সম্পাদকীয় বৃদ্ধদের প্রতি অবজ্ঞা পোষণ করো না, কারণ অভিজ্ঞতার মূল্য অনেক।- ডব্লিউ বি, যান্তস।

বিনাসুদে কৃষিঋণ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪-১০-২০১৯ ইং ০০:৩৪:৩৪ | সংবাদটি ৫৪ বার পঠিত

বিনাসুদে কৃষিঋণ পাবে কৃষক। চলছে এর নীতিমালা তৈরির কাজ। কৃষকের ব্যাংক ঋণের সুদ দেবে সরকার। কৃষক কেবল ঋণের আসল ব্যাংকে পরিশোধ করবে। এই ব্যাপারে সরকারের বক্তব্য হচ্ছে আমরা চাই লাভজনক ও নিরাপদ কৃষি। এ নিয়ে কাজ চলছে। কৃষি উৎপাদন দ্বিগুণ করতে আবাদি জমিকে চার ফসলি করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। কারণ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ফসলের উৎপাদন দ্বিগুণ করতে হবে।
বর্তমানে হেক্টরে উৎপাদন হয় দুই দশমিক ৬৬ মেট্টিকটন। এই উৎপাদন ২০৩০ সালের মধ্যে পাঁচ দশমিক ৩২ মেট্টিকটন-এ উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর এটি অর্জনে রয়েছে অনেক চ্যালেঞ্জ। কারণ বর্তমানে কৃষক উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য পাচ্ছে না। কৃষি জমি সংকুচিত হচ্ছে। তাই কৃষকদের বাঁচাতে হবে; রক্ষা করতে হবে কৃষি জমি। তবেই সম্ভব ফসল উৎপাদন দ্বিগুণ করার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন।
কৃষিতে বৈপ্লবিক সাফল্য এসেছে; এটি এখন আর নতুন করে বলার প্রয়োজন নেই। দেশে প্রতিনিয়ত কৃষি জমি কমছে, অথচ ফসল উৎপাদন বেড়ে চলেছে। স্বাধীনতার পর দেশে বার্ষিক চাল উৎপাদনের পরিমাণ ছিলো মাত্র দেড় কোটি মেট্টিকটন। আর বর্তমানে চালের উৎপাদন সাড়ে তিন কোটি মেট্টিকটন-এর বেশি। এই উৎপাদন চার কোটি মেট্টিকটন-এ উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। গবেষকদের মতে, ১৯৭২ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ২৬ লাখ ৬৬ হাজার একরের বেশি কৃষি জমি অকৃষিখাতে চলে গেছে। সরকারের মৃত্তিকা উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের তথ্য হচ্ছে ২০০০ সাল থেকে পরবর্তী বছরগুলোতে দেশে প্রতিবছর ৬৮ হাজার সাত শ’ ৬০ হেক্টর আবাদি জমি অকৃষি খাতে চলে গেছে। বর্তমানে দেশে চাষযোগ্য জমির পরিমাণ ৮০ লাখ ৩০ হাজার হেক্টর। ক্রমাগত সংকুচিত হয়ে আসা এই কৃষি জমিতেই উচ্চ ফলনশীল ফসল চাষ করে অভাবনীয় সাফল্য অর্জিত হয়েছে।
কৃষক ও কৃষির সঙ্গে জড়িত সরকারী চাকরি জীবীসহ অন্যান্যদের মেধা, শ্রম ও আন্তরিক প্রচেষ্টাই কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। এক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন ইতিবাচক উদ্যোগের কথা উল্লেখ করা যায়। এর মধ্যে প্রথমেই ধরা যায় কৃষিঋণ। বিভিন্ন মওসুমে ফসল উৎপাদনে দেয়া হচ্ছে ঋণ। তবে এই ঋণ এর ব্যাপারে কৃষকদের অভিজ্ঞতা সুখকর নয়। ঋণ বরাদ্দ থেকে শুরু করে আদায় পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে কৃষকদের হয়রানী করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এবার কৃষিঋণে সুদ দিতে হবে না বলে সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটা প্রশংসনীয়। সেই সঙ্গে ঋণ সংক্রান্ত সব ধরণের জটিলতা নিরসনের পদক্ষেপ নিতে হবে।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT