ধর্ম ও জীবন

তাফসিরুল কুরআন

প্রকাশিত হয়েছে: ২৭-০৯-২০১৯ ইং ০১:১৫:৫৭ | সংবাদটি ১২২ বার পঠিত

[পূর্ব প্রকাশের পর]
ইবনে কাসীর হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত একটি রেওয়াতে উদ্ধৃত করেছেন। এতে বলা হয়েছে : সমস্ত ইসলাম ত্রিশটি অংশে সীমাবদ্ধ। তন্মধ্যে দশটি সুরা বারাআতে, দশটি সুরা আহযাবে এবং দশটি সুরা মু’মিনুনে বর্ণিত হয়েছে। হযরত ইবরাহিম (আ.) এগুলো পূর্ণরূপে পালন করেছেন এবং সব পরীক্ষায়ই উত্তীর্ণ হয়েছেন।
সুরা বারাআতে মু’মিনদের গুণাবলী বর্ণনা প্রসঙ্গে মুসলমানের দশটি বিশেষ লক্ষণ ও গুণ এভাবে বর্ণিত হয়েছে : ‘তারা হলেন তওবাকারী, এবাদতকারী, প্রশংসাকারী, রোযাদার, রুকু-সেজদাহকারী, সৎ কাজের আদেশকারী, অসৎ কাজে বাধা দানকারী, আল্লাহর নির্ধারিত সীমার হেফাযতকারীÑ এহেন ঈমানদারদের সুসংবাদ শুনিয়ে দিন।’
সুরা মু’মিনুনে বর্ণিত দশটি গুণ হলো :
‘নিশ্চিতরূপেই ঐসব মুসলমান কৃতকার্য, যারা নামাযে বিনয় ও ন¤্রতা অবলম্বন করে, যারা অনর্থক বিষয় থেকে দূরে সরে থাকে, যারা নিয়মিত যাকাত প্রদান করে, যারা স্বীয় লজ্জাস্থানের রক্ষণাবেক্ষণ করে, কিন্তু আপন স্ত্রী ও যাদের উপর বিধি সম্মত অধিকার রয়েছে তাদের ব্যতিত। কারণ, এ ব্যাপারে তাদের অভিযুক্ত করা হবে না। যারা এদের ছাড়া অন্যকে তালাশ করে, তারাই সীমালঙ্ঘনকারী। যারা স্বীয় আমানত ও অঙ্গিকারের প্রতি লক্ষ্য রাখে, যারা নিয়মানুবর্তিতার সাথে নামায পড়ে, এমন লোকেরাই উত্তরাধিকারী হবে। তারা হবে জান্নাতুল ফেলদাউসের উত্তরাধিকারী। সেখানে তারা অনন্তকাল বাস করবে।’
সূরা আহযাবে বর্ণিত দশটি গুণ হলো :
‘নিশ্চয় মুসলিম পুরুষ ও মুসলিম নারী, ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারী, আনুগত্যশীল পুরুষ ও আনুগত্যশীল নারী, সত্যবাদী পুরুষ ও সত্যবাদী নারী, ধৈর্য্যশীল পুরুষ ও ধৈর্য্যশীল নারী, বিনয় অবলম্বনকারী পুরুষ ও বিনয় অবলম্বনকারী নারী, খয়রাতকারী পুরুষ ও খয়রাতকারী নারী, রোযাদার পুরুষ ও রোযাদার নারী, লজ্জাস্থানের রক্ষণা-বেক্ষণকারী পুরুষ ও লজ্জাস্থানের রক্ষণা-বেক্ষণাকারী নারী তাদের সবার জন্যে আল্লাহ তাআলা মাগফেরাত ও বিরাট পুরষ্কার প্রস্তুত করে রেখেছেন।’
কুরআনের মুফাসসির হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাসের উপরোদ্ধৃত উক্তির দ্বারা বোঝা গেল যে, মুসলমানদের জন্যে যে সব জ্ঞান এবং কর্মগত ও নৈতিক গুণ অর্জন করা দরকার, তার সবই এই তিনটি সুরার কয়েকটি আয়াতে সন্নিবেশিত হয়েছে। এগুলোই কুরআনোক্ত ‘কালিমাত’ সে সব বিষয়ে হযরত খলীলুল্লাহর পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। আয়াতের ইঙ্গিতও এসব বিষয়ের দিকেই।
এ পর্যন্ত আয়াত সম্পর্কিত পাঁচটি প্রশ্নের মধ্যে দু’টির উত্তর সম্পন্ন হলো।
তৃতীয় প্রশ্নটি ছিলো এ পরীক্ষায় হযরত ইবরাহিম (আ.) এর সাফল্যের প্রকার ও শ্রেণি সম্পর্কে। এর উত্তর এই যে, স্বয়ং কুরআনই বিশেষ ভঙ্গিতে তাঁকে সাফল্যের স্বীকৃতি ও সনদ প্রদান করেছে। আর ইবরাহিম পরীক্ষায় পরিপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেছে। অর্থাৎ, প্রতিটি পরীক্ষায় সম্পূর্ণ ও একশ’ ভাগ সাফল্যের ঘোষণা আল্লাহ দিয়েছেন।
চতুর্থ প্রশ্ন ছিলো, এই পরীক্ষার পুরষ্কার কি পেলেন? এরও বর্ণনা এই আয়াতেই রয়েছেÑ বলা হয়েছে, পরীক্ষার পর আল্লাহ বলেন, ‘আমি তোমাদেরকে মানব সমাজের নেতৃত্বদান করবো।’
এ আয়াত দ্বারা এক দিকে বোঝা গেল যে, হযরত খলীল (আ.) এক সাফল্যের প্রতিদানে মানবসমাজের নেতৃত্ব দেয়া হয়েছে, অপরদিকে মানবসমাজের নেতা হওয়ার জন্য যে পরীক্ষা দরকার, তা পার্থিব পাঠশালা বা বিদ্যালয়ের পরীক্ষার অনুরূপ নয়। পার্থিব পাঠশালাসমূহের পরীক্ষায় কতিপয় বিষয়ে তথ্যানুসন্ধান ও চুলচেরা বিশ্লেষণকেই সাফল্যের মাপকাঠি বিবেচনা করা হয়। কিন্তু নেতৃত্ব লাভের পরীক্ষায় আয়াতে বর্ণিত ত্রিশটি নৈতিক ও কর্মগত গুণে পুরোপুরি গুণান্বিত হওয়া শর্ত। [চলবে]

শেয়ার করুন
ধর্ম ও জীবন এর আরো সংবাদ
  • হাদীস সংগ্রহকারী ইমাম মুসলিম ও তিরমিজি
  • নবীজিকে ভালোবাসার দাবী সমূহ
  • বড়পীর আব্দুল কাদির জিলানী (র:)
  • জৈন্তা অঞ্চলে হিফজুল কোরআন পরিক্রমা
  • তাফসিরুল কোরআন
  • হাদীস সংগ্রাহক ইমাম বুখারী (রহ.)
  • জৈন্তা অঞ্চলে হিফজুল কোরআন পরিক্রমা
  • কুরআন চর্চা অপরিহার্য  কেন 
  • একদিন নবীজির বাড়িতে
  • বেহেস্তের সিঁড়ি নামাজ
  • দেন মোহর নিয়ে যত কথা
  • তাফসিরুল কোরআন
  • মানব সভ্যতায় মহানবীর অবদান
  • মানব সভ্যতায় মুহাম্মদ (সা.) এর অবদান
  • দেনমোহর নিয়ে যতো কথা
  •   উম্মাহাতুল মুমিনীন
  • ইসলাম শান্তি ও সম্প্রীতির ধর্ম
  • তাফসিরুল কোরআন
  • রাসূল (সা.) এর প্রতি মুহব্বত ও আহলে বাইত প্রসঙ্গ
  • মহানবীর প্রতি ভালোবাসা
  • Developed by: Sparkle IT