সম্পাদকীয়

নগরে বায়ু দূষণ

প্রকাশিত হয়েছে: ২৯-০৯-২০১৯ ইং ০০:০৯:৫৮ | সংবাদটি ১০২ বার পঠিত


নগরে বায়ু দূষণ। এক সময় ছিলো শুধু নাগরিক সমস্যা। এখন সমস্যাটি শহর নগরের গ-ি পেরিয়ে পৌঁছে গেছে মফস্বলে। তবে বড় বড় শহর নগরগুলোতে এই সমস্যাটি বেশী করে ভোগাচ্ছে সাধারণ মানুষদের। তবে দেশের অন্যান্য নগরীর মতো সিলেটেও বায়ু দূষণের মাত্রা বাড়ছে দিন দিন। আর অতি সম্প্রতি নগরীর বিভিন্ন স্থানে রাস্তা-ফুটপাত সংস্কার কাজের জন্য খোঁড়াখুঁড়ির কারণে বায়ু দূষণের মাত্রা বেড়েছে। যে কারণে বায়ুদূষণ জনিত নানা রোগ ব্যাধির বিস্তার ঘটছে। বায়ুতে অতিমাত্রার কার্বন ডাইঅক্সাইড, সালফার ডাইঅক্সাইড এবং ভাসমান ধূলিকণাই নানা রোগের বিস্তার ঘটাচ্ছে। অপরিকল্পিত নগরায়ন, পুরনো মোটর গাড়ির অতিমাত্রায় ব্যবহার, যেখানে সেখানে স্থাপিত ইটভাটা, স্টোনক্রাশিং মেশিন থেকে নির্গত ক্ষতিকর পদার্থ বায়ু দূষণের জন্য দায়ী। পরিবেশ অধিদপ্তরের মতে দেশের ছয়টি মহানগরীসহ আটটি শহরের বাতাস এখন অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর। এর মধ্যে সিলেট মহানগরীও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে সিলেট নগরী। রাস্তাঘাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিল্প কারখানা, আবাসিক এলাকার পরিধি দ্রুত বাড়ছে। সেই সঙ্গে বৃদ্ধি পাচ্ছে পরিবেশগত নানা সমস্যা। বিশেষ করে নগরীর আম্বরখানা, বন্দরবাজার, জিন্দাবাজার, শিবগঞ্জ, উপশহর, রিকাবীবাজার, তাঁতীপাড়াসহ অন্যান্য এলাকায় বায়ু দূষণের মাত্রা বেশী। ব্যস্ততম জিন্দাবাজারের বাতাসে কার্বন ডাইঅক্সাইডের সর্বাধিক ঘনত্ব ৫৫০ পিপিএম। পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে কার্বন ডাইঅক্সাইডের গড় উপস্থিতি ৩৫০ পিপিএম। সেই তুলনায় জিন্দাবাজারের বাতাসে কার্বন ডাইঅক্সাইডের ঘনত্ব দু’শ পিপিএম বেশী। এই উচ্চ ঘনত্বের কার্বন ডাইঅক্সাইড ভূমিকা রাখে তাপমাত্রার পরিবর্তনে। এছাড়া, নগরীর বায়ুতে সালফার ডাইঅক্সাইডের মাত্রা সর্বোচ্চ নয়শ’ ৪০ মাইক্রোগ্রাম পার মিটার কিউব। এটাও স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশী। পরিবেশ অধিদপ্তরের স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী বায়ুতে সালফার ডাইআক্সাইডের সহনশীল মাত্রা হচ্ছে একশ’ মাইক্রোগ্রাম পার মিটার কিউব। আর এই সালফার ডাইঅক্সাইড আমাদের নগরীতে আছে নয়শ’ ৪০ মাইক্রোগ্রাম। এসব ছাড়াও নগরীর বায়ুতে ভাসমান ধূলি কণার উপস্থিতি বাড়ছে মারাত্মকভাবে।
বায়ু দূষণের শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। নানা অসুখ-বিসুখে ভূগছেন নগরবাসী। চিকিৎসকদের মতে, বায়ু দূষণের কারণে অনেক দূরারোগ্য ব্যাধির জন্ম হতে পারে মানবদেহে। আর তাই আমাদের সতর্ক হতে হবে এখনই। এটি কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়। মানুষ সচেতন হলে বায়ু দূষণ থেকে বাঁচা যায়। বায়ু দূষণ রোধে রয়েছে নির্দিষ্ট আইন ও বিধিমালা। আইন ভঙ্গে শাস্তির বিধানও রয়েছে। তাই বায়ু দূষণ রোধে সচেতনতার পাশাপাশি প্রচলিত আইনের যথাযথ প্রয়োগও জরুরী। এই বিষয়টি দেখার দায়িত্ব যাদের সেই পরিবেশ অধিদপ্তরকেও এ ব্যাপারে আরও তৎপর হতে হবে।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT