সম্পাদকীয়

গৃহঋণে সুদ কমলো

প্রকাশিত হয়েছে: ০২-১০-২০১৯ ইং ০০:৪১:০৭ | সংবাদটি ৭৬ বার পঠিত

গৃহঋণে সুদের হার কমিয়েছে হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন। দফায় দফায় সুদের হার কমাচ্ছে এই সরকারি প্রতিষ্ঠানটি। এখন উপজেলা সদর, উপজেলা সদরের আশেপাশের এলাকা এবং উপজেলার যেকোনো সমৃদ্ধ এলাকায় কৃষক আবাসন ঋণের সুদ এখন সাত শতাংশ। আগে যা ছিলো আট শতাংশ। এছাড়া ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ছাড়া দেশের অন্যান্য এলাকায় গৃহায়ণ ঋণের সুদের হার এখন আট শতাংশ। আগে যা ছিলো সাড়ে আট শতাংশ। এইচবিএফসি গত দু’বছরে সুদের হার কমালো তিন বার। সে হিসেবে এখন আগ্রহীরা সাত এবং আট শতাংশ সুদে গৃহ নির্মাণ ঋণ নিতে পারছেন। যা একটি লোভনীয় বিষয় এবং মানুষ অতি উৎসাহে এখন গৃহনির্মাণ ঋণ নিতে আগ্রহী হয়ে উঠবেন, এমনটি ভাবার কোন কারণ নেই। সুদের হার যতোই কমানো হোক, এই ঋণ প্রাপ্তি কিন্তু সহজ নয়। অর্থাৎ ঋণ প্রদান প্রক্রিয়ায় যে জটিলতা ছিলো তার কোন পরিবর্তন হয়নি। যে কারণে মানুষ চাইলেই হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন থেকে ঋণ নিতে পারবে না।
আবাসন মানুষের অতি গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক চাহিদা। আমাদের সংবিধানেও এই অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। অথচ এ দেশের সব মানুষের জন্য এই অধিকার নিশ্চিত হয়নি। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সবার জন্য আবাসন নিশ্চিত হচ্ছে না। সরকারি হিসেবেই দেশের ২৭ শতাংশ মানুষের নিজস্ব ঘরবাড়ি নেই। দেশে ৬২ শতাংশ মানুষ ভূমিহীন। আর ৯০ শতাংশ মানুষ বাস করে আধা পাকা বা টিনের ঘরে। মাত্র দশ শতাংশ মানুষ পাকা বাড়িতে বাস করে। সার্বিকভাবে সারাদেশে নিজস্ব আবাসহীন মানুষের সংখ্যা ৫০ শতাংশ। অপরদিকে বিগত অর্ধশতাব্দীতে এ ভূখ-ের জনসংখ্যা বেড়েছে তিনগুণের বেশি। এই বর্ধিত জনসংখ্যার প্রয়োজনে আবাসন খাতে বিপুল পরিমাণ জমি ব্যবহৃত হয়েছে। দেখা গেছে গত চার দশকে দেশের ফসলি জমির পরিমাণ অর্ধেকে নেমে এসেছে। বর্ধিত জনসংখ্যার জন্য শুধু আবাসন নয় রাস্তাঘাট শিল্পকারখানাসহ অন্যান্য স্থাপনাও নির্মিত হচ্ছে।
আবাসন সমস্যা নিরসনে সরকার নানা ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। কিন্তু এতে সার্বিকভাবে বৃহত্তর জনগোষ্ঠী খুব একটা লাভবান হচ্ছে না। অর্থাৎ সরকারি কর্মচারীদের জন্য দেয়া হচ্ছে সহজশর্তে হোম লোন, মুক্তিযোদ্ধাদের দেয়া হচ্ছে ঘর নির্মাণ করে, জমি আছে ঘর নেই এমন পরিবারকে ঘর তৈরি করে দেয়া হচ্ছে। এর বাইরে রয়েছে আরও কয়েকটি প্রকল্প। কিন্তু এর কোন কিছুতেই সীমিত আয়ের মধ্যবিত্ত ও নি¤œমধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষদের ঠাঁই নেই। এদের বংশ পরম্পরায় থাকতে হচ্ছে ভাড়া বাড়িতে কিংবা অন্যের বাড়িতে। এই শ্রেণির মানুষের জন্য নেই হোম লোন কিংবা অন্য কোন সুবিধা। ব্যাংকসহ অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন এদের জন্য গৃহনির্মাণ ঋণ দিচ্ছে ঠিকই, কিন্তু এর প্রক্রিয়া জটিল। সম্প্রতি ঋণের সুদ হার কমানো হয়েছে। আমরা চাই সেই সঙ্গে ঋণ প্রদান প্রক্রিয়া আরও সহজতর হোক।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT