উপ সম্পাদকীয়

দুর্গাপূজা

রঞ্জিত কুমার দে প্রকাশিত হয়েছে: ০৭-১০-২০১৯ ইং ০১:১৫:১১ | সংবাদটি ৭৮ বার পঠিত

হিন্দু সম্প্রদায়ের শ্রেষ্ঠ এবং সার্বজনীন উৎসব দুর্গাপূজা। একে শারদীয় পূজাও বলা হয়ে থাকে। নতুন বসন-ভূষণে সজ্জিত হয়ে হিন্দুরা মহা ধূম ধামের সঙ্গে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা পালন করেন। মহামায়া, দুর্গা দশভুজ এবং শক্তির অধিষ্ঠাত্রী দেবী। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন এক এক দেবতা এক এক অভীষ্ঠ সিদ্ধ করেন। পুরাকালে এক রাক্ষসের হাতে স্বর্গের দেবতারা নিষ্পেষিত হতে থাকেন। অমর বর প্রাপ্ত এ রাক্ষসকে সকল দেবতা সম্মিলিতভাবে বধ করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। অত:পর তারা ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরের শরণাপন্ন হন। এদের দেহ থেকে নির্গত শক্তিপুঞ্জ এক জ্যোতির্ময়ী নারী বিশেষ মূর্তি ধারন করেন। এ নারী মূর্তিই দেবী দুর্গা।
সত্যযুগে সুরথ নামে এক রাজা ছিলেন। তিনি রাজ্য হতে ক্ষমতাচ্যূত হয়ে বনে চলে যান। সেখানে স্ত্রী পুত্র কর্তৃক বিতাড়িত সমাধি বৈশ্য নামের এক ব্যক্তির আগমণ ঘটে। উভয়েই মহা সংকটে পড়লেন। এ সংকট থেকে মুক্তি লাভের আশায় এক সত্যাদর্শী মুনীর পরামর্শে রাজা সুরথ ও সমাধি বৈশ্য বসন্ত কালে দেবী দুর্গার পূজা করেছিলেন। তাই দুর্গাপূজাকে বাসন্তি পূজাও বলা হয়। আবার লঙ্কার রাজা রাবণ বধের জন্য অযোধ্যার রাজা দশরথের পুত্র রামচন্দ্র শরৎকালে দুর্গাদেবীর অর্চনা করেন, এ জন্যে এটি শারদীয় দুর্গোৎসব নামে পরিচিত। শারদীয় দুর্গোৎসবকে অকালবোধনও বলা হয়ে থাকে।
আষাঢ় মাসের শুক্লা একাদশী তিথিকে বলা হয় শয়ন একাদশী। কারণ এদিন দেবতাদের শয়ন আর কার্তিক মাসের একাদশী তিথিকে বলে উম্বান একাদশী। এদিন দেবতাদের জাগরণ। শয়ন একাদশী থেকে উত্থান একাদশী সময়টা এক প্রকার অকাল। এ সময় নিদ্রিত দেব-দেবীর পূজা করতে হলে দরকার হয় বোধনের। নিদ্রিত দেব-দেবীকে বোধনের মাধ্যমে জাগ্রত করে রামচন্দ্র পূজা করেছিলেন বলে শরৎকালের দুর্গাপূজাকে অকাল বোধনও বলা হয়ে থাকে। কালক্রমে মহারাজ রামচন্দ্রের এ শরৎকালীন পূজাই দুর্গাপূজা হিসেবে প্রচলিত হয়ে আসছে।
মাটি, খড়, বাঁশ, রঙ ইত্যাদির সাহায্যে দুর্গাদেবীর মূর্তি তৈরি করা হয়। পুরানে বলা হয়েছে যে দুর্গা কৈলাস পর্বতের শিখরে স্বামী গৃহ শিবের প্রাসাদে বাস করেন। বছরান্তে স্বামীগৃহ থেকে মর্ত্যে পিতৃগৃহে পুত্র কন্যাসহ আগমন করেন। এ উপলক্ষে হিন্দুরা তাদের কল্পিত মূতি তৈরি করে পূজা করেন। দুর্গাকে দশটি হাতের অধিকারিনী অর্থাৎ দশভুজা বলে কল্পনা করা হয়। আর এ কল্পিত দেবীর দশ হাতে দশটি অস্ত্র থাকে।
দুর্গা পূজার দুটি সময় বসন্তকাল এবং শরৎকাল। এর মধ্যে বসন্ত কালের পূজাই প্রশস্ত। একে ‘বাসন্তী পূজা’ বলে। কথিত আছে যে, লঙ্কার রাজা রাবণকে বধ করার জন্য রামচন্দ্র শরৎকালে অর্থাৎ অকালে দেবীর পূজা করেছিলেন। এজন্য একে অকাল বোধন বলা হয়। তখন থেকেই শরৎকালীন দুর্গা পূজার প্রচলন শুরু হয়। একে শারদীয় উৎসবও বলা হয়ে থাকে। দশভুজ বিশিষ্ট দেবীর মূর্তি পূজা হয়ে থাকে। তিনির ডানে থাকেন লক্ষ্মী এবং বামে সরস্বতী। সঙ্গে সিদ্ধিদাতা গণেশ এবং দেব সেনাপতি কার্তিক। দেবী সিংহবাহিনী। দেবীর এক পা সিংহের উপর অপর পা অসুরের উপর। দেবী দশহাতের অস্ত্র দ্বারা অসুরকে আঘাত করতে উদ্যত। শরৎকালের শুক্লাতিথিতে দেবীর বোধন হয় এবং সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী এই তিনদিন মহাসমারোহে পূজা হয়। দশমীর দিনে দেবীর বিসর্জন হয়। ঐ দিন নিকটস্থ জলাশয়ে দেবীর প্রতিমা বিসর্জন করা হয়। ঐদিনকে বলা হয় বিজয়া দশমী। এদিন হিন্দুরা সম্বন্ধ অনুসারে পরস্পরকে প্রণাম, আশীর্বাদ, আলিঙ্গন করে থাকেন। এ অনুষ্ঠানটি পরস্পরের মনোমালিন্য দূর করে প্রীতির সম্বন্ধ স্থাপন করে।
দুর্গাপূজা বাঙালি হিন্দুদের শ্রেষ্ঠ উৎসব। তারা কর্মক্লান্ত এবং পরিশ্রান্ত প্রাণকে এই উৎসবে সতেজ এবং উৎফুল্ল করে তোলে। অতীতের বিবাদ-বিসম্বাদ দূর করে সাদর সম্ভাষণের মধ্য দিয়ে পরস্পরের মধ্যে প্রীতি ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
লেখক : অব: শিক্ষক।

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • শিশুহত্যা : শিশুদের মানসিক বিকাশের অন্তরায়
  • আওয়ামী লীগের সম্মেলন ও শুদ্ধি অভিযান প্রসঙ্গে
  • পৃথিবীর বিশাল ক্যানভাসে
  • শিক্ষাঙ্গনে দলীয় রাজনীতি
  • আমাদের সন্তানরা কোন্ পথে যাচ্ছে
  • ‘জঙ্গি’ অপবাদ প্রসঙ্গে
  • ভিক্ষুক ও হিজড়া পুনর্বাসন প্রসঙ্গে
  • মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষাই বদলে দেবে বাংলাদেশ
  • যানজটে লোকসান ও ভোগান্তি
  • বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস
  • আমরা কি এই বাংলাদেশ চেয়েছিলাম?
  • আবরার হত্যা ও বুয়েট শিক্ষার্থীদের দশ দফা
  • বিশ্ববিদ্যালয়ে রেগিং প্রসঙ্গ
  • মানব পাচার মামলা নিষ্পত্তি প্রসঙ্গ
  • মধ্যপ্রাচ্য, পারস্য উপসাগর ও বৃহৎ শক্তির রাজনীতি
  • বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌথ ভর্তি পরীক্ষা
  • হিমশীতল মৃত্যু উপত্যকা
  • আমাদের ও এই গ্যাংরিনাক্রান্ত সমাজকে তুমি ক্ষমা করো আবরার
  • টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশ
  • শতবর্ষী রিক্সা এবং প্রাসঙ্গিক কিছু কথা
  • Developed by: Sparkle IT