মহিলা সমাজ

সকালে খালি পায়ে

মোছা. রুনা আমিন প্রকাশিত হয়েছে: ২৪-০৯-২০১৯ ইং ০১:৪২:৫৭ | সংবাদটি ১৪২ বার পঠিত

মুন্না, মুন্না ওঠো বেটা। তাড়াতাড়ি ওঠো। দেরি হয়ে যাচ্ছে, স্কুলে যেতে হবে। এই বলে মুন্নার বাবা প্রতিদিন ছেলেকে স্কুলে ডেকে নিয়ে যান। আজও ডাকছেন।
কেন বাবা? ঘুমের ঘুরে মুন্না জবাব দেয়। আজ তো ছুটির দিন। মা-তো রাতে বললেন আজ স্কুল বন্ধ থাকবে। হ্যাঁ, আজ তো স্কুল বন্ধই। তারপরও যে যেতে হবে বাবা। বাবা উত্তর দিলেন।
কেন বাবা? মুন্না আবার জিজ্ঞেস করে।
বাবা বললেন, আজ একুশে ফেব্রুয়ারি। একুশে ফেব্রুয়ারিতে সকাল সকাল উঠে স্কুলে যেতে হয়। একুশে ফেব্রুয়ারি সেটা কি? এই বলে মুন্না লাফ দিয়ে বিছানা থেকে ওঠে। বাবা বললেন একুশে ফেব্রুয়ারি হচ্ছে আমাদের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। এই দিনে আমাদের বাংলা ভাষা রক্ষার জন্য অনেকে জীবন দিয়েছেন। আর তাই আমরা এই দিনে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি।
মুন্না বলে কই বাবা? আগে তো আমি কখনও যাইনি। বাবা উত্তর দেন আগে তুমি ছোট ছিলে তো, তাই যাওনি। এই জানুয়ারি থেকে তুমি স্কুলে ভর্তি হয়েছো তাই এখন থেকে তোমাকে দেশ, দেশের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে হবে। এই বলে বাবা একটি সুন্দর ফুলের তোড়া সামনে নিয়ে আসলেন। ফুল দেখে মুন্না আবার প্রশ্ন করে, বাবা ফুল কেন? ফুল দিয়ে কী হবে? বাবা বলেন, এই ফুলই তো তুমি তোমার স্কুলের শহীদ মিনারে দিবে। বাচ্চাদের কৌতুহলের শেষ নেই। তাই ছেলেও আবার কৌতুহল নিয়ে জিজ্ঞাসা করে শহীদ মিনারে আমরা কাকে ফুল দেব বাবা? বাবা উত্তর দিলেন সালাম, রফিক, শফিক, জব্বার, বরকত আরও নাম না জানা অনেকে, যারা আমাদের মায়ের ভাষা, মুখের ভাষা বাংলাকে রক্ষা করতে নিজের জীবন ত্যাগ করেছেন। এই বলে বাবা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করো বাবা, বেরিয়ে পড়তে হবে। দেরি হয়ে যাচ্ছে যে।
মুন্না বাবার কথা শুনে এক দৌড়ে গিয়ে ব্রাশ করে রেডি হয়ে আসলো। মা নাস্তা নিয়ে আসলেন। মুন্না বললো না মা এখন নাস্তা খাবো না। বাবা, মা দু’জনই একসাথে বলে উঠলেন কেন বাবা? এখন নাস্তা খাবে না কেন?
মুন্না বললো, বাবা আমরা আগে শহীদ মিনারে ফুল দেবো তারপর এসে খাবো। বাবা বললেন, বেশ তাহলে চলো আগে ফুল দিতেই যাই। এই বলে বের হবেন, তখন বাবা আবার বলে ওঠলেন, মুন্না বাবা তুমি জুতো পরেছো কেন? জুতো রেখে আসো। এই তো দেখ আমিও জুতো নেই নি, খালি পায়ে যাচ্ছি। মুন্না আবার বলে কেন বাবা? এই শীতের মধ্যে জুতো নেবো না কেন? তুমি না আমাকে জুতো না পরলে ধমক দাও, বলো জুতো খুলবে না, পায়ে ময়লা লাগবে, পা কেটে যাবে আরো কতো কী। আজ না করছো কেন?
বাবা তখন বললেন আমরা যখন শহীদ মিনারে ফুল দিতে ওঠি তখন শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে খালি পায়ে ওঠে ফুল দেই। বাবা আরও বললেন, শুধু আজকে ফুল দিতে নয়। যখনই কোনো কারণে শহীদ মিনারে ওঠবে তখনই জুতো খুলে উঠতে হবে। শহীদ মিনারে কখনও জুতো নিয়ে ওঠা যাবে না। মুন্না তখন বলে তাহলে তো বাবা আমরা শুধু ওখানে গিয়ে জুতো খুললেই হয়। তাহলে এখনই খুলে যাব কেন? বাবা বললেন, হ্যাঁ তা হয়। কিন্তু আমরা তো প্রতিদিনই জুতো পায়ে চলি। এই একটা দিন না হয় আমরা বাসা থেকেই শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে জানাতে খালি পায়ে শহীদ মিনারে পৌঁছলাম। এই কথা শুনে মুন্না ঘরে গিয়ে জুতো রেখে আসলো আর বললো চলো বাবা আমরা আজ খালি পায়েই যাবো। এই বলে বাপ ছেলে দু’জনই সকালে খালি পায়ে শহীদ মিনারের উদ্দেশ্যে হাঁটতে লাগলেন।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT