উপ সম্পাদকীয়

টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশ

আফতাব চৌধুরী প্রকাশিত হয়েছে: ১২-১০-২০১৯ ইং ০১:১৬:৫২ | সংবাদটি ৮৯ বার পঠিত

সভ্যতার উষালগ্ন থেকে মানুষের নিরন্তর প্রয়াস উন্নয়ন অভিমুখী। উন্নয়নের প্রয়োজনে মানুষ প্রকৃতি ও পরিবেশকে ব্যবহার করছে, চেষ্টা করে যাচ্ছে তার উপর উত্তরোত্তর নিয়ন্ত্রন বৃদ্ধি করতে। মাটি, পানি, খনিজ সম্পদ, জলবায়ু, গাছপালা, জীব-জন্তু, ফল-মূল ইত্যাদি সবই এই প্রকৃতি ও পরিবেশের অন্তর্গত। এ কথা বাস্তব সত্য যে প্রকৃতি ও পরিবেশের উপর মানুষের নিয়ন্ত্রন অতীতের যে কোন সময়ের তুলনায় এখন অনেক গুণ বেশি। তাই মার্কিন অর্থনীতিবিদ Arthur Lewis সত্তরের দশকে উন্নয়নকে সংজ্ঞায়িত করতে গিয়ে বলেন, উন্নয়ন হচ্ছে মানুষের পছন্দ বা বাছাই (Options ) করার ক্ষমতা বৃদ্ধি করা। এক সময় মানুষ পায়ে হেঁটে অথবা গাধা-ঘোড়ার পিঠে চড়ে ঘুরে বেড়াতো। আজ রেলগাড়ী, মোটরগাড়ী, উড়োজাহাজ ইত্যাদির যে কোনটাতে সে কম সময়ে যাতায়াত করতে পারে দূরে কিংবা নিকটে। মানুষের এই যে পছন্দ বা বাছাই করার ক্ষমতা বাড়ানোর প্রচেষ্টা তা কেবল প্রকৃতি ও পরিবেশকে (extensive) বিস্তৃত ও নিবিড়ভাবে (intensive) ব্যবহারের মাধ্যমেই সম্ভব হচ্ছে। তাই মানুষের নিরন্তর উন্নয়ন প্রচেষ্টার আরেক নাম হচ্ছে প্রকৃতি ও পরিবেশের নানা রকম (diverse) ব্যবহার। আমরা জানি, প্রাকৃতিক নিয়মেই প্রকৃতি ও পরিবেশ টিকে থাকে। মানুষের উন্নয়ন প্রচেষ্টা যদি এই নিয়ম ভঙ্গের কারণ হয় অথবা এই নিয়মে বাধা সৃষ্টি করে তখন পরিবেশের ভারসাম্য বিঘিœত হয়। মানুষের জীবন-যাপনের অনুকূল পরিবেশ তখন প্রতিকূলে চলে যেতে পারে। অথচ দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য এই যে নিকট অতীতে পর্যন্ত মানুষ প্রায় সব উন্নয়ন কৌশল ও কর্মসূচিসমূহে কেবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কথাই চিন্তা করতো। প্রকৃতি ও পরিবেশের উপর সে কৌশল ও কর্মসূচীর কী প্রভাব পড়বে সেটা নিয়ে মাথা ব্যথা ছিল না। আজ পরিবেশের কথা বিবেচনা করে উন্নয়নকে কীভাবে পরিবেশ সম্মত।
সাম্প্রতিক কালে বিশেষ করে বিগত এক দশকে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় পরিবেশ নিয়ে ব্যাপক গবেষণা হয়েছে এবং এখনও তা একই ব্যাপ্তি ও গতিতে অব্যাহত আছে। বক্ষমান নিবন্ধের স্বল্প পরিসরে এ সবের আংশিকও উপস্থাপন করা সম্ভব নয়। তবে উন্নয়ন কীভাবে পরিবেশকে প্রভাবিত করে, কীভাবে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায়, বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশের জন্য পরিবেশ সমস্যা কতটুকু প্রাসঙ্গিক এসব বিষয়ের উপর সংক্ষিপ্তভাবে এখানে আমরা আলোকপাত করার চেষ্টা করবো।
একথা সকলেই জানেন যে পৃথিবীতে জনসংখ্যা দ্রুতহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাড়ছে খাদ্যদ্রব্যসহ নিত্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন কৃষি ও শিল্পজাত পণ্যের চাহিদা। ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষিতে ব্যবহৃত হচ্ছে নতুন নতুন প্রযুক্তি। শিল্প-কারখানারও ব্যাপক প্রসার ঘটছে। এসবের সাথে তাল মিলিয়ে বাড়ছে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার ও শিল্পবর্জ্য। যেখানে অন্য কোন উৎস থেকে শক্তি আহরণ সম্ভব নয়, সেখানে পুড়ছে কাঠ, বাঁশ ইত্যাদি। ফলে বন উজাড় হচ্ছে, বাতাসে কার্বনডাই-অক্সাইডসহ অন্যান্য ক্ষতিকারক গ্যাসের মাত্রাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসবের প্রভাব পড়ছে প্রকৃতি ও পরিবেশের উপর। বৃষ্টি কমছে, ভূমিধ্বস বাড়ছে, মরুকরণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হচ্ছে, ভূপৃষ্টের তাপমাত্রা বাড়ছে, বাড়ছে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা এবং বন্যা ও জলোচ্ছাসের ব্যাপকতা। তবে মনে রাখা দরকার যে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক বহুবিধ কারণও এই সার্বিক আত্মঘাতী প্রক্রিয়ার সাথে ওতোপ্রোতভাবে জড়িত। প্রকৃতি ও পরিবেশের উপর উন্নয়ন কার্যক্রমের বিরূপ প্রভাবের এই প্রক্রিয়াটি একটু বিশদভাবে আলোচনা করা যেতে পারে।
শিল্প-কারখানা, যানবাহন ও অন্যান্য উৎস থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া, বিভিন্ন প্রকার শিল্পজাত পণ্য ও রাসায়নিক দ্রব্যের উৎপাদন, শিল্পবর্জ্য, কয়লা ও তেলের মত জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধিসহ নানাবিধ কারণে কার্বনডাই-অক্সাইড, মিথেন, নাইট্রাস-অক্সাইড ও তথাকথিত ক্লোরোফ্লোরোকার্বনস (CECS) নামক গ্রীন হাউস গ্যাস সমূহের অনুপাত বাতাসে ক্রমাস্বয়ে বৃদ্ধি। বাতাসে এসব গ্যাসের আধিক্যের সরাসরি শিকার হচ্ছে বৈশ্বিক জলবায়ু। ধারনা করা হচ্ছে যে, প্রচুর গ্রীন হাউস গ্যাস বাতাসে জমা হওয়ার ফলে বিশ্বের তাপমাত্রা বিগত অর্ধ শতাব্দীতে প্রায় ৩.৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছে। জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচীর ২০০০ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী ২০১০ সাল পর্যন্ত বাতাসে কার্বনডাই-অক্সাইডের পরিমান প্রাক-শিল্পযুগের তুলনায় ৩০ শতাংশ বেশী এবং বর্তমান পদ্ধতি ও হারে জ্বালানি ব্যবহার অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সাল নাগাদ বাতাসে কার্বনডাই-অক্সাইডের পরিমান ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। যদি জ্বালানি ব্যবহার আরও বাড়ে তবে সেই অনুপাত ৮০ শতাংশে উন্নীত হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। বিশ্বের এই তাপমাত্রা বৃদ্ধির পিছনে শিল্পায়িত উন্নত বিশ্ব মূলত দায়ি হলেও এর কুফল কিন্তু উন্নত ও অনুন্নত সব দেশকেই কম-বেশী ভোগ করতে হবে। কেননা জলবায়ু একটা বৈশ্বিক সম্পদ। বাতাসে কার্বন- ডাই অক্সাইডের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে অনাবৃষ্টি, মরুকরণ, বন উজাড়করণ, ভূমিধ্বস ইত্যাদি আরও বেড়ে যাবে। ফলে প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়বে কৃষির উপর নির্ভরশীল গ্রামের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর উপর যারা বাঁচার তাগিদে অনন্যোপায় হয়ে প্রকৃতি ও পরিবেশকে আরো ব্যাপক ও নিবিড়ভাবে ব্যবহার করে প্রাকৃতিক ভারসাম্যহীনতাকে আরও বাড়িয়ে তুলবে।
তবে স্বস্তির বিষয় এই যে, বাংলাদেশের মতো অনেক উন্নয়নশীল দেশের ক্ষেত্রে উল্লেখিত সমস্যাবলী এখনও প্রকট আকার ধারণ করেনি। তার অর্থ অবশ্য এই নয় যে আমরা এই সমস্যা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত ও নিরাপদ দূরত্বে আছি। কেননা একটু গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে বুঝা যাবে যে বাংলাদেশের প্রকৃতি ও পরিবেশ এবং জীব-বৈচিত্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। গত ২০ বছরে বাংলাদেশ প্রায় ৯০ লক্ষ লোক নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার ২০১৮ সালের ২০ শে জানুয়ারী সংখ্যার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুঙ্ক মৌসুমের শুরুতে বাংলাদেশের প্রধান প্রধান নদীসমূহের পানির উচ্চতা আংশকাজনকভাবে হ্রাস পাওয়ায় নৌচলাচল, সেচ ও মৎস্য উৎপাদনে দারুন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। নদীর গভীরতা হ্রাস পাওয়ায় বর্ষাকালে বন্যার তীব্রতাও উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। ১৯৮৯ সালের BARCর রির্পোট অনুযায়ী ১৯৫৪, ১৯৫৫, ১৯৭৪, ১৯৮৭, ১৯৮৮, ২০০৪ সালের প্রধান প্রধান বন্যায় বাংলাদেশে যথাক্রমে ১২, ১৪, ২০, ২২, ৩০, ৪০ হাজার বর্গমাইল এলাকা প্লাবিত হয়েছে। তাছাড়া, বাংলাদেশে বন উজাড়করণের হার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার যে কোন দেশের তুলনায় অনেক বেশি। পার্বত্য চট্টগ্রাম, সিলেট অঞ্চলে যেখানে বাংলাদেশের ৬৬ শতাংশ বনাঞ্চল ছিল তা বর্তমানে তো নেই বরং এ পরিমাণ ৮/১০ শতাংশে নেমে এসেছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বন উজাড়করণ হার যেখানে (-) ০.৩ শতাংশ সেখানে আমাদের দেশে হার বার্ষিক (-) ৩.৩ শতাংশ। বাংলাদেশে নির্মাণ ও যাতায়াত খাত শিল্প-কারখানা স্থাপন, বাসস্থান নির্মাণ, রাস্তা-ঘাট উন্নয়ন ইত্যাদি প্রসারের সাথে সাথে ইটের চাহিদাও বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে নতুন নতুন ইটখোলা সৃষ্টি হচ্ছে যা একদিকে চাষযোগ্য জমি ও উর্বর মাটি নষ্ট করছে, অন্যদিকে ইট পোড়াতে প্রচুর কাঠ ব্যবহারের ফলে বন-জঙ্গল উজাড় হচ্ছে, ইটের ভাটার কালো ধোঁয়া পরিবেশ দূষণে অবদান রাখছে। অথচ আমরা জানি, এই বন উজাড়করণের ফল খুবই মারাত্মক। কেননা এর ফলে বৃষ্টিপাত কমে যায়। ভূমিধ্বস বাড়ে, মাটির নিচের পানির স্তর নেমে যায়, মাটির পানিধারণ ক্ষমতা হ্রাস পায় ও উর্বরতা নষ্ট হয়। তাছাড়া, রাজধানীসহ বাংলাদেশের শহরাঞ্চলে যানবাহন থেকে নিসৃত কালো ধোঁয়ায় বায়ুদূষণের মাত্রা আংশকাজনক পর্যায়ে পৌছেছে বলে অভিজ্ঞমহল মনে করছেন। পলিথিন ব্যাগের ব্যবহারও ইতোমধ্যে সবাইকে ভাবিয়ে তুলেছে যা অনতিবিলম্বে নিষিদ্ধ করার কথা অনেকে ভাবছেন। বিশেষজ্ঞরা কথা বলেছেন। প্রতিশ্রুতি দেয়া হচ্ছে কিন্তু কার্যকর হচ্ছেনা।
এদিকে অতীতে পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন, সেচ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, মৎস্য উন্নয়ন ইত্যাদির উদ্দেশ্যে সারা বিশ্বে যে বড় বড় পানিধারা ও বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে তার প্রভাব এখন মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছেছে। কেননা এসব উচ্চাকাঙ্খী বহুমুখী প্রকল্প গ্রহণের ফলে একদিকে কোটি কোটি মানুষ গৃহহারা হয়েছে, লক্ষ লক্ষ একর চাষযোগ্য জমি পানির নিচে ডুবে গেছে। অন্যদিকে ভুমিধ্বস, বন উজাড়করণ, মরুকরণ, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, বৃষ্টিপাত হ্রাস ইত্যাদির কারণে জীব-বৈচিত্র্যে পড়েছে বিরূপ প্রতিক্রিয়া এবং প্রকল্প এলাকার মানুষের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনেও এসেছে ব্যাপক অশুভ পরিবর্তন। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নির্মিত ফারাক্কা বাধঁ বাংলাদেশের উপর কী প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে তা আজ সবারই জানা। এদিকে খবর পাওয়া যাচ্ছে যেসব নদী ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে তাতে বাধ দিয়ে ভারত পানি আটকানোর চেষ্টা চালাচ্ছে এতে পরিস্থিতি আরও মারাত্মক আকার ধারন করবে বলে বিশেষজ্ঞরা চীৎকার শুরু করেছেন। ভারত কিন্তু তাতে কান দিচ্ছে না। আমাদের দেশের কাপ্তাই পানিবিদ্যুৎ প্রকল্প ও Flood Action Plan (FAP) এর আওতায় সারা বাংলাদেশের নির্মিত অনেক বাঁধ, স্লুইচগেট, পোল্ডার এসব আত্মঘাতী প্রকল্পের কয়েকটি প্রকৃষ্ট উদাহরন। ষাটের দশকের প্রথম দিকে USAID এর সহায়তায় ৪৮ কোটি ডলার ব্যয়ে নির্মিত কাপ্তাই পানিবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে ১৪৫ বছর সুফল পাওয়ার কথা থাকলেও মাত্র ৩৬ বছরে সেই প্রকল্প শ্বেত হস্তীতে রূপান্তরিত হয়েছে। ২৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষম এই প্রকল্প মাঝে মধ্যে মাত্র ৩০ মেগাওয়াটের বেশী বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে না। একথা আজ সর্বজনবিদিত যে পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতি বিদ্রোহের মূল কারণ এই পানি, বিদ্যুৎ প্রকল্প যার কারণে এক লক্ষ উপজাতি বাস্তুহারা হয়েছিল। FAP এর আওতায় নির্মিত ঢাকা মহানগরীর অকেজো বন্যা নিরোধক বাঁধ, বিল ডাকাতিয়ার সুদীর্ঘ জলাবদ্ধতা, মেঘনা-ধনাগোদা বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের ক্রমবর্ধমান ব্যর্থতা, যমুনার পশ্চিম তীরে রক্ষাবাঁধের উপর্যুপরি ভাঙ্গন ইত্যাদি এসব উন্নয়ন প্রকল্পের শুধু অসাড়তাই প্রমাণ করে। উন্নয়নের নামে মানব সৃষ্ট এসব প্রকল্প প্রকৃতি ও পরিবেশের উপর বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি করা ছাড়াও বহুবিধ সামাজিক, অর্থনৈতিক সমস্যার জন্ম দিয়েছে। এসব বিবেচনায় এনে বিশ্বের সর্ববৃহৎ বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৩০০০ বাঁধের সমন্বয়ে নির্মিতব্য ভারতের (Sardar Valley Project) জনগণের প্রতিরোধের মুখে স্থগিত রাখা হয়েছে। আসার কথা বাংলাদেশেও ইদানীংকালে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বায়ুদূষণকারী ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, ডিজেল ও পেট্রোলের পরিবর্তে সিএনজি গ্যাসের ব্যবহার, বেবিটেক্সী, টেম্পো ইত্যাদি যানবাহনের আমদানি নিষিদ্ধকরণ, বনায়ন বৃদ্ধি ও পাহাড় কাটা রোধকরণ, বুড়িগঙ্গা দখল ও দূষণকারী স্থাপনা উচ্ছেদকরণ ইত্যাদি এই সচেতনতা বৃদ্ধির পরিচায়ক।
পরিশেষে বাংলাদেশে কীভাবে টেকসই উন্নয়ন (Sustainable Devolopment) নিশ্চিত করা যায় সে ব্যাপারে কয়েকটি পরামর্শ উপস্থাপন করে আমার প্রবন্ধ শেষ করবো। * দক্ষতার সাথে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং কয়লা ও তেলের উপর নির্ভরতা কমিয়ে প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার বৃদ্ধি করতে হবে। * ডিজেল ও পেট্রোলের পরিবর্তে যানবাহনে সিএনজি গ্যাসের ব্যবহার বাড়াতে হবে এবং ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রন করতে হবে। * শিল্প-কারখানা স্থাপন, গৃহায়ন ও রাস্তা-ঘাট নির্মাণে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে যাতে করে পরিবেশ দূষিত না হয় এবং এলাকার ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। * শিল্পবর্জ্য re-cycling এর ব্যবস্থা করতে হবে। * টেকসই কৃষি উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য ভূ-গর্ভস্থ পানির পরিবর্তে মাটির উপরিভাগে পানির ব্যবহার বৃদ্ধি, রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ঔষধের পরিমিত ব্যবহার এবং দেশীয় বিভিন্ন জাতের ফসলের মিশ্র চাষ নিশ্চিত করতে হবে। সরকারী উদ্যোগে এসব বিষয়ে কৃষকের সচেতনতা বাড়াতে প্রচারকার্য জোরদার করতে হবে। * সামাজিক বনায়ন বাড়াতে হবে এবং এর সুফল সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে হবে। যত বেশী সম্ভব গাছের চারা রোপন করে রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে তা বড় করে বনাঞ্চল এর পরিমান বৃদ্ধি করতে হবে। * নদ-নদী, খাল-বিল, হাওড়-বাওড়, জলমহাল ও প্রাকৃতিক জলাশয়সমূহ বিনষ্ট করা যাবে না এবং এসবের পরিমিত ব্যবহার নিশ্চিতকরণের জন্য মধ্যসত্ত্বভোগীর হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। * পরিবেশ আইন সংযোজন ও সংশোধন করে পরিবেশ দূষণকারীদের শাস্তির বিধান চালু করতে হবে। * করাতকল বিধিমালা ২০১২ এর সংশোধন করে করাতকল স্থাপনে কঠোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে পাশাপাশি অবৈধ করাতকল উচ্ছেদের ব্যবস্থা করতে হবে। * National Environmental Managerment Action plan (NEMAP) এর আওতায় মন্ত্রণালয় সমন্বয়ের পদক্ষেপ নিতে হবে যাতে করে সরকারী কোন সিদ্ধান্ত পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্যের ক্ষতির কারণ না হয়। * বাংলাদেশে কোন পারমানবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করা ঠিক হবে না।
লেখক : সাংবাদিক-কলামিস্ট।

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • আগুনের পরশমনি ছোয়াও প্রাণে
  • শিক্ষার মানোন্নয়নে মহাপরিকল্পনা প্রয়োজন
  • দেওয়ান ফরিদ গাজী
  • বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর হালচাল
  • সিলেটের ছাত্র রাজনীতি : ঐতিহ্যের পুনরুত্থানের প্রত্যাশা
  • নাসায় মাহজাবীন হক
  • লেবানন : চলমান গণবিক্ষোভের লক্ষ্য ও পরিণতি
  • ব্রিটিশ উপনিবেশবাদ বিতর্ক
  • ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের ইতিকথা
  • শিক্ষক পেটানোর ‘বিদ্যাচর্চা’
  • অভিযান যেন থেমে না যায়
  • পেঁয়াজ পরিস্থিতি হতাশার
  • ইরান-আমেরিকা সংকট ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়
  • জোসনার শহরের কবি
  • সড়ক পরিবহন আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন জরুরি
  • প্রসঙ্গ : ট্রেন দুর্ঘটনা
  • মাদকের ভয়াবহতা
  • জাদুকাটা সেতু ও পর্যটন প্রসঙ্গ
  • বেসরকারি শিক্ষকদের বদলি প্রসঙ্গ
  • রাজনীতির গুণগত মান নিয়ে প্রত্যাশা
  • Developed by: Sparkle IT