শেষের পাতা সিলেট চেম্বারে মতবিনিময়কালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী

সাধারণ জনগণকে উন্নয়নের মহাসড়কে শামিল করতে হবে

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯-১০-২০১৯ ইং ০৩:১৪:৪১ | সংবাদটি ১১৯ বার পঠিত

 স্টাফ রির্পোটার: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন এমপি বলেছেন, বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে আর দেশের নেতৃত্বে রয়েছেন জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই সুবর্ন সুযোগ হাত ছাড়া করা কোন ভাবেই ঠিক হবে না। এখন সাধারণ জনগণকে উন্নয়নের মহাসড়কে শামিল করতে হবে। সিলেট চেম্বার অব কর্মার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির নবনির্বাচিত ২০১৯-২০২১ মেয়াদের কমিটির পরিচালনা পরিষদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথা বলেন। গতকাল মঙ্গলবার রাত ৮টায় চেম্বার হল রুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপত্বি করেন চেম্বারের নবনির্বাচিত সভাপতি আবু তাহের মো. শোয়েব।
অনুষ্ঠানে সবাই চেম্বারের বিদায়ী প্রশাসক, নির্বাচন ও আপিল কমিটিকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্পন্ন করায় ধন্যবাদ জানান। প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে চেম্বারের বিদায়ী প্রশাসক ও নির্বাচনী কমিটিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সিলেট চেম্বারের নির্বাচন নিয়ে তিনি খুবই চিন্তিত ছিলেন। আগে অনেকে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছিলেন। কিন্তু সকল বাঁধা বিপত্ত অতিক্রম করে তাঁরা সফল হয়েছেন। একটি অপূর্ব কাজ তাঁরা করেছেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, চেম্বারের বিদায়ী প্রশাসক ও মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, সিলেট সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিবৃন্দকে ফুল ও ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা জানান চেম্বার নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন চেম্বারের নবনির্বাচিত সভাপতি আবু তাহের মো. শোয়েব। শুভেচ্ছা বক্তব্য এবং শেষে ধন্যবাদ বক্তব্য রাখেন চেম্বারের নবনির্বাচিত সহ সভাপতি চন্দন সাহা।
প্রধান অতিথি বিশ্বের বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা বাংলাদেশের অগ্রগতির কথা বলেছে উল্লেখ করে বলেন, জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে আমরা এশিয়ার ৪৫টি দেশের মধ্যে সেরা। তবে এতে পরিতৃপ্ত হওয়া যাবে না। আমাদের দরিদ্র হ্রাস পেয়েছে কিন্তু এখনো দরিদ্র ২১ ভাগ এবং অতি দরিদ্র ১১ ভাগ। এই হার আগামী ৫ বছরের মধ্যে ১৬ ও ৫ ভাগে নামিয়ে আনতে কাজ করছে সরকার।
দেশের রিজার্ভ সম্পর্কে বলেন, একসময় রিজার্ভের ব্যাপারে আমাদের চিন্তায় থাকতে হতো। তখন আমাদের রিজার্ভ ছিল ৩ থেকে সাড়ে ৩ বিলিয়ন। এখন আমাদের রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন। তিনি বলেন, দেশ ভালো করছে । সিলেটকেও ভালো করতে হবে। পিছিয়ে পড়তে না চাইলে আমাদের কাজ করতে হবে। তিনি নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের প্রতি প্রশ্ন রেখে বলেন, শুধু নেই নেই বলেন। কিন্তু দাবি জানিয়ে মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কয়টি চিঠি আপনারা লিখেছেন। উদ্যোগ না নিলে চেষ্টা না করলে কাজ হবে না। দাবি তুলবেন এবং লিখবেন। তিনি বলেন, আমরা সিলেটের ৬ জন কেবিনেটে রয়েছি। আমাদের কাজে লাগাতে না পারলে বিষয়টি দুর্ভাগ্যজনক।
প্রধানমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের ব্যাপারে খুবই আন্তরিক উল্লেখ করে বলেন, ইজি ফর ডুইং বিজনেস রেঙ্কে বাংলাদেশের অবস্থা উন্নয়নে তিনি একজন ব্যবসায়ীকে তাঁর সাথে নিয়েছেন। ইতিমধ্যে ২০ ভাগ উন্নতি হয়েছে এবং আগামী বছর আমরা অর্ধেকে নামিয়ে আনতে পারবো বলে আশা।
তিনি সিলেটকে ম্যানুফেকচ্যারিং ও মেডিকেল হাব হিসেবে দেখতে চান উল্লেখ করে বলেন, আইসিটি পার্ক, ইকোনোমি জোন হচ্ছে। সেখানে ব্যবসায়ীরা প্লট নিবেন। তিনি আফসোস করে বলেন, শ্রীমঙ্গল থেকে ঢাকা পর্যন্ত অসংখ্য শিল্প প্রতিষ্ঠান। কিন্তু সিলেটের কোন মালিক নেই। তবে শেরপুরের ইকোনমি জোন মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। চেম্বার ও নেতৃবৃন্দ সবাইকে এ ব্যাপারে সচেষ্ট হতে বললেন তিনি।
তিনি বলেন, সিলেট মেডিকেল সেক্টরে পিছিয়ে পড়েছে। সদর হাসপাতাল হচ্ছে, মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে হবে। তবে আপনারা উদ্যোগ নিবেন। ব্যক্তি উদ্যোগ নিলে সিলেট মেডিকেল সেবায় নেতৃত্ব দিবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন চেম্বারের পরিচালক এমদাদ হোসেন, সিএনজি ওয়ার্নস এসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমিরুজ্জামান চৌধুরী, চেম্বারের সাবেক পরিচালক হিজকিল গুলজার, সাবেক সভাপতি ফারুক আহমদ মিসবাহ, মেট্রোপলিটন চেম্বারের সভাপতি আফজল রশিদ চৌধুরী প্রমুখ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী হকার উচ্ছেদের বিষয়ে বলেন, তিনি রাতদিন চেষ্টা করছেন। কিন্তু অনেকেই শহরের উন্নয়ন চান না। তিনি বলেন, সবাই সহযোগিতা করলে এক সপ্তাহের মধ্যে শহরের চেহারা বদলে দেয়া যাবে। তিনি বিমানবন্দর বাইপাস রোড, সবজি বাজার স্থানান্তর, কোতোয়ালী থানার সামনে ট্রাক স্ট্যান্ড, শহরে সীমানা নির্ধারণ, ট্রেড লাইসেন্স, ক্বিন ব্রিজসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন। তিনি ব্যবসায়ীদের দোকানের সামনে হকার বসানো এবং দোকানের মালামাল রাস্তা ও ফুতপাতে বের করে না রাখার অনুরোধ করেন।
শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, সিলেটের মানুষ সহমতে বিশ্বাসী। আজকের অনুষ্ঠানে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সবাই উপস্থিত হয়ে তা আবারো প্রমাণ করেছেন। বিদায়ী প্রশাসক আসাদ উদ্দিন আহমদ সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে পারায় সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। আশফাক আহমদ ব্যক্তির পরিবর্তন নয়, নতুন কমিটির নিকট অগ্রগতির পরিবর্তন কামনা করেন। প্রধান অতিথি নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যদের হাতে ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানান।
অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ীদের সরকারের অংশিদার উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, গোয়াইনঘাট ইকোনমি জোন স্থাপনে ব্যবসায়ীদের সাথে কেন কথা বলা হয়নি তা বোধগম্য নয়। এব্যাপারে ব্যবসায়ীদের তাকে লিখিত ভাবে জানাতে বলেন তিনি। এয়ারপোর্ট বাইপাস সড়ক সম্পর্কে বলেন, অদৃশ্য কারণে কাজ পিছিয়ে গেছে। বারবার কাজ করি, পরে বানচাল হয়ে যায়। আশা করি এবার আর সমস্যা হবে না। শীঘ্রই টেন্ডার হবে।
সিলেটের সাথে সারাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নেই বক্তাদের এমন মন্তব্যের জবাবে মন্ত্রী বলেন, রেলমন্ত্রী বলেছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে সিলেটের সাথে রেল যোগাযোগ উন্নত হবে। ডিসেম্বরে বাইরে থেকে নতুন বগি আসবে। তখন সিলেটের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দেয়া হবে।
সিলেট-চট্টগ্রাম বিমান চালুর ব্যাপারে বিমানমন্ত্রীর সাথে কথা হয়েছে জানিয়ে বলেন, সিলেট-চট্টগ্রাম-কক্সসবাজার বিমান চালুর বিষয়ে কাজ চলছে। তবে ডিসেম্বর থেকেই সিলেট থেকে লন্ডনে সরাসারি বিমান চলাচল করবে। বাদাঘাট সড়ক সম্পর্কে বলেন, শুধু শুনছি হয়ে গেলো হয়ে গেলো। পরে খোঁজ নিয়ে দেখি কিছুই হয়নি। পিছনে না লাগলে ফাইলই পাওয়া যায়না। তিনি বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত না হলে পর্যটন উন্নত হবে না।
গ্যাস পাওয়া সম্পর্কে বলেন, দেশের গ্যাসের উৎপাদন বাড়ছে না। তাই, ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য সিলিন্ডার ব্যবহার করতে হবে। তবে শিল্পখাতে অবশ্যই গ্যাস দেওয়া হবে। তিনি শহরের উন্নয়নে মেয়রকে ড্রেন নির্মাণের পর দ্রুত সড়ক থেকে মাটি, পাথর সরিয়ে নেয়ার পরামর্শ দেন।
লোডশেডিং সম্পর্কে বিষ্ময় প্রকাশ করে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ মন্ত্রীকে বললে তিনি বলেন অসম্ভব। আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে ২২ হাজার মেগাওয়াটেরও বেশি। সুতারাং লোডশেডিং হতেই পারেনা। সিলেটের কোন অংশে লোডশেডিং হলে তাকে বা বিদ্যুৎ মন্ত্রীকে লিখিতভাবে জানাতে বলেন তিনি। সিলেটের একটি হাউজিং স্টেট নির্মাণে উপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, স্থানীয় দায়িত্বশীলরা যদি এব্যাপারে কিছু করার পরিকল্পনা নেয়, তবে তিনি সহযোগিতা করবেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে ‘ইকোনমি ডিপ্লোমেসি’ গ্রহণ করেছেন উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশের ৭৭টি মিশনে অভিযোগ কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং ২৪ ঘন্টাই হটলাইন চালু করা হয়েছে। প্রতি মাসে ১দিন সেই দেশের প্রবাসী বাংলাদেশিদের সাথে বসতে দূতাবাসগুলোকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তাছাড়া, দেশের রপ্তানী পণ্যের ডিসপ্লের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নতুন সীমানা সম্পর্কে বলেন, ১৭৯ বর্গ কিলোমিটারের নতুন সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন সীমানা নির্ধারণ হয়ে গেছে, সুযোগ সুবিধা বাড়বে এবং সিটি কর্পোরেশনের স্ট্যাটাসও বাড়বে। তিনি মানুষের সেবা করতে এসেছেন জানিয়ে বলেন, সিলেটে তার একটি অফিস খুলেছেন। এখন থেকে জনগণ তাদের যেকোন বিষয়ে সেখানে লিখিতভাবে জানাতে পারবেন এবং পরবর্তিতে অবশ্যই তার লিখিত বিষয়ে জবাব পাবেন।

শেয়ার করুন
শেষের পাতা এর আরো সংবাদ
  • ভারতে ধর্ষণ-হত্যায় গ্রেপ্তার চারজন পুলিশের গুলিতে নিহত
  • হামে এক বছরে ‘দেড় লাখ’ মানুষের মৃত্যু
  • শাহী ঈদগাহের পবিত্রতা রক্ষার দাবীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
  • রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব
  • ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ব্যঙ্গ ॥ জিন্দাবাজার থেকে একজন আটক
  • শফিক চৌধুরীর কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন
  • জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নবগঠিত কমিটিকে বিভিন্ন মহলের অভিনন্দন
  • দিরাইয়ে সংযোগ সড়ক না থাকায় ঝুলে আছে ব্রিজ
  • কমলা বদলে দিয়েছে জুড়ীর চাষীদের জীবন
  • সিলেট জেলা বিএনপির রোববারের বিক্ষোভ কর্মসূচি বাতিল
  • বিশ্বনাথে দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০
  • কিশোরীকে ১০ দিন আটকে রেখে পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগ
  • নানা আয়োজনে সুনামগঞ্জ হানাদার মুক্ত দিবস পালিত
  • বানিয়াচংয়ে ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার
  • হেতিমগঞ্জে দুর্ঘটনায় মোটর সাইকেল আরোহীর মৃত্যু
  • শাবিতে বিভিন্ন দাবিতে শিক্ষার্থীদের রাস্তা অবরোধ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা
  • সরকারি দফতর ও ভবনে প্রতিবন্ধীদের জন্য র‌্যামসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা সংরক্ষিত থাকতে হবে-- মো.মোস্তাফিজুর রহমান
  • ২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ আবিদের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর
  • খালেদা জিয়ার জামিনে খোদ প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ: ফখরুল
  • দোয়ারাবাজারে ইউপি সদস্যের অস্বাভাবিক মৃত্যু
  • Developed by: Sparkle IT