উপ সম্পাদকীয়

প্যালেস্টাইন রাষ্ট্র : স্বপ্ন ও বাস্তবতা

অ্যাডভোকেট আনসার খান প্রকাশিত হয়েছে: ২২-০৯-২০১৯ ইং ০১:১৫:৩৫ | সংবাদটি ১১৯ বার পঠিত

স্বাধীন প্যালেস্টাইন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন আটকে আছে বিশ্ব রাজনীতির মারপ্যাঁচে। অন্যদিকে, স্বাধীন প্যালেস্টাইন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘ যে ৪৫ শতাংশ ভূমি বরাদ্দ রেখেছিলো, তাও কমে যাচ্ছে হিং¯্র ইসরাইলের থাকায়।
উল্লেখ্য যে, বৃটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আর্থার বেলফোরের ঘোষণার আলোকে প্যালেস্টাইনকে বিভক্ত করে ইহুদিদের জন্য একটা স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব পাস হয়েছিলো জাতিসংঘে সেই ১৯৪৮ সালে। গৃহীত প্রস্তাবে ইসরাইলের জন্য ৫৫ শতাংশ ভূমি বরাদ্দ করা হয়েছিলো এবং একই সাথে ইসরাইলকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিলো জাতিসংঘ। পক্ষান্তরে স্বাধীন প্যালেস্টাইনের জন্য ভূমি বরাদ্দ ছিলো ৪৫ শতাংশ। তবে তখন স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্যালেস্টাইনকে স্বীকৃতি দেয়নি জাতিসংঘ এবং অদ্যাবধি সেই স্বীকৃতি পায়নি প্যালেস্টাইন।
প্যালেস্টাইনি ভূখন্ড বিভক্ত করে প্যালেস্টাইন ও ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা বলা হলেও প্যালেস্টাইনের বুকের উপর ইহুদি রাষ্ট্র ইসরাইল প্রতিষ্ঠা করে ইসরাইল ও প্যালেস্টাইনের মধ্যে যে চির অশান্তির বীজ বপন করা হয়েছিলো তার প্রভাবে গোটা মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল অস্থিতিশীল ও বিশ্বের অন্যতম যুদ্ধপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে গণ্য হয়ে আসছে।
১৯৪৮ সাল থেকে মধ্যপ্রাচ্য অস্থিতিশীল ও যুদ্ধপ্রবণ হয়ে ওঠার পেছনে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং প্রতিষ্ঠা পরবর্তী সময়কাল থেকে প্যালেস্টাইন ও মধ্যপ্রাচ্যের আরব মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর প্রতি ইসরাইলের বৈরী আচরণ ও যুদ্ধবাজ নীতি এবং ইসরাইল রাষ্ট্রের সীমানা বর্ধিতকরণ ও সম্প্রসারণের অব্যাহত প্রচেষ্টাই মূল কারণ বলে মনে করেন মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক আন্তর্জাতিক রাজনীতির বিশেষজ্ঞরা।
প্যালেস্টাইনের ভূমি দখল করে ইসরাইলের সীমানা সম্প্রসারণ ও স্বাধীন প্যালেস্টাইন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্নকে ধুলিসাৎ করার অংশ হিসেবেই বিগত সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে ইসরাইল তার আগ্রাসী নীতি অব্যাহত রেখেছে প্যালেস্টাইনের মুসলমানদের সাথে। প্রায় প্রতিদিন ইসরাইলি সেনা ও পুলিশের গুলিতে মৃত্যুবরণ করছে প্যালেস্টাইনীরা। গাজা, পশ্চিম তীর সহ প্যালেস্টাইনি ভূখন্ডে জোরপূর্বক ইহুদিদের জন্য বসতি স্থাপন করছে। এভাবেই ইসরাইল প্যালেস্টাইনে আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, ১৯৬৭ সালে আরব-ইসরাইলের মধ্যেকার ছয়দিনের যুদ্ধে ইসরাইল কর্তৃক দখলীকৃত প্যালেস্টাইনি ভূমি পর্যায়ক্রমে ইসরাইলের সার্বভৌমত্বের অধীনে অধিভুক্ত করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে গেলো বছরে ইসরাইল-প্যালেস্টাইনের ভূমি গোলান মালভূমিকে তার ভূখন্ডের সাথে অঙ্গীভূত করে নিয়ে ওখানটায় ইসরাইলের সার্বভৌমত্ব ঘোষণা করেছে।
গেলো সপ্তাহে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ঘোষণা করেছেন, যদি তিনি ১৭ সেপ্টেম্বরের ইসরাইলি সাধারণ নির্বাচনে জয়যুক্ত হতে পারেন-তবে পশ্চিম তীরের বড় দাগের প্যালেস্টাইনের কিছু ভূমি ইসরাইলের ভূখন্ডের সাথে সংযুক্ত করে নেবেন। অর্থাৎ ইসরাইলের সীমানা সম্প্রসারণের জন্য প্যালেস্টাইনের বিরুদ্ধে সা¤্রাজ্যবাদী আগ্রাসন।
জাতিসংঘ সহ পৃথিবীর নানা প্রান্তের রাষ্ট্রনেতারা ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণাকে নিন্দাবাদ করেছেন, তবে অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে এটা বলা যায় যে, নেতানিয়াহুর ঘোষণার বাস্তবায়ন ঠেকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব হবে। কারণ, প্যালেস্টাইনি ও আরবের মুসলমান প্রধান রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে অনৈক্য এবং অর্থনৈতিক ও সামজিক দুর্বলতা এর কারণ। অন্যদিকে, জাতিসংঘ সহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থতা তো রয়েছেই। এছাড়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সরাসরি নেতানিয়াহু ও ইসরাইলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। কাজেই নেতানিয়াহু আবার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী হলে পশ্চিম তীরের গুরুত্বপূর্ণ ভূখন্ডের বৃহৎ অংশ ইসরাইলের সার্বভৌমত্বে চলে যাবে, এটা বলা যায়।
পশ্চিম তীর-প্যালেস্টাইনের ভূখন্ড এবং ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধের সময়ে ইসরাইল ঐ ভূখন্ড দখলে নেবার পর থেকে ওখানে ইসরাইলের আধিপত্যবাদী নিয়ন্ত্রণ বহাল থাকলেও ইসরাইল ঐ ভূখন্ডে নিজেদের সার্বভৌমত্ব কায়েম করেনি।
পশ্চিম তীর-ইসরাইলের পূর্ব সীমানার এক বিস্তৃত ভূমি। মাঝে মৃত সাগর, এর পূর্বে জর্ডান। পশ্চিমে ইসরাইলের দখলাধীন জেরুজালেমের পশ্চিম সীমানা। মূলতঃ উত্তর, দক্ষিণ ও পশ্চিম সীমান্তে ইসরাইলের অবস্থান। ভূমধ্যসাগর অববাহিকার কুলে বিস্তৃত এই ভূখন্ড জর্ডান নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত হওয়ার কারণে এ ভূখন্ড পশ্চিম তীর হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
১৫ শতকের পশ্চিম তীরে প্রথম মানববসতি স্থাপন হওয়ার পর থেকে এ ভূখন্ড অনেক বিদেশী বিজয়ী শাসক কর্তৃক শাসিত হয়েছে পশ্চিম তীর। এ ভূখন্ডের বর্তমান আয়তন ৫৬৫৫ বর্গ কিলোমিটার এবং লোকসংখ্যা প্রায় তিন মিলিয়ন, এর প্রায় সবাই প্যালেস্টাইনি মুসলমান। তবে এখানে এখন প্রায় দু’শতাধিক অবৈধ ইহুদির বসতি গড়ে ওঠেছে। তবে এখানকার মোট সংখ্যার ৩,০৫,০০০ ইসরাইলি বাসিন্দা।
১৯৯৩ এবং ১৯৯৬ ইং সালে অসলো চুক্তির মাধ্যমে পশ্চিম তীরকে তিনটা অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছিলো। ইসরাইল ও প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন এর মধ্যে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় অসলোতে স্বাক্ষরিত চুক্তির ফলে প্যালেস্টাইন সরকার বা প্যালেস্টাইন কর্তৃপক্ষ (পিএ) প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো এবং ঐ চুক্তির অংশ হিসেবে দখলকৃত পশ্চিম তীর অঞ্চল-এ, বি এবং সি-এ তিনটা ভাগে ভাগ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিলো।
অঞ্চল তিনটাকে নি¤œবর্ণিত মতে বিভাজন করা হয়েছিলো।
অঞ্চল-এ : পশ্চিম তীরের মোট আয়তনের ১৮ শতাংশ ভূখন্ড এবং মোট জনসংখ্যার ৫৫ শতাংশ বাসিন্দা নিয়ে এ অঞ্চল গঠনের ব্যবস্থা রাখা হয় চুক্তির শর্তানুযায়ী।
অঞ্চল-বি : গঠিত হয়েছিলো পশ্চিম তীরের মোট ভূখন্ডের ২০ শতাংশ ভূমি নিয়ে এবং ওখানকার জনসংখ্যা ছিলো পশ্চিম তীরের মোট জনসংখ্যার ৪১ শতাংশ।
অঞ্চল-সি : গঠিত হয় পশ্চিম তীরে মোট ভূখন্ডের ৬২ শতাংশ ভূখন্ড নিয়ে-যার জনসংখ্যা ছিলো পশ্চিম তীরের মোট জনসংখ্যার ৫.৮ শতাংশ। এই সি-অঞ্চলের অংশ হলো জর্ডানভ্যালী ও উত্তর মৃতসাগর অঞ্চল। সি-অঞ্চলে প্যালেস্টাইনী অধিবাসীর সংখ্যা হলো ৬৫,০০০ হাজার এবং ইসরাইল বসতি অধিবাসীর সংখ্যা হলো প্রায় ১১,০০০ হাজার।
এ, বি, সি-অঞ্চলের মধ্যে সি-অঞ্চল হলো গুরুত্বপূর্ণ উর্বর ভূমি। ওখানটায় প্রাকৃতিক সম্পদের ৮৬ শতাংশ রিজার্ভ রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞ অভিমত। আর পশ্চিম তীরের মোট বনাঞ্চলের ৯১ শতাংশ বনাঞ্চলই-সি অঞ্চলের মধ্যে পড়েছে। কৃষি ও জ্বালানী অঞ্চল খ্যাত-সি অঞ্চল তাই গোটা পশ্চিম তীরের মধ্যে আকর্ষণীয় এবং ভূকৌশলগত কারণে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও সি-অঞ্চল বিশ্বের অন্যতম একটা পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃত।
বিভাজিত তিনটি অঞ্চলের মধ্যে সি-অঞ্চল এ কারণে গুরুত্বপূর্ণ যে, জর্ডানভ্যালী এবং উত্তরে মৃত সাগরের মোট জমির ৯০ শতাংশই সি-অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং এ অঞ্চর অসলো চুক্তির শর্তানুযায়ী পূর্ব হতেই ইসরাইলের পূর্ণাঙ্গ বেসামরিক ও সামরিক নিয়ন্ত্রণাধীনে রয়েছে এবং ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী সি-অঞ্চলকেই ইসরাইলের সার্বভৌমত্বাধীনে অন্তর্ভুক্ত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
ইসরাইল প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষণা স্বাধীন প্যালেস্টাইন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আকাংখার সাথে বিরোধপূর্ণ এ কারণে যে, প্যালেস্টাইন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সি-অঞ্চলের গুরুত্ব সর্বাধিক। সি-অঞ্চল প্যালেস্টাইনীদের হাত ছাড়া হয়ে গেলে প্যালেস্টাইন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিষয়টা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে, একটা শক্তিশালী প্যালেস্টাইন রাষ্ট্র কায়েমের চূড়ান্ত আকাঙ্খা হোচট খাবে।
সি-অঞ্চল তথা জর্ডান উপত্যকা এবং উত্তর মৃত সাগরে ইসরাইলী দখল ও সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার যেকোনো প্রচেষ্টা মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলকে মারাত্মকভাবে অস্থিতিশীল করে তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে। জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এই পরিকল্পনা ‘পুরো অঞ্চলকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দেবে’।
সৌদি আরব এ পরিকল্পনাকে ‘ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে বিপজ্জনক’ বলে মন্তব্য করেছে। অন্যদিকে, প্যালেস্টাইনের সিনিয়র শান্তি আলোচক সায়েব এরাকাত বলেছেন, নেতানিয়াহুর সর্বশেষ পরিকল্পনা যদি এগিয়ে যায়, তবে ফিলিস্তিন ও ইসরাইলের মধ্যে শান্তির আর কোন সম্ভাবনা থাকবেনা বলে মনে করে মি: এরাকাত।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়-ইসরাইলি সার্বভৌমত্বকে এত বড় একটা অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত করাকে প্যালেস্টাইন রাষ্ট্রের আশা ম্লান করার কারণ হতে পারে বলে মনে করে। আমেরিকান একটি উদারপন্থী লবি জে স্ট্রিট বলেছেন-নেতানিয়াহুর এই পরিকল্পনা-‘ইসরাইল গণতন্ত্রকে ধ্বংস করবে এবং আন্তর্জাতিক আইনকে সুস্পষ্টভাবে লংঘন করবে।’ রাশিয়াও নেতানিয়াহুর পরিকল্পনার নিন্দা করেছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে যে, এই পদক্ষেপ-এই অঞ্চলে তীব্র উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং ইসরাইল ও এর আরব প্রতিবেশীদের মধ্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত শান্তি প্রতিষ্ঠার আশা ক্ষুণœ করতে পারে।’
মোটামুটি এটা লক্ষণীয় যে, নেতানিয়াহুর ঘোষণায় বিশ্ববাসীর মধ্যে বিরূপ এক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে, যদিও আমেরিকা নীরব রয়েছে। অবশ্য নেতানিয়াহু বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রস্তাবিত পরিকল্পনার পক্ষেই আছেন।
ঘটনা কোন দিকে মোড় নিতে পারে তা অনুমান করা অসম্ভব কিছু নয়। কারণ, বিশ্ব সম্প্রদায়ের তীব্র প্রতিবাদের মুখেও ইসরাইল জেরুজালেমে তার দেশের রাজধানী স্থানান্তর করেছে। শত ক্ষোভ-বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ উপেক্ষা করে গোলান মালভূমিকে ইসরাইল তার সার্বভৌমত্বের অধীনে নিয়েছে এবং ভবিষ্যতে জর্ডান ভ্যালী ও উত্তর মৃত সাগর পর্যন্তও ইসরাইলি সার্বভৌমত্ব সম্প্রসারিত ও প্রতিষ্ঠিত হবে বলে মনে করা যায়। আর যদি সি-অঞ্চল পর্যন্ত ইসরাইলের সীমানা ও সার্বভৌমত্ব সম্প্রসারিত হয়-তবে সেক্ষেত্রে স্বাধীন প্যালেস্টাইন রাষ্ট্রের প্রত্যাশিত সীমানা সংকুচিত হবে, অর্থনৈতিক ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূখন্ড থেকে বঞ্চিত হবে প্যালেস্টাইন জনগণ।
জর্ডান উপত্যকার ২৪০০ বর্গকিলোমিটার ভূমি যা প্রস্তাবিত স্বাধীন প্যালেস্টাইন রাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য, সেটা যদি ইসরাইল তার ভূখন্ডের সাথে সংযুক্ত করে নেয় তবে ‘ইসরাইলের সাথে স্বাক্ষরিত চুক্তি এবং এর ফলে প্রাপ্ত বাধ্যবাধকতা শেষ হয়ে যাবে’-বলেছেন প্যালেস্টাইন কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস।
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পার বাস্তবায়ন হলে ইসরাইলিরা পশ্চিম তীরে বেশির ভাগ ফিলিস্তিনি ভূমি অঞ্চলকে ঘিরে ফেলবে, ফলে সম্ভবত: দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের এত দিনের চেষ্টার কফিনে চূড়ান্ত পেরেক চালাবে ইসরাইল। সেক্ষেত্রে প্যালেস্টাইনী জনগণের ভবিষ্যত কী হতে পারে-এটা একটা প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে প্যালেস্টাইনীদের মধ্যে। যেমন-ফিলিস্তিন সাংবাদিক মি: কুত্তব বলেছেন তিনি এখনো ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ধারণাকে সমর্থন করেছেন, তবে তার সন্তানেরা আশা ছেড়ে দিয়েছে। ‘তারা বলে যে পশ্চিম তীরে এতগুলো বসতি স্থাপনের পরে রাষ্ট্র গঠনের কোনোও উপায় নেই।’ এর থেকে এটা বোঝা যাচ্ছে যে, ফিলিস্তিনি নতুন প্রজন্মের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে প্যালেস্টাইন রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা নিয়ে।
লেখক : আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষক।

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • শব্দের অত্যাচারে নিঃশব্দ ক্ষতি
  • এমন মৃত্যু কাম্য নয়
  • কোন সভ্যতায় আমরা!
  • দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ রোল মডেল
  • বৃক্ষ নিধন রোধে চাই জনসচেতনতা
  • আফ্রিকা-চীনের দ্বিতীয় মহাদেশ
  • শিশুরা নিরাপদ কোথায়?
  • অপেক্ষার অশেষ প্রহরগুলি
  • ঘুষ-জুয়া বন্ধে কঠোর হোন
  • মা ইলিশ রক্ষায় সচেতনতা বাড়াতে হবে
  • ছাত্ররাজনীতি হোক কল্যাণ ও বিকাশের
  • পার্বত্য অঞ্চল বিষয়ক গবেষক আতিকুর রহমান
  • শিশুহত্যা : শিশুদের মানসিক বিকাশের অন্তরায়
  • আওয়ামী লীগের সম্মেলন ও শুদ্ধি অভিযান প্রসঙ্গে
  • পৃথিবীর বিশাল ক্যানভাসে
  • শিক্ষাঙ্গনে দলীয় রাজনীতি
  • আমাদের সন্তানরা কোন্ পথে যাচ্ছে
  • ‘জঙ্গি’ অপবাদ প্রসঙ্গে
  • ভিক্ষুক ও হিজড়া পুনর্বাসন প্রসঙ্গে
  • মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষাই বদলে দেবে বাংলাদেশ
  • Developed by: Sparkle IT