সম্পাদকীয়

মহাসড়কে হালকা যান

প্রকাশিত হয়েছে: ২২-০৯-২০১৯ ইং ০১:২১:৫৪ | সংবাদটি ১০৬ বার পঠিত

মহাসড়কে তিন চাকার যান চলাচল বন্ধ হয়নি। বরং দিন দিন এর হার বাড়ছে, আর বাড়ছে দুর্ঘটনা। আদালতের রায় আর মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও থামেনি মহাসড়কে তিন চাকার যান চলাচল। সরকারের নির্দেশনার চার বছর পরও তা কার্যকর না হওয়ায় নিয়ে যেন কারও মাথাব্যথা নেই। বিশেষ করে হাইওয়ে পুলিশ এ ব্যাপারে প্রায় নির্বিকার। বরং পুলিশ ও পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে নির্দিষ্ট টাকার বিনিময়ে সৃষ্ট সমঝোতার মাধ্যমে তিন চাকার যান মহাসড়কে চলাচল করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মহাসড়কে দুর্ঘটনা রোধে অটোরিক্সা, টেম্পো, ব্যাটারিচালিত রিক্সা এবং অযান্ত্রিক যানসহ সব ধরণের তিন চাকার যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয় ২০১৫ সালের পয়লা আগস্ট। দেশের ২২টি মহাসড়কে এই নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়নি। অনেকের মতে এই নির্দেশ কার্যকর করা অনেকটাই দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। সব মিলিয়ে মহাসড়কের বিশৃংখলার কোন সুরাহা হচ্ছে না। সেই সঙ্গে দুর্ঘটনাও আসছেনা নিয়ন্ত্রণে।
সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত। এতে প্রাণহানি হচ্ছে অনেকের। দুর্ঘটনার জন্য অনেকগুলো কারণ চিহ্নিত করা হয়ে থাকে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সড়ক-মহাসড়কে স্বল্প পাল্লার হালকা যান চলাচল। তিন চাকার অটোরিক্সা, ইজিবাইক ইত্যাদি অধিক পরিমাণে অবৈধভাবে চলাচল করায় দুর্ঘটনা ঘটছে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। পাশাপাশি দূর পাল্লার বাস-ট্রাক গুলোর বেপরোয়া চলাচলও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। অর্থাৎ বড় যানগুলোর বেপরোয়া চলাচল এবং ছোট যানগুলোর ধীরলয়ে অনিয়ন্ত্রিত চলাচল সড়ক-মহাসড়কের দুর্ঘটনার হার বাড়িয়ে দিয়েছে। মূলত এই প্রেক্ষাপটেই দেশের ২২টি মহাসড়কে হালকা যান চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু সেই নির্দেশনা কার্যকর হচ্ছে না। পুলিশ ঘুষের বিনিময়ে এই সব যানকে মহাসড়কে চলাচলের সুযোগ করে দিচ্ছে। আর দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে অহরহ। জানা গেছে, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে দু’ হাজার আটশ’ সাতটি সড়ক দুর্ঘটনায় তিন হাজার ৭৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন পাঁচ হাজার সাতশ’। আর এইসব দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে মহাসড়কে তিন চাকার যান চলাচলকেই দায়ী করা হচ্ছে।
মহাসড়কে হালকা যান চলাচল বন্ধ হয়নি। এর একমাত্র কারণই যে পুলিশ ঘুষ খেয়ে এগুলোকে চলাচলের সুযোগ করে দিচ্ছে, তাই নয়। এটা তো আছেই, সেই সঙ্গে যাত্রীদের সুবিধা অসুবিধার বিষয়টিও মাথায় নিতে হবে। অনেক সময় দশ বিশ কিলোমিটার অর্থাৎ স্বল্প পাল্লার যাত্রীরা বাধ্য হয়ে অটোরিক্সায় ভ্রমণ করেন। কারণ এই দূরত্বে ভ্রমণে যাত্রীদের অনেক সময় দূর পাল্লার যানগুলোতে আরোহণ করতে দেয়া হয় না। সে হিসেবে যাত্রী চাহিদার কারণেই সড়ক মহাসড়কে হালকা যান চলাচল করছে এমনটি বললেও অত্যুক্তি হবেনা। তবে দুর্ঘটনা এড়াতে এইসব যানবাহনের মহাসড়কে চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। সেই সঙ্গে এগুলো চলাচলের বিকল্প পথ কিংবা মহাসড়কে বিকল্প লেন এর ব্যবস্থা করার প্রয়োজনীয়তা বেড়ে চলেছে দিন দিন।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT