সম্পাদকীয়

বিদ্যালয়ে টিউশন ফি নীতিমালা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩-১০-২০১৯ ইং ০০:২৭:০৭ | সংবাদটি ১৪৬ বার পঠিত


বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি নির্ধারণ করে দেবে সরকার। এই লক্ষে তৈরি হচ্ছে টিউশন ফি নীতিমালা। মূলত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে গলাকাটা টিউশন ফি আদায় বন্ধ করতেই নেয়া হয়েছে এই উদ্যোগ। এই নীতিমালায় প্রতিষ্ঠানভেদে টিউশন ফি নির্ধারণ করে দেবে সরকার। সারা দেশের এমপিওভুক্ত এবং নন এমপিও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের টিউশন ফি নির্ধারণ করতে ইতোমধ্যেই ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি আগামী মাস খানেকের মধ্যে ফি নির্ধারণের কমিটি সম্পন্ন করে দেবে বলে আশা করা যাচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য যৌক্তিক টিউশন ফি নির্ধারণ করার জন্য অভিভাবকদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে সরকার এই উদ্যোগ নিলো। এখন সবচেয়ে জরুরি হলো এই উদ্যোগের সফল বাস্তবায়ন।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তি কিংবা টিউশন ফি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে বুদ্ধিজীবী মহলে দীর্ঘদিন ধরে। এই ফি নির্ধারণে কোন ধরনের নিয়ম-নীতির বালাই নেই। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই নিজেদের ইচ্ছেমতো বিভিন্ন ফি নির্ধারণ করে। আর বেশিরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেরই ভর্তি ফি, টিউশন ফি আর সেশন ফি’র হার অস্বাভাবিক। তা-ও আবার প্রতি বছর বাড়ানো হয়। এই প্রবণতা এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেমন রয়েছে তেমনি নন এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানেও। বরং ননএমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে এইসব ফি-এর হারটি বলা যায় আকাশছোঁয়া। বিশেষ করে, ইংলিশ মিডিয়াম, কিন্ডার গার্টেন ইত্যাদি বিশেষায়িত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে চলছে রীতিমতো ‘অরাজক’ অবস্থা। উন্নতমানের শিক্ষা প্রদানের নাম করে এই ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভিভাবকদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে গলাকাটা ফি। অভিভাবকেরাও অনেক সময় সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে এই ফি পরিশোধ করতে বাধ্য হচ্ছেন। অথচ এই সব ফি নির্ধারণে নেই সরকারের কোন নিয়ন্ত্রণ। সত্যি বলতে কি, দেশের হাজার হাজার কিন্ডার গার্টেন-ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেরই যথাযথ অনুমোদন নেই সরকারের।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি নির্ধারণে এবার তৈরি হচ্ছে নীতিমালা। কিন্তু এই নীতিমালা বাস্তবায়ন করাই হচ্ছে বড় কথা। আর নীতিমালা হলেও তা যে সবাই মেনে চলবে, তা-ও বলা যায় না। স্মরণ করা যেতে পারে, ২০১৬ সালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ভর্তির ফি নির্ধারণ করে দেয়ার পর অনেক প্রতিষ্ঠানই সরকার নির্ধারিত হার-এর বেশি ফি নিচ্ছে বলে প্রায় সময় অভিযোগ ওঠে। টিউশন ফি নির্ধারণে যাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠা নয়, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের স্বার্থ রক্ষা করা হয় সেটা দেখতে হবে। আর সেই নীতি বাস্তবায়নের ওপর নজরদারি রাখতে হবে।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT