উপ সম্পাদকীয়

প্রসঙ্গ : বিদেশে শ্রমজীবী নারী

মোঃ মনজুর আলম প্রকাশিত হয়েছে: ০৬-১০-২০১৯ ইং ০০:২৭:২৩ | সংবাদটি ৭৯ বার পঠিত

সমাজের মানুষ এক দেশ থেকে অন্য দেশে যায় একটু ভালো থাকার জন্য। একটু আরাম আয়েশ বা সুখ স্বাচ্ছন্দ্যে থাকার জন্য দেশের আত্মীয়-স্বজন, পরিবার-পরিজন রেখে বিদেশ যায় টাকা রুজির জন্যই। বর্তমানে নারীর ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাওয়াতে নারীরাও চাকুরী করতে দেশে-বিদেশে ছুটছে। শ্রমজীবী নারীরা মধ্যপ্রাচ্যে তাদের কর্মস্থল সৃষ্টি হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশে কাজ নিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু এটা কতটুকু সুখকর! কেহ দালালের মাধ্যমে বিদেশ গিয়ে কঠিন অবস্থার সম্মুখীন হচ্ছেন। অবস্থা এতোই কঠিন যে অনোন্যপায় হয়ে কেহ দেশে ফেরত আসছেন একদম খালি হাতে। আবার কেহ বা আত্মহত্যা করে লাশ হয়ে ফেরত আসছেন। গ্রামের হতদরিদ্র নারীরা নিজের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য সাধারণত বিদেশে গৃহকর্মী বা অন্য কোনো কাজে গিয়ে শ্রম দিয়ে থাকেন। গৃহকর্মী বা গৃহপরিচারিকা ছাড়াও গার্মেন্ট, বিভিন্ন ফ্যাক্টরি এবং নার্সিং পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন। এর বাইরে নারী শ্রমিকরা পরিচ্ছন্নতা কাজে, শিশু ও বৃদ্ধদের পরিচর্যা কাজে, দোকানে বিক্রয় সহযোগী এবং বিউটি পার্লারে কর্মী হিসেবে কাজ করেন। এসব শ্রমজীবী নারী বিভিন্ন সময় প্রতিনিয়ত হয়রানি, প্রতারণা, শারীরিক নির্যাতন, ধর্ষণ ও বিভিন্ন যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। নির্যাতনের শিকার এসব নারী কর্মীরা দেশে ফিরলেও পরিবারে তাদের স্থান হয় না। লোকলজ্জার কারণে পরিবার তাদের গ্রহণ করতে চায় না। কারণ শারীরিক নির্যাতন ছাড়াও জোরপূর্বক যৌন কাজে নিযুক্ত করা হয়েছে। গৃহকর্তার মাধ্যমে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। কেহ কেহ অন্তঃস্বত্বা হয়েছেন, কেহ কেহ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে কাজ করতে গিয়ে কত নারীর লাশ দেশে এসেছে। দালালদের প্রতারণায় পড়ে বিদেশ যেতে উদ্বুদ্ধ হয়ে। যে কাজের কথা বলে দালাল চক্র বিদেশ নেয় সেখানে গিয়ে দেখা যায় সেই কাজ নয় অন্য কাজে তাকে বাধ্য করা হয়। তাদের মধ্যে কেহ কেহ অনৈতিক কাজে বা যৌন কাজে রাজি না হওয়ায় অমানবিক অত্যাচারের শিকার হন। বিদেশে কাজের কথা বলে নেয়া হলেও এটি মানবপাচারের মতো হয়ে যায়। তাদের মধ্যে অনেকেই তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন না। কোন নিয়ম নীতি নাই বলে অনেক ক্ষেত্রে তারা পারিশ্রমিকও পান না। শুধু কোনমতে খেয়ে পরে থাকতে হয়। হয়ত বা দালাল তাদের পারিশ্রমিক উঠিয়ে নেয় তারা তা বলতেও পারে না। বিদেশ থেকে ফেরত এসে যখন নারী শ্রমিক বা গৃহকর্মীরা এসব কথা বলেন তখন করারও কিছু থাকে না। কারণ দালালের মাধ্যমে যাওয়ায় এজেন্সির নামও তারা জানেন না। বিদেশ পৌঁছার পর তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর অনেকে গর্ভবতী বলে রিপোর্ট আসে। তখন এই নারীকে কাজে না পাঠিয়ে সেন্টার হোমে পাঠাতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। দালালের খপ্পরে পড়ে আমাদের নারীরা হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
আমাদের নারীরা যারা বিদেশ গিয়ে কাজ করতে চান তারা যদি জানতেন যে বিনা খরচেও সরকারি মাধ্যমে বিদেশ যাওয়া যায় তবে মনে হয় এই বিড়ম্বনায় পড়তেন না। অনেকেই এভাবে খালি হাতে ফেরত আসতেন না। দালালরা ৪০-৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করে মহিলা কর্মীদের বিদেশ চাকুরী দিবে বলে বিদেশ পাঠিয়ে থাকে। বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে নারীদের কর্মদক্ষতা বাড়িয়ে এবং ভাষা জ্ঞান দিয়ে সরকারিভাবে বিনা খরচে মহিলাদের বিদেশ পাঠানো হয়। এইভাবে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার মহিলা কারিগরি থেকে অনেক নারীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে বিদেশ পাঠানো হয়েছে।
দক্ষিণ সুরমার (আলমপুরে) মহিলা কারিগরিতে বিভিন্ন ট্রেডে মহিলাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে যোগ্য করে গড়ে তোলা হয়। এসব মহিলা চাইলে দেশে বিভিন্ন স্থানে তাদের দক্ষতা দিয়ে কাজ করতে পারেন। আর যারা বিদেশ যেতে ইচ্ছুক তাদেরকে এই কর্তৃপক্ষই বিদেশের সমস্ত লাইন করে দিয়ে থাকেন। আমাদের মনে রাখতে হবে গৃহকাজ সহজ মনে করে টাকা উপার্জনে বিদেশ গিয়ে যৌন কর্মী হয়ে গেলে কিংবা যৌন হয়রানীর শিকার হলে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। নারীর সম্মানের সাথে দেশের সম্মানও জড়িত। এটা ভুলে গেলে চলবে না। নারীর কর্মদক্ষতা বাড়িয়ে গৃহকাজ ছাড়াও অন্য কাজ যেমন বিভিন্ন ফ্যাক্টরী, দোকান, গার্মেন্ট ইত্যাদিতে চাকুরী করা যায়। গৃহস্থালির কাজে গেলে ইজ্জত খোয়ানোর আশঙ্কা থাকে। যে গৃহকাজ করা হয় সে গৃহেই অবস্থান এবং রাত্রি যাপন করতে হয়। কর্মস্থলে আট ঘন্টা কর্ম করে রাতে অন্যত্র থাকলে কিংবা কয়েকজন মেয়ে একই আবাসস্থলে থাকলে যৌন হয়রানীর আশঙ্কা কম থাকে। যে সমস্ত নারী/মেয়ে বিদেশে যাবেন তাদেরকে অবশ্যই লেখাপড়া জানতে হবে। আত্মীয়-স্বজনকে বলতে হবে বিদেশ যাওয়ার ব্যাপারে। নিজের পাসপোর্ট নাম্বার জানা থাকা দরকার। যে দেশে যাচ্ছেন সে দেশস্থ বাংলাদেশের এ্যাম্বেসির ঠিকানা সংগ্রহ করা দরকার। যে কোন প্রয়োজনে যোগাযোগ করা যেতে পারে। যেখানেই যান না কেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আপনার চুক্তি, বেতন, মেয়াদ ইত্যাদি ভালো করে জেনে নিতে হবে।

 

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • শিশুহত্যা : শিশুদের মানসিক বিকাশের অন্তরায়
  • আওয়ামী লীগের সম্মেলন ও শুদ্ধি অভিযান প্রসঙ্গে
  • পৃথিবীর বিশাল ক্যানভাসে
  • শিক্ষাঙ্গনে দলীয় রাজনীতি
  • আমাদের সন্তানরা কোন্ পথে যাচ্ছে
  • ‘জঙ্গি’ অপবাদ প্রসঙ্গে
  • ভিক্ষুক ও হিজড়া পুনর্বাসন প্রসঙ্গে
  • মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষাই বদলে দেবে বাংলাদেশ
  • যানজটে লোকসান ও ভোগান্তি
  • বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস
  • আমরা কি এই বাংলাদেশ চেয়েছিলাম?
  • আবরার হত্যা ও বুয়েট শিক্ষার্থীদের দশ দফা
  • বিশ্ববিদ্যালয়ে রেগিং প্রসঙ্গ
  • মানব পাচার মামলা নিষ্পত্তি প্রসঙ্গ
  • মধ্যপ্রাচ্য, পারস্য উপসাগর ও বৃহৎ শক্তির রাজনীতি
  • বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌথ ভর্তি পরীক্ষা
  • হিমশীতল মৃত্যু উপত্যকা
  • আমাদের ও এই গ্যাংরিনাক্রান্ত সমাজকে তুমি ক্ষমা করো আবরার
  • টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশ
  • শতবর্ষী রিক্সা এবং প্রাসঙ্গিক কিছু কথা
  • Developed by: Sparkle IT