উপ সম্পাদকীয়

অনুভূতিতেই হোক প্রকাশ

ইনাম চৌধুরী প্রকাশিত হয়েছে: ১০-১০-২০১৯ ইং ০০:২৫:০৩ | সংবাদটি ৭৭ বার পঠিত

প্রতিটা জাতিই তার তারুণ্যকে নিয়ে গর্ব করে। এটি একটি অনুভূতি, একটি শক্তি। এই তারুণ্য নামক মহৎ গুণটি ধারনকারী ব্যক্তিটিই হলেন একজন তরুণ। বয়সে তরুণ বলে একটি কথা প্রচলিত আছে এটিকে যেন মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে তরুণসুলভ মানসিকতা। আজ আমাদের জাতিটিকে আপন তারুণ্যসুলভ শক্তিটি প্রদর্শন করতে হবে। জরা, ক্ষয় আর হতোদ্যম ভাবটিকে দূরে সরিয়ে রাখতে হবে আপন জাতির ভবিষ্যত বিনির্মাণের উদ্দেশ্যে।
আমাদের এই সিলেট মহানগরীটির আদিরূপ ছিলো আরো বেশি বর্ণাঢ্য আর মানবিক গুণাবলীতে পূর্ণ। প্রতিটি পরিবার, প্রতিটি মহল্লা ছিলো যেন একেকটি গুচ্ছ গ্রাম সদৃশ। একে অপরের সুখে, দুখে সাথী হিসাবে সবাই ছিলেন পরার্থপর। প্রতিটি পাড়ার কীর্তিমানদের নিয়ে সকলে থাকতো গর্বিত আর আনন্দিত। সিলেট শহরের জামতলার ভানুদাকে চিনিয়ে দিতে হতো না। কারণ ক্রীড়াক্ষেত্রে ছিলেন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র সদৃশ্য। এই ভানুদাকে অনুসরণ করে অনেকেই ক্রীড়াক্ষেত্রে খ্যাতি অর্জন করেছিলো এমনকি জাতীয় পর্যায়ে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিলো। তারুণ্য লালন করতে হয় আপন সত্তায় সেই হিসাবে; ভানুদা এখনো তারুণ্যকে ধরে রেখেছেন শরীরও মনে। তিনি তার অতীতকে যেন এখন তারুণ্য দ্বারা উজ্জ্বল করে রাখতে চান। সদা হাসিমুখ ভানুদা এখনও সকলের কল্যাণ কামনায় যেন এক উজ্জীবিত তরুণ। ভাবতে বিস্ময় জাগে তিনি আমার প্রয়াত পিতার সাহচর্য্যে বিভিন্ন খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি আপন প্রতিভা বিকশিত করে হয়ে উঠেছিলেন মহীয়ান। তার পরিবারটি ছিলো একটি ক্রীড়ানুরাগী পরিবার। এই পরিবার এর ঐতিহ্য, ক্রীড়াক্ষেত্রে অবদান বর্ণনাতীত। আজকে আমাদের তরুণরা কেন যে নিজেদের ভুবন ছাড়িয়ে বাইরে উকি দিতে চায় না বুঝতে পারি না। একটি ঐতিহ্য ধারন করার মানসিকতা তারা যেমন হারাচ্ছে তেমনি একটি জীবনধারা গড়ে তুলে আপন সত্তাকে স্বমহিমায় তুলে ধরতেও যেন গররাজী। জামতলার ভানুদা বললে যেমন লোকে এখনও চিনে তেমনি সাবেক ক্রীড়াবিদ হিসাবেও তাকে সকলে চিনে। তার সৃষ্টিশীলতা আর কর্মকুশলতা পারস্পরিক সম্পৃক্ততা লাভ করেছিলো। আজও সেটি অব্যাহত আছে। আমি একটি সৃষ্টিশীল তরুণ সমাজ বিনির্মাণে এ জাতীয় গঠনমূলক চরিত্রকে উপস্থাপন করলাম শুধুমাত্র উজ্জীবনী সুধা বিতরণের জন্য। আমার মরহুম পিতা এবং তার ক্রীড়াসঙ্গীদের অনেকেই আখ্যায়িত করতেন হরিহর আত্মা হিসাবে আবার অনেকেই ঠাট্টা করে মন্তব্য করতেন খাওয়া দাওয়ার পাটটাও যদি খেলার মাঠে সারার ব্যবস্থা করা যেতো তাহলে হতো সোনায় সোহাগা। এমনতরো ছিলো সে সময়কার ক্রীড়াঙ্গনের পরিবেশ। আজকালকার ক্রীড়াঙ্গন আরো বেশি আধুনিক ও সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত হয়েছে। ক্রীড়াবিদদের সংখ্যাও বেড়েছে তারপরেও যেন কোথায় তাল হারিয়ে ফেলা সুরলহরীর ছোয়া অনুভূত হয়।
আজ কেন নানা ধরনের মরণনেশা আমাদের তারুণকে ধ্বংস করবে? কেন আজ নেশাদ্রব্যে আসক্তি হয়ে উঠছে জীবনের প্রধানতম উপাদান হিসাবে সেটি ভাবনার বিষয় হিসাবে অনেক চর্চিত হয়েছে। এখন পুরো সমাজ ব্যবস্থাকেই গড়ে তুলতে হবে একটি প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন শক্তি হিসাবে। পুরো জাতিকে একতাবদ্ধ হয়ে বিপ্লব সাধন করতে হবে। ক্রীড়ামোদী সমাজ বিনির্মাণে এগিয়ে আসতে হবে সবাইকে। কম্পিউটার এর পর্দার ক্রীড়াবিদ সৃষ্টি প্রতিহত করতে হবে। বাংলাদেশে খেলার ময়দানসমূহ পুনরুদ্ধার করতে হবে আর এগুলির সংখ্যাও বৃদ্ধি করতে হবে। সিলেট মহানগরীর মধ্যস্থিত আলীয়া মাদ্রাসা ময়দানটিকে যেমন পূর্বতনরূপে ফিরিয়ে আনতে হবে তেমনি রেজিস্টারী ময়দানটিকে দিতে হবে তার আদি ক্রীড়াবান্ধব রূপটি। মীরের ময়দান এর পুলিশ ময়দান, যেটি অসংখ্য ক্রীড়াবিদ সৃষ্টি করেছিলো। আজ সেটি ইট, সিমেন্টের তলায় হারিয়েছে। এই মাঠটির অভ্যন্তরে অতি আকর্ষণীয় রূপে একটি পুকুরের অবস্থিতি ছিলো যেটিকে অনেকেই ভাবতেন সিলেট মহানগরীর ভবিষ্যৎ সুইমিং পুল হিসাবে। জানিনা আজ সেটি কোন অবস্থায় রয়েছে।
সিলেট মহানগরীর সন্নিকটে বা স্বল্প দূরত্বে অবস্থিত বিভিন্ন বিদ্যালয়ের মাঠসমূহকে পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন কার্যক্রমের আওতাধীন করতে হবে জরুরী ভিত্তিতে। বিকল্প খেলার ময়দান হিসাবে এগুলিকে ব্যবহার এর সুবিধা নিশ্চিত করতে যতো কিছুর প্রয়োজন সবকিছুর আঞ্জাম দিতে হবে। একটি ক্রীড়ামোদী নতুন সমাজ গড়ে তুলতে এ জাতীয় বৈপ্লবিক চিন্তাধারার বিকল্প নাই বলেই আমি মনে করি। সিলেট মহানগরীর অনতিদূরে কুচাই হাজী ইছরাব আলী বিদ্যালয়টির নিজস্ব ক্রীড়াঙ্গনটিকে আধুনিক রূপ যেমন দিতে হবে তেমনি গোলাপগঞ্জ এমসি একাডেমি বিদ্যালয়টির খেলার মাঠটিকে আনতে হবে আধুনিক পরিকল্পনার আওতাধীনে। আমাদের তরুণ সমাজকে সৃষ্টিশীল পরিবেশ তথা ক্রীড়ামুখী করে গড়ে তুলতে না পারলে সমূহ অনিষ্টের কারণ রয়েছে। তাই প্রতিটি পরিবার প্রধানকে একজন উদ্যমী ব্যক্তিত্ব হিসাবে আপন সংসারটিকে সাজাতে এগিয়ে আসতে হবে।
বর্তমান সিলেট মহানগরীকে এবং সন্নিহিত এলাকাটিকে পর্যটক বান্ধব কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। ঐতিহাসিক ক্বীন ব্রীজকে পদচারী সেতু হিসাবে ব্যবহার এর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে কারণ ইতিমধ্যে সেতুটি তার কার্যকালটি হারিয়েছে। শুধুমাত্র স্মৃতি আর ঐতিহ্যের স্মারক হিসাবে এটিকে রক্ষণাবেক্ষণ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এটির সাথে সুরমা নদীর উভয়তীর জুড়ে রক্ষাবাঁধ, মনোরম পরিবেশ সৃষ্টিকারী বৃক্ষরাজী রোপণ পূর্বক পার্কসদৃশ স্থান বিনির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। জবর দখলকারীদের নাকি উচ্ছেদ করার পর আবারো তারা ফেরত আসতে শুরু করেছে। অবিলম্বে সুরমা নদীর উভয়তীর রক্ষাকল্পে পাকা এবং সুদৃঢ় নির্মাণশৈলী ব্যবহার করে হাঁটাপথ স্থাপন করা হোক। সাধারণ মানুষের বিনোদন ও নির্মল বায়ু সেবন এর সুব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক অবিলম্বে। এই এলাকাটিতে চোর ছ্যাচড়দের প্রাদুর্ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে ইদানিং আবার নানা ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে শোনা যায় এই এলাকাটি। এ ব্যাপারে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সক্রিয় ও সতর্ক থাকতে হবে সবসময়। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে এ জাতীয় গা বাঁচানো কথা বলে পার পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না কারণ সিলেট কোতোয়ালী থানাটির অবস্থান কিন্তু মাত্র দুইশত গজের ভিতরে। নিরাপদ, শান্ত আর নিরিবিলি পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে সাথে বনরাজী আর উদ্যান এর সৃষ্টি অপরিহার্য। এ ব্যাপারে পরার্থপর, নিঃস্বার্থ আর পাগলপারা বৃক্ষ প্রেমিক হিসাবে বিশ্বনাথের মোতিরগাঁওয়ের আব্দুল গাফফার উমরা মিয়ার কথা আমার স্মরণে আসে। আপন উদ্যোগে জেলা আদালত সহ নানা জায়গায় অসংখ্য বৃক্ষ রোপণ করেছেন জনাব আব্দুল গাফফার উমরা মিয়া সাহেব। তিনি সুদুর গ্রাম থেকে বৃক্ষ চারা উৎপাদন ও রোপণ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। বিশ্বনাথের মোতিরগাঁও থেকে শুরু করে সিলেট মহানগরী পর্যন্ত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে সফল হতে পেরেছেন যে কর্মবীর তার সহযোগীতা নিতে কোন পক্ষ বা প্রতিষ্ঠানের দ্বিধান্বিত হওয়া উচিত নয়। কর্মবীর নিঃস্বার্থ বৃক্ষপ্রেমিক জনাব আব্দুল গফফার উমরা মিয়া সাহেবের পরামর্শ আর সক্রিয় অংশগ্রহণ সুরমা নদীর উভয় তীরে প্রস্তাবিত বিনোদন পার্ক বিনির্মাণে আর আনন্দ পিয়াসী মানুষের তৃষ্ণা মেটাতে জনাব উমরা মিয়াকে এগিয়ে আসতে আহবান জানাই। সুকৃতি লভেতে সম্মাননা।

 

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • লেবানন : চলমান গণবিক্ষোভের লক্ষ্য ও পরিণতি
  • ব্রিটিশ উপনিবেশবাদ বিতর্ক
  • ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের ইতিকথা
  • শিক্ষক পেটানোর ‘বিদ্যাচর্চা’
  • অভিযান যেন থেমে না যায়
  • পেঁয়াজ পরিস্থিতি হতাশার
  • ইরান-আমেরিকা সংকট ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়
  • জোসনার শহরের কবি
  • সড়ক পরিবহন আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন জরুরি
  • প্রসঙ্গ : ট্রেন দুর্ঘটনা
  • মাদকের ভয়াবহতা
  • জাদুকাটা সেতু ও পর্যটন প্রসঙ্গ
  • বেসরকারি শিক্ষকদের বদলি প্রসঙ্গ
  • রাজনীতির গুণগত মান নিয়ে প্রত্যাশা
  • উন্নয়নের রোল মডেল
  • সড়ক দুর্ঘটনা : পরিত্রাণের উপায়
  • নিম্বার্ক দর্শনের প্রাসঙ্গিকতা
  • ‘...আমি তোমাদেরই লোক’
  • বায়ু দূষণ
  • মানবতার কল্যাণে মহানবী
  • Developed by: Sparkle IT