শেষের পাতা

বদলে গেছে ঢাকা দক্ষিণ বাজারের ভাদেশ্বর রোড

ইউনুছ চৌধুরী প্রকাশিত হয়েছে: ২৩-০৯-২০১৯ ইং ০২:০১:২১ | সংবাদটি ১০১১ বার পঠিত
Image

সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকাদক্ষিণ বাজারের ভাদেশ^র রোড বদলে গেছে। এক সময় রাস্তার এ অংশ ছিল খানাখন্দে ভরা। বর্ষায় রাস্তাটি কাঁদা-জলে একাকার হয়ে যেতো। মেরামত করার পরও কিছুদিনের মধ্যেই গর্তে পরিণত হতো। এবার কংক্রিটের ঢালাই দিয়ে রাস্তাটি পাকাকরণ করা হয়েছে। ফলে রাস্তার এই অংশ এখন পানি-জল ও খানা-খন্দক মুক্ত। স্বাচ্ছ্যন্দে চলাচল করতে পারছেন বাজারের ব্যবসায়ী-ক্রেতা ও সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে ঢাকাদক্ষিণ সরকারি কলেজসহ আশপাশের স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের চলাচলে ভোগান্তি কমেছে। তবে সড়কের পাশে ফুটপাত না থাকায় পথচারীদের চলাচলে এখনো কষ্ট করতে হচ্ছে জানিয়ে ফুটপাতের ব্যবস্থা করার আহবান জানান হাজারো শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা।
জানা যায়, ঐতিহ্যবাহী ঢাকাদক্ষিণ বাজারের ভাদেশ^র রোড সব সময় ভাঙ্গা থাকতো। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকা এবং দুই পাশের উচু টিলা থেকে নেমে আসা পানিতে পিচ ও পাথর উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছিল। বার বার মেরামত করা হলেও কিছুদিনের মধ্যেই ভেঙ্গে যেতো সড়কটি। বাজার সংলগ্ন ঢাকাদক্ষিণ সরকারি কলেজে যাওয়ার পথে সড়কের অবস্থা ছিল আরো মারাত্মক। দুই পাশের পানি এসে নামতো সড়ক দিয়ে। তার উপর দিয়ে গাড়ি চলাচল করায় সৃষ্টি হয় বড় বড় গর্ত। সেই গর্তে গাড়ি পড়লে উল্টে যাওয়ার উপক্রম হতো। কখনো কখনো এসব গর্তে আটকা পড়তো গাড়ি। সড়কের বেহাল দশার কথা মনে করে সিএনজি চালক রোমান আহমদ বলেন, এই সড়কে তখন যেতেও মন চাইতো না। বড় বড় গর্তে হেলেদুলে চলতো গাড়ি। যাত্রীদের যেমন কষ্ট হতো গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হতো। পানিপূর্ণ বিরাট গর্তে হাঁসের দলকে জলকেলি করতেও দেখা যেতো মাঝে মধ্যে।
অপরদিকে, খানা-খন্দে ভরা সড়কে যাত্রী সাধারণের যাত্রা সেময় সুখকর ছিল না তেমনি স্থানীয় পথচারীদের অবস্থাও হতো সঙ্গিন। ভাঙ্গাচোরা সড়কে রিকশাও যেতে চাইতো না সব সময়। ফলে জনসাধারণ ও শিক্ষার্থীদের পায়ে হেঁটে যাওয়া আসা অথবা রিকশার জন্য অতিরিক্ত টাকা গুনতে হতো। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়তেন ঢাকা দক্ষিণ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা জানান, আগে সড়ক দিয়ে কলেজে যেতে নানা কসরত করতে হতো। বিশেষ করে বর্ষায় ‘গুনে গুনে পা ফেললেও’ কাদা না লাগিয়ে কোন ভাবেই যাওয়া যেতো না। চলাচলের সময় কখনো গাড়ি চলে আসলে লাফ দিয়ে সরতে হতো সড়কের পাশে, আবার কখনো হাতের ইশারায় গাড়িকে থামাতে হতো আমাদের না সরা পর্যন্ত।
এ বছর সড়কটি কংক্রিটের ঢালাই হওয়ায় এখন এসব দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ স্থানীয়রা। সম্প্রতি বর্ষা গেলেও কাঁদা জল মুক্ত ছিল সড়কটি।
ঢাকাদক্ষিণ সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক এমএ রহিম বলেন, দীর্ঘদিন সড়কের এই অংশ ভাঙ্গাচোরা ছিল। একাধিকবার সংস্কার করা হলেও কিছুদিন পরেই তা আগের অবস্থায় চলে আসতো। ফলে স্থানীয়দের সাথে দুর্ভোগে পড়তেন কলেজের সাড়ে ৪ হাজার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। এখন নতুন করে কংক্রিটের ঢালাই হওয়ায় কাদা-জল থেকে মুক্তি মিলেছে। এজন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান।
‘আগে বিটুমিন দিয়ে সড়কটি সংস্কার করা হলেও বর্ষা এলেই পিচ ও পাথর উঠে গিয়ে খানাখন্দে পরিণত হতো। ফলে বাজারের ব্যবসায়ী, ক্রেতাসহ সাধারণ মানুষ সকলেই দুর্ভোগের শিকার হতেন। বর্তমানে সড়কটি কংক্রিটের ঢালাই করায় মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হয়েছে।’ জানালেন ঢাকাদিক্ষণ বাজার বণিক সমিতির সভাপতি বদরুল ইসলাম জামাল। সড়কটি সংস্কার হওয়ায় সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
সড়কটির নতুন অবস্থায় ব্যবসায়ীরা আনন্দিত জানিয়ে বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী দুলাল সেন বলেন, বাজারের এই অংশ প্রায় সময়ই ভাঙ্গা থাকতো। ঢালাই হওয়ায় এখন আর তা হবে না। লাগাতার দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেয়েছেন সকলে। কথা হয় এলাকার তরুণ সমাজকর্মী হোসেন আহমদের সাথে। তিনি বলেন, ঢাকাদক্ষিণ বাজার এই অঞ্চলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বৃহৎ বাজার। এছাড়া এই সড়কে ঢাকাদক্ষিণ সরকারি কলেজ ছাড়াও অতি সন্নিকটে অবস্থিত ঢাকাদক্ষিণ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, ঢাকাদক্ষিণ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজসহ ৪/৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা চলাচল করে। তাই সড়কটির উন্নয়ন সকলের জন্য অত্যন্ত উপকারী হয়েছে। সড়কের যেসব স্থান ভঙ্গুর সেসব স্থান কংক্রিটের ঢালাই করা সরকারের একটি ফলপ্রসূ সিদ্ধান্ত।
গোলাপগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট ইকবাল আহমদ চৌধুরী বলেন, জনস্বার্থে সড়কটির গুরুত্ব অপরিসীম। শুধু ঢাকা দক্ষিণই নয়, ভাদেশ^র, বাদেপাশা, শরিফগঞ্জসহ ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার বিপুল সংখ্যক মানুষ এই সড়কটি দিয়ে চলাচল করে থাকেন। সড়কের এই অংশ প্রায় সময়ই ভাঙ্গা থাকায় সকলকে ভোগান্তির শিকার হতে হতো। এখন ঢালাই হওয়ায় জনসাধারণ ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেয়েছেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার একটি জনবান্ধব সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সারা দেশের ন্যায় গোলপগঞ্জের ঢাকাদক্ষিণের উন্নয়নে আমরা বদ্ধপরিকর। ইতিমধ্যে ঢাকাদক্ষিণের কাকেশ^রী নদীর পনির প্রবাহ বৃদ্ধির জন্য খনন কাজে উপজেলা পরিষদ থেকে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। জনগণের জন্য যা মঙ্গলজনক তার সবই করা হবে।

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

শেষের পাতা এর আরো সংবাদ
  • জিয়া্উর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে দক্ষিণ সুরমায় খাবার বিতরণ
  • তিলপাড়া ইউনিয়নে বিয়ানীবাজার থানা জনকল্যাণ সমিতি ইউকে’র আর্থিক সহায়তা প্রদান
  • জগন্নাথপুরে নলজুর সেতুর সংযোগ সড়ক উদ্বোধন
  • বিয়ানীবাজারের ৪ ইউনিয়নে থানা জনকল্যাণ সমিতি ইউকের আর্থিক সহায়তা প্রদান
  • যুক্তরাজ্য বিএনপির উদ্যোগে পূর্ব লন্ডনের নিউহ্যাম হসপিটালের এনএইচএস ষ্টাফদের জন্য খাদ্য বিতরণ
  • সিলেটে ৮৫০ পরিবারকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করেছে দক্ষিণ সুরমা সমাজ কল্যাণ সমিতি
  • ওয়ার্ল্ড বিডি হিউম্যান হেল্প এসোসিয়েশনের কমিটি গঠিত
  • রাধাকান্ত দেবনাথের শ্রাদ্ধানুষ্ঠান আজ
  • ব্যবসায়ী গৌসুল আলম গেদু’র ব্যক্তিগত উদ্যোগে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ
  • মাধবপুরের আবাবিল সোসাইটির ত্রাণ বিতরণ
  • করোনায় অসহায় ১৮১ পরিবারের পাশে প্রজন্ম প্রত্যাশা
  • হাতিম চৌধুরী ইসলামিয়া হাফিজিয়া দাখিল মাদ্রাসার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ
  • শাল্লায় কমিউনিস্ট পার্টির হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ
  • আরও একশ পরিবারে খাদ্য সামগ্রী পৌছে দিল বন্ধন সমাজ কল্যাণ যুব সংঘ
  • অসহায় পরিবারদের উপহার সামগ্রী দিল সিলেট জেলা ছাত্রলীগ
  • মাধবপুরে সুরমা চা বাগানে ত্রাণ বিতরণ
  • সিলেটে ১শ’ পরিবারের ১মাসের ভরণপোষণের দায়িত্ব নিলেন ব্যবসায়ী গৌসুল আলম
  • রোটারী ক্লাব অব গ্র্যান্ড সিলেট-এর ত্রাণ সহায়তা পেল নগরীর শতাধিক পরিবার
  • সিলেটে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের পাশে বৃটেনের ইষ্টহ্যান্ড
  • কোম্পানীগঞ্জে ঠিকাদার ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ
  • Image

    Developed by:Sparkle IT