মহিলা সমাজ

রহস্য

সারাহ জাহান মোমতাহীনাহ জুঁই প্রকাশিত হয়েছে: ০১-১০-২০১৯ ইং ০১:০০:১৪ | সংবাদটি ৬১ বার পঠিত

মৌলভী আমির মাহমুদ সুলতান। সিলেটের বিখ্যাত একজন কবিরাজ। সিলেটসহ সারাদেশে এমনকি বিদেশেও তার সুখ্যাতি। একটা বিষয় স্পষ্ট করে বললে ভালো হয়, তাঁর এই খ্যাতি মূলত অতিপ্রাকৃত, অলৌকিক ও জাদুটোনা সম্পর্কীয়। অর্থাৎ তিনি সারাজীবন জিন, ভূত-প্রেত, জাদুটোনা, অলৌকিক শক্তি ইত্যাদি নিয়ে কাজ করেছেন। এসব বিষয়ে প্রবল আগ্রহ তার। মৌলভী সাহেব জিন সাধনা বিষয়ে প্রচুর পড়াশুনা করে একজীবনে তা আয়ত্ত করেছিলেন। তার কাছে প্রতিদিন অসংখ্য রোগী আসে, যাদেরকে আমরা সিলেটি ভাষায় বলি ‘উপরি দোষের রোগী’। এর মধ্যে অনেক রোগী এমনও আসে, যাদের মধ্যে ভয়ানক জিনের আছর।
মৌলভী সুলতান সাহেবের বয়স সত্তরের কাছাকাছি। স্ত্রীকে নিয়ে মসজিদের কাছাকাছি নিজস্ব দোতলা বাসায় থাকেন। তার দুই মেয়ে ছিলো। কিন্তু আজ থেকে পনেরো বছর আগে দুই মেয়েরই আকস্মাৎ নির্মম মৃত্যু হয়েছে। দুই মেয়েকেই কারা হত্যা করে ফেলে। তাদের লাশ যখন পাওয়া যায়, তখন দেখা গিয়েছিলো দুই মেয়েরই মাথা শরীর থেকে আলাদা করে ফেলা হয়েছে। পনেরো বছর ধরে এই হত্যার কোনো রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। মৌলভী সুলতান সাহেব তার দুই মেয়ের নৃশংস হত্যার জন্য কারা দায়ী, কারা তার মেয়েদের খুনি, তা জনতে তিনি তার বশীভূত অনেক জিনকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, তার বশীভূত অনেক জাদরেল জিনও এ ব্যাপারে তাকে কিছুই জানাতে পারেনি। মৌলভী সুলতান সাহেব বিশ বছর বয়স থেকে পীরাকি এবং পঁচিশ বছর বয়স থেকে জিন সাধনা করে আসছেন। প্রচুর সমস্যাগ্রস্ত লোকেরা তার কাছে আসে বিভিন্ন ধরণের বিচিত্র সব সমস্যা নিয়ে। যতো মারাত্মক সমস্যাই হোক, জিনের মাধ্যমে তিনি লোকের সব সমস্যার সমাধান দিতে পারেন। তাছাড়া ইস্তেখারা নামক খুবই কার্যকরী একটি প্রথা রয়েছে। ইস্তেখারার মাধ্যমে যেকোনো সমস্যার সূত্র বা সমাধানের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। মৌলভী সাহেবের ট্রিটমেন্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ তরিকা হলো ইস্তেখারা। নিজের মেয়েদের নির্মম হত্যা রহস্যের সূত্র জানার জন্য তিনি প্রচুর ইস্তেখারা করেও কোনো ফল পাননি।
সেপ্টেম্বর মাসের শুষ্ক, উষ্ণ এক সন্ধ্যায় মৌলভী সাহেব নিজের হুজরাখানায় বসে এক মনে তসবিহ পড়ছিলেন। একটা খতম মেনেছেন কয়েকদিন আগে। হঠাৎ তার সাগরেদ হুজরাখানায় এসে জানালো মৌলভী সাহেবের সাথে দেখা করতে এসেছেন এক মহিলা ও তার ছেলে। যদিও হুজরাখানায় মহিলাদের ঢোকার ব্যাপারটা সুন্দর দেখায় না, তারপরও তিনি মহিলাকে ছেলেসহ তার কামরায় আসতে অনুমতি দিলেন। কামরায় প্রবেশ করার সময় মৌলভী সাহেব স্পষ্ট দেখতে পেলেন একজন দীর্ঘদেহী ফর্সা, সাদা, লম্বা, চুল, দাঁড়ি বিশিষ্ট বৃদ্ধ ব্যক্তি মহিলাটির পিছনে পিছনে আসছেন। জ্ঞানী বিজ্ঞ মানুষ এই মৌলভী সুলতান। বুঝে ফেললেন প্রলয়ের আভাস। তিনি বুঝতে পারলেন, এই মুহূর্তে একমাত্র আল্লাহ ছাড়া তাকে বাঁচানোর কেউ নেই। কারণ মহিলাটি ও তার ছেলের মুখ যে অবিকল মৌলভী সাহেবের দুই মেয়ের মুখের মতো! আর কোথায় সেই দীর্ঘদেহী, ফর্সা, বৃদ্ধ ব্যক্তি, সে যে একদম বাতাসের সাথে মিলিয়ে গেছে...।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT