উপ সম্পাদকীয় দৃষ্টিপাত

দুর্নীতিবিরোধী অভিযান সফল হউক

মো. সাব্বির হুসাইন প্রকাশিত হয়েছে: ০৫-১০-২০১৯ ইং ০০:১৭:১৩ | সংবাদটি ৭৪ বার পঠিত

সম্প্রতি সরকার কর্তৃক গৃহীত দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চলছে। আর এ অভিযানের ফলেই সকল দুর্নীতিবাজদের মুখোশ ও তাদের মাত্রাহীন দুর্নীতির চিত্র দেশের সকল মানুষের নিকট উন্মোচিত হচ্ছে। সরকারের গৃহীত দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে কারণ দুর্নীতিনামক ভূত দেশের ওপর ভয়াবহ আকারে চেপে বসেছে। আর দুর্নীতির এই ভূত ছাড়াতে ওঝার দায়িত্ব সরকার নিজেই নিয়েছে। প্রমাণ হিসেবে সম্প্রতি দুর্নীতিবিরোধী এ অভিযানকে দাঁড় করানো যেতে পারে। প্রশাসন থেকে শুরু করে সরকারের প্রতিটি সেক্টর দুর্নীতিগ্রস্ত। সরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারী, রাজনীতিবিদ অর্থাত্ চুনোপুঁটি থেকে শুরু করে রাঘববোয়াল পর্যন্ত কমবেশি সবাই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।
এমন অবস্থায় দেশের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়, কারণ আমরা জানি যে দুর্নীতিই হচ্ছে সকল উন্নতির অন্তরায়। আর দুর্নীতির এই কুফল ভোগ করছে দেশের সাধারণ মানুষ। তাই দুর্নীতির এই কালো থাবা থেকে দেশকে মুক্ত করতে সরকার তার নিজ ঘর থেকেই দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরু করে এক ধরনের সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে। পর্যায়ক্রমে সরকারের প্রতিটি সেক্টরে এ অভিযান পরিচালনা করার জন্য প্রশাসনকে নির্দেশও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের যে বা যারা দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে দুর্নীতিবিরোধী এ অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। অপরাধী অপরাধীই তার কোনো দলীয় পরিচয় থাকতে পারে না, সন্ত্রাসবাদের ন্যায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের কৌশলই দুর্নীতি প্রতিরোধে সরকারের সফলতা আসতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া অকল্পনীয় কিছু দুর্নীতির খবর দেশবাসী জেনেছে। এ সকল দুর্নীতির মধ্যে রয়েছে পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত্ প্রকল্পের বালিশ দুর্নীতি, ফরিদপুর হাসপাতালের পর্দা দুর্নীতি। বান্দরবানের ঘরের চালের টিন কেনা নিয়ে দুর্নীতি। এছাড়া চাকরিক্ষেত্রে নিয়োগ বাণিজ্য, অবৈধভাবে জমি দখল, নদী দখল ইত্যাদির মাধ্যমে দুর্নীতির ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠছে। সদ্য বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা জিসান মাহমুদ ও জিকে শামীমের গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তার অবস্থানকে স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে অপরাধ করে কোনোভাবেই পার পাওয়া যাবে না সে যে দল বা সংগঠনের যত বড়ো প্রভাবশালী নেতাই হোক। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়াকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ করায় অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেড়িয়ে এসেছে এবং আটকের পর তার কাছ থেকে ৪০০ পিস ইয়াবা ও প্রায় ১০ লাখ টাকা ছাড়াও প্রায় ৬ লাখ টাকার ডলার পাওয়া যায়। এছাড়াও তিনটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয় যার মধ্যে অবৈধ অস্ত্র ছিল একটি। অপরদিকে যুবলীগের আরেক নেতা জিকে শামীমের গুলশানের নিকেতনের বাসা ও অফিস থেকে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য, নগদ ১ কোটি ৮১ লাখ টাকা, কয়েক লাখ টাকার ডলার, ১৬৫ কোটি টাকার এফডিআর, সাতটি শর্টগানসহ একটি পিস্তল ও বুলেট উদ্ধার করে। উল্লেখ্য, জিকে শামীম বিএনপির আমলে বিএনপির রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসার নামে কোটি কোটি টাকা আয় করত যুবলীগের কিছু প্রভাবশালী নেতা, চলমান দুর্নীতিবিরোধী এ অভিযানে তাদের অনেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক হয়েছেন এবং অবৈধ ব্যবসার নামে উপার্জিত নগদ টাকার পাশাপাশি তাদের ব্যাংক হিসাবও জব্দ করা হয়েছে। এবং তাদের নিকট থেকে জব্দকৃত টাকা বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ব্যয় করার কথাও বলেছেন অনেকেই। আর দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত বাকিদেরও গ্রেফতারের লক্ষ্যে অভিযান চলছে। অর্থাত্ এ রকম হাজারো দুর্নীতিবাজদের দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ। তাই দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করতে আমাদের উচিত সরকারের এই চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযানকে নৈতিক সমর্থন ও সাধুবাদ জানিয়ে বিভিন্ন তথ্য দিয়ে সরকারকে সহযোগিতা করা। আর তরুণ প্রজন্মের পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি আহ্বান থাকবে দুর্নীতিবিরোধী এই অভিযান যেন সারা বছর অব্যাহত থাকে। তাহলেই সরকারের পক্ষে দুর্নীতিমুক্ত, ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত, ও সমৃদ্ধশালী স্বপ্নের সোনার বাংলা উপহার দেওয়া সম্ভব।
লেখক : শিক্ষার্থী।

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • শিশুহত্যা : শিশুদের মানসিক বিকাশের অন্তরায়
  • আওয়ামী লীগের সম্মেলন ও শুদ্ধি অভিযান প্রসঙ্গে
  • পৃথিবীর বিশাল ক্যানভাসে
  • শিক্ষাঙ্গনে দলীয় রাজনীতি
  • আমাদের সন্তানরা কোন্ পথে যাচ্ছে
  • ‘জঙ্গি’ অপবাদ প্রসঙ্গে
  • ভিক্ষুক ও হিজড়া পুনর্বাসন প্রসঙ্গে
  • মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষাই বদলে দেবে বাংলাদেশ
  • যানজটে লোকসান ও ভোগান্তি
  • বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস
  • আমরা কি এই বাংলাদেশ চেয়েছিলাম?
  • আবরার হত্যা ও বুয়েট শিক্ষার্থীদের দশ দফা
  • বিশ্ববিদ্যালয়ে রেগিং প্রসঙ্গ
  • মানব পাচার মামলা নিষ্পত্তি প্রসঙ্গ
  • মধ্যপ্রাচ্য, পারস্য উপসাগর ও বৃহৎ শক্তির রাজনীতি
  • বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌথ ভর্তি পরীক্ষা
  • হিমশীতল মৃত্যু উপত্যকা
  • আমাদের ও এই গ্যাংরিনাক্রান্ত সমাজকে তুমি ক্ষমা করো আবরার
  • টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশ
  • শতবর্ষী রিক্সা এবং প্রাসঙ্গিক কিছু কথা
  • Developed by: Sparkle IT