পাঁচ মিশালী

রাজীব স্মৃতি গ্রন্থাগার

আব্দুর রশীদ লুলু প্রকাশিত হয়েছে: ১২-১০-২০১৯ ইং ০১:০৪:৫১ | সংবাদটি ১১০ বার পঠিত


‘বই পড়ি, জ্ঞান অর্জন করি’ শ্লোগানে উজ্জীবিত রাজীব স্মৃতি গ্রন্থাগারের ১১ মে (২০১৯) একযুগ পূর্তি হয়েছে। মাত্র পাঁচ মাস বয়সে চিরতরে হারিয়ে যাওয়া (জন্ম: ১৪ ডিসেম্বর ১৯৯৬, মৃত্যু: ১১ মে ১৯৯৭) রাজীব হুমায়ুন নামের এক ছেলেকে স্মরণীয় করে রাখার পাশাপাশি জ্ঞান চর্চা তথা জ্ঞানের আলো ছড়ানোর লক্ষ্যে ২০০৭ সালের ১১ মে পারিবারিক উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় রাজীব স্মৃতি গ্রন্থাগার। বর্তমানে এ গ্রন্থাগারে বিচিত্র বিষয়ে সহস্রাধিক বই রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, ১০ সহস্রাধিক বই নিয়ে গ্রন্থাগার দুই দশক পূর্তি অনুষ্ঠান করবে এবং তখন গ্রন্থাগার থেকে এর পরিচালক আনিসুল আলম নাহিদের সম্পাদনায় বইকেন্দ্রিক একটি সংকলনও প্রকাশিত হবে।
২০১৮ সালে রাজীব স্মৃতি গ্রন্থাগারের জন্য বইয়ের আবেদন জানিয়ে শিকড় সন্ধানী প্রকাশনা ‘আনোয়ারা’ এবং কৃষি বিষয়ক ছোট কাগজ ‘চাষাবাদে’ বিজ্ঞাপন দেয়া হয়, কিন্তু দুঃখের বিষয় তেমন কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগের প্রেক্ষিতে ক’জন সুহৃদ কবি-সাহিত্যিক-সাংবাদিক বইপত্র দিয়ে সহযযোগিতা করেছেন; তাঁরা হলেন সর্বজনাব প্রফেসর নন্দলাল শর্মা, আমেনা আফতাব, আলহাজ্ব মোহাম্মদ নূরুন নবী (এফসিএ), লাভলী চৌধুরী, আবদুল হামিদ মানিক, আফতাব চৌধুরী, কালাম আজাদ, মুহিত চৌধুরী, অধ্যক্ষ ডা. আব্দুল করিম, মাহবুব জামান, উপাধ্যক্ষ এডভোকেট এম শহীদুল ইসলাম শহীদ, মুকুল ইকবাল, মো. সুহেল মিয়া, মো. আব্দুল্লাহ, শিকদার মুহাম্মদ কিব্রিয়াহ, আব্দুল আজিজ (লয়লু), ডা, বীরেন্দ্র চন্দ্র দেব, সুনীল বরণ পোদ্দার, সাইদুর রহমান সাঈদ, মোহাম্মদ নওয়াব আলী, মো. আব্দুর রউফ, মাওলানা আনোয়ার হোসাইন, ফজলুর রহমান ফজলু, বেলাল আহমদ চৌধুরী, ডা. এম.ই হক খালেদ, মো. সেলিম আহমদ খান, নৃপেন্দ্র কুমার দাশ, ডা. পলি রাণী মজুমদার, মারুফ মতিউর রহমান প্রমুখ।
শুরু থেকেই রাজীব স্মৃতি গ্রন্থাগারে চারটি কর্ণার চালু রয়েছে। যথা-১. ইসলামী কর্ণার; ২. বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্ণার; ৩. কৃষি কর্ণার ও ৪. আনোয়ারা কর্ণার।
ইসলামী কর্ণারে ইসলামী বইপত্রের সমাবেশ ঘটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্ণারে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী, স্বাধীনতার মহান স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মহান মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে বইপত্রের সমাহার ঘটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কৃষি কণারে বিভিন্ন ধরনের কৃষি বিষয়ক বই ও পত্রপত্রিকা/সংকলন/ম্যাগাজিন (যেমন-মাসিক কৃষিকথা, পাক্ষিক কৃষিবিপ্লব, চাষাবাদ প্রভৃতি) যতেœ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা হচ্ছে। দেশ-বিদেশের কৃষি বিষয়ক বইপত্র সংগ্রহের মাধ্যমে এ কণারকে সমৃদ্ধ করার ইচ্ছা উদ্যোক্তা ও পরিচালনা পর্ষদের রয়েছে। আনোয়ারা কর্ণধার ২০০৪ সাল থেকে প্রকাশিত শিকড় সন্ধানী প্রকাশনা “আনোয়ারার প্রথম থেকে অদ্যাবধি প্রকাশিত সবকটি সংখ্যা রয়েছে। এ ছাড়া অদূর ভবিষ্যতে শিশু কর্ণার খোলার প্রচেষ্টাও চলছে।
শিল্প-সাহিত্যের সবকটি শাখার বইয়ের পাশাপাশি এ গ্রন্থাগারে দেশি-বিদেশি নানারকম বই; যেমন-বিজ্ঞান, গণিত, ইতিহাস-ঐতিহ্য, ভ্রমণকাহিনী, শিশুতোষ, খেলাধুলা, রান্না, আইন, রাজনীতি, অর্থনীতি, জীবনী, চিকিৎসা প্রভৃতি বিষয়ের বই ও পত্রপত্রিকা/ম্যাগাজিন/সংকলন/স্মারক রয়েছে। বিচিত্র বিষয়ের বই সংগ্রহ ও সংরক্ষণের মাধ্যমে ক্রমান্বয়ে এ গ্রন্থাগারকে একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থাগারে পরিণত করার অঙ্গীকার উদ্যোক্তা পরিবারের রয়েছে। গ্রন্থাগারের একটি পরিদর্শন/মন্তব্য বই খোলা হয়েছে। পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যা দুই যুগ পূর্তিতে মুদ্রিত হবে। বলা বাহুল্য, জ্ঞানের বিভিন্ন শাখার বইপত্রের সমাহারে গ্রন্থাগারটিকে একটি মিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ভাবতে উদ্যোক্তা পরিবার আনন্দ বোধ করে। সবার জন্য উন্মুক্ত রাজীব স্মৃতি গ্রন্থাগারকে ডিজিটাল গ্রন্থাগারে পরিণত করার পরিকল্পনা নিয়ে তরুণ পরিচালক আনিসুল আলম নাহিদ ভাবছে। অনলাইনে এ গ্রন্থাগারকে ছড়িয়ে দিতে একটি ওয়েবসাইট খোলার বিষয়েও তরুণ পরিচালকের আগ্রহ প্রচুর। বলা বাহুল্য, পরিচালকের পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২১ সাল নাগাদ অনলাইন এবং অফলাইনে গ্রন্থাগারের ব্যাপক কার্যক্রম মেলে ধরা হবে। তখন এখানে প্রিন্ট বইয়ের পাশাপাশি ইন্টারনেট সংযুক্ত যেকোনো ডিভাইসের মাধ্যমে পাঠককে জ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে বিচরণের সুযোগ করে দেয়া হবে। আশা করা যায়, তখন সব ধরনের পাঠক শহর থেকে খানিকটা দূরে গ্রামীণ নিরিবিলি পরিবেশে শান্তমনে জ্ঞান চর্চার ক্ষেত্রে শহুরে সুবিধা পাবে। উল্লেখ্য, সিলেট শহর থেকে (সিলেট-সুলতানপুর-বালাগঞ্জ সড়কে) দক্ষিণ দিকে ১৬ কি.মি দূরে এবং সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের দয়ামীর বাজার থেকে পূর্ব দিকে ৫ কি.মি দূরে সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার দেওয়ান বাজারে রাজীব স্মৃতি গ্রন্থাগারের অবস্থান। গুগল ম্যাপেও গ্রন্থাগারটির অবস্থান রয়েছে।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT