মহিলা সমাজ

কম্পিউটারের জন্য

জাহিদা চৌধুরী প্রকাশিত হয়েছে: ০১-১০-২০১৯ ইং ০০:৫৭:১৫ | সংবাদটি ৯৬ বার পঠিত

সীমান্ত এবং শিমুল দু’ভাই। মা-বাবার আদরের সন্তান। ছোট ভাই শিমুল খুবই চঞ্চল। সারাক্ষণই সে দুষ্টুমিতে মেতে থাকে। একবার তাদের বাসার ছাদে পাড়ার ছেলেরা ঘুড়ি ওড়ানোর আয়োজন করে, শিমুল তো মহাখুশী। সে খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে পাড়ার ছেলেদের সাথে ঘুড়ি ওড়াতে ব্যস্ত। মা বলেন, শিমুল এতো ব্যস্ত কেনো? তুমি কি ঘুড়ি উড়াতে পারো? সবাই যখন পারে আমি পারবো না কেনো?
সে আব্বুর কাছ থেকে টাকা চেয়ে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার জন্য ঘুড়ি কিনে। পাড়ার ছেলে শান্তনুর সাথে শিমুলের খুব ভাব। সে তাকে বললো, আমিও তোমাদের সাথে প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছি। শান্তনু এতে খুশি হয়। সারা পাড়ায় ঘুড়ি ওড়ানোর হৈ চৈ পড়ে যায়।
শিমুল আব্বুকে বললো, আগামীকাল আমাদের ঘুড়ি ওড়ানোর প্রতিযোগিতা হবে। আমাদের ঘুড়ি যদি অন্য দু’টি ঘুড়ির সূতা কেটে নিতে পারে তাহলে আমরা জয়ী হবো। তুমি দোয়া করো আব্বু। আব্বু বলেন, ঘুড়ি ওড়ানোর প্রতিযোগিতায় জয়ী হতে চাচ্ছ, ভালো কথা। কিন্তু পড়াশোনায়ও তোমাকে ভালো রেজাল্ট করতে হবে। কেননা সবকিছুর আগে পড়ালেখা নিয়ে ভাবতে হয়। এবারের পরীক্ষায় তোমাকে প্রথম হতে হবে। শিমুল বলে, আব্বু আমাদের ক্লাসে এতো ছাত্র, এতো পড়া আমার ভালো লাগে না। আমি কোনোদিনও প্রথম হতে পারবো না। আব্বু বলেন, মানুষ পারে না এমন কোনো কাজ নেই। তোমার ক্লাসে যে ছেলেটি বরাবর প্রথম হয় সে তো তোমারই মতো ছোট এবং তোমার বয়সী। তুমিই তো বলেছো ছেলেটির পরিবারের অবস্থা ভালো নয়। সে একা একা পড়ে। তার কোনো শিক্ষকও নেই। তুমি তো ছাত্র খারাপ নও, তুমি যদি তোমার দুষ্টুমিটা একটু কমিয়ে পড়াতে একটু মনোযোগী হও তাহলে দেখবে প্রথম হওয়া কোনো ব্যাপারই নয়। তাছাড়া তোমার স্যার এসেও তোমাকে পড়ান, শিমুল বলে ঠিক আছে আব্বু আমি চেষ্টা করবো, তবে আমার ঘুড়ি ওড়ানোর প্রতিযোগিতাটা আগে শেষ হোক।
দুপুরে খাওয়া-দাওয়ার পর শিমুল ভাইয়াকে বললো, ভাইয়া আকাশে ঘুড়ি ওড়াতে আমার খুব ভালো লাগে। পাখি ডানা মেলে আকাশে উড়ে তা দেখে মনে হয় আমি যদি পাখির মতো আকাশে বেড়াতে পারতাম? তাই নাকি? তাহলে তো তোমায় অনেক পড়তে হবে। বড় বড় মানুষের জীবনী জানতে হবে। ভাইয়া বলে, পাখির ডানা আছে বলে তারা আকাশে ওড়তে পারে, কিন্তু মানুষের তো ডানা নেই। তবে মানুষ আকাশে উড়ছে তাদের বুদ্ধি, মেধা ও শ্রমকে কাজে লাগিয়ে। শিমুল বলে আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। সীমান্ত বলে সেটা তোমাকে বুঝতে হলে জানতে হলে অনেক অনেক পড়ালেখা করে বড় হতে হবে। দেখো না দেশের বড় বড় বৈজ্ঞানিকেরা কিভাবে আকাশে ভ্রমণ করছে, চাঁদে পৌঁছাচ্ছে এসবই তো অনেক অনেক বুদ্ধি ও মেধার বদৌলতে।
দু’ভাই মিলে যখন গল্প হচ্ছিল তখন আব্বু এসে বললেন, এতো কথা কিসের? না আব্বু মানুষ কিভাবে চাঁদে যায় ভাবছি। শিমুল রাতে আম্মুকে বলে, আব্বু কেনো বুঝতে চায় না আমি কেমন করে পরীক্ষায় প্রথম হবো? আম্মু বললেন, চেষ্টা করে দেখো? তুমি তো সারাক্ষণই দুষ্টুমিতে থাকো। তুমি মন দিয়ে পড়ো, ভালো রেজাল্ট হবেই। প্রথমেই পারবে না। এতো ভাবছো কোনো? শিমুল খুব চিন্তায় পড়লো? ভেবে চিন্তে আব্বুকে বললো, যদি আমি পরীক্ষায় প্রথম হতে পারি তাহলে ভাইয়ার মতো আমাকে একটা বড় সাইকেল কিনে দিবে। আব্বু বললেন, ঠিক আছে। আগে পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করো। তোমাকে সাইকেল নয় একটা কম্পিউটার কিনে দেবো। সত্যি? আনন্দে শিমুলের দু’চোখ চিক চিক করছে।
শিমুল স্কুলে তার বন্ধুদের কাছে সব খুলে বললো। বন্ধুরা বললো আমাদের মা-বাবারাও ভালো রেজাল্ট করতে বলেছেন। আমরা এখন খুব মন দিয়ে পড়ালেখা করবো। দেখি পারি কি না? শিমুল খুব চিন্তিত। তার যেনো দিন কাটে না, তবে পড়াতে বেশ মনোযোগী হলো। পড়ালেখার মনোযোগ দেখে আব্বু-আম্মু খুব খুশি।
দেখতে দেখতে পরীক্ষার দিনক্ষণ সব ঘনিয়ে এলো। ভাইয়াকে বললো, ভাইয়া আমার খুব ভয় হচ্ছে। ভাইয়া বললো ভয়ের কোনো কারণ নেই। ঠিকমতো পরীক্ষা দাও। এক এক করে শিমুলের পরীক্ষা শেষ হলো। সে আবার খেলাধুলাও দুষ্টুমিতে মেতে ওঠলো। আর দিনগুণতে থাকলো কবে রিজাল্ট বের হবে। কেননা তার যে একটা কম্পিউটার হবে। সবাইকে সে চমকে দেবে। কি যে মজা হবে। রেজাল্ট বের হলো। দেখা গেলো শিমুল পরীক্ষায় প্রথম হয়েছে। স্কুলে তার বন্ধুরাসহ সবাই খুশি।
আম্মু বলে চিৎকার দিয়ে বাসায় ঢুকলো। মা-মা দেখো তোমার দুষ্টু ছেলে প্রথম হয়েছে। মা খুশিতে ছেলেকে কোলে তুলে নিলেন, আদর করলেন। কিন্তু তার মন খুব খারাপ হয়ে গেলো। আব্বু অফিসেই থাকবে ভেবেছিলো কিন্তু না, দেখে আব্বু বিছানায় শুয়ে আছেন, কি ব্যাপার? না, আব্বুর ভীষণ জ্বর, তাই অফিস থেকে চলে এসেছেন। শিমুল তার আব্বুর পা ছুঁয়ে সালাম করে। আব্বু তাকে আদর করেন। শিমুলের দু’চোখ পানিতে ভরে ওঠলো। দূর বোকা ছেলে, জ্বর তো সেরে যাবে? তুই একটু আমার কাছে বস। তোকে অনেক বকেছি-দেখতো কেমন করে প্রথম হয়ে গেলি? খুব কি কঠিন? আব্বু তুমি ভালো হয়ে ওঠো, আমি তোমার সব কথা শুনবো।
লেপটা গায়ে জড়িয়ে আব্বু বলেন হ্যাঁ ভালো হয়ে সবাইকে নিয়ে বেড়াতে যাবো। আর কি চাই। আম্মু এক গ্লাস হরলিক্স আর পাউরুটি নিয়ে ঘরে ঢুকতে ঢুকতে বলেন , ‘একটা কম্পিউটার’ সবাই হেসে ওঠে একসাথে।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT