবেই বিদ্যমান। যে কারণে গোটা বিশ্বের মানুষ এখনও গুটি কয়েকের হাতেই বন্দী হয়ে রয়েছে। শান্তির প্রত্যাশায় মানুষ দিশেহারা। যারা শান্তির বাণী শোনাচ্ছেন, তাদের নিজেদের কানেই সেই বাণী পৌঁছুচ্ছেনা; বরং তারাই বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার সব পথ বন্ধ করে রেখেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চলছে অশান্তি বিশৃঙ্খলা, যুদ্ধ। এসব কিছুর পেছনে রয়েছে ‘বিশ্বমোড়লদের’ হাত। তাদের আঙ্গুলের ইশরায় যুদ্ধ বাধে যেমন, তেমনি যুদ্ধ বন্ধও হতে পারে। তারা চাইলেই বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। শান্তি প্রতিষ্ঠার পেছনে বড় অন্তরায় হচ্ছে দারিদ্র। দারিদ্র্য পীড়িত দেশ বা সমাজে কখনও শান্তি প্রতিষ্ঠা পায় না। মানুষকে অনাহারে রেখে তাদের বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষার সুযোগ না দিয়ে শান্তির কথা চিন্তা করা যায় না।
বিশ্বায়নের এই যুগে বিশ্বের যেকোন দেশেই সৃষ্ট অশান্তি-বিশৃঙ্খলা ইত্যাদি সংঘটিত হলে তার প্রভাব পড়ে অন্যান্য দেশে। তাই শান্তি প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে কোন একটি দেশ নয়, বরং গোটা বিশ্ববাসীকেই অংশ নিতে হবে। বিশ্ব শান্তি দিবস পালন করা তখনই অর্থবহ হবে, যখন বিশ্ব থেকে দারিদ্র, যুদ্ধ বিগ্রহ, ধর্ম ও বর্ণ বিভেদ-বিদ্বেষ মানবাধিকার লংঘন ইত্যাদি চিরতরে বন্ধ করা যাবে। আর এজন্য মূখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোকে। আমাদের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোরও উচিত শান্তি প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়া এবং এর জন্য প্রভাবশালী দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করা।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT