উপ সম্পাদকীয়

আত্মনির্ভরতা

রঞ্জিত কুমার দে প্রকাশিত হয়েছে: ২৩-০৯-২০১৯ ইং ০০:৪১:২৫ | সংবাদটি ৯৪ বার পঠিত

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন ঃ ‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চলরে।’
অন্যের উপর নির্ভর না করে নিজের কাজ নিজের বুদ্ধি, শ্রম প্রভৃতির সহায়তায় জীবন গঠনের চেষ্টাই হল আত্মনির্ভরতা। কর্ম মানুষের সৌভাগ্যের দেবতা। যারা অতি মাত্রায় অদৃষ্টবাদী ও দৈব শক্তিতে বিশ্বাসী, তারাই বেশি পরমুখাপেক্ষী হয়। প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই সুপ্ত থাকে শক্তির স্ফুলিঙ্গ। কর্মই মানুষের সৌভাগ্যের কারিগর। কর্মময় পৃথিবী মানুষকে নিয়মিত ডাকছে। যে মানুষ এই ডাক শুনতে পায়না সেই হয় অসহায়, ভীতু। ভাগ্যের হাতে যারা নিজেকে সঁপে দেয় তাদের কখনো উন্নতি হয় না। কারণ হাদিসে আছে-যে নিজেকে সাহায্য করেনা, আল্লাহ তাকে সাহায্য করেননা।’ ভাগ্য দেবতা অসহায়, কর্মবিমুখ মানুুুুষের সান্ত¦না। আত্মবিশ্বাসী মানুষই পায় জীবনে উন্নতির চাবিকাঠি। মানুষ যখন নিজের ভেতর খুঁজে পায় আত্মশক্তির সন্ধান তখনি সে উপলব্দি করে তার সম্ভাবনার কথা। ফলে তার হয় নবজন্ম। নিজের শক্তি সম্পর্কে তখন তার বিস্ময়ের অন্ত থাকে না।
শ্রমের মর্যাদাবোধের সঙ্গে আছে আত্মশক্তির নিবিড় সম্পর্ক। কোন কাজই তুচ্ছ বা নিন্দনীয় নয়। দৈহিক শ্রমের কাজ কখনও অবজ্ঞায় উপেক্ষিত হতে পারেনা। অথচ অনেকেই দৈহিক শ্রমমূলক কাজকে হীন বলে গণ্য করে। আত্মশক্তির বিকাশই স্বনির্ভরের বিকাশ। নিজের কাজ নিজে করার মধ্যে কোন লজ্জা নেই। এই উপলব্দি থাকতে হবে। সভ্যতার প্রাথমিক পর্যায়ে যখন সমাজ বিকাশ দাস শ্রমের উপর নির্ভর করত তখন শ্রমের কোন মর্যাদা ছিল না। শ্রমের উপরই নির্ভর করে সভ্যতার বিকাশ। কর্মশক্তির অভাব অনেক সময় স্বনির্ভরতার পথে বাঁধা। অনভ্যাসে শ্রমশক্তি হ্রাস পায়, পরমুখাপেক্ষিতা বৃদ্ধি পায়।
জগতে যাঁরাই বরণীয় বা স্মরণীয় হয়ে আছেন তাঁদেরই চরিত্রে আত্মনির্ভরতার কথা রয়েছে। হজরত মুহাম্মদ (স:) এর ব্যক্তি জীবন পর্যালোচনা করলে দেখা যায় তাঁর সারাজীবনের ইতিহাসেই রয়েছে স্বনির্ভরতার কথা। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ব্যক্তি জীবনে স্বাবলম্বনের কথা রয়েছে। মুক্ত পথিক নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু নিজের চেষ্টায় এক বিরাট সৈন্যবাহিনী গড়ে তুলে সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশ শক্তির হৃদকম্পন জাগিয়ে তুলেছিলেন। নিউটন নিজেই বলেছেন, ‘আমার জীবনের সার্থকতার ৮০ ভাগই ছিল প্রচেষ্টার জন্য এবং ২০ ভাগ প্রতিভা। এভাবে জগতের স্মরণীয় বরণীয়দের জীবনের দিকে তাকালে আত্মনির্ভরতার মূল্য বুঝা যায়।
ছাত্রজীবনই হল স্বনির্ভর শক্তি অর্জনের যথার্থ সময়। আত্মনির্ভরতাই ছাত্র জীবনে সাফল্যের সোপান। পরনির্ভরশীল হলে কখনও স্বাধীন চিন্তা শক্তির বিকাশ লাভ হয় না। ছাত্র জীবনেই প্রয়োজন স্বাবলম্বী শক্তির অনুশীলন। মানুষ জীবনের শুরুতে যে দুর্লভ গুণাবলী অর্জন করে পরবর্তী জীবনে তা তার পাথেয় হয়। প্রথম থেকেই উপলব্ধি করতে হবে যে, সে মানুষ তার মাঝে আছে অসীম ও অনন্ত সম্ভাবনা। স্বাবলম্বন সেই সুস্থ শক্তিরই জাগরণমন্ত্র।
শুধু ব্যক্তি জীবনেই নয়, সমাজজীবনে, বৃহত্তর জাতীয় জীবনেও আত্মনির্ভরতা এক মহান প্রচেষ্টা। এই প্রচেষ্টা যে জাতির জীবনে সত্য হয়ে উঠে সেই জাতিই সমৃদ্ধি লাভ করে। স্বনির্ভরতাই পারে সমাজজীবনে সফলতা ও সমৃদ্ধি বয়ে আনতে।
কর্মেই আছে মানুষের সফলতার চাবিকাঠি। আর কর্মের ভিত্তি হল স্বাবলম্বন। আত্মশক্তির উপলব্ধিই মানুষের আত্মজাগরণ। স্বাবলম্বী মানুষ কখনও পরমুখাপেক্ষী হয় না। অপরের অনুগ্রহ, করুণাকে সে ঘৃণা করে। স্বাবলম্বী মানুষ প্রতিবন্ধকতা দূর করতে পারে। ফলে সে যেমন ব্যক্তি জীবনে সফলতা পায়, তেমনি জাতীয় জীবনেও রাখতে পারে সাফল্যের অবদান।
লেখক : অব: শিক্ষক

 

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • শব্দের অত্যাচারে নিঃশব্দ ক্ষতি
  • এমন মৃত্যু কাম্য নয়
  • কোন সভ্যতায় আমরা!
  • দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ রোল মডেল
  • বৃক্ষ নিধন রোধে চাই জনসচেতনতা
  • আফ্রিকা-চীনের দ্বিতীয় মহাদেশ
  • শিশুরা নিরাপদ কোথায়?
  • অপেক্ষার অশেষ প্রহরগুলি
  • ঘুষ-জুয়া বন্ধে কঠোর হোন
  • মা ইলিশ রক্ষায় সচেতনতা বাড়াতে হবে
  • ছাত্ররাজনীতি হোক কল্যাণ ও বিকাশের
  • পার্বত্য অঞ্চল বিষয়ক গবেষক আতিকুর রহমান
  • শিশুহত্যা : শিশুদের মানসিক বিকাশের অন্তরায়
  • আওয়ামী লীগের সম্মেলন ও শুদ্ধি অভিযান প্রসঙ্গে
  • পৃথিবীর বিশাল ক্যানভাসে
  • শিক্ষাঙ্গনে দলীয় রাজনীতি
  • আমাদের সন্তানরা কোন্ পথে যাচ্ছে
  • ‘জঙ্গি’ অপবাদ প্রসঙ্গে
  • ভিক্ষুক ও হিজড়া পুনর্বাসন প্রসঙ্গে
  • মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষাই বদলে দেবে বাংলাদেশ
  • Developed by: Sparkle IT