পাঁচ মিশালী

জেএসসি পরীক্ষা : গণিতের পরামর্শ

মো. জহিরুল আলম শাহীন প্রকাশিত হয়েছে: ১২-১০-২০১৯ ইং ০১:০৪:৩০ | সংবাদটি ২৫৪ বার পঠিত

প্রিয় জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার্থী বন্ধুরা তোমাদের সবার প্রতি আমার অনেক অনেক দোয়া ও শুভেচ্ছা। শুভ হোক তোমাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষা। আগামী ০২/১১/২০১৯ হতে তোমাদের জীবনের দীর্ঘ আট বছরের লেখাপড়ার মাপকাঠি মূল্যায়নের জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট পরীক্ষা ২০১৯ শুরু হতে যাচ্ছে। আশা করি তোমাদের বিষয় ভিত্তিক চূড়ান্ত প্রস্তুতি শেষ হয়ে গেছে। তোমাদের পঠিত বিষয় গুলোর মধ্যে গণিত বিষয়টি জটিল বলে অনেক শিক্ষার্থীই ভয় পেয়ে থাকে। তা নয়, সিলেবাস ও মানবন্টন মোতাবেক প্রস্তুতি নিলে পুরো সাফল্য বয়ে আসবে। তবে মনে রাখবে গণিতের প্রতিটি অধ্যায়ের সূত্র গুলো মুখস্ত করে আর উদাহরণ সহ পাঠ্যবইয়ের অংকগুলো বারবার অনুশীলন করলে পুরো প্রশ্নের উত্তর অতি সহজেই দিতে পারবে তাতে কোন সন্দেহ নেই। এবার জেনে নাও প্রশ্নের ধারা ও মানবন্টন। পাঠ্যবইয়ের ১১টি অধ্যায় থেকে সৃজনশীল রচনামূলক মোট ১১টি প্রশ্ন থাকবে। ৭টির উত্তর দিতে হবে। প্রতিটি সৃজনশীল প্রশ্নের মান হবে ১০ নম্বর। মোট নম্বর হবে ৭১০=৭০ তবে প্রতিটি সৃজনশীল প্রশ্নের তিনটি প্রশ্ন থাকবে। যথা ক অংশে ২, খ অংশে ৪, গ অংশে ৪= ২+৪+৪= ১০ প্রতি অধ্যায় হতে কমপক্ষে ২টি করে ১১টি অধ্যায় হতে ৩০টি প্রশ্ন থাকবে। প্রতিটি বহুনির্বাচনী প্রশ্নের মান ১। সৃজনশীল ও বহুনির্বাচনী অভীক্ষা মিলে মোট ৭০+৩০= ১০০।
ক-বিভাগ পাটিগণিত ঃ এখানে প্রথম অধ্যায়-প্যাটার্ন, দ্বিতীয় অধ্যায়-মুনাফা, তৃতীয় অধ্যায়-পরিমাপ, এ তিন অধ্যায় হতে প্রতিটি থেকে ১টি করে মোট ৩টি প্রশ্ন থাকবে ২টির উত্তর দিতে হবে। নম্বর ১০২=২০। খ-বিভাগ : বীজগণিত-৪র্থ অধ্যায় অনুশীলনী ৪.১, ৪.২, মান নির্ণয়, প্রমাণ, দেখাও যে, ৪.৩, ৪.৪, উৎপাদক হতে ১টি প্রশ্ন থাকবে। পঞ্চম অধ্যায়-অনুশীলনী ৫.১ লঘিষ্ট আকার, সাধারণ হর বিশিষ্ট ভগ্নাংশ, সরল, অনুশীলনী ৫.২ এ গুণ, ভাগ, সরল হতে ১টি প্রশ্ন থাকতে পারে। ৬ষ্ঠ অধ্যায় অনুশীলনী ৬.১ সমাধান, প্রতি স্থাপন, অপনয়ন ও লেখের সাহায্যে সমাধান নির্ণয় এগুলো হতে ১টি প্রশ্ন থাকতে পারে। সপ্তম অধ্যায়-সেট হতে ১টি প্রশ্ন থাকবে। সপ্তম অধ্যায় সেট হতে ১টি প্রশ্ন থাকবে। এ বিভাগ হতে মোট ৩টি প্রশ্ন থাকবে ২টি উত্তর দিতে হবে। নম্বর হবে ১০২=২০। গ-বিভাগ : জ্যামিতি- ৮ম ও ৯ম এবং ১০ম অধ্যায় হতে চতুর্ভুজ পিথাগোরাস ও বৃত্ত হতে উপপাদ্য সম্পাদ্য মিলে ৩টি প্রশ্ন থাকবে ২টি উত্তর দিতে হবে। নম্বর ১০২=২০। ঘ-বিভাগ : পরিসংখ্যান : তথ্য উপাত্ত হতে ২টি প্রশ্ন থাকবে ১টি উত্তর দিতে হবে। নম্বর ১০১=১০। এখানে ছক কাগজে লেখচিত্র আঁকতে বলা হয়। তা আঁকতে মূল খাতায় বর্ণনা লিখতে হবে। বিশেষ করে ী ও ু অক্ষ মূল বিন্দু ০ তা উল্লেখ করে প্রতি বর্গের বাহুর দৈর্ঘ্য কত তা লিখতে হবে স্পষ্ট করে স্থানাংক নির্ণয় করতে হবে। প্রশ্নগুলো ভালো করে পড়ে প্রতি অংশে উদ্দিপকটি ভালো করে বুঝে নেবে। একটু খেয়াল করবে উদ্দিপকের বক্তব্যটি কোন অনুশীলনীর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ঐ অধ্যায় এর সূত্রগুলো মনে করবে। তারপর লিখা শুরু করবে। বিশেষ করে পাটিগণিতের ১ম অধ্যায় প্যাটান এ মৌলিক সংখ্যা, স্বাভাবিক সংখ্যা, ক্রমিক সংখ্যা, ফিবযোনাক্কি সংখ্যা, ম্যাজিক বর্গ, দুই বর্গের সমষ্টি ইত্যাদি নিয়মগুলো ভালো করে দেখে নিবে। তার সাথে ক্রমিক সংখ্যার যোগফল, জোড়, বিজোড় সংখ্যার যোগফল ও ম্যাজিক সংখ্যার সূত্রও দেখে নিবে। দ্বিতীয় অধ্যায়- মুনাফা পাঠের লাভক্ষতি, মুনাফার হার, সময় কাল, সরল মুনাফা, চক্রবৃদ্ধি মুনাফার সূত্রগুলো ভালো করে মনে রাখতে হবে। এর সাথে সূত্র গুলোর বীজগণিতীয় প্রতীকগুলো কোনটি কোন অর্থ বহন তরে তা শিখে নিবে। তৃতীয় অধ্যায়- আয়ত ক্ষেত্র, বর্গক্ষেত্র, ত্রিভুজ এর ক্ষেত্রে ক্ষেত্রফল, নির্ণয়ের সূত্রগুলো ভালো করে মুখস্থ রাখবে। তাছাড়া দৈর্ঘ্য, ওজন, ক্ষেত্রফল, আয়তন পরিমাপের এককাবলি মুখস্থ রাখতে হবে। বীজগণিত হতে চতুর্থ অধ্যায়ের বর্গ ও ঘন নির্ণয়ের সূত্র ও অনুসিদ্ধান্ত ল.সা.গু, গ.সা.গু নির্ণয়ের নিয়ম মনে রাখবে। পঞ্চম অধ্যায় হতে লঘিষ্ট আকার, সাধারণ বা সমহর বিশিষ্ট ভগ্নাংশ, ভগ্নাংশের গুন,ভাগ এবং সরল করার নিয়ম শিখে অনুশীলন করতে হবে। ষষ্ঠ অধ্যায় হতে সরল সহ সমীকরণ, প্রতিস্থাপন অপনয়ন, পদ্ধতির ধাপ সমূহ লেখচিত্রের সাহায্যে, সমাধান এবং বিন্দু স্থানাংক বের করার নিয়ম সমূহ মনে রাখতে হবে। সপ্তম অধ্যায় সেট, কী, সেট গঠনের পদ্ধতি প্রকার ভেদ, ভেনচিত্র, উপসেট এর ধাপগুলো ভালো করে জেনে রাখবে এবং অনুশীলন করবে। জ্যামিতি অংশ : অষ্টম অধ্যায়-চতুর্ভুজ, সামান্তরিক, আয়ত ক্ষেত্র, বর্গক্ষেত্র, রম্বস ও ট্রাপিজিয়ামের ক্ষেত্রফল ও কর্ণ নির্ণয়ের সূত্র এবং ঘনবস্তু আয়তনের ও কর্ণের সূত্র ভালো করে জেনে রাখবে। পিথাগযোরাসের উপপাদ্য ও প্রমাণ। এখানে তিনটি পদ্ধতি তোমাদের পাঠ্যবইয়ে দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে বীজগণিতের প্রতীকের সাহায্যে প্রমাণটি সহজ। যদি কোনো পদ্ধতির কথা উল্লেখ না থাকে তাহলে এ পদ্ধতিটি লিখতে সহজ হবে। তবে যদি কোন পদ্ধতির কথা উল্লেখ থাকে সেই পদ্ধতিতে প্রমাণ দিতে হবে। দশম অধ্যায়-বৃত্তের ব্যাস, ব্যাসার্ধ, জ্যা, পরিধির সংজ্ঞা ও সূত্র এবং ফাই এর মান জানতে হবে। বেলনের সংজ্ঞা ও পৃষ্ঠের ক্ষেত্রফলের নির্ণয়ের সূত্র মনে রাখবে। একাদশ অধ্যায়- তথ্য উপাত্ত কী, ধাপ, পরিসর, শ্রেণি সংখ্যা, ট্যালি, পাইচিত্র, লেখচিত্র, গাণিতিক গড়, মধ্যকের সূত্র এবং প্রচুরক নির্ণয়ের নিয়ম ভালো করে জেনে রাখবে। চতুর্ভুজ, সামন্তরিক অংকনের ধাপসমূহ এবং কয়টি উপাত্ত জানা থাকলে চতুর্ভুজ আঁকা যায় না জানতে হবে। পরিশেষে, বলব সৃজনশীল প্রশ্নে বইয়ের কোনো প্রশ্ন হুবহু থাকবে না তেমনি প্রশ্নের ধরনও বইয়ের বাহিরে হবে না। প্রশ্নের উত্তর বুঝে উদ্দীপকের আলোকেই লিখতে হবে। কোনো প্রশ্নের উত্তর অসমাপ্ত রেখে আসবে না। যদি একটি প্রশ্নের উত্তর ক, খ, গ, এর অংশের পুরোটাই না পারো প্রতিটি অংশের যতটুকু পার ততটুকু লিখে আসবে। কোন অবস্থাতেই কোন প্রশ্নের উত্তর কেটে দিবে না। কারণ প্রতিটি প্রশ্নের কয়েকটি ধাপ থাকে এবং প্রতিটি ধাপের জন্য ১ নম্বর দেওয়া থাকে। তুমি ১টি ধাপ করলে ১ নম্বর ২টি ধাপ করলে ২ নম্বর ৩টি ধাপ করলে ৩ নম্বর এবং ৪টি ধাপ করলে ও যুক্তিগত হলে পুরো ৪ নম্বর পাবে। সুতরাং প্রতিটি প্রশ্ন ভালো মতো বুঝে তারপর লিখবে। পাঠ্যবইয়ের প্রতিটি অধ্যায়ের সূত্র উদাহরণ ও কাজ বারবার অনুশীলন করবে এবং সফলতা আসবে। আশা করি মহান আল্লাহ তোমাদের জীবনের স্বপ্ন পূরণ করবে।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT