সম্পাদকীয়

তামাক নিয়ন্ত্রণ নীতি

প্রকাশিত হয়েছে: ২৬-০৯-২০১৯ ইং ০০:৫৫:২৮ | সংবাদটি ১৪১ বার পঠিত

তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রণীত হচ্ছে জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ নীতি ২০১৯। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্প্রতি এর খসড়া তৈরি করেছে। এই খসড়ায় বৃটিশ আমেরিকান টোবাকো কোম্পানী থেকে সরকারের অংশীদারীত্ব প্রত্যাহার করাসহ তামাকখাতে সরকারের কোন বিনিয়োগ না থাকার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে এই খাতে সব ধরনের সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে সরকারের এই উদ্যোগের বিরোধীতা করছে বাংলাদেশ সিগারেট ম্যানুফ্যাকচার্স এসোসিয়েশন। তারা বলেছে তামাক উৎপাদন ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িত যেকোন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে সরকারের সব ধরনের অংশীদারীত্ব, বিনিয়োগ ও প্রতিনিধিত্ব সুনিশ্চিত করা উচিত। তারা বলেন, এখাতে বৈদেশিক বিনিয়োগ বন্ধ করা হলে দেশের অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়বে। আর সরকারের বক্তব্য হচ্ছে-তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে অবশ্যই তামাক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তামাক কোম্পানিগুলো তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থে নানা প্রস্তাব দিতেই পারে; কিন্তু সরকার তার অভীষ্ট লক্ষে এগিয়ে যাবে।
তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। মূলত এর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০৪০ সাল। সেই লক্ষ অর্জনের জন্য নানা ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হচ্ছে জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ নীতি। সম্প্রতি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এই খসড়াটির অনুমোদন দেয়া হয়। এখন এটি মন্ত্রীসভা অনুমোদনের পর কার্যকর করা হবে। উল্লেখ করা যেতে পারে, বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারকারীর সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলেছে। একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার জরিপের তথ্য হচ্ছে-২০১৭ সালে বাংলাদেশে ৩৫ দশমিক তিন শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক তামাক সেবন করে। সেই হিসেবে দেশে তামাক ব্যবহারকারীর সংখ্যা তিন কোটি ৭৮ লাখ। এর মধ্যে এক কোটি ৯২ লাখ ধূমপানের মাধ্যমে এবং দুই কোটি ২৮ লাখ ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহার করে। আর ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে তামাক ব্যবহারের অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ ৩০ হাজার পাঁচ শ’ ৬০ কোটি টাকা। যা এখাত থেকে ওই বছরের রাজস্ব আয়ের বেশি। এই অর্থ বছর তামাক থেকে রাজস্ব আয়ের পরিমাণ ছিলো ২২ হাজার আটশ দশ কোটি টাকা। তাছাড়া, দেশের বিভিন্ন স্থানে বিপুল পরিমাণ জমিতে চাষ হচ্ছে তামাক। জানা গেছে, কমপক্ষে ৪২ হাজার হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হচ্ছে। ফলে এই জমির উর্বরতা শক্তি কমে যাচ্ছে এবং এই জমিতে আর ফসল চাষ আশানুরূপ হবেনা বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। উল্লিখিত জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ নীতির খসড়ায় তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণেও আলাদা নীতিমালা করা হবে।
বিড়ি, সিগারেট সহ বিভিন্ন ধরনের তামাকপণ্য জনস্বাস্থ্যসহ পরিবেশের মারাত্মক সর্বনাশ করে চলেছে। এই তামাকপণ্য নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে নানা ধরনের উদ্যোগ। কিন্তু বিড়ি-সিগারেট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সুকৌশলে সরকারের এইসব উদ্যোগের বিরোধীতা করে চলেছে। প্রথমত বিভিন্ন মিডিয়ায় বিড়ি সিগারেটের বিজ্ঞাপন প্রচার নিষিদ্ধ হলেও এই কোম্পানীগুলো নানা পন্থায় বিড়ি সিগারেটের বিজ্ঞাপন প্রচার করে চলেছে। এবার তামাক নিয়ন্ত্রণে যে নীতিমালা প্রণয়ন করতে যাচ্ছে সরকার, তারও বিরোধীতা করছে তারা। তবে সরকার তার সিদ্ধান্তে অটুট থাকলে সিগারেট কোম্পানীগুলোর সব কৌশলই বিফলে যাবে।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT