সম্পাদকীয়

বনায়নের বৃহৎ প্রকল্প

প্রকাশিত হয়েছে: ১২-১০-২০১৯ ইং ০১:০১:৩৫ | সংবাদটি ৯৮ বার পঠিত

বনায়নে বৃহৎ প্রকল্প গৃহীত হয়েছে সিলেটে। ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পে সিলেটের চারটি জেলা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এই প্রকল্পের ব্যাপারে বলেছে-প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বনভূমির পরিমাণ বাড়িয়ে কার্বন ধারণ ক্ষমতা বাড়ানো হবে। পাশাপাশি মিশ্র প্রজাতির বাগান তৈরির মাধ্যমে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলে জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করা সম্ভব হবে। এই প্রকল্পের প্রস্তাব পরবর্তী জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের সভায় উপস্থাপন করা হবে। সভায় অনুমোদিত হলে প্রকল্পটি ২০২৪ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। খবরটি সম্প্রতি এই পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
সরকারি হিসাবে সিলেট বিভাগে বনভূমির পরিমাণ ৭০ হাজার তিনশ; ২১ দশমিক ৬২ হেক্টর। প্রকল্পের আওতায় নতুন তিন হাজার সাতশ’ হেক্টর জমিতে বনায়ন, ১৯টি জলাভূমি উন্নয়নসহ বেশ কিছু অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। বিশেষ করে এই অঞ্চলে বিরান পাহাড় টিলাগুলোতে বনায়ন সৃষ্টি করা হবে। প্রাকৃতিকভাবে গজানো চারা সংরক্ষণ, ব্লক বাগান, সড়ক বনায়ন, আগর বাগান তৈরি, বাঁশ, বেত ও মুর্তা বাগান সৃষ্টির ওপর জোর দেয়া হবে বলে জানা গেছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নিঃসন্দেহে বনভূমির পরিমাণ বেড়ে যাবে। তবে এই ‘বাস্তবায়ন’ নিয়ে রয়েছে অনেক প্রশ্ন। প্রথমত পাহাড় টিলায় নতুন করে বনায়ন করার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু পাহাড়-টিলা তো ধ্বংস হওয়ার পথে। দুর্বৃত্তচক্র দিনের পর দিন পাহাড়-টিলা কেটে উজাড় করছে। সিলেট জেলায় চারশ’র বেশি পাহাড়-টিলার মধ্যে কমপক্ষে ৬০টি ইতোমধ্যেই বিলীন হয়েছে। আর দ্বিতীয়ত পাহাড়-টিলার বনজ সম্পদও ধ্বংস করছে দুর্বৃত্তচক্র। সবচেয়ে দুঃখজনক হচ্ছে, পাহাড়-টিলা কিংবা সরকারি বনাঞ্চল থেকে বনজসম্পদ চুরি হচ্ছে অহরহ। আর এই অপকর্মে বন বিভাগের দুর্নীতিবাজ ব্যক্তিবর্গ জড়িত বলে অনেক সময়ই অভিযোগ উত্থাপিত হয়।
বনায়নের এই উদ্যোগ দায়সারা গোছের যেন না হয়, যাতে এটি দুর্নীতিবাজ-লুটেরাচক্রের পকেটভারী করার উপলক্ষ না হয়-সেটা নিশ্চিত করতে হবে। বনায়ন সৃজনের পাশাপাশি তা তদারকি ও সংরক্ষণ জরুরি। অতীতে দেখা গেছে, ‘সামাজিক বনায়ন’সহ বিভিন্ন নামে বৃক্ষ রোপণের ব্যাপক উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু সেটা বাস্তবে দেখা যায় না। অথচ বরাদ্দ অর্থ দুর্নীতিবাজ বাটপার চক্র লুটেপুটে নেয়। এবার দুর্নীতির বিরুদ্ধে পরিচালিত সরকারের অভিযানের মধ্যেই গৃহীত বনায়নের প্রকল্পটি যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হোক, রক্ষা হোক পাহাড়-টিলা, বনাঞ্চল এবং জলবায়ুর ভারসাম্য-এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT