সম্পাদকীয়

কৃষি যান্ত্রিকীকরণ

প্রকাশিত হয়েছে: ২৪-০৯-২০১৯ ইং ০১:৩৯:২৯ | সংবাদটি ১৩৪ বার পঠিত


কৃষিতে বিপ্লব সাধিত হয়েছে বাংলাদেশে। এটি এখন সবার জানা। খাদ্যশস্য উৎপাদনে ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জিত হয়েছে। ধানের নতুন নতুন জাত উদ্ভাবিত হওয়ায় কৃষি জমি ক্রমাগত সংকোচিত হওয়া সত্ত্বেও ফসল উৎপাদন বেড়ে চলেছে। এখন দেশে বার্ষিক খাদ্য শস্যের উৎপাদন সাড়ে তিন কোটি মেট্রিকটনের বেশি। এই উৎপাদন বার্ষিক চার কোটি মেট্রিকটন এ পৌঁছানোর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সরকারের। এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপ এবং কৃষি বিজ্ঞানী ও কৃষকদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা। কৃষি উৎপাদনে এই সাফল্যকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কৃষিকে যান্ত্রিকীকরণের কাজ চলছে। এক্ষেত্রে অনেকটাই এগিয়ে গেছে সরকার। আশা করা হচ্ছে, এই উদ্যোগের ফলে শ্রমিক সংকটজনিত সমস্যা দূর হবে এবং ফসল উৎপাদনের ব্যয় কমে আসবে।
একটি জাতীয় দৈনিকে সম্প্রতি প্রকাশিত খবরে বলা হয়, আসন্ন বোরো মওসুমেই কৃষি যান্ত্রিকীকরণের নতুন যুগে প্রবেশ করছে বাংলাদেশ। তার আগে চলমান আমন মওসুমের ধান কাটার মধ্যদিয়ে এই যান্ত্রিকীকরণের প্রাথমিক কাজ শুরু হবে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে, আগামী চার বছরের মধ্যেই দেশের প্রচলিত পদ্ধতির কৃষিকে যন্ত্র নির্ভর কৃষিতে পরিণত করা। খবরে বলা হয়, সেচ এবং জমি তৈরির ক্ষেত্রে বাংলাদেশে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রায় শতভাগ কাছাকাছি চলে গেলেও চারা রোপণ (ট্রান্সপ্লান্ট) এবং ধান কাটা (হার্বেস্টিং) যান্ত্রিকীকরণে বাংলাদেশ এখনও অনেক পিছিয়ে। এই দুই ক্ষেত্রে যান্ত্রিকীকরণে জোর দিয়েছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় এ বছর ভর্তুকি মূল্যে কৃষকদের পাঁচ হাজার তিন শ’ যন্ত্র দেয়া হবে। চারা রোপণ এবং ধান কাটায় এইসব যন্ত্র ক্রয়ে কৃষকদের সরাসরি ৬০ শতাংশ ভর্তুকি দেবে সরকার। এতে সরকারের ব্যয় হবে চারশ’ ১৫ কোটি টাকা। আসন্ন বোরো মওসুমেই এসব যন্ত্র পৌঁছবে কৃষকদের ঘরে। চারা রোপণ ও ধান কাটার যন্ত্র ব্যবহার নিশ্চিত হলে দেশের কৃষি শতভাগ যান্ত্রিকীকরণের আওতায় চলে আসবে।
কৃষি উৎপাদনে এই অগ্রগতিকে টেকসই রূপ দিতে হবে। কৃষির সাফল্যের প্রধান কৃতিত্ব কৃষকদের। এদেরকে বাঁচাতে হবে। আর এই কৃষকদের মেরুদ- যাতে বাঁকা না হয়, সে জন্য উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে। বিগত আমন মওসুমসহ প্রায় প্রতিটি মওসুমেই ফসলের ন্যায্যমূল্য পাননি বলে কৃষকেরা অভিযোগ করেন। এর জন্য দায়ী মূলত নানা কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়া; তার সঙ্গে রয়েছে চড়া মূল্যে ধান কাটার শ্রমিক নিয়োগ করা। যন্ত্রের ব্যবহারের মাধ্যমে এই সংকট থেকে উত্তরণ ঘটানো সম্ভব বলে আশাবাদী সরকার। এই উদ্যোগ সফল করতে দরকার কৃষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এবং সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতা।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT