সাহিত্য

সাঁকো

মুহাম্মাদ রাইহান প্রকাশিত হয়েছে: ২৯-০৯-২০১৯ ইং ০০:১৭:১৫ | সংবাদটি ১০৯ বার পঠিত


স্নান সেরে মখমল রোদে দাঁড়িয়ে গিটারের তারের মতো কাঁপছে আমার স্বল্পাবরণ ভাগ্নে।
তার শীতসন্ত্রস্ত শরীরের সাঁকো বেয়ে আমি নিমিষেই পেরিয়ে যাই বায়সিক বিষাদ ও ব্যবধান। ঢুকে পড়ি শৈশবের পাতাঝরা বনে।
বনের একপ্রান্তে হিমভাঙা জলের বালতি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন আপু। তার তোলা জলের নিচে ঠকঠক কাঁপতে থাকে আমার একপ্রস্থ সাবানভর্তি শরীর। জলের সাথে শরীর বেয়ে নেমে যায় শীতল শৈশব। তারপর আমি সরিষার তেল ও গরম কাপড়ে-মোড়া বাধ্য শালিক।
খেতে গিয়ে আপুর হাতের লোকমায় পাঠ করি মাতৃত্বের সবক। তার কাঁধ আমার সিথান ও স্বপ্নের যোগফল।
ঘুম থেকে উঠে বারান্দায় বসি---
চিনির শরবত আর মুড়িতে তখন বয়োবৃদ্ধ বিকেল। আপু চোখে কৃত্রিম রাগের রঙধনু তুলে বললেন, খবরদার, মাটিতে জুতো ছাড়া নামবি না কিন্তু!

মাটির সঙ্গে বিরহ রচনা করে বসে থাকি।
উড়ন্ত পাখির ঠোঁটে নীড়ের জিকির, গাছের হারমোনিয়ামে পাতাদের বিদায়ী ভৈরব।
বসে বসে দেখি।
শরীর থেকে খসে পড়ে কৈশোরের বাকল।
আমি চেয়ে থাকি, উঠোনের মখমল রোদে দাঁড়িয়ে গিটারের তারের মতো কাঁপছে আমার ভাগ্না। তার মায়ের হাতে হিমভাঙা জলের পাত্র।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT