শেষের পাতা

গণপূর্তে দুর্নীতির ‘১০ উৎস’ ------দুর্নীতি দমন কমিশন

প্রকাশিত হয়েছে: ১০-১০-২০১৯ ইং ০২:৫৫:১৮ | সংবাদটি ৪৭ বার পঠিত

ডাক ডেস্ক : অবকাঠামো বিষয়ক উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ গণপূর্ত অধিদপ্তরে দুর্নীতির ১০টি উৎস চিহ্নিত করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। তা প্রতিরোধে ২০ দফা সুপারিশও করেছে দুর্নীতি দমন সংস্থাটি।
দরপত্র প্রক্রিয়াতেই দুর্নীতি বেশি হয় বলে দুদকের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে; এর মধ্যে রয়েছে যথাযথভাবে দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করা, অপছন্দের ঠিকাদারকে কাজ না দেওয়া, অস্বাভাবিক মূল্যে প্রাক্কলন তৈরি, ছোট ছোট প্যাকেজে প্রকল্প প্রণয়ন, দরপত্রের শর্ত উপেক্ষা করা।
এছাড়া নিম্ন মানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার; প্রকল্পের প্রণয়ন, তদারকি, বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কাজে ধীরগতি; প্রয়োজনের তুলনায় কম বরাদ্দ; প্রকল্পের অনাবশ্যক ব্যয় বৃদ্ধি; স্থাপত্য ও কাঠামোগত নকশা চূড়ান্তে বিলম্ব; প্রত্যাশী সংস্থার প্রয়োজনমতো জরুরি ভিত্তিতে কাজ শেষ না করা; সেবা প্রদানের বিভিন্ন স্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অসহযোগিতা; সময়মতো ঠিকাদারদের বিল পরিশোধ না করা এবং বরাদ্দ থাকার পরও ঠিকাদারদের আংশিক বিল পরিশোধ করাও চিহ্নিত হয়েছে দুদকের প্রতিবেদনে।
বুধবার সচিবালয় এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের হাতে তুলে দেন দুদকের কমিশনার মো. মোজাম্মেল হক খান।
দুদক কমিশনার সাংবাদিকদের বলেন, “দুদক ২৫টি প্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করে টিম গঠন করেছে। এক একটি মন্ত্রণালয় সম্পর্কে এক একটি টিম। ২৫টির মধ্যে আজকের প্রতিবেদনটি পঞ্চদশ। এই প্রতিবেদনের মূল বিষয় হচ্ছে গণপূর্ত অধিদপ্তর।”
তিনি বলেন, এই প্রতিবেদনটি এক ধরনের পর্যবেক্ষণ বা সংক্ষিপ্ত জরিপ।
“এই কাজটি করতে এই মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্টেক হোল্ডার, ঠিকাদার ও বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন, এই মন্ত্রণালয়ের অডিট রিপোর্ট, বার্ষিক প্রতিবেদন সবকিছু পর্যালোচনা করা হয়েছে।”
দুদকের এই প্রতিবেদনকে গুরুত্বের সঙ্গে নেবেন বলে জানিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী রেজাউল।
তিনি বলেন, “এই প্রতিবেদন আমাদের কাজের গতি বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা আনতে এবং জবাবদিহির ক্ষেত্রে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এই গাইডলাইনকে আমরা খুবই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করব।”
এর ভিত্তিতে যদি তদন্ত করতে হয়, তাও করবেন বলে জানান মন্ত্রী।
“দায়সারা গোছের রিপোর্ট পেলাম আর দেখলাম, এটার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না।”
দুদক কমিশনার মোজাম্মেল হক সাংবাদিকদের সামনে গণপূর্ত অধিদপ্তরের দুর্নীতির উৎসগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।
দুর্নীতির ক্ষেত্রগুলো
দরপত্র প্রক্রিয়া: দরপত্র প্রক্রিয়ার বিভিন্ন স্তরে দুর্নীতি খুঁজে পেয়েছে দুদক, যেমন: অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রাক্কলন, দরপত্রের তথ্য ফাঁস, সমঝোতার নামে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে এজেন্ট ঠিকাদার নিয়োগ, বার বার নির্মাণকাজের নকশা পরিবর্তন, নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার, টেন্ডারের শর্তানুসারে কাজ বুঝে না নেওয়া, কোনো কোনো ক্ষেত্রে মেরামত বা সংস্কার কাজের নামে ভুয়া বিল ভাউচার করে অর্থ আত্মসাৎ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা/প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বেনামে বা ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজনদের মাধ্যমে ঠিকাদারি কাজ পরিচালনা, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অবাঞ্ছিত হস্তক্ষেপ এবং ঠিকাদার ও প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশি¬ষ্ট প্রকৌশলীর অনৈতিক সুবিধালাভ।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের বৃহৎ পরিসরের কাজ ছাড়াও মেরামত, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে কোটি কোটি টাকার বরাদ্দ রয়েছে। এ বরাদ্দের বিপরীতে কাজগুলো ছোট ছোট লটে ভাগ করা হয়। এ সব কাজ তাদের পছন্দের ঠিকাদারদের দেওয়ার জন্য ই-জিপিতে না গিয়ে গোপন দরপত্রের মাধ্যমে কাজ দেওয়া হয় বলে দুদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে।
অনেক ক্ষেত্রে অপছন্দের ঠিকাদারকে ‘নন রেসপনসিভ’ করা হয় এবং কৌশলগত হিসাবের মাধ্যমে পছন্দের ঠিকাদারকে রেসপনসিভ করা হয় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। যেমন : বর্তমানে ই-জিপির মাধ্যমে দরপত্র আহ্বান করা হলেও আগেই গোপন সমঝোতার মাধ্যমে পছন্দের ঠিকাদারকে রেট জানিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া, পছন্দের ঠিকাদারের যে সব অভিজ্ঞতা রয়েছে সে সব অভিজ্ঞতার শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়, যাতে করে অন্য কোনো ঠিকাদার ওই দরপত্রে অংশ নিতে না পারেন।
অস্বাভাবিক মূল্যে প্রাক্কলন তৈরি: সরকারি বাজেটের একটি অংশ ঠিকাদারের যোগসাজশে আত্মসাতের উদ্দেশ্যে বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য না রেখে শিডিউল রেটের বাইরে গিয়েও অনেকক্ষেত্রে প্রাক্কলন তৈরি করা হয়।
ছোট ছোট প্যাকেজে প্রকল্প প্রণয়ন: বড় বড় প্রকল্প বিশেষ করে ৩০ কোটি টাকার ঊর্ধ্বে প্রকল্প প্রণয়নের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। অনেক সময় অসৎ উদ্দেশ্যে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের দায় এড়ানোর জন্য ছোট ছোট প্যাকেজ করে প্রাক্কলন প্রণয়ন, অনুমোদন ও ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়। যেমন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ডেলিগেটেড ওয়ার্ক হিসেবে গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্মাণাধীন ছয়টি ভবনে আসবাবপত্রসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজের জন্য দাপ্তরিক প্রাক্কলন প্রণয়ন করে ছয়টি প্যাকেজে ই-জিপিতে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল।
শর্তানুসারে বাস্তবায়ন না করা: বর্তমানে গণপূর্ত অধিদপ্তরের অধিকাংশ ক্ষেত্রে ই-জিপি টেন্ডারিং প্রক্রিয়া অনুসরণ করলেও তার শর্তানুসারে স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী কাজ বাস্তবায়ন না করে কোন কোন ক্ষেত্রে প্রভাবশালী ঠিকাদারের চাপে বা একশ্রেণির প্রকৌশলী/কর্মকর্তার যোগসাজশে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়ে থাকে। ঠিকাদার নির্বাচনের ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট পদ্ধতি দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রচলিত প্রথায় পরিণত হয়েছে। কাজ পাওয়ার জন্য অনেক সময় বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি, পরামর্শক সংস্থা, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উৎকোচ প্রদান করতে হয়।
নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার: গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প বা নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট, রড, সিমেন্ট ও বালু ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। অনেকক্ষেত্রে যে রেশিও অনুযায়ী সিমেন্ট-বালি মেশানোর কথা, তা না করে বালির পরিমাণ বেশি মেশানো হয়। এছাড়া, যে ধরনের রড নেওয়ার কথা, তা না করে কম মেজারের রড এবং রডের ঘনত্ব কমিয়ে দেওয়া হয়।
প্রকল্প তদারকিতে ধীরগতি: প্রকল্প বাস্তবায়নে নিয়োজিত গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রয়োজনের তুলনায় জনবল আনুপাতিক হারে কম থাকায় প্রকল্প প্রণয়ন, তদারকি, বাস্তবায়ন এ পরিবীক্ষণ কাজে ধীরগতির অভিযোগ রয়েছে।
প্রয়োজনের তুলনায় কম বরাদ্দ: ভবনের মেরামত, সংস্কার ও সংরক্ষণের জন্য যে পরিমাণ বরাদ্দ প্রয়োজন, এর এক-তৃতীয়াংশ পাওয়া যায় না। যথাসময়ে বরাদ্দ ছাড়ের অভাবে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ বিঘ্নিত হয়। এতে রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চাহিদা মাফিক করা সম্ভব হয় না।
অনাবশ্যক ব্যয় বৃদ্ধি: প্রকল্প ছক সংশোধন করে অনাবশ্যক প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি করা হয়। মূলত আর্থিক মুনাফার প্রত্যাশায় প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও ঠিকাদার ও প্রকল্প সংশি¬ষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ব্যয় বৃদ্ধি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
নকশা চূড়ান্তে দেরি: পর্যাপ্ত লোককবলের অভাবে স্থাপত্য অধিদপ্তর প্রায়ই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চাহিত নকশা সরবরাহ করতে সক্ষম হয় না। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব ঘটে।
জরুরি ভিত্তিতে কাজ না করা: কর্মকর্তাদের অবহেলা, সাদিচ্ছা ও তদারকির অভাবে প্রাক্কলন তৈরি থেকে শুরু করে দরপত্র আহ্বান কার্যাদেশ প্রদান এবং কাজ শেষ প্রত্যাশী সংস্থার চাহিদামতো জরুরি ভিত্তিতে করা হয় না বলে জনশ্রুতি রয়েছে।
অসহযোগিতা: পূর্ত অধিদপ্তরের আওতাধীন বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, অধিদপ্তর বা সরকারি কোয়ার্টারের মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণসহ সেবা দিতে বিভিন্ন স্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অসহযোগিতার অভিযোগ বাড়ছে।
বিল পরিশোধ সময়মতো না করা: অনেক সময় প্রকল্পের কাজ শেষে ঠিকাদার বিল দাখিল করলেও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা নির্বাহী প্রকৌশলী নানা অজুহাত দেখিয়ে বিল আটকিয়ে রাখেন। এক্ষেত্রে যে সব ঠিকাদারের সাথে আর্থিক সমঝোতা হয় সে সব ঠিকাদারের বিল আগে পরিশোধ করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে বরাদ্দ খাকা সত্ত্বেও ঠিকাদারদের আংশিক বিল পরিশোধ করা হয়। এক্ষেত্রেও যে সব ঠিকাদারের সঙ্গে আর্থিক সমঝোতা হয় তাদের বিল আংশিক পরিশোধ না করে পুরো বিল পরিশোধ করা হয়।

 

শেয়ার করুন
শেষের পাতা এর আরো সংবাদ
  • ছবি
  • মহিলা ভিডিপি সদস্যদের কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কোর্স পরিদর্শন
  • বালাগঞ্জের বেতরী নদীতে মৎস্য নিধনে স্থানে স্থানে ‘ভরজাল’র মরণ ফাঁদ
  • জাউয়া বাজারে তীর শিলং খেলার অভিযোগে একজনকে ১৫ দিনের দন্ড
  • বিশ্বনাথে গণধর্ষণ মামলার আসামী জাহেদ র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার
  • আওয়ামী লীগ নেতা খোকন কুমার দত্তের মাতৃবিয়োগ শেষকৃত্য সম্পন্ন
  • বড়লেখায় রাস্তায় ময়লা পানি ফেলায় জনদুর্ভোগ
  • ‘মর্ডান ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপনে মালয়েশিয়া সরকার ও বিশ্বব্যাংকের সহায়তা কামনা’
  • তথ্য প্রাপ্তিতে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার কার্যক্রম জোরদার করতে হবে --জুলিয়া জেসমিন মিলি
  • ছাতকে বিএসটিআই’র অভিযান দু’ ফিলিং স্টেশনে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা
  • জকিগঞ্জে স্কুলছাত্রী শ্লীলতাহানির অভিযুক্ত ইজিবাইক চালক কারাগারে,সহযোগী পলাতক
  • সুমনা পেলো নতুন জীবন আর মাথা গোঁজার ঠাঁই
  • সিলেটে নমুনা সংরক্ষণের পর ধ্বংস করা হলো মামলার আলামত
  • মোগলাবাজার থানাপুলিশের পৃথক অভিযানে ৮ জন আটক
  • প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষকদের ১১ ও ১০ম গ্রেডের দাবিতে কর্মবিরতি অব্যাহত
  • বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির সাবেক এমডি হাবিবউদ্দীনসহ ৩ কর্মকর্তা কারাগারে
  • কমিউনিটিকে সেবা দেয়ার স্বীকৃতি মিলছে আজ : মাহি জলিল
  • আজমিরীগঞ্জে মসজিদে বসা নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১০
  • ক্ষুধার সূচকে বাংলাদেশ ১১৭ দেশের তালিকায় ৮৮তম
  • সিলেট অঞ্চলে কমলা লেবু-মাল্টার উৎপাদন বাড়াতে বিশেষ উদ্যোগ
  • Developed by: Sparkle IT