সম্পাদকীয় শিল্পবাণিজ্যের উন্নতি না করিতে পারিলে জাতির পতন যেমন অবশ্যম্ভাবী, সত্যের ওপর ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত না করিলে বাণিজ্যের পতনও তেমনি অবশ্যম্ভাবী। -কাজী নজরুল ইসলাম

পুলিশের অপরাধ প্রসঙ্গে

প্রকাশিত হয়েছে: ২৩-০৯-২০১৯ ইং ০০:৪৩:৩৮ | সংবাদটি ১২৬ বার পঠিত

অপরাধে পুলিশ; অর্থাৎ আইনের মানুষের বেআইনী কাজ। ব্যাপারটি নতুন কিছু নয়। পুলিশের নানাধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঘটনা বাড়ছে দিন দিন। আর এইসব অপরাধীর উপযুক্ত সাজা হচ্ছে না। আবার অনেকে থেকে যাচ্ছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, বিগত এক বছরে সারা দেশে ১৪ হাজার দু’শ ৪৯ জন পুলিশ সদস্য দুর্নীতিসহ নানা অপরাধে জড়িত থাকার তথ্য পেয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। তদন্তে এইসব অভিযোগের সত্যতাও পাওয়া গেছে। আর এই অভিযুক্তদের বেশির ভাগই যথাযথ সাজার আওতায় আসেনি। বেতন-ভাতাসহ আনুষঙ্গিক সুযোগ সুবিধা বাড়ানোর পরও আইন শৃৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত বাহিনীর সদস্যদের এভাবে একের পর এক দুর্নীতি-অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঘটনায় পুলিশ সদর দপ্তরও বিব্রত। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থা দিন দিন লোপ পাচ্ছে।
পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে নানা ধরনের। একজন বিচারপ্রার্থী কোন অভিযোগ নিয়ে পুলিশের শরণাপন্ন হলে তখনই তিনি হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করতে সক্ষম হন যে হয়রানি কাকে বলে! পুলিশ নিরীহ মানুষদের নানাভাবে হয়রানি করে। মামলার এফআইআর গ্রহণ থেকে শুরু করে তদন্ত, আসামী আটক, চার্জশীট প্রদান ইত্যাদি সব ক্ষেত্রেই হয়রানি করা হয় বাদীকে। অনেক সময় আসামীর সঙ্গে গোপনে আঁতাত করে মোটা অংকের ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে আসামীকে ছেড়ে দেয়। অপরদিকে বাদীর কাছ থেকেও ঘুষ নেয় আসামীকে ধরার কথা বলে। পুলিশের দ্বারা নিরপরাধ ব্যক্তিদের হয়রানী করার ঘটনা ঘটছে অহরহ। থানা হাজতে পুলিশের নির্যাতনে আটক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। অনেক সময় ছিনতাইকারী ধরার পরিবর্তে পুলিশ নিজেই ছিনতাইকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য মতে, প্রতি বছরই দুর্নীতিসহ নানা অপরাধে পুলিশের অনেক সদস্য অভিযুক্ত হচ্ছেন। পুলিশের কনস্টেবল থেকে শুরু করে ডিআইজি পর্যন্ত নানামুখী দুর্নীতি, অনিয়মসহ অন্যান্য অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঘটনা প্রতিনিয়ত বেড়ে চলেছে।
সবচেয়ে দুঃখজনক ব্যাপার হলো, পুলিশের যতোসব অপরাধ-অপকর্ম, তার সুষ্ঠু তদন্ত হয় না, উপযুক্ত সাজা হয় না। এর কারণ হচ্ছে, পুলিশের অপরাধের তদন্ত করে পুলিশ। তাই স্বাভাবিকভাবেই একজন পুলিশ আরেকজন পুলিশকে যথাসম্ভব বাঁচাতেই চাইবে। তাছাড়া, তদন্তকারী কর্মকর্তাকেও ঘুষ দিয়ে কিনতে পারবে না অভিযুক্ত পুলিশ, তার নিশ্চয়তা নেই। পুলিশের সব ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করার ঘোষণা। দিয়েছে সরকার। শুধু পুলিশ নয়, দেশের প্রায় সব সরকারি দপ্তরে ঘুষ, দুর্নীতি, লুটপাটের রাজত্ব চলছে; আর এসবের ব্যাপারেও সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। আসল কথা হলো, যেসব সরকারি চাকরিজীবির রক্তে মিশে গেছে ঘুষ, দুর্নীতি, চুরি, বাটপারী তাদের বেতন-ভাতা বাড়ালেই বা কী আসে যায়? এই বেতন তো তাদের কাছে ‘মামুলি বিষয়’ তাদের মূল আয় তো ওই ঘুষ, দুর্নীতি, লুটপাটের টাকা। অপরাধী পুলিশসহ সব দুর্নীতিবাজের বিরুদ্ধে দরকার কঠোর অভিযান।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT