প্রথম পাতা দুর্গাপূজার প্রতিমা বিসর্জন

শারদীয় দুর্গোৎসব, বাঙালির উৎসব ------ ড. একে আব্দুল মোমেন

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯-১০-২০১৯ ইং ০২:৫০:১৬ | সংবাদটি ৯৮ বার পঠিত

সিলেট সম্প্রীতির নগরী
------- মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী

স্টাফ রিপোর্টার : সিলেটে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হলো হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। এক দিকে আনন্দ, অন্যদিকে বিষাদের সুরে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানিয়েছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। শান্তি আর ভ্রাতৃত্বের বাণী শুনিয়ে দেবী দুর্গা মর্ত্যলোক ছেড়ে চলে গেছেন স্বর্গ শিখরে কৈলাশে স্বামীগৃহে। তিনি গেলেও পেছনে রেখে গেছেন ভক্তদের আনন্দ-বেদনা আর আগামী বছর ফিরে আসার প্রত্যয়।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৪টা থেকেই নগরীর বিভিন্ন মন্দির থেকে উৎসবের আবহে প্রতিমা নিয়ে সুরমা নদীর চাঁদনীঘাটের পথে যাত্রা করেন পুণ্যার্থীরা। ট্রাকযোগে প্রতিমা নিয়ে আসার সময় তরুণদের রং খেলায় উল্লাস করতে দেখা গেছে। তেল-সিঁদুর পরিয়ে, মুখে মিষ্টি আর পান খাইয়ে মা দুর্গাকে বিদায় জানাতে সিলেটের সুরমা নদীর চাঁদনীঘাট তখন হাজারো পুণ্যার্থীর আগমনে মুখরিত হয়ে উঠে।
এদিকে, প্রতিমা বিসর্জন (নিরঞ্জন) শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করতে ছিলো প্রশাসনের কড়া নজরদারী। ব্যাপক নিরাপত্তার পাশাপাশি দুর্ঘটনা এড়াতে দমকল বাহিনীর ডুবুরী দলও প্রস্তুত ছিল।
এবার প্রতিমা বিসর্জন (নিরঞ্জন) অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন এমপি ও অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের মহানগর সভাপতি সুব্রত দেবের সভাপতিত্বে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন এমপি বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব বাঙালির আবহমানকালের উৎসবগুলোর একটি। আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিতে মিশে আছে সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার বার্তা। এদেশের জনগণ বিশ্বাস করে ধর্ম যার যার উৎসব সবার। সে কারণে বাংলাদেশ সম্প্রীতি নিয়ে গর্ব করে। তাইতো এই মাটির জনগণ ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সকলে একাত্ম হয়ে প্রতিটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শুধুমাত্র নির্দিষ্ট ধর্মাবলম্বীর হলেও উৎসবের সর্বাঙ্গীন সৌন্দর্য্য বিকশিত হয় সকলের অংশগ্রহণে।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সিলেট সম্প্রীতির নগরী। তিনি বলেন, এ নগরীর নাগরিকবৃন্দ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য রক্ষায় অঙ্গীকারাবদ্ধ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পূজা পরিষদ জেলার সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট রঞ্জন ঘোষ ও মহানগর শাখার সম্পাদক রজত কান্তি গুপ্তের যৌথ পরিচালনায় শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য-মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক বিজিত কুমার দে, বিরাজ মাধব চক্রবর্তী মানস, পূজা উদ্যাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক এডভোকেট মৃত্যুঞ্জয় ধর ভোলা, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক বিজিত চৌধুরী, সিলেট জেলা বারের সভাপতি এডভোকেট জামিলুল হক, মহানগর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার ভবতোষ রায় বর্মণ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালিক, সাবেক কাউন্সিলর জগদীশ চন্দ্র দাস, পূজা পরিষদ নেতা মলয় পুরকায়স্থ, অধ্যাপক রজত কান্তি ভট্টাচার্য্য, শিবব্রত ভৌমিক চন্দন, গোপীকা শ্যাম পুরকায়স্থ, মহানগর আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক তপন মিত্র, মহানগর পূজা পরিষদ নেতা এডভোকেট বিজয় কুমার দেব বুলু, ঐক্য পরিষদ কেন্দ্রীয় নেতা কৃপেশ পাল, জেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য এডভোকেট রঞ্জিত সরকার, এডভোকেট প্রদীপ কুমার ভট্টাচার্য্য, মহানগর পূজা পরিষদের সভাপতি প্রদীপ দেব, ডাঃ বনদ্বীপ লাল দাস, মহানগর পূজা পরিষদের মহানগর যুগ্ম সম্পাদক মনোজ কান্তি দত্ত মুন্না, সাংগঠনিক সম্পাদক নিখিল দে, এডভোকেট দিলীপ কুমার দাস চৌধুরী, বিগ্রেডিয়ার (অব:) অঞ্জন দেব, সিলেট চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক মুশফিক জায়গীরদার, মহানগর পূজা পরিষদের সহ-সভাপতি প্রদীপ দেব, যুগ্ম সম্পাদক এপে. চন্দন দাশ, এডভোকেট দেবব্রত চৌধুরী লিটন, মহানগর পূজা পরিষদ নেতা বাবুল দেব, অরুণ কুমার বিশ্বাস, জি.ডি রুমু, চিত্রশিল্পী ভানুলাল দাস, সদর উপজেলা সভাপতি নিলেন্দু ভূষণ দে অনুপ, জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক শৈলেন কর, ছাত্র ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় সদস্য রকি দেব, ছাত্র যুব ঐক্য পরিষদের জেলা সম্পাদক ধনঞ্জয় দাস ধনু, মহানগর সাধারণ সম্পাদক রথীন্দ্র দাস ভক্ত, পূজা পরিষদ দক্ষিণ সুরমা উপজেলা সম্পাদক নন্দন পাল, পূজা পরিষদ সদর উপজেলার সাধারণ সম্পাদক রাজু গোয়ালা, পূজা পরিষদ দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সভাপতি মনমোহন দেবনাথ প্রমুখ।
বিকেল ৪টা থেকে প্রতিমা বিসর্জনের জন্য ট্রাকে করে শোভাযাত্রা সহকারে প্রতিমা নিয়ে আসা শুরু হয় চাঁদনীঘাটে। এসময় ভক্তরা ঢাকঢোল বাজিয়ে, সংগীতের মুর্ছনায় নেচে গেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ভক্ত, পূজারী, দর্শনার্থীসহ বিপুল সংখ্যক দর্শক ও বিভিন্ন ধর্মের মানুষ উপস্থিত ছিলেন। রাত সাড়ে ১০ টা পর্যন্ত মানুষ প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। প্রতিমা বিসর্জন কার্যক্রম উপলক্ষে সিলেট মহানগরীর ঐতিহ্যবাহী চাঁদনীঘাটে স্থাপিত হয় ‘সুবোধমঞ্চ’। সেই মঞ্চ থেকে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সিলেট জেলা ও মহানগরের ব্যবস্থাপনায় বিকেল ৪টায় শুরু হয় অনুষ্ঠান।
এবার সিলেট জেলা ও মহানগরে ব্যক্তিগত ও সার্বজনীন মিলিয়ে মোট ৬০৮টি পূজামন্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপিত হয়েছে। এর মধ্যে সিলেট মহানগরীতে সার্বজনীন ৫১টি এবং ব্যক্তিগত ১৫টি মন্ডপে দুর্গোৎসব উদযাপিত হয়। প্রতি মন্ডপে সমগ্র জাতির মঙ্গল ও কল্যাণ কামনায় ও মানুষের মধ্যে বিরাজমান আসুরিক শক্তিকে বিনাশের জন্য প্রার্থনা করা হয়।
এছাড়াও সিলেট জেলার সকল উপজেলা, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জের জেলা শহর ও সকল উপজেলায় প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে দুর্গোৎসবের সমাপ্তি ঘটে।
নবীগঞ্জ ঃ নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ)থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, নবীগঞ্জে ধর্মীয় ভাবগম্ভীর ও উৎসবমুখর পরিবেশে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৪টা থেকে সন্ধা ৭টা পর্যন্ত উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে ৮৮টি ও পৌরসভায় ৮টি মিলে ৯৬টি পূজাম-পের প্রতিমা করগাঁও ইউনিয়নের মাধপুর গ্রামের নিকটে পিংলি নদীর ঘাটসহ বিভিন্ন স্থানে বিসর্জন দেয়া হয়। প্রতিমা বিসর্জনের সময় সেখানে হিন্দু সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ সমবেত হয়ে উলুধ্বনি ও বাধ্যযন্ত্রের তালে দেবী দুর্গাকে বিসর্জন দেন।
প্রতিমা বিসর্জনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তদারকি ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ইকবাল হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল জাহান চৌধুরী, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নিমুলেন্দু দাশ রানা, নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাকিল হোসেন প্রমুখ।
প্রতিমা বিসর্জন শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় নদীর ঘাটে উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য গাজী শাহ নেওয়াজ মিলাদ।
এ সময় তিনি বলেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা সুন্দরভাবে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। উৎসব উপলক্ষে এদেশে হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান সকলের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট থাকবে বলে আমি আশা করি।
সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদ বিন হাসান, নবীগঞ্জ থানার ওসি ইকবাল হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল জাহান চৌধুরী, জেলা পরিষদ সদস্য সুলতান মাহমুদ প্রমুখ।

 

শেয়ার করুন
প্রথম পাতা এর আরো সংবাদ
  • কোম্পানীগঞ্জে পাগলা মহিষের গুঁতোয় ৩০ জন আহত
  • গ্রাম্য ‘কোন্দল’র শেষ বলি তুহিন
  • ছদ্মবেশে মৌলভীবাজার জেলা কারাগারে দুদকের অভিযান
  • জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে বিশ্ব এনেস্থেসিয়া দিবস পালিত
  • খাদ্য উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের রোল মডেল
  • র‌্যাগিংয়ের শিকার হলে নালিশ করুন, বিচার হবে: আইনমন্ত্রী
  • সড়ক ব্যবহারের ক্ষেত্রে সকলকে যত্নবান হওয়ার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার
  • রাষ্ট্রপতির সাথে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ
  • সোহরাওয়ার্দীতে সমাবেশ ডেকেছে ঐক্যফ্রন্ট
  • বুয়েটে সন্ত্রাস-সাম্প্রদায়িকতা রুখে দেয়ার শপথ
  • একাদশ জাতীয় সংসদের পঞ্চম অধিবেশন শুরু ৭ নভেম্বর
  • কানাইঘাটে ১১টি ভারতীয় গরু আটক
  • সিলেটে বন বিভাগের পুনঃঅরণ্যায়নসহ ১০ প্রকল্প
  • আবারো সক্রিয় হয়ে উঠেছে পাথরখেকোরা
  • প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে বাবা ও চাচারাই শিশু তুহিনকে খুন করে
  • স্বাস্থ্য, শিক্ষা, শিশুমৃত্যু ও জীবনমানের ক্ষেত্রে সিলেট নগরী অনেক এগিয়ে
  • মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ, উত্তীর্ণ ৪৯,৪১৩
  • গাইবান্ধার রঞ্জু মিয়াসহ পাঁচজনের মৃত্যুদন্ড
  • ‘দৃষ্টিহীন বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন মানুষের সহায়তায় সকলকে এগিয়ে আসতে হবে’
  • আজ বিশ্ব খাদ্য দিবস
  • Developed by: Sparkle IT