শেষের পাতা

টিআইবির চিঠিতে বেক্সিমকোর প্রশংসা শুদ্ধাচারের প্রত্যাশা

প্রকাশিত হয়েছে: ২২-০৯-২০১৯ ইং ০২:৪৪:৩০ | সংবাদটি ৫৭ বার পঠিত


ডাক ডেস্ক : বেক্সিমকো গ্রুপের প্রতিবাদের পর ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) চেয়ারপারসন সুলতানা কামাল এক ফিরতি চিঠিতে দেশের অন্যতম বৃহৎ এই শিল্প গ্রুপের প্রশংসা করার পাশাপাশি শুদ্ধাচার চর্চার আহ্বান জানিয়েছেন। বেক্সিমকো চেয়ারম্যান সোহেল এফ রহমানকে পাঠানো ওই চিঠিতে সুলতানা কামাল লিখেছেন, “কারো প্রতি ব্যক্তিগত ইঙ্গিত করা টিআইবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তির উদ্দেশ্যের মধ্যে পড়ে না। পাশাপাশি আপনাকে এই বলে আশ্বস্ত করতে চাই যে, দেশের অর্থনীতিতে অন্য যে কোনো প্রথিতযশা প্রতিষ্ঠানের মত বেক্সিমকো গ্রুপের ইতিবাচক অবদান টিআইবি সব সময় যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করে।”
বেক্সিমকো গ্রুপের ৪৩০.০৫ কোটি টাকার ঋণ পুনঃতফসিলিকরণের আবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মতি দেওয়ার সিদ্ধান্তের একটি খবর গত ১৩ সেপ্টেম্বর এক প্রতিবেদনে প্রকাশ করে ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার। ওই খবরের প্রতিক্রিয়ায় টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান ওইদিনই একটি বিবৃতি দেন; সেখানে বলা হয় একদল ‘লুটেরা’ আইনপ্রণেতা হওয়ার সুযোগ পেয়ে গেছে। ওই বিবৃতির প্রতিবাদ জানিয়ে ১৫ সেপ্টেম্বর টিআইবি চেয়ারপারসন সুলতানা কামালকে একটি চিঠি দেওয়া হয় বেক্সিমকো চেয়ারম্যান সোহেল এফ রহমানের পক্ষ থেকে।
সেখানে বলা হয়, বেক্সিমকোর ভাইস চেয়ারম্যান সংসদ সদস্য সালমান ফজলুর রহমানকে ইংগিত করে টিআইবি যে বিবৃতি দিয়েছে তা ‘অবমাননাকর’।
সেই চিঠির জবাবে সুলতানা কামাল গত ১৬ সেপ্টেম্বর সোহেল এফ রহমানকে আরেকটি চিঠি পাঠান। সেখানে বলা হয়, “ব্যক্তিমালিকানাধীন খাতে শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেশের অর্থনীতিতে বেক্সিমকো লিমিটেডের অবদান অনস্বীকার্য। বিশেষ করে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে বেক্সিমকোর সক্রিয় ও বহুমুখী ভূমিকা যৌক্তিক কারণেই সর্বজনবিদিত।
“বেক্সিমকোর উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি ও এর মাধ্যমে দেশের টেকসই উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অবদান অব্যাহত থাকবে টিআইবি এই প্রত্যাশা করে। এইকভাবে, জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল এর অন্যতম ক্ষেত্র ব্যক্তিমালিকানাধীন খাতের নেতৃস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে বেক্সিমকোর ব্যবসায়িক মডেল ও চর্চা এ খাতে শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় অন্য ছোট-বড়ো সকল প্রতিষ্ঠানের জন্য অনুকরণীয় হবে, সেটাও আমাদের কাম্য।”
সুলতানা কামাল লিখেছেন, দেশের সার্বিক ব্যাংকিং খাতের সংকটাপন্ন অবস্থায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ‘প্রত্যাশিত ভূমিকার ঘাটতি’ নিয়ে টিআইবির উদ্বেগ প্রকাশ এবং এ সংকট সমাধানে ব্যাংকের ‘দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরত্ব আরোপ’ করাই ছিল ওই বিজ্ঞপ্তির উদ্দেশ্য।
“এক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বেক্সিমকো বা ব্যক্তিগতভাবে কোম্পানির সম্মানিত ভাইস-চেয়ারম্যান, এমপি মহোদয়ের উদ্দেশ্যে নেতিবাচক মন্তব্য করা টিআইবির নির্বাহী পরিচালক অথবা টিআইবির লক্ষ্য হওয়ার প্রশ্ন ওঠে না।”
টিআইবি চেয়ারপারসনের চিঠিতে বলা হয়, বেক্সিমকো গ্রুপের ঋণ পুনঃতফসিলিকরণের সম্ভাব্য সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যমে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, সে প্রেক্ষিতে টিআইবি বিশ্বাস করে যে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘নিজস্ব নীতিমালা ও সিদ্ধান্তের পরিপন্থি’ ওই সুবিধা দেওয়া হবে ‘আত্মঘাতীমূলক’।
“তাছাড়া, এর ফলে ধারাবাহিক উচ্চ প্রবৃদ্ধির বিপরীতে লক্ষাধিক কোটি টাকার খেলাপি ঋণের বোঝা ও ভয়াবহ তারল্য সংকট আরো ঘনীভূত হবার ঝুঁকি সৃষ্টি হবে। এই উদ্বেগ প্রকাশই ছিলো টিআইবির মুখ্য উদ্দেশ্য।”
সুলতানা কামাল লিখেছেন, “জনস্বার্থে নিয়োজিত অন্য সকল প্রতিষ্ঠানের ন্যায় বাংলাদেশ ব্যাংক যখন তার ন্য়িন্ত্রকের ভূমিকা যথাযথভাবে পালন করতে ব্যর্থ হবার মুখোমুখি হয়, তখন তার সমালোচনা করা এবং কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানানোকে টিআইবি নৈতিক কর্তব্য বলে মনে করে।”
চিঠিতে বলা হয়, খেলাপি ঋণকে ‘প্রাতিষ্ঠানিকিকরণমুখী’ করা এবং এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্পিত দায়িত্ব পালনে ‘ঘাটতির’ যে প্রেক্ষিত তৈরি হয়েছে, টিআইবি একটি স্বাধীন কমিশন গঠনের মাধ্যমে এই গুরতর অবস্থা থেকে উত্তরণের পন্থা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে।
“যার মাধ্যমে অতীব প্রয়োজনীয় স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার উদ্যোগ অপরিহার্য হয়ে পড়েছে বলে আমরা মনে করি এবং আমরা বিশ্বাস করি তার ফলে বেক্সিমকোর মতো ব্যক্তিমালিকানাধীন খাতের প্রতিষ্ঠানসহ সকল অংশীজনের মধ্যে ব্যাংকিং খাতের উপর চলমান আস্থার সংকট দূরীভুত হবার সুযোগ সৃষ্টি হবে।”
বিগত সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বিভিন্ন ব্যবসায়িক গ্রুপকে বিপুল অঙ্কের টাকা দিতে বাধ্য করার ঘটনা মনে করিয়ে দিয়ে বেক্সিমকো চেয়ারম্যান তার চিঠিতে প্রশ্ন করেছিলেন, সেই ‘অবৈধ চাঁদাবাজির’ সমালোচনা টিআইবি কখনও করেছে কি না।
এর উত্তরে টিআইবি চেয়ারপারসন লিখেছেন, “আপনার অবগতির জন্য সংক্ষেপে বলতে চাই, সরকারের দায়িত্বে অধিষ্ঠিত কর্তৃপক্ষের পরিচয় বা অবস্থানের ওপর নির্ভর করে টিআইবির কার্যক্রম কোনোভাবেই প্রভাবিত হয় না। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শাসনকালেও টিআইবি সুশাসনের পরিপন্থি কর্মকান্ড ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের নামে ক্ষমতার অপব্যবহারের বিভিন্ন পদপেক্ষপের সমালোচনা করতে পিছপা হয়নি, যে কারণে তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর বিরাগভাজন হতে হয়েছে টিআইবিকে।
এছাড়া সেসময় ‘সেনাবাহিনীর একাংশের দুর্নীতিসহ বহুমুখী বিতর্কিত কর্মকা- নিয়ে’ টিআইবি একটি ‘পূর্ণাঙ্গ গবেষণা প্রতিবেদন’ প্রকাশ করেছিল বলে চিঠিতে উল্লেখ করেছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সুলতানা কামাল।

শেয়ার করুন
শেষের পাতা এর আরো সংবাদ
  • ইতিহাসের সাক্ষী হাসান মার্কেটের শিরীষ গাছ
  • নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে স্থাপন হচ্ছে ডাকবাক্স
  • আগামী ১৫ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত দেশের কাতারে চলে যাবে ------আবুল মাল আবদুল মুহিত
  • বাংলাদেশিদের জন্য উন্মুক্ত সিশেলসের শ্রমবাজার
  • সম্মিলিত মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সিলেট জেলা আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন লাভ
  • ক্যাসিনো খালেদ- শামীমের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
  • রেজিস্ট্রারি মাঠে জেলা ও মহানগর বিএনপি’র প্রতিবাদ সমাবেশ কাল
  • আইনজীবী সহকারী মোবারক হত্যায় ১২ জনের মৃত্যুদন্ড
  • ভোলায় নিরীহ মুসল্লিদের উপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ ইতিহাসের ন্যক্কারজনক হত্যাকান্ড
  • এমপি মানিকের মায়ের সুস্থতা কামনায় ছাতকে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল
  • নবীগঞ্জে দুই ব্যক্তিকে গাছের সাথে বেঁধে নির্যাতন
  • কুলাউড়ায় বাসের ছাদ থেকে পড়ে চালক নিহত
  • গোলাপগঞ্জে ট্যাংক লরির চাপায় চালক নিহত
  • দক্ষিণ সুরমায় চলন্ত বাসে আগুন
  • কর্মীবান্ধব ও জনবান্ধব নেতাকে মূল্যায়ন করুন ............. বদর উদ্দিন আহমদ কামরান
  • জগন্নাথপুরে মাছ ধরা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০
  • এয়ারপোর্ট এলাকা থেকে মাদক ও গাড়িসহ আটক ৩
  • মৌলভীবাজারে দুর্ধর্ষ ছিনতাইকারী চক্রের ৬ সদস্য আটক
  • যোগাযোগ বিড়ম্বনায় দুর্ভোগে বালাগঞ্জ ওসমানীনগর উপজেলাবাসী
  • ৫০ শয্যা বিশিষ্ট মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তীব্র ঔষধ সংকট
  • Developed by: Sparkle IT