সাহিত্য

চলে যাওয়া দিনগুলি

পৃথ্বীশ চক্রবর্তী প্রকাশিত হয়েছে: ২২-০৯-২০১৯ ইং ০১:৩৩:০৪ | সংবাদটি ৮৬ বার পঠিত

আজকে হয়তো গ্রামে আমাদের আছে একখান বাড়ি
আজও রয়েছে ছোট-বড় তাতে গাছ-পালা সারি সারি।
ঘর বানাতেই হয়তো সেসব ফেলে দিতে হবে কেটে
থাকবে না কোনো তরুসারি আর আমাদের এই গেটে।
হয়তো বা সারা বাড়িটাই জোরে বহুতল-ঘর হবে
আজকের এই পুরনো ঘরের চিহ্নই নাহি রবে।
এই যে দেখুন দালান ও কোঠা আমাদের আশে-পাশে
কিছুকাল ধরে উঠতেছে সব নবযুগ যেন গ্রাসে।
গল্পের ঢল নামে এখনও বাড়ির উঠোনে রাতে
স্থানাভাবে কাল আসর জমিয়ে গল্প হবে না তাতে।
বাড়ির পচিমে ঝোপ-ঝাড় ছিল জোনাকিয়া দিত আলো
জঙ্গল নেই জোনাকিও নেই মন নেই তাই ভালো।
বাড়ির পাশেই ছিল আমাদের খেলার বিরাট মাঠ
আজকে দেখুন ওইখানে বসে নবীগঞ্জের হাট।
গোপাটটা দিয়ে অতিথিরা ঠিক সোজা আসতেন বাড়ি
এখন বাড়িটি খোঁজেই পাননি কষ্টে পড়েন ভারী।
গোয়াল ভর্তি গরু-মোষ ছিল বছরখানেক আগে
ঘাসের অভাবে গরু-মোষ দাদা ভাটিতে দিয়েছে রাগে।
ভাড় ভরে মাছ রোজই আসতো জেলে ভাইদের দল
দুধ-দই-ছানা, কেউবা সবজি কেউবা আনতো ফল।
ঠাম্মা বলেন; আচানক লাগে শুনে সব আমাদের
মনের প্রশ্ন। নাগাল আমরা পেলুম না সে দিনের।
একশো টাকায় আজও মানুষ প্রতি সের দুধ খায়
চড়া দামে মাছ আজও বাজারে কিনতে পাওয়া যায়।
টাটকা সবজি, গাছ-পাকা ফল আজও আমরা পাই
আগামীতে পাবো কি-না এ নিয়েই সন্দেহে থাকি তাই।
দিন দিন দেশে এ জনসংখ্যা বাড়তেই আছে বেশ
সেই সাথে সাথে কৃষি জমিগুলো হতেছে দেখুন শেষ।
হয়তো একদা বাসের ঘরের পাওয়া যাবে না স্থান
না খেয়ে মরতে হবে ভেবে ভেবে ঘুরতেছে মাথাখান।
রসায়ণজাত সার ও বীজের অপপ্রয়োগ করে
বালাই নাশক, ফরমালিনের বিষেই যাচ্ছি মরে।
মামার বাড়ির শন ঘরে আমি ঘুমিয়েছি কতবার
বাঁশ-বেত দিয়ে শনঘর আজ চোখেই পড়ে না আর।
সবকিছু আজ গ্রাস করতেছে ইট, সিমেন্ট ও টিন
শন, বাঁশ, পাতা তাইতো আমরা ভুলিতেছি দিন দিন।
মেসেজ জানাই মোবাইল ফোনে চিঠি লেখা আজ বাদ
হাতের মুঠোতে পৃথিবীই নয় গ্রহ- মঙ্গল, চাঁদ।
প্রযুক্তি পেয়ে মনে ও শরীরে আলস্যে গেছে ভরে
মাথা খাটানোর সব কাজ আজ কম্পিউটারে করে।
আজ যা দেখছি আমি দেখবো কী আর সে সকল কাল?
হয়তো সেসব দেখব না, তৈরি হবে নব জঞ্জাল।
চলে যাইতেছে যেসকল দিন ভালোই এসব, তবে
আগামীতে এই দিনগুলি গুধু স্মৃতি হয়ে বেঁচে রবে।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT