ধর্ম ও জীবন

সুদের অবশ্যম্ভাবী পরিণতি

আখতার হোসাইন প্রকাশিত হয়েছে: ২৭-০৯-২০১৯ ইং ০১:১৮:৪১ | সংবাদটি ১০৯ বার পঠিত

বরেণ্য তাফসিরবিদ হযরত ইবনে জারির তিনি হযরত মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেন : জাহিলী যুগে প্রচলিত ও পবিত্র কুরআনুল কারিমে নিষিদ্ধ ‘রিবা বা সুদ’ হলোÑ ‘কাউকে নির্দিষ্ট মেয়াদে ঋণ দিয়ে মূল ধনের অতিরিক্ত নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ গ্রহণ করা।’ তখনকার আরবে নির্দিষ্ট মেয়াদে ঋণ পরিশোধ করতে না পারলে সুদ বাড়িয়ে দেয়ার শর্তে মেয়াদ বাড়িয়ে দেয়া হতো। (তাফসির ইবনে জারির, ৩য় খন্ড, পৃষ্ঠা-৬২)
স্পেনের খ্যাতনামা মুফাসসির আবু হাইয়্যান গারনাতী রচিত তাফসিরে বাহরে মুহিতেও এরূপ বর্ণিত হয়েছে। তারা বলতো ক্রয়-বিক্রয়ের মধ্যে মুনাফা নেয়া যেমন জায়েজ তেমনি অর্থ ঋণ দিয়ে মুনাফা নেয়াও জায়েজ হওয়া উচিত। পবিত্র জীবন বিধানের সুরা আল-ইমরানের ১৩০ নং আয়াতে সুদ খাওয়া স্পষ্ট হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। ক্রয়-বিক্রয় ও রিবা বা সুদের মধ্যে পার্থক্য বর্ণনা করা হয়েছে। ইসলামের নবী ঘোষণা করেছেন, যে ঋণ কোন মুনাফা টানে সেটাই রিবা বা সুদ। (জামে ছগির)
সুরা বাকারাহ এর ২৭৬ নং আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহ তাআলা সুদকে নিশ্চিন্ন করে দেন এবং দান-খয়রাতকে বর্ধিত করেন। এ উক্তি পরকালের দিক দিয়ে যেমন সম্পূর্ণ পরিষ্কার; সত্যোপলব্দির সামান্য চেষ্টা করলে দুনিয়ার দিক দিয়েও তেমন সুস্পষ্ট। মুসনাদে আহমাদ ও ইমাম ইবনে মাজার বর্ণনায় নবীজী বলেন, সুদ যদিও বৃদ্ধি পায় কিন্তু এর শেষ পরিণতি হচ্ছে স্বল্পতা। কারণ এরকম অত্যাচারীদের আল্লাহ তাআলা ভালোবাসেন না। (সূরা : বাকারাহ, আয়াত-২৭৬)
সুদখোরদের ধন-সম্পদের এ বর্ধিষ্ণুতা পান্ডুরোগীর দেহ ফুলে মোটা হয়ে যাওয়ার মতো। ফুলে যাওয়ার ফলে যে বর্ধিষ্ণুতা আসে তা ও দেহেরই বৃদ্ধি। কোনো বুদ্ধিমান মানুষই তা পছন্দ করতে পারেনা। কারণ সে জানে এ বর্ধিষ্ণুতা মৃত্যুর বার্তাবহ। তাছাড়া এ বর্ধিষ্ণুতা সাধারণত স্থায়ী হয়না। সন্তান-সন্ততি ও বংশধররা তা ভোগ করতে পারে না। প্রায়ই কোনো না কোনো বিপর্যয়ের মুখে তা ধ্বংস হয়ে যায়। হযরত মা’মার রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমি বুযুর্গদের মুখে শুনেছি, চল্লিশ বছর যেতে না যেতে সুদখোরদের ধন-সম্পদে ভাটা আরম্ভ হয়ে যায়। (তাফসিরে মা’রিফুল কুরআন, পৃষ্ঠা-১৫০)
এমনিভাবে সুদখোররা তাদের ধন-সম্পদের দুনিয়াবী উপকারিতা ও ফলাফল অর্থাৎ আরাম-আয়েশ ও সম্মান-মর্যাদা থেকে সর্বদাই বঞ্চিত থাকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো উন্নত দেশের শতকরা পঁচাত্তর জন লোক ঘুমের বড়ি খেয়ে ঘুমাতে পারে না। মাঝে মধ্যে বড়িও ঘুম আনতে ব্যর্থ হয়। কারণ আরাম ও শান্তির সাজ-সরঞ্জাম বাজারে ক্রয়-বিক্রয় হয়। স্বর্ণ-রৌপ্যের বিনিময়ে তা ক্রয় করা যায় পক্ষান্তরে শান্তি ও আরাম কোনো কারখানায় নির্মিত হয় না, কোনো বাজারেও তা পাওয়া যায় না। এটা সরাসরি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে আসে। সুদখোররা এক কোটিকে দেড় কোটি এবং দেড় কোটিকে দুই কোটি করার চিন্তায় এতো বিভোর যে, খাওয়া-পরা, বিবি বাচ্চাদের প্রতি লক্ষ্য করার সময়ও তাদের হাতে থাকে না। কয়েকটি মিল কারখানা চলছে, ভিন দেশ থেকে জাহাজ আসে, এসব নানাবিধ চিন্তার জাল বোনার মধ্যেই তাদের সকাল থেকে বিকাল আর বিকাল থেকে সকাল হয়ে যায়। সুদখোররা খুব কঠোর প্রাণ ও নির্দয় প্রকৃতির। দরিদ্রের দারিদ্র, স্বল্প পুঁজিওয়ালাদের স্বল্পতার সুযোগ গ্রহণ করাই তাদের পেশা। জগতের কোনো কোনো এবং মানবগোষ্ঠির কোনো স্তরেই তাদের সম্মান নেই। বরং এর অবশ্যম্ভাবী পরিণতি হলোÑ দরিদ্র ও নিঃস্ব লোকদের অন্তরে তাদের সম্পর্কে প্রতিহিংসা ও যুগপৎ ঘৃণার সৃষ্টি হয়। বর্তমান বিশ্বের সকল দাঙ্গা-হাঙ্গামা, যুদ্ববিগ্রহ, মারামারি, কাটাকাটি, কম্যুনিজমের ধংসাত্মক তৎপরতা এ হিংসা ও ঘৃণারই বহিঃপ্রকাশ। এ হচ্ছে তাদের সুখ-শান্তি ও সম্মানের অবস্থা। যে সুদের অবৈধতা পবিত্র কুরআনের সাতটি আয়াত ও চল্লিশটিরও বেশি হাদিস ও ইজমা দ্বারা প্রমাণিত সে সুদকে জাহিলী যুগের মতো বর্তমান অর্থনীতির মেরুদন্ড মনে করা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তব সত্য আজ অনেক পাশ্চাত্য পন্ডিতও স্বীকার করছেন। তাদের মতে, সুদ অর্থনীতির মেরুদন্ড নয়; বরং মেরুদন্ডে সৃষ্ট এমন একটি দুষ্ট ক্ষত যা অহরহ তাকে খেয়ে যাচ্ছে। (মা’রিফুল কুরআন, পৃষ্ঠা : ১৫৪-১৫৫)
সুদের অবশ্যম্ভাবী পরিণতি হচ্ছে, সাধারণ মানুষ এবং গোটা জাতি দারিদ্র ও অর্থনৈতিক অচলাবস্থার শিকার হয়। দরিদ্র ব্যক্তি আরো দরিদ্র হতে থাকে। গুটি কতেক পুঁজিপতি সমগ্র জাতির জমানো টাকা দ্বারা উপকৃত হয়। যারা পাশ্চাত্য উন্নত অর্থনীতির উদাহরণ দেয়, তাদের বুঝা উচিত যে, তাদের দৃষ্টান্ত এমন, যেমন কোনো নরখাদক সম্প্রদায় তাদের উপকারিতা ও উন্নতি দেখানোর জন্য নরখাদকদের মহল্লায় নিয়ে গেল এবং দেখাল যে, এরা কেমন মোটা-তাজা, সবল ও সুস্থ এবং সে প্রমাণ করে তাদের নীতি উত্তম ও অনুস্মরণীয়। কিন্তু বুদ্ধিমান লোকের সাথে মোকাবেলা হলে সে বলবে, তুমি এ নরখাদকদের কল্যাণ তাদের মহল্লায় নয়, বরং অন্য মহল্লায় গিয়ে দেখো, শত শত হাজার হাজার নর কংকাল পড়ে রয়েছে। এদের রক্ত-গোশত খেয়ে এ হিংস্ররা মোটা-তাজা হয়েছে। সমগ্র মানবসমাজ বিপর্যয়ের শিকার হবে আর কিছু সংখ্যক লোক ও তাদের তল্পি বাহকেরা সমৃদ্ধি অর্জন করবে ইসলাম কখনো এরূপ কার্যকে উপকারী বলে সমর্থন করে না। সমগ্র জাতির বিপর্যয় এবং কয়েক লোকের উন্নতি বিষয়টি বুঝা কঠিন নয়। কিন্তু আজকাল যেভাবে মদকে মেশিনে পরিশোধিত করে, ডাকাতির নতুন নতুন পদ্বতি আবিষ্কার করে, ব্যভিচার ও নির্লজ্জতার নিত্য- নতুন কৌশল বের করে, মদের দূর্গময় দোকানকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হোটেলে, পতিতালয়গুলোকে সিনেমা ও নৈশক্লাবে রূপান্তরিত করে এগুলোকে সভ্যতার খোলস পরিয়ে বিষকে প্রতিশেধক এবং ক্ষতিকরকে উপকারীরূপে দেখাবার প্রয়াসে প্রতারণাকে কাজে লাগানো হয়েছে। যাতে এদের অভ্যন্তরিণ অনিষ্ঠ বাহ্যদর্শীদের দৃষ্টিগোচর না হয়। তেমনিভাবে সুদের জন্য ব্যক্তিগত গদির পরিবর্তে যৌথ কোম্পানী গঠন করা হয়েছে, যাকে ব্যাংক বলা হয়। এখন জগৎবাসীর চোখে ধুলি দেয়ার জন্য বলা হয় যে, সুদের এ আধুনিক পদ্বতি দ্বারা সমগ্র জাতিরই উপকার হয়। কেননা যে জনগণ নিজের টাকা দ্বারা ব্যবসা- বাণিজ্য করতে জানে না, কিংবা স্বল্প পুঁজির কারণে করতে পারে না। তাদের সবার টাকা ব্যংকে জমা হয়ে প্রত্যেকেই কিছু না কিছু মুনাফা পেয়ে যায়। বড় বড় ব্যবসায়ীরাও ব্যাংক থেকে সুদের উপর ঋণ নিয়ে বড় বড় ব্যবসা করে উপকৃত হয়ে যায়। এভাবে গোটা জাতি উপকৃত হচ্ছে। ফলে সুদ আজ একটি কল্যাণকর বিষয়ে পরিণত হয়েছে। কিন্তু ইনসাফের দৃষ্টিতে তাকালে এটি একটি প্রতারণা ছাড়া কিছুই নয়। প্রত্যেক চক্ষুষ্মান ব্যক্তির সামনে এটা দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট যে, চরিত্র বিধ্বংসী অপরাধসমূহকে আধুনিক পোশাক পরিয়ে দেয়ার ফলে যেমন এসব অপরাধের ব্যাপকতা পূর্বের চেয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে তেমনি শতকরা কয়েক টাকা সুদ জনগণের পকেটে পুরে দিয়ে একদিকে তাদেরকে জঘন্য অপরাধে শরীক করেছে অন্য দিকে নিজেদের জন্য অপরাধের অসীম ক্ষেত্র প্রস্তুত করে রেখেছে। এভাবে বৃহৎ পুঁজিপতিরাই দ্রব্যমূল্য নির্ধারণে একচেটিয়া অধিকারী হয়। তারা উচ্চতর মূল্যে দ্রব্যাদি বিক্রয় করে নিজেদের গাঁট মজবুত করে নেয় এবং জাতির গাঁট খালি করে দেয়। তারা মূল্যবৃদ্ধি করার জন্য যখন ইচ্ছা মাল বিক্রি বন্ধ করে দেয়। স্বল্প পুঁজির লোকেরা তখন ব্যবসাও করতে পারে না। যদি গোটা জাতির পুঁজি ব্যাংকের মাধ্যমে টেনে এসব স্বার্থপরদের লালন-পালন করা না হতো এবং সবাই ব্যক্তিগত পুঁজি দ্বারা ব্যবসা করতে বাধ্য হতো তবে ক্ষুদ্র পুজিপতিরা এ বিপদের সম্মুখীন হতো না এবং এসব স্বার্থপর হিংস্ররা গোটা ব্যবসা-বাণিজ্যের কর্ণধার হয়ে বসতে পারতো না। অথচ বর্তমান প্রতারণামূলক কর্মপদ্ধতি গোটা জাতিকে মারাত্মক রোগে আক্রান্ত করে তাদের চিন্তা ধারাকে বিকৃত করে দিয়েছে। সুস্থ ও সঠিক দৃষ্টিভঙ্গির অভাবে তারা এ রোগকেই আজ সুস্থতা মনে করে নিয়েছে। ব্যাংকের সুদ দ্বারা ব্যক্তি মানুষের যতোক্ষণ মুনাফা হচ্ছিল ততোক্ষণ সে মুনাফার একাই মালিক ছিল। তাতে জাতির কোনো অংশ ছিলো না। আর যখন ক্ষতি হলো তখন শতকরা নব্বই ভাগই জাতির ঘাড়ে চেপে বসলো। এটা হলো অর্থনৈতিক ক্ষতির একটি চিত্র। সুদহীন ব্যবসায় যদি কোনো সময় সমগ্র পুজি নষ্টও হয়ে যায় তবে এর দ্বারা মানুষ ফকির হয় না, ঋণী হয়। সুদখোররা অভিজ্ঞতা দ্বারা যখন বুঝলো পবিত্র কুরআনের সুরা আল- ইমরানের ১৩০ নং আয়াতের উক্তি ‘রিবা তথা সুদ; অক্ষরে অক্ষরে সত্য। অর্থাৎ, মালের অবক্ষয় অবশ্যম্ভাবী, যার ফলে দেউলিয়া হতে হবে। এ সব অবক্ষয়ের কবল থেকে আত্মরক্ষার জন্য তখন তারা দু’টি সহযোগী প্রতিষ্ঠান গড়ে তুললো। তার একটি হল ‘বীমা’ আর অপরটি হল ‘স্টক এক্সচেঞ্জ’।
ব্যবসায় ক্ষতি হওয়ার দু’টি কারণ হতে পারে। এর একটি হল দৈব দুর্বিপাক। যেমন : জাহাজ ডুবি, অগ্নিকান্ডে ক্ষয়ক্ষতি ইত্যাদি। অপরটি হল, পণ্যদ্রব্যের দাম ক্রয়মূল্যের নিচে নেমে আসা বিনিয়োগকৃত পুঁজি যেহেতু নিজস্ব নয়; বরং জাতির যৌথ সম্পদ। তাই উভয় অবস্থাতে ব্যবসায়ীদের ক্ষতি কম এবং জাতির ক্ষতি বেশি কিন্তু তারা এ অল্প ক্ষতির বোঝাও জাতির ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়ার জন্য এক দিকে খোলেছে ‘বীমা কোম্পানী’ যাতে ব্যাংকের মতো সমগ্র জাতির পুঁজি এক জায়গায় নিয়োজিত থাকে। দৈব দুর্বিপাকে সুদখোরদের ক্ষতি হয়ে গেলে বীমার মাধ্যমে সমগ্র জাতির যৌথ পুঁজি থেকে তা উদ্ধার করে নেয়া হয়। জনগণ মনে করেন বীমা কোম্পানীগুলো আল্লাহর রাহমাত; ডুবন্ত ব্যক্তির আশ্রয়স্থল। কিন্তু এদের স্বরূপ গভীরভাবে লক্ষ্য করলে এবং বুঝতে পারলে এটা স্পষ্ট হয়ে ওঠবে যে, এখানেও প্রতারণা ছাড়া কিছুই নেই। আকস্মিক দূর্ঘটনার সময় সাহায্যের লোভ দেখিয়ে জাতির পুঁজি সঞ্চয় করা হয় কিন্তু এর মোটা অংকের টাকা দ্বারা বৃহৎ ব্যবসায়ীরাই উপকৃত হয়। তারা মাঝে মাঝে নিজেই স্বীয় ক্ষয়প্রাপ্ত মোটরে অগ্নি সংযোগ করে কিংবা কোনো কিছুর সাথে ধাক্কা লাগিয়ে ধ্বংস করে দেয় এবং বীমা কোম্পানী থেকে টাকা আদায় করে নতুন মোটর ক্রয় করে। শতকরা দু’একজন গরিব হয়তো আকস্মিক মৃত্যুর কারণে কিছু টাকা পেয়ে যায়। অপরদিকে দর কমে যাওয়ার বিপদ থেকে আত্মরক্ষার জন্য তারা ‘স্টক এক্সচেঞ্জ’ শেয়ার বাজার ব্যবসা গরম করেছে। এ বিশেষ প্রকার জুয়া দ্বারা গোটা জাতিকে প্রভাবান্নিত করা হয়েছে। যাতে মূল্য হ্রাসের কারণে যে ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে, তাও জাতির ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়া যায়। ধন-সম্পদ পুঞ্জিভূত হয়ে কয়েক ব্যক্তির হাতে আবদ্ধ হওয়া যে সমস্ত ক্ষতির কারণ, এ সম্পর্কে সবাই পরিজ্ঞাত। এ কারণেই আয়করের হার বৃদ্ধি করা হয়। কিন্তু অভিজ্ঞতা সাক্ষ্য দেয় যে, এ কর্মপন্থাও রোগ নিরাময়ে ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছে। রোগের আসল কারণ নির্ণয়ে অযোগ্যতাই বড়ো কারণ। কাজেই এ প্রতিকার যেন শত্রুকে ভিতরে রেখে দরজা এঁটে দেয়ার মতো। ইসলাম সুদকে হারাম করে যেমন সমগ্র জাতির সম্পদ বিশেষ বিশেষ পুঁজিপতিদের হাতে আবদ্ধ হওয়ার দরজা বন্ধ করে দিয়েছে তেমনি পুঁজিকরের আকারে ধনীদের উপর যাকাত আরোপ করে প্রত্যেক ধনীকে সম্পদ স্থাবর অবস্থায় না রেখে ব্যবসা-বাণিজ্যে নিয়োজিত করতে বাধ্য করেছে। আসলে যতোদিন পর্যন্ত ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী সুদের কারবার বন্ধ না করা হবে এবং নিজ নিজ পুঁজি দ্বারা ব্যবসা-বাণিজ্য করার নীতি প্রচলিত না হবে ততোদিন এ রোগের প্রতিকার অসম্ভব। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে শান্তির ধর্ম ইসলামের সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি অর্জন করার তাওফিক দিন এবং তার পূর্ণ অনুসরণ করে জীবন ও জগৎটাকে শান্তির নীড়ে রূপান্তরিত করুন।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT